Text Size

২০২১১১২১ রাশিয়ান প্রশিষ্যদের উদ্দেশ্যে বার্তা

21 Nov 2021|Duration: 02:31:47|Bengali|Public Address|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

জয়পতাকা স্বামী:- আমি এখানে আমার নাতি নাতনিদের সাথে থাকতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। শ্রীল প্রভুপাদ আমাদেরকে বলেছিলেন যে আমরা শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের প্রশিষ্য এবং ঠাকুরদা নাতি-নাতনিদের মিষ্টি ও বিস্কুট দেয়। কিন্তু পিতা তার ছেলেকে শাসনে রাখে, তাই এই হচ্ছে আমাদের সম্পর্ক। প্রত্যেকদিন আমাদের শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সেবা করার সুযোগ থাকে, প্রত্যেক অবতারের একটি ভাব আছে, যেমন নরসিংহদেব ভক্তদের অত্যাচার করা হলে সেই বিষয়ে অত্যন্ত ক্রোধী। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু হচ্ছেন অতি কৃপাময়, তিনি কৃষ্ণপ্রেম বিতরণ করেন এবং হরিনাম সংকীর্তন স্থাপন করেন। তিনি যখন জগন্নাথপুরী ছেড়ে দক্ষিণ ভারতে গিয়েছিলেন, তখন যাদেরই তিনি রাস্তায় দেখতেন, তাদের আলিঙ্গন করতেন ও হরে কৃষ্ণ বলতে বলতেন, তখন তারা কৃষ্ণ প্রেমে পূর্ণ হয়ে যেত। এইভাবে সর্বস্থানে তিনি কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার করেছিলেন। 

কূর্মদেশে এক ব্রাহ্মণ বলেছিলেন যে তিনি সবকিছু ছেড়ে চৈতন্য মহাপ্রভুর সঙ্গে যেতে চান, কিন্তু শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তাকে বললেন মর্কট বৈরাগী হয়ো না, মর্কট সন্ন্যাসী হয়ো না। এখানে তোমার পরিবারের সাথে থাকো এবং হরিনাম প্রচার করো। আর যার সাথেই তোমার সাক্ষাৎ হয়, তাকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সম্বন্ধে বল। 

যারে দেখ, তারে কহ কৃষ্ণ-উপদেশ ।
আমার আজ্ঞায় 'গুরু' হঞা তার' এই দেশ ॥

এইভাবে চৈতন্য মহাপ্রভু কত কাউকে প্রচারের শক্তি প্রদান করেছিলেন, কেউ একজন চৈতন্য চন্দ্রচরণ দাসকে বলেছিল যে তার সন্যাস গ্রহণ করা উচিত কিন্তু আমি তাকে বলেছি শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে যতক্ষণ পর্যন্ত তোমার স্ত্রী সহায়তা করবে, সহায়ক থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তোমার সন্ন্যাসী হওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা জানি যে গৌরচন্দ্রিকা দেবী দাসী অত্যন্ত উৎসর্গীত ভক্ত। কিন্তু চৈতন্য চন্দ্রচরণ তিনি আমাকে বলছিলেন যে তার কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার করার জন্য অনেক পরিকল্পনা আছে। তাই আমি আশা করি তোমরা সকলে তাকে সাহায্য করবে, যাতে তিনি সেটি করতে পারেন। এটি দেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ভাব হচ্ছে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার করা। তিনি দেখতে চান সকলেই যাতে কৃষ্ণ প্রেম প্রাপ্ত হয়ে অমৃত আস্বাদন করে। ঠিক যেমন নরসিংহ দেব ক্রোধ ভাবে আছেন, তেমনই চৈতন্য মহাপ্রভু কৃপাভাবে আছেন। প্রহ্লাদ মহারাজ গোষ্ঠীয়ানন্দী ভাব গ্রহণ করেছিলেন, তিনি এমনকি অসুরদের পুত্রদেরও প্রচার করেছিলেন, তিনি তাদেরকে বলেছিলেন যে এমনকি নারী বা যে কেউ যদি পবিত্র নাম জপ করে, ভক্তিমূলক সেবা সম্পাদন করে, তাহলে তারা পূর্ণ সার্থকতা অর্জন করতে পারবে। এইভাবে তিনি সকল ছোট বালকদের দিয়ে হরে কৃষ্ণ কীর্তন করিয়েছিলেন। 

আমি প্রত্যেকদিন আমার শিষ্যদের জন্য প্রার্থনা করি এবং আমার প্রশিষ্য, তোমাদের জন্যও প্রহ্লাদ নরসিংহদেবের কাছে প্রার্থনা করি। আমরা আশা করি তোমরা যে কোন বাধা অতিক্রম করতে পারবে, তোমরা সবাই আমার কাছে অত্যন্ত প্রিয় এবং আমি তোমাদের সকলকে চৈতন্য মহাপ্রভুর বাণী প্রচার করতে দেখতে চাই। এটি কোন কঠিন কার্য নয়, কেবল পন্থাটি মান্য করা উচিত। 

শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে, একজন ভক্ত তৈরি করতে বালতি বালতি রক্ত দিতে হয়, আর তোমাদের সকলকে ভক্ত করার জন্য চৈতন্য চন্দ্রচরণ দাসকেও নিশ্চয়ই অনেক প্রচেষ্টা করতে হয়েছে। তাই আমি অনুভব করি যে, শ্রীল প্রভুপাদ কত কষ্ট সহন করেছিলেন, এত প্রবীণ বয়সে তিনি কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলন প্রচার করেছিলেন। আমাকে সেই ঋণ শোধ করতে হবে এবং সেই মতো ভাবলে আমি অনুপ্রাণিত থাকবো, কারণ সেই ঋণ এত বৃহৎ যে তা শোধ করার জন্য আমার সকল প্রচেষ্টা দরকার, কিন্তু তবুও তা যথেষ্ট নয়! এই পরম্পরায় শ্রীল প্রভুপাদের মাধ্যমে তোমরা সকলে চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা প্রাপ্ত হয়েছ। তাই শ্রীল প্রভুপাদের অনুসারী হয়ে তোমাদের সকলের সেই ঋণ শোধ করার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করতে হবে, আমি জানি যে কয়েকজন ভক্ত গুরু গৌরাঙ্গের এই আন্দোলনে সেবা করার প্রতি অত্যন্ত বিবেকবান, কিন্তু হয়তো কিছু ভক্তরা তাদের সাধ্য মত প্রচেষ্টা করছে না। দেখুন দুই প্রকার বৈষ্ণব আছে, ভজনানন্দী যারা নিজের মুক্তির জন্য কার্য করে, তবে প্রহ্লাদ মহারাজ ছিলেন গোষ্টিয়ানন্দী। শ্রীল প্রভুপাদ ছিলেন গোষ্টিয়ানন্দী, তিনি বৃন্দাবনে থাকতে পারতেন ও মুক্তি পেতে পারতেন। কিন্তু তিনি ১২ - ১৪ বার সমগ্র বিশ্বে ভ্রমণ করেছিলেন, তিনি মস্কোতে এসেছিলেন। তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা এইখানে নিয়ে এসেছিলেন, তিনি সেটি কেন করেছিলেন? কারণ তিনি ছিলেন গোষ্টিয়ানন্দী, তিনি একা কৃষ্ণের কাছে ফিরে যেতে চাননি, তিনি যতদূর সম্ভব অনেক জীবাত্মাকেও নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। যদি তোমরা সকলে চৈতন্য চন্দ্রচরণ দাসকে জীবদের ভগবদ্ধামে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য কর, তাহলে তা খুবই প্রশংসনীয় হবে।  

গীতাভবনে আমরা হাজার হাজার ভক্তদের দেখি যে তারা ভীষ্মপঞ্চকে ফল মূল খেয়ে উপবাস ব্রত পালন করে, তারা সকলে হরে কৃষ্ণ জপ করে ও গঙ্গায় স্নান করে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে পুষ্প নিবেদন করে, রাধামাধবকে দ্বীপ নিবেদন করে। আমি তাদেরকে কৃষ্ণভাবনামৃত অনুশীলন করতে দেখে অত্যন্ত আনন্দিত অনুভব করছিলাম, এই আনন্দ তুমি জড় জগতে পাবে না। যাই হোক তোমাদের সকলের সাথে এখানে থাকতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। আমার তোমাদেরকে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার জন্য কিছু সময় দেওয়া উচিত। 

আনন্দিনী পূর্ণ দেবী দাসী:- অনেক পারমার্থিক উৎস থেকে আমরা জানতে পারি যে, আধ্যাত্মিক জগতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সব সময় ১৬ বছর বয়সী থাকেন, কিন্তু আমি অন্যান্য ভক্তদের থেকে ও শাস্ত্র থেকে শুনেছি যে এখানে বিভিন্নতা আছে। আধ্যাত্মিক জগতে কৃষ্ণ বিভিন্ন বয়সে তাঁর লীলা করে থাকেন। তাই আসল সত্য কি? এটি কিভাবে ঘটে? 

জয়পতাকা স্বামী :- তাঁর আবির্ভাব লীলা আছে, যেখানে তিনি ছোট শিশু, তারপর বালক, তারপর তার থেকে একটু বড়, তারপর কুমার, যৌবন, তিনি যৌবনের অধিক কখনও বৃদ্ধি পান না। বলা হয় ২০ বা ২১ বছরের। তিনি বৃন্দাবনে কিশোর অবস্থায় আছেন, কিন্তু তিনি এইসব বয়সের মধ্যে দিয়ে যান যেমন আমি উল্লেখ করলাম তবে তিনি বৃদ্ধ হন না। বড় দাড়ি, ধূসর কেশ এমন কিছু হয় না। কেন তিনি বৃদ্ধ হবেন? তিনি হচ্ছেন পরম পুরুষোত্তম ভগবান এবং সময়ের নিয়ন্ত্রক। তাই তিনি সর্বদা নবযৌবনম — অভিনব, নতুন, যুবক। 

চৈতন্য চন্দ্র চরণ দাস:- গুরমহারাজ আপনার কৃপায় আমাদের প্রকল্প ইতিমধ্যেই কার্যকর হওয়া শুরু হয়েছে, আমরা প্রত্যেকদিন সেখানে অতিথিদের আপ্যায়ন করছি। আমাদের কীর্তন মেলা, সম্ভিত অনুষ্ঠান, সন্ধ্যায় সংস্কৃতিক বিভিন্ন কার্যকলাপ চলছে, গৌর চন্দ্রিকা নাটক পরিবেশন করেছিল। আপনি সেই বৃহৎ হলঘরটি দেখতে পারবেন, এছাড়াও আমাদের অনেক বাড়িও আছে। আমাদের এমনকি একটি সুহানা ঘরও আছে এবং আমরা এটি আপনাকে নিবেদন করতে চাই। আমরা ইতিমধ্যেই একটি অঙ্কন বিদ্যালয়ে শুরু করেছি আর সেখানে সেখানকার স্থানীয় শিশুরা এসে আঁকা শেখে। 

জয়পতাকা স্বামী:- এই হলঘরটি কোথায়?

চৈতন্য চন্দ্র চরণ দাস:- আলমতির কাছে কাজকিস্থানে, এবং এখন আমরা রাধা গোকুলানন্দ শ্রীবিগ্রহের জন্য একটি ছোট মন্দির নির্মাণ করছি। এখন আমাদের কাছে অন্য দলের ভক্তরা সাক্ষাৎ করতে আসে এবং আমাদের পিছনে আপনি ইউক্রেনের ভক্তদের দেখতে পারবেন, গতকাল তারা দীক্ষা গ্রহণ করেছে। 

জয়পতাকা স্বামী:- খুব ভালো! 

চৈতন্য চন্দ্র চরণ দাস:- তারা সকলে কৃপা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে, তারা এই আন্দোলনের অংশ হতে ও সেবা করতে প্রস্তুত।  

জয়পতাকা স্বামী:- রাধা কৃষ্ণে মতি রস্তু!

চৈতন্য চন্দ্র চরণ দাস:- দয়া করে আমাদের বিনম্র প্রণাম গ্রহণ করুন! 

জয়পতাকা স্বামী:- এটি কি একটি হলঘর?  

চৈতন্য চন্দ্র চরণ দাস:- এটি থিয়েটারের মত বিশাল একটি হল ঘর এবং আমরা আপনাকে মঞ্চটি দেখাবো। 

জয়পতাকা স্বামী:-  দারুন! 

চৈতন্য চন্দ্র চরণ দাস:-  আমাদের একটি সিংহাসন আছে, কখনও কখনও আমরা এই হল ঘরে সেই সিংহাসন নিয়ে আসি এবং এখানে ২০০ জন মানুষ ভালোভাবে থাকতে পারবে এবং কাছেই আমাদের  দোতলায় হোটেল ও অনেকগুলি ঘর আছে, যেখানে ভক্তদের পরিবার থাকে। আমরা প্রত্যেকদিনফুড ফর লাইফকরি। 

জয়পতাকা স্বামী:- ধন্যবাদ!

প্রশ্ন:- আমরা প্রচারের প্রতি আপনার উৎসাহের সত্যিই প্রশংসা করি, আজকে আপনার সাথে সাক্ষাৎ হওয়ার আগে আমরা মহাবরাহ প্রভুর থেকে আপনার সম্পর্কে অনেকগুলি কাহিনী শুনেছি এবং আপনি যা কিছু করেন, আমরা অতি মুগ্ধ হয়ে তার প্রশংসা করি। দয়া করে আমাদেরকে বলুন যে কিভাবে আমরাও এই একইরকম উৎসাহ পেতে পারবো?  

জয়পতাকা স্বামী:- আমরা এখন পড়ছি যে কিভাবে চৈতন্য মহাপ্রভু সনাতন গোস্বামীকে দুই মাস ধরে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তিনি বলছিলেন কিভাবে ভগবান কিছু কিছু ব্যক্তিকে সেই ক্ষমতা প্রদান করেন, যাতে তারা অদ্ভুত কার্য করতে পারেন। কেউ যখন সেই মহাশক্তি প্রাপ্ত হন, তখন তাকে বলা হয় শক্ত্যাবেশ। এবং কেউ যদি সেই রকম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি প্রাপ্ত থাকে, তবে তিনি হয়তো ততো মহান নন, তখন তাকে বলা হয় বিভূতি। তাই তুমি যদি চৈতন্য চন্দ্রচরণকে সেবা করার মাধ্যমে গুরু পরম্পরার সেবা করো, তাহলে নিশ্চিত রূপে চৈতন্য মহাপ্রভু তোমাকে তাঁর কৃপা প্রদান করবেন। এবং এইভাবে তুমি তখন ভাববে যে কোত্থেকে এই শক্তি এলো? দেখ, বলা হয়েছে যে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচারের জন্য কারোর শক্তি প্রাপ্ত হতে হবে, তাই যারা আন্তরিকভাবে গুরু গৌরাঙ্গের সেবা করছে, স্বাভাবিকভাবেই তারা সেই শক্তি পাবে, এইভাবে সনাতন গোস্বামী সবরকম বিস্তার সম্পর্কে শুনে চৈতন্য মহাপ্রভুকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “যে ব্যক্তি হরিনাম সংকীর্তন প্রচার করছেন এবং প্রত্যেককে কৃষ্ণ প্রেম দিচ্ছেন, যাঁর বর্ণ সুবর্ণ, তিনি কি কোন অবতার? চৈতন্য মহাপ্রভু বললেন, “তোমার কৌশল বন্ধ করো।” আমি এইসবের ধারে কাছে নই, তারপর তিনি সেই বিষয় কথাবার্তা পরিবর্তন করে দিলেন, কিন্তু সনাতন গোস্বামী তাঁর কথিত বর্ণনা থেকেই প্রকাশ করেছিলেন যে চৈতন্য মহাপ্রভু হচ্ছেন একজন অবতার, যুগ অবতার। তবে চৈতন্য মহাপ্রভু বলেছিলেন, “তোমার কৌশল বন্ধ করো।” তিনি এইভাবে হার স্বীকার করেছিলেন! তাই তুমি যদি তোমার আধ্যাত্মিক গুরুদেবের প্রতি উৎসর্গিত হও এবং কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনের প্রচার করার চেষ্টা করো, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তুমি চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা দ্বারা শক্তি প্রাপ্ত হবে।

অচ্যুত দাস:- আমরা আপনার থেকে শুনেছি যে আমাদের সমগ্র বিশ্বে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার করা উচিত, তাই আমার প্রশ্ন হচ্ছে এখন বর্তমানে এত অসুবিধা ও কঠিনতাপূর্ণ পরিস্থিতিতে আমরা কিভাবে প্রচার করবো, এখন যখন মহামারী হয়েছে এবং সবকিছু মানুষদের চিত্ত বিক্ষিপ্ত করে দিয়েছে, তখন আপনার মতে এই পরিস্থিতিতে শ্রীল প্রভুপাদ কি করতেন? তাঁর প্রচার পরিকল্পনা কেমন হতো

জয়পতাকা স্বামী:- আমি জানিনা কাজকিস্থানের পরিস্থিতি কি, কিন্তু আমি শুনেছি যে রাশিয়ার পরিস্থিতি খুবই বাজে এবং আমরা জানি যে শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন আমাদের পবিত্র নাম জপ করা উচিত, তিনি ইরানের তেহেরানে গিয়েছিলেন এবং এক মুসলিম পণ্ডিতের সাথে কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন শাস্ত্রে বলা আছে হরের নাম, পরম পুরুষোত্তম ভগবানের নাম জপ করতে। তাই তারা যদি হরে কৃষ্ণ জপ না করে, তাহলে তারা পরম পুরুষোত্তম ভগবানের উদ্দেশ্যে অন্য কোন নামও জপ করতে পারে। কোরানে আল্লাহর ৯৯টি নাম বলা আছে, তারা যে কোন নাম জপ করতে পারে। এইভাবে বাইবেলে খ্রীষ্ট ধর্মে যদি ভগবানের নাম বলা থাকে, তাহলে তারা তা জপ করতে পারে। হরে কৃষ্ণ জপ করা সহজ, আমার রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টান নানের সাথে আলাপ হয়, যিনি আমার থেকে নির্দেশ নিয়েছিলেন, তিনি জপ করছিলেন যীশু খ্রীষ্ট যীশু খ্রীষ্ট খ্রীষ্ট খ্রীষ্ট যীশু যীশু। এবং তিনি ভাবলেন এটা প্রায় হরেকৃষ্ণ বলার মতোই, তাই আমার একবার তা বলার চেষ্টা করা উচিত। তিনি হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে/ হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে জপ করা শুরু করেছিলেন এবং যীশু খ্রীষ্ট জপ করার সময় যা অনুভব করছিলেন, সেই একই অনুভূতি হয় বরং তার থেকেও বেশিকিছু অনুভব করেছিলেন। তাই তিনি ১৬ মালা জপ করতে শুরু করেন এবং দীক্ষা গ্রহণ করেন। তার নাম মোক্ষরূপা দেবী দাসী।  তিনি এখনো খ্রিস্টান নান, তাই আমরা বলছি না যে আপনাকে সমগ্র বিশ্বে ভ্রমণ করতে হবে, আপনি যেখানেই আছেন সেখানেই প্রচার করুন, হয় রেডিও বা টিভির মাধ্যমে। তবে কোনো না কোনোভাবে মানুষদের দিয়ে জপ করান। মানুষেরা ভ্যাকসিন নিয়ে ওষুধ খেয়ে তবুও অসুস্থ। সরকার বলছে যে প্রত্যেককে ভ্যাকসিন নিতে হবে, কিন্তু তবুও মানুষেরা বলছে যে, “না আমি ভ্যাকসিন নিতে চাই না!” যাইহোক আমরা সেইসব বাকবিবাদে যেতে চাই না, আমরা বলছি যে দয়া করে ভগবানের নাম জপ করুন এবং যদি প্রত্যেকে নাম জপ করে তাহলে এই মহামারী দূরীভূত হবে। সাধারণত আমরা কৃষ্ণের থেকে কোন কিছু চাই না, কারণ আমরা যদি জড়জাগতিক কোন কিছু চাই, তাহলে তা অপরাধজনক, কিন্তু অপরাধযুক্ত নাম করা নাম না করার থেকে ভালো।  কোন কিছু পাওয়ার জন্য নাম জপ করি না, আমরা কেবল ভগবানের প্রতিবিধানের জন্য নাম জপ করি। অন্যান্যরা এর দ্বারা এই মহামারীতে সাহায্য পেতে পারে। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে ওঁনারা কলকাতায় প্লেগের সময় তা করেছিলেন, তখন খ্রিস্টান, মুসলিম, হিন্দু, পার্সি সবাই হরে কৃষ্ণ জপ করেছিল এবং প্লেগ চলে গিয়েছিল। তাই এটি হচ্ছে সুযোগ, যদি প্রত্যেকে পবিত্র নাম জপ করে, তাহলে এই মহামারী চলে যাবে, তখন মানুষেরা আরো অনুকূল হবে। ঠিক আছে

দেবশেখর গোবিন্দ দাস:- আমি খুব শীঘ্রই একটি ভক্তিবৃক্ষ শুরু করতে চলেছি, তাই আপনার মতে ভক্ত প্রযত্নের ক্ষেত্রে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি কি

জয়পতাকা স্বামী:- এই প্রশ্নগুলির উত্তর দেওয়া সব সময় কঠিন। আমি কোনটি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি, আমার মনে হয় না আমার মনে করা খুব একটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি বুঝতে চেষ্টা করি যে সেই ভক্ত কিসের সম্মুখীন হচ্ছে এবং আমি যা কিছু করতে পারি, তার দ্বারা তাদের সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করি। আমার মনে হয় বিষয়টি হচ্ছে আমি যত্ন নেই, আমি তাদের প্রয়োজনীয়তা পূর্ণ করার চেষ্টা করি, আমার মনে হয় ভক্তরা সেটির প্রশংসা করে। 

বিমল-কুণ্ড দেবী দাসী:- আমার কোন প্রশ্ন নেই কিন্তু আমি কেবল আপনাকে স্মরণ করাতে যাই যে,  যখন আমাদের পারমার্থিক গুরুদেব চৈতন্য চন্দ্রচরণ প্রভু তার ব্যাস পূজার জন্য মায়াপুরে আসতে পারেনি, তখন আপনি আমাদেরকে ছাদে সমবেত করেছিলেন এবং সেই দিন ছিল কীর্তন মেলা। পঞ্চতত্ত্ব আপনার ও ভক্তিচারু স্বামীর কীর্তনে ক্রন্দন করেছিলেন, যখন আপনি আপনার প্রশিষ্য, আমাদেরকে ছাদের উপর সমবেত করেছিলেন, তখন আপনি আমাদের বলেছিলেন তোমরা যা চাও সেই আশীর্বাদ আমার কাছে চাইতে পারো এবং শ্রীল প্রভুপাদ আমাদেরকে যা যা করতে বলেছেন তার মধ্যে আমার যা কিছু মনে আসছিল, আমি সেই সব কিছুই আপনার কাছে বলেছিলামতাই আমি আপনাকে বলতে চাই যে, এখনো পর্যন্ত আপনার কৃপা, অত্যন্ত অসাধারণভাবে কাজ করছে। আমি যা সেবা শ্রীল প্রভুপাদকে করতে চাই, সেই সব কিছু সফল হয়েছে। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা এবং আমাদেরকে আপনার আশ্রয় প্রদান করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। হরে কৃষ্ণ! 

জয়পতাকা স্বামী:- ধন্যবাদ! আমি প্রার্থনা করি তোমার গুরু চেতনা সব সময় বজায় থাকুক! এবং তুমি রাধা কৃষ্ণের কৃপা প্রাপ্ত হও!  

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী (27/6/2023)
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions