মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
জয়পতাকা স্বামীঃ- আমি এখানে সকলের সঙ্গে উপস্থিত থাকতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি, ভগবদ্গীতা ও এই গ্রন্থটির গুরুত্ব সম্বন্ধে বলতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। প্রকৃতপক্ষে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তিনটি নির্দেশ প্রদান করেছিলেন — “বল কৃষ্ণ, ভজ কৃষ্ণ, কর কৃষ্ণ শিক্ষা” এই তৃতীয় নির্দেশটি হচ্ছে — “কর কৃষ্ণ শিক্ষা” শ্রীল প্রভুপাদ বর্ণনা করেছেন ভগবদ্গীতা হচ্ছে কৃষ্ণের শিক্ষা, কারণ তা ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কর্তৃক কথিত। এছাড়াও শ্রীমদ্ভাগবতমেও শ্রীকৃষ্ণ কথা কথিত হয়েছে। তাই এটিও কৃষ্ণ শিক্ষা, কিন্তু বিশেষত ১৯৭০ সালে আমি শ্রীল প্রভুপাদের টেবিলে ভগবদ্গীতা দেখেছিলাম। আমি বলেছিলাম, “ওহ! আপনি ভগবদ্গীতা পড়ছেন শ্রীল প্রভুপাদ, এটি কি প্রারম্ভিক গ্রন্থ নয়?” তিনি বলেছিলেন, “প্রচারের জন্য তুমি অবশ্যই ভগবদ্গীতা পড়বে।” সুতরাং, যেমন তুমি মহামন প্রভুর কাছ থেকে শুনেছ, “প্রান আছে যার, সেই হেতু প্রচার,” তাই যদি আমাদের বেঁচে থাকতে হয়, তাহলে আমাদের প্রচার করতে হবে। আর আমরা যদি প্রচার করতে চাই, তাহলে আমাদের ভগবদ্গীতা পড়তে হবে।
আসলে, আমার যখন প্রথম দীক্ষা হয়, শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে আমাকে দশবার ভগবদ্গীতা পড়তে হবে। তাই আজও সেই গীতা ১,২,৩,৪, আবার ১,২,৩,৪, এই ভাবে দশবার পড়েছি। শ্রীল প্রভুপাদের ভগবদ্গীতা পড়ার পর, আমি লয়লা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পাঠক্রম পড়িয়েছিলাম। আমি মনট্রিলে ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়েও একটি পাঠক্রম পড়িয়েছিলাম। তাই শ্রীল প্রভুপাদ ভগবদ্গীতা এত সহজ এবং সাবলীলভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন যে, যে কেউ মহাবিদ্যালয় বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান করতে পারে। তাই ভগবদ্গীতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃত পক্ষে এটি হচ্ছে আমাদের আধ্যাত্মিক জীবনের ভিত্তি। এটি আমাদের সকল প্রয়োজনের সমাধানের শিক্ষা দেয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে আজকের দিনের মানুষ এই প্রাথমিক প্রয়োজনগুলি জানেই না। তারা মনে করে তারা দেহ। ভগবদ্গীতা স্পষ্টরুপে বলে যে আমরা দেহ নই, আমরা আত্মা। আমরা হচ্ছি ভগবানের পরাশক্তি। জড়া প্রকৃতি হচ্ছে ভগবানের নিকৃষ্ট শক্তি। সুতরাং এই জগতে টিকে থাকতে গেলে মানুষের ভগবদ্গীতা প্রয়োজন। মানুষেরা চরম দুর্দশা ভোগ করছে, কারণ তারা জীবনের প্রাথমিকতা সম্বন্ধে অজ্ঞ, তারা ভগবদ্গীতায় প্রদত্ত বিজ্ঞানটি সম্বন্ধে অজ্ঞ।
শ্রীল প্রভুপাদ কেন ভগবদ্গীতা যথাযথ উপস্থাপন করেছিলেন? কারণ বাজার চলতি শতশত ভগবদ্গীতার ভাষ্য রচনা হয়েছিল কিন্তু প্রত্যেকেই তাদের মনোপ্রসুত ভাষ্য রচনা করেছিলেন। এই শতশত ভগবদ্গীতার মধ্যে তিনি কোনটাই অনুমোদন দেননি। তিনি বলেছিলেন যখন আমাদের ভগবদ্গীতা নেই, তিনি বলতে পারতেন ঠিক আছে গীতা প্রেস চলতে পারে, তবে এটিও পুর্ণরূপে সঠিক নয়, কিন্তু শ্রীল প্রভুপাদ আমাদের যে ভগবদ্গীতা দিয়েছেন তা স্পষ্ট এবং সাবলীল। প্রত্যেকের এই ভগবদ্গীতা পড়া উচিৎ। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন ব্রাহ্মন দীক্ষা পেতে গেলে প্রত্যেকের ভক্তিশাস্ত্রী উপাধী লাভ করতে হবে। এবং আমরা জানি ভক্তিশাস্ত্রীর উপাধী হচ্ছে মূলত ভগবদ্গীতা। অন্যগ্রন্থও আছে, কিন্তু মূল হচ্ছে ভগবদ্গীতা। সুতরাং প্রচারক হতে গেলে প্রত্যেকের ভগবদ্গীতা পড়া উচিৎ। এবং আমরা খুব আনন্দিত যে ভারতীয় উপমহাদেশে এবং ভারতবর্ষে দেশ হিসেবে ২০০০০০০ ও বেশী ভগবদ্গীতা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। এটি সত্যই বিস্ময়কর! বৈষাশিক প্রভুর ঘোষনা অনুযায়ী আমাদের বিশ্বব্যাপী লক্ষ্য হচ্ছে ২২ লক্ষ, যার মধ্যে ২০০০০০০ও বেশী শুধুমাত্র ভারতবর্ষ অঙ্গীকার করেছে। সমস্ত মন্দির এখন পর্যন্ত তাদের অঙ্গীকার পাঠায়নি। সুতরাং আমরা দেখতে পাচ্ছি যে ভারতবর্ষ এক অত্যাশ্চর্য কার্য সম্পাদন করছে এবং আমরা প্রত্যেক দিন গ্রন্থ বিতরনের বিবরণ দেখতে পাচ্ছি ও শ্রীল প্রভুপাদ ভগবদ্গীতার মহিমা বর্দ্ধন করছেন যে কি ভাবে একজন ভগবদ্গীতা অধ্যয়ণ করে তার জীবনকে সার্থক করে তুলছেন।
আমার মনে পড়ে যে একজন লোক এক গোছা ভগবদ্গীতা নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিল। সেই লোকটি রাস্তার গাড়ী দেখেনি। সেই লোকটি রাস্তাতে গাড়ীর ধাক্কা খায় এবং মৃত্যু হয়। শ্রীল প্রভুপাদ বর্ণনা করেছেন সে যেহেতু ভক্তটি ভগবদ্গীতা বহন করছিল, তাই সে মুক্তি লাভ করেছে। সুতরাং পড়ার আর কি কথা, প্রকৃতপক্ষে শ্রীল প্রভুপাদ চেয়েছেন যে আমরা প্রত্যেকে যেন ভগবদ্গীতা অধ্যয়ন করি, শুধু অন্যকে বিতরন করা নয়, আমাদের এটি পড়াও উচিৎ, আমাদের তা জানাও উচিৎ। তিনি এটি চাইতেন না যে যখন তিনি জিজ্ঞাসা করবেন, “এই গ্রন্থ কি আছে?” তখন ভক্ত বলুক, “আমি পড়িনি, আমি জানি না! তিনি এটি চাইতেন না। তিনি চাইতেন ভক্তরা ভগবদ্গীতা পড়ুক। বিষয়বস্তু সম্বন্ধে অবগত হোক এবং এটিকে বিশ্বাস করুক। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন আমায় দীক্ষা পেতে গেলে ১০বার গীতা পড়া উচিৎ। আমি তাই বলি দীক্ষা পেতে গেলে অন্ততপক্ষে ২বার গীতা পড়তে হবে। যাই হোক, আজ হচ্ছে বিশ্ব গীতা দিবস। ভগবদ্গীতা মহিমান্বিত হোক! শ্রীল প্রভুপাদ যিনি আমাদের ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অমৃতরাণী প্রদান করেছেন, তিনি মহিমান্বিত হোন। হরে কৃষ্ণ!
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address