Text Size

২০২১১২১১ শ্রীমদ্ভাগবতম ১.১৩.২৩

11 Dec 2021|Duration: 01:03:54|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

 মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ 

ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
    ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
    ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!

শ্রীমদ্ভাগবতম ১/১৩/২৩
অহো মহীয়সী জন্তোর্জীবিতাশা যথা ভবান্‌।
ভীমাপবর্জিতং পিণ্ডমাদত্তে গৃহপালবৎ॥

অনুবাদ:- আহা, কোনও জীবের বেঁচে থাকার আশা কী বলবতী! যথার্থই, আপনি ঠিক একটা পোষা কুকুরের মতোই বেঁচে রয়েছেন আর ভীমের দেওয়া উচ্ছিষ্ট অন্ন গ্রহণ করছেন।

তাৎপর্য:- রাজাদের কিংবা বিত্তশালী লোকেদের অনুগ্রহে সুখে-স্বাচ্ছন্দ্য বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যে কোনও সাধু ব্যক্তির পক্ষে কখনই তাদের তোষামোদ করা উচিত নয়। গৃহস্থদের, কাছে জীবনের নগ্ন সত্য ব্যক্ত করাই কোন সাধুর কাজ, যাতে তারা জড় অস্তিত্বের মাঝে শোচনীয় জীবনধারা সম্পর্কে কাণ্ড জ্ঞান অর্জন করতে পারে। 

             গার্হস্থ্য জীবনে আসক্ত কোনও বৃদ্ধ মানুষের এক অতি জাজ্বল্যমান যথার্থ দৃষ্টান্ত হলেন ধৃতরাষ্ট্র। প্রকৃত অর্থেই তিনি কপর্দকশূন্য নিঃস্ব ভিখারি হয়ে গিয়েছিলেন, তবুও তিনি সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে পাণ্ডবদের বাড়িতেই থাকতে চেয়েছিলেন, যে পাণ্ডবদের মধ্যে ভীমের কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কারণ সেই ভীম নিজে ধৃতরাষ্ট্রের দুই বিশিষ্ট পুত্র দুর্যোধন আর দুঃশাসনকে বধ করেছিলেন। এই দুটি ছেলে তাদের নীচতা আর নৃশংসতার জন্য ধৃতরাষ্ট্রের কাছে বড়ই প্রিয় ছিল, এবং ভীমের কথা বিশেষ করে উল্লেখ করা হয়েছে, তার কারণ, তিনি এই দুই আদুরে ছেলেকেই বধ করেছিলেন।

              ধৃতরাষ্ট্র কেন সেই পাণ্ডবদের বাড়িতেই বাস করছিলেন? কারণ তিনি সকল রকমের লাঞ্ছনা অবমাননা সত্বেও সুখে-স্থাচ্ছন্দ্যে তার জীবনটা কাটাতে চেয়েছিলেন। জীবনধারা অক্ষুণ্ন রাখার তাগিদ যে কত প্রবল, তা লক্ষ্য করে বিদুর তাই বিস্মিত হয়ে গিয়েছিলেন। জীবন ধারণ করে থাকার এই প্রবণতা থেকে বোঝা যায় যে, কোনও প্রাণী নিত্যকালই এক জীবসত্তা এবং তার শারীরিক আবাসন কখনই সে বদলাতে চায় না।

নির্বোধ মূর্খ মানুষ জানে না যে, একটা কারাদণ্ডের বিশেষ মেয়াদ কাটানোর জন্যই তাকে শারীরিক অস্তিত্বের একটা বিশেষ মেয়াদ বরাদ্দ করা হয়েছে, এবং মানব-শরীরটা বরাদ্দ করা হয়েছে বহু বহু জন্ম-মৃত্যুর পরে, একটা সুযোগের মতো, যাতে আত্ম-উপলব্ধির মাধ্যমে আপন আলয় ভগবদ্ধামে ফিরে যেতে পারা যায়।

            কিন্তু ধৃতরাষ্ট্রের মতো মানুষেরা কিছু লাভ আর আগ্রহের আসক্তি নিয়ে এক স্বাচ্ছন্দ্যময় মর্যাদার মাঝে সেখানেই বেঁচে থাকার মতলব করে থাকে, কারণ সব কিছু তারা যথাযথভাবে দেখে না, বোঝে না।

            ধৃতরাষ্ট্র অন্ধ আর তাই তিনি জীবনের সব রকমের প্রতিকূলতার মাঝেও সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে বেঁচে থাকবার আশা পোষণ করতেই থাকেন।

            বিদুরের মতো কোন সাধুর কাজই হচ্ছে এ ধরনের অন্ধ মানুষদের জাগিয়ে তোলা এবং সেইভাবে তাদের ভগবদ্ধামে ফিরে যেতে সহায়তা করা — যে-ধামে জীবন হল নিত্য শাশ্বত। সেখানে একবার গেলে, দুঃখ-দুর্দশাপূর্ণ এই জড় জগতে কেউ আর ফিরে আসতে চায় না। আমরা তাই ঠিকই বুঝতে পারি, মহাত্মা বিদুরের মতো এক সাধুজনের ওপর যে-কাজের ভার অর্পণ করা হয়েছে, তা কতখানি দায়িত্বপূর্ণ।

***

জয়পতাকা স্বামী:- আমরা দেখতে পারছি যে বিদুর একজন সাধু হওয়ায়, তিনি যা সত্য তাই বলেছিলেন। আসলে ধৃতরাষ্ট্র তিনি এক অত্যন্ত আপোষ করা এক পরিবেশে থাকছিলেন এবং বিদুর ছিলেন তার ভাই, তাই তিনি তাকে জাগ্রত করতে চেয়েছিলেন যাতে তিনি ভগবত ধামে ফিরে যাওয়ার জন্য কিছু করেন। ধৃতরাষ্ট্র উনি ভক্তিযোগ করতে পারেনা কেননা তিনি ভক্তগণ হিংসা করছিলেন, বিদুর তাকে কড়া কথা বলছিলেন, যে ওনার বিশেষ পারমার্থিক চেষ্টা করে। যেহেতু আমাদের স্বভাব হচ্ছে নিত্য, তাই আমরা মনে করি যে এই শরীরে কিভাবে নিত্য ভাবে বেঁচে থাকা যাবে। এই জড়জগতে থাকা প্রত্যেকেরই একটি সময়সীমা আছে, মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় আছে! এইভাবে চলে যেতে হবে, বাড়িঘর, স্ত্রী-পুত্র সবকিছু ছেড়ে যেতে হবে। ব্যাংকে কত টাকা পয়সা সব কিছু ছেড়ে যাবে এবং আমাদের এরপরে কি জন্ম হবে কে জানে? তাই মনুষ্য জীবন লাভ করে আমাদের ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়ার এক বিশেষ সুযোগ আছে, তাই যে কোন একটি যোগ পদ্ধতির মাধ্যমে আমাদের ফিরে যাওয়ার প্রচেষ্টা করা উচিত।

আমার মনে হয় বিদুর ধৃতরাষ্ট্রকে দিয়ে অষ্টাঙ্গ যোগ করানোর প্রয়াস করেছিলেন। কিন্তু আমাদের জন্য পন্থাটি হচ্ছে ভক্তিযোগ। এবং কেবল পবিত্র নাম শ্রবণ এবং কীর্তন এর মাধ্যমে আমরা ভগবত ধামে ফিরে যেতে পারি। এবং আমাদের এই জীবনকে ব্যবহার করা উচিত কৃষ্ণে মনোননিবেশ করার জন্যগৃহস্থালির বিলাসিতায় নয়। এই কলিযুগে সন্ন্যাস গ্রহণ করা নিষিদ্ধ, সাধারণত কোন ব্যক্তির গৃহস্থ হওয়া উচিত। কিছু ব্যক্তিরা সন্ন্যাস গ্রহণ করে বনে থাকে না, আশ্রমে বাস করেন। যাইহোক, মনুষ্য জীবন হচ্ছে আত্ম উপলব্ধির জন্য। কেউ গৃহস্থ, ব্রহ্মচারী বা সন্ন্যাসী যাই হোক না কেন, আমাদের কৃষ্ণের সেবা করা উচিত। এখন বর্তমান বিশ্বে আমরা দেখি মানুষেরা কৃষ্ণকে সম্পূর্ণ ভুলে গেছে। ধৃতরাষ্ট্র এটা সম্পূর্ণভাবে নিজের পরিস্থিতি বুঝতে পারছে না। আমাদের কালকে এবিসি নিউজ দেখছিলাম এবং তারা বলছে যে আপনি এই খবরটি দেখুন, তাহলে আপনি খুশি হবেন। সেই নিউজে বলা হয়েছিল — বড় একটা সংগীত সম্মেলনে ১০ জন পদপিষ্ঠ হয়ে মারা গিয়েছে, আরেকটি খবর হচ্ছে মেক্সিকোতে সেখানে একটি লরিতে করে অবৈধভাবে মানুষদের আমেরিকায় নিয়ে আসা হচ্ছিল এবং দুর্ঘটনা হওয়ার ফলে ৫০ জন মারা যায়। তো এই শুনে আমি কোন আনন্দ পাইনি। কিন্তু তারা বলেছিল যে আপনি আনন্দিত হবেন, আমাদের খবর শুনুন। তারা যা খুশি বেকার কথা বলতে পারে। কিন্তু বিদুর তিনি পরম সত্য কথা বলছেন, তিনি তার ভাইকে আত্ম উপলব্ধির পথে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা করছেন। এইভাবে যদি আপনারা সবাই শুনছেন ক্লাসে, আপনারা চেষ্টা করবেন আপনাদের আত্মীয়, আপনাদের বন্ধু যাতে এই মনুষ্য জন্ম ঠিক ঠিক লাভ করে। এই মনুষ্য জন্ম হচ্ছে ভগবানের কাছে ফিরে যাওয়া, নিত্য শাশ্বত জীবন লাভ করা। এবং এর মাধ্যমে মানুষেরা সুখী হবে, মিডিয়ায় মিথ্যে খবর শুনে নয়।

আমরা চৈতন্য মহাপ্রভুর সনাতন গোস্বামীকে প্রদত্ত শিক্ষা পড়ছিলাম। এবং তাতে মনুষ্যদের জন্য কিছু কিছু বিষয় পরামর্শ দেওয়া আছে। শ্রবণ, কীর্তন ভগবানের নাম, শ্রীবিগ্রহ অর্চন, কোন কৃষ্ণের লীলার পবিত্র স্থানে বসবাস করা, যেমন – বৃন্দাবন বা মায়াপুরে অথবা কোন মন্দিরের কাছাকাছি বাস করা। এইভাবে বিভিন্ন কিছু বলা হয়েছে যেমন ভগবদ্‌গীতা এবং শ্রীমদ্ভাগবতম অধ্যয়ন করা। বিদুর তার বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ধৃতরাষ্ট্রকে কৃষ্ণভাবনামৃত গ্রহণ করানোর প্রচেষ্টা করছেন, কালকে আমরা শুনছি যে প্রভুপাদ কিভাবে তাঁর শিষ্যগণকে বললেন, “আপনার পরীক্ষা থাক কি করে কৃষ্ণ প্রচার হবে, আপনাদের বুদ্ধি ব্যবহার করুন।” সাধারণত মানুষেরা তার বুদ্ধি ব্যবহার করে কি করে ইন্দ্রিয় তৃপ্তি লাভ করবে, কিন্তু আমরা যদি সেই বুদ্ধিমত্তা কৃষ্ণভাবনামৃত কিভাবে প্রচার হবে সেই ক্ষেত্রে ব্যবহার করি, তাহলে তা হবে এর যথাযথ ব্যবহার। চৈতন্য মহাপ্রভু প্রত্যেককে কৃষ্ণ চেতনাময় দেখতে চেয়েছিলেন। শ্রীল প্রভুপাদ তিনি ভেবেছিলেন যে কিভাবে তা সম্ভব হবে, তিনি তাঁর শিষ্যগণকে বলছিলেন যে আপনার বুদ্ধি খাটান যে কি করে এই কৃষ্ণ প্রচার হবে, এইভাবে আমরা কৃষ্ণকে প্রসন্ন করার বিষয়ে নিমগ্ন হব এবং সেটিই হচ্ছে ভক্তিযোগের পন্থা। 

একজন ভক্ত তিনি কাজীর কাছে গিয়েছিলেন, চাঁদকাজি নয় আরেকজন কাজী। উনার কাছে বলছেন, “আপনি যশবান, আপনার চেহারা সুন্দর, আপনি ধনী, আপনার রাজনৈতিক অনেক প্রভাব আছে। আমি একটা কথা বলতে পারি কি?”

“হ্যাঁ, কেন নয়!”

“এই সব ভুলে যান এবং হরে কৃষ্ণ কীর্তন করো।”

তখন কাজী বলল, “আমি কালকে হরে কৃষ্ণ কীর্তন করব।”

এবং সেই ভক্ত নাচতে শুরু করে “ওহ্! আপনি ইতিমধ্যেই তা কীর্তন করা শুরু করেছেন, হা! হা! হা! এখন থামবেন না চালিয়ে যান — হরেকৃষ্ণ হরেকৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বলা হয়েছে যে আমরা এখন যে যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবস্থা থেকেও খারাপ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের থেকেও বেশি লোক মারা গেছে। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হবে এবং তারপরে প্রচার আরো ভালো হবে। কিন্তু এই মহামারী বিশ্বযুদ্ধের মত এবং আমাদের মানুষদের দিয়ে হরে কৃষ্ণ জপ করানোর চেষ্টা করা উচিত কিন্তু আমরা তো কৃষ্ণের জন্য কোন জড়জাগতিক জিনিসের জন্য চাইনা, কিন্তু সাধারণ মানুষেরা তারা যা করে আসছে তাই করে। তাই এমনকি যদি তারা অপরাধ যুক্ত নাম করে, তাহলে তাও না জপ করার থেকে ভালো এবং যদি কৃষ্ণ নাম না করতে চায়, প্রভুপাদ বলছিলেন যে আল্লাহর নাম, জোহভা নাম মধ্যে নাম আছে ভগবানের, এটা বলতে পারে। তাই যে শ্লোক আছে, “হরের নাম হরের নাম হরের নাম” এর মানে পরমেশ্বর ভগবানের নাম জপ করা, তাই যেই নাম হোক না কেন যেমন চৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেন ভগবানের অনেক নাম আছেনাম্নামকারী বহুদা নিজ সর্বশক্তি” — ভগবানের অনেক নাম আছে, তাই যদি তারা তাদের ধর্মের ভগবানের নাম নেয়, তাহলে তা নাম জপ না করার থেকে ভালো। এবং এইভাবে যদি সারা বিশ্ব নাম করে সবাই আসলে সুখী হবে। শ্রীল প্রভুপাদ তিনি তেহেরানে গিয়েছিলেন এবং সেখানে মুসলিম পন্ডিতেরা বলছিল যে আল্লা-হু-আকবর মানেপর-ব্রহ্ম ধিমাহি। এইভাবে তিনি প্রত্যেককে বলেছিলেন যে যদি আপনি কৃষ্ণের নাম জপ করতে না চান, তাহলে ঠিক আছে আপনাদের পরমেশ্বর ভগবানের কোন নাম জপ করুন। 

আমি দেখছিলাম যে আমি অস্ট্রেলিয়া যেতে পারবো কিনা, কিন্তু সীমান্ত অঞ্চল যাত্রীদের জন্য এখনো বন্ধ আছে। তাই আমি ভাবছিলাম আমি মালেশিয়াতে যাব, কিন্তু তাদের সেখানে এক সপ্তাহের জন্য এখনো কোয়ারেন্টাইন আছে। তাই এখনও এই পৃথিবীতে ভ্রমণ করা খুব কঠিন। জাপান সম্পূর্ণ বন্ধ, এইভাবে প্রত্যেকের অন্যদেরকে দিয়ে জপ করানো উচিত, এটিই আমাদের একমাত্র আশা। কলিযুগে চৈতন্য মহাপ্রভু ভবিষ্যৎবাণী করেছেন যে প্রত্যেক নগর ও গ্রামে পবিত্র নাম কীর্তিত হবে। তাই আমাদের মানুষদেরকে দিয়ে হরে কৃষ্ণ বা ভগবানের অন্য কোন নাম জপ করানোর চেষ্টা করতে হবে এবং তার দ্বারা এই পরিবেশ শুদ্ধ হবে। এবং আমরা এই গীতা ম্যারাথন করছি এটিও ভগবদ্‌গীতা বিতরণের জন্য একটি ভালো সুযোগ, এই ভাবে বিশ্বে হয়ত অতিমারি পরিস্থিতি চলছে, কিন্তু কোন না কোনভাবে আমাদের কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার চালিয়ে যাওয়া উচিত। বিদুর আসছেন হস্তিনাপুর পাণ্ডবদের পশ্চাতে তিনি ধৃতরাষ্ট্রের কাছে এই কড়া কথা বলছেন, তিনি যাতে পারমার্থিক উন্নতি করে। “তুমি কুকুরের মত ভীমের কাছ থেকে খাবার খাচ্ছ” এইভাবে বলে ধৃতরাষ্ট্র যদি তার অহংকার পড়ে, তাহলে সে পারমার্থিক পথে চলে যায়। তাই বিদুরের ক্ষেত্রে তিনি এই বিষয়ে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন যে কিভাবে ধৃতরাষ্ট্রকে আত্ম উপলব্ধির পথে আনা যাবে। দ্বাপর যুগের ক্ষেত্রে কাউকে গৃহ পরিত্যাগ করে বনে যেতে হত। কলিযুগে গৃহে থেকে ভগবানের সেবা কর অথবা মন্দিরে থেকেও ভগবানের সেবা কর। ভগবানের সেবা একান্ত দরকার, সেইভাবে আমরা অসীম আনন্দ অনুভব করতে পারব। আমরা কোন শ্রীবিগ্রহকে বিশেষ বিগ্রহ রূপে গ্রহণ করতে পারি এবং কৃষ্ণের কাছে আমাদের মন প্রকাশ করে তাঁর আশীর্বাদ নিতে পারি। এইভাবে আমরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেবায় ব্যক্তিগতভাবে নিযুক্ত হতে পারব। এবং গুরুদেব ওঁনার সাহায্য করা যাতে এই কৃষ্ণচেতনা প্রসার হয়।

তোমাদের সকলকে ধন্যবাদ!  আমি কিছু প্রশ্ন নেব। 

অনিক পাল:- গুরু মহারাজ গত প্রবচনে বলা হয়েছিল যে আমাদের সব সময় মিষ্টভাবে সত্য কথা বলা উচিত, আজকের প্রবচন থেকে জানতে পারলাম যে বিদুর মহারাজ ধৃতরাষ্ট্রকে তিরস্কার করেছিলেন, তাহলে আমাদের কখন কেমন আচরণ করা উচিত? গুরু মহারাজ কৃপা করে বলবেন। 

জয়পতাকা স্বামী:- এইজন্য সাধারণ বুদ্ধি খাটাতে হয় যে কি পরিস্থিতি, পান্ডবদের দুঃখ দিতে চাইনি তাই তিনি পাণ্ডবদের বলেনি যে কৃষ্ণ চলে গেছেন। কিন্তু ধৃতরাষ্ট্রের কাছে অন্য পরিস্থিতি, তাই তিনি উনার কাছে এমন কথা বলেছেন যাতে উনি আত্মার উপলব্ধির জন্য প্রস্থান করে। তাই কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার করার জন্য অনেক সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান দরকার পড়ে। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আমাদের বিভিন্নভাবে কাজ করতে হবে। আমার মনে হয় এটি হতাশাজনক, কিন্তু এটি বোঝার জন্য এমন কোন সরল পন্থা নেই যে আমি তোমাকে বলতে পারব। এইজন্য আমরা ভাগবতে শুনি বিদুর বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ব্যবহার করেন। 

অখিলবন্ধু গোপাল দাস:- যেমন আপনি বললেন যে প্রত্যেকের ভগবানের পবিত্র নাম জপ করা উচিত সে তিনি যে ধর্মেরই হোন না কেন, গুরু মহারাজ আমার প্রশ্ন হচ্ছে— যে যীশু খ্রিস্টের আন্তরিক অনুসারী এবং বাইবেলের নির্দেশাবলী পালন করে, তাহলে তিনি কি ভগবানের জগতে প্রবেশ করবেন যেমন যীশুখ্রীষ্ট বলেছেন? গুরু মহারাজ যীশু খ্রীষ্ট যে ভগবত ধামের কথা বলেছেন, সেটা আর বৈকুন্ঠ কি একই

জয়পতাকা স্বামী:- কেবল একজন ভগবান আছেন। ভিন্ন ধর্মে তারা হয়ত মনে করতে পারে যে তারা ভিন্ন ভগবানকে পূজা করেন, কিন্তু কৃষ্ণভাবনার জ্ঞানের ভিত্তিতে আমরা বুঝতে পারি যে ভগবান কেবল একজনই। মুসলিমরা আল্লার আরাধনা করে এবং খ্রিস্টানরা তাকে ভগবান রূপে আরাধনা করে। তাই মূল বিষয়টি হচ্ছে যে তুমি পরমেশ্বর ভগবানের প্রতি প্রেম বিকশিত করতে পেরেছো কিনা। যদি তুমি পরমেশ্বর ভগবানের কাছে প্রার্থনা করো তোমাকে রুটি দেওয়ার জন্য, ভালো স্ত্রী দেওয়ার জন্য, ভালো স্বামী বা এমন কিছু দেওয়ার জন্য, তাহলে এর অর্থ তুমি কেবল জড়জাগতিক জিনিসের প্রতি আসক্ত, তাঁর প্রতি আসক্ত নও। আমরা চাই মানুষেরা যাতে পরমেশ্বর ভগবানের প্রতি তাদের প্রেম বিকশিত করতে পারে। তাই যীশু খ্রিষ্ট যে ভগবদ্ধামের কথা বলেছেন এবং আমরা বলি যে বৈকুন্ঠ তা একই। প্রশ্নটি হচ্ছে আমরা যতটা ভগবানের প্রতি প্রেম বিকশিত করতে পারব, তাহলে তখন আর আমাদের কোন দ্বিরুক্তি থাকবে না।  

ভক্ত:- আপনি আমাদেরকে মনে করিয়ে দিলেন যে সমগ্র বিশ্বে তারা বলছে যে কিছু সমস্যা চলছে, তাই ভক্ত হয়ে আমাদেরকেও বলা হয়েছে যে আমরা যাতে সাধারণ জীবন যাপন করি ও উচ্চতর চিন্তা করি, তাই এক্ষেত্রে আমি একটু কৌতুহলী যে কর্মীরা যারা মানুষের দুঃখ কষ্ট দূর করার চেষ্টা করছে, তাদের সাথে আমাদের ভিন্নতা কোথায়

জয়পতাকা স্বামী:- দেখো আমরা কৃষ্ণকে স্মরণ করার চেষ্টা করছি। এবং নববিধা ভক্তি অনুশীলনের মাধ্যমে আমরা ভক্তিমূলক সেবায় নিযুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছি। এবং সেই কারণে আমরা ব্যক্তিগতভাবে কৃষ্ণের সেবা করার জন্য ভগবদ্ধামে ফিরে যেতে চাই। কর্মীরা তারা জড়জাগতিক সমস্যার কিছু সমাধান খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছে যাতে তারা অণবিচ্ছিন্নভাবে ইন্দ্রিয় তৃপ্তি করতে পারে এবং এইভাবে তারা পুনঃ পুনঃ জন্মগ্রহণ করে, কিন্তু আমাদের আসলে এই মনুষ্য জীবন আছে, তাই আমাদের এই সুযোগ গ্রহণ করে ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়া উচিত।

শেষ প্রশ্ন।  

সৌমিত্র গৌরচন্দ্র দাস:- বেশি বেশি ভক্ত বানাতে বেশি সময় দেওয়া উচিত, নাকি নিজের ভজন সাধনে বা বিগ্রহ সেবায় বেশি সময় দেওয়া উচিত? 

জয়পতাকা স্বামী:- হ্যাঁ! মূল বিষয়টি হচ্ছে দুই ধরনের ভক্ত আছে — ভজনানন্দী এবং গোষ্টিয়ানন্দী ভজনানন্দীরা নিজের মুক্তি লাভের বিষয়টি দেখে, আর গোষ্টিয়ানন্দীরা অনেক ভক্তদের তাদের সাথে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়। আমাদের পরম্পরা হচ্ছে গোষ্টিয়ানন্দী। আমরা কৃষ্ণভাবনামৃত অনুশীলন করি ও একই সময় ভক্ত সংখ্যা বৃদ্ধি করারও চেষ্টা করি। তাই আমাদের কার্য হচ্ছে কৃষ্ণভাবনামৃত অনুশীলন করা ও একই সাথে তা প্রচারও করা। 

এই সুন্দর প্রশ্নাবলীর জন্য তোমাদের অনেক ধন্যবাদ !

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 9/9/23
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions