নিম্নোক্ত প্রবচনটি শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ ২০ নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারতের প্রদান করেছেন। এই প্রবচন শুরু হয়েছে শ্রীমদ্ভাগবতের ১.১২.৩৬ শ্লোক পাঠের মাধ্যমে।
মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ তৎ সৎ
জয়পতাকা স্বামী: আমরা শ্রীমদ্ভাগবতের প্রথম স্কন্ধে দেখতে পাই যে, কিভাবে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ উপস্থিত ছিলেন। যুধিষ্ঠির শ্রীকৃষ্ণের সাথে এক বরিষ্ঠ সখার মতো সম্পর্কিত এবং তাই তিনি কৃষ্ণকে যজ্ঞের জন্য সেখানে অবস্থান করতে অনুরোধ করেছিলেন। যদিও কৃষ্ণ হচ্ছেন পরম পুরুষোত্তম ভগবান, কিন্তু তিনি একজন মনুষ্যের মতো লীলাবিলাস করেছিলেন। এই জগতের জন্য উনি একটা দায়িত্ব নিয়েছেন। এই দায়িত্ব নিয়েছে যে যে ব্রাহ্মণ যজ্ঞ করবে, সে ঠিক ঠিক যোগ্য সুযোগী হবে। তাই কেবল ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করা যথেষ্ট নয়, এইরকম ব্যক্তিদেরকে বলা হয় ব্রহ্ম-বন্ধু—যারা ব্রাহ্মণের গুণ সম্পূর্ণ উৎপাদিত হয়নি। যেমন বাংলা-র ক্ষেত্রে আমরা শুনছি যে এটি ভারতবর্ষে শীর্ষস্থানীয়, কিসে শীর্ষস্থানীয়? তারা শীর্ষস্থানীয় এই জন্য যে এখানে সবথেকে বেশি আমিষ খায়, ৯৮%। গুজরাটে ৪০% নিরামিষভোজী, কিন্তু বাংলায় কেবল ২%। তাই, বাংলার ক্ষেত্রে ব্যানার্জি, মুখার্জি, বন্দ্যোপাধ্যায়, তাদের মধ্যে কাউকে শুদ্ধ শাকাহারি খুঁজে পাওয়া মুশকিল। এবং শচীমাতার বংশধর স্বামী-স্ত্রীগণ ও তাদের সন্তানেরা নিরামিষভোজী নয়। কেন? কারণ তারা যে ব্রাহ্মণ পরিবারে থাকেন, তারা নিরামিষভোজী নয়। হয়ত দ্বাপর যুগে ব্রাহ্মণেরা নিরামিষভোজী ছিলেন, কিন্তু তাদেরকে নিরামিষভোজী পরিবারেই জন্মগ্রহণ করতে হত এবং সেইসাথে প্রশিক্ষিত হতে হত, যোগ্য হতে হত এবং দীক্ষা প্রাপ্ত হতে হত।
আমি এই দেখে খুবই খুশি যে কত ভক্তরা ভীষ্মপঞ্চক ব্রতের উপবাস করছেন এবং মন্দিরে হরে কৃষ্ণ নাম জপ করছেন। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বলছিলেন—“শুচি হয়ে মুচি হয় যদি কৃষ্ণ ত্যাজে, মুচি হয়ে শুচি হয় যদি কৃষ্ণ ভজে”—শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেন যে, এমনকি শূদ্র ঘরে জন্মগ্রহণ করা ব্যক্তিও যদি শ্রীকৃষ্ণের সেবা-পূজা করেন, তাহলে তিনি শুদ্ধ হয়ে যান, এবং শুদ্ধ পরিবারে জন্মগ্রহণ করা ব্যক্তি, তিনি যদি কৃষ্ণ পূজা না করে, তাহলে তিনি শূদ্র। শুচি-এর অর্থ হচ্ছে ব্রাহ্মণ, কিন্তু সে কৃষ্ণ যদি ত্যাজে, সে পতিত হয়ে যায়।
শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর, তিনি বৈষ্ণব ভক্তগণকে উপনয়ন প্রদান করা শুরু করেছিলেন, তাদেরকে পবিত্র উপবীত প্রদানের মাধ্যমে তিনি এটি প্রদর্শন করতে চেয়েছিলেন যে—বৈষ্ণব ইতিমধ্যেই একজন ব্রাহ্মন। শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরকে বাংলার মেদিনীপুরের এক ব্রাহ্মণ সভায় নিমন্ত্রণ করা হয়েছিল। তখন তিনি বলেছিলেন যে কিভাবে ব্রাহ্মণদের ১২টি গুণাবলী থাকে এবং যারা ব্রাহ্মণ উপস্থিত ছিল তারা খুব গর্বিত ছিল, কিন্তু তারপর তিনি বর্ণনা করেছিলেন যে, বৈষ্ণবের ১৩টি গুণাবলী রয়েছে। ব্রাহ্মণের বারটি গুণসমূহ সহ শুদ্ধ ভক্তি। তাই, আমরা চাই সকল ভক্তরা যেন কৃষ্ণভক্তি অনুশীলন করেন এবং ব্রাহ্মণের এই দ্বাদশ গুণাবলী অর্জন করেন।
আমি অন্যান্য গুরুবর্গের শিষ্যদের কথা জানিনা, তবে আমার শিষ্যদের মধ্যে কেবল ১২% শিষ্য দ্বিতীয় দীক্ষিত। আমরা চাই সব শিষ্যগণ, সব ভক্তবৃন্দ যাতে শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ অধ্যয়ন করেন এবং ভক্তিশাস্ত্রী ইত্যাদি ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রভুপাদ এইসব পরীক্ষা নিজে স্থাপন করেছিল। তিনি বলেছিলেন যারা ব্রাহ্মণ গায়ত্রী নেবে, তাদের ভক্তি শাস্ত্রী নেওয়া উচিত। যারা সন্ন্যাস নেবে, ভক্তি বৈভব নেওয়া উচিত। যারা গুরু ভাবে, ভক্তিবেদান্ত পরীক্ষা নেওয়া উচিত। দুর্ভাগ্যক্রমে ইসকনে আমাদের এই সমস্ত ডিগ্রিগুলি তত প্রতিষ্ঠা লাভ করেনি, কিন্তু প্রভুপাদ চাইতেন যে তাঁর সকল অনুসারীবৃন্দ যেন সুপ্রশিক্ষিত হন এবং তাঁর গ্রন্থাসমূহ ভালো করে অধ্যয়ন করেন।
ঠিক যেমন তিনি বলেছিলেন যে, যদি আমরা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর অনুসারী হই, তাহলে তিনি কেবল শিক্ষাষ্টকমের যে আটটি শ্লোক আমাদেরকে প্রদান করেছেন, সবাই এই আটটি শ্লোক জানা উচিত। এটি এক আকর্ষণীয় দিক, আমাকে একজন সংস্কৃত পণ্ডিত বলেছিলেন যে শিক্ষাষ্টকমের প্রত্যেকটি শ্লোক ভিন্ন ছন্দের ও সেই সংস্কৃত পণ্ডিত শিক্ষাষ্টকম পড়েছেন এটি দেখার জন্য যে, কিভাবে সেটি নিখুঁত সংস্কৃত ব্যাকরণ সহ কবিতা হিসেবে রচিত হয়েছে। আমার কাছে এটি এক চিত্তাকর্ষক বিষয় যে, এই সমস্ত সংস্কৃত পণ্ডিতরাও শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষাষ্টকম পড়েছেন। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, নিমাই পণ্ডিত হয়ে একটা পণ্ডিতের আনন্দ করলেন।
যাইহোক, কৃষ্ণ তিনি সেই সেবা করছিলেন, যেমন তিনি দেখছিলেন যে ব্রাহ্মণেরা যেন সেই মতো গুণসম্পন্ন হন। একটি বিষয় আমরা লক্ষ্য করছি যে, কিভাবে কৃষ্ণ তাঁর সখার জন্য এই প্রকার সাধারণ সেবা করতেন। কৃষ্ণের মতো বন্ধু আর কেউ আছে? তোমার যদি কৃষ্ণ বন্ধু হয়, তাহলে জীবনে স্বার্থক হয়। আমরা চাই শ্রীকৃষ্ণ যেন আমাদের বন্ধু হন, আমরা বেশিরভাগজনই তাই চাই!! আমাদেরকেও শ্রীকৃষ্ণের বন্ধুর মতো কার্য করতে হবে। ভক্তিযোগের অর্থ হচ্ছে—আমরা সম্পূর্ণরূপে কৃষ্ণের প্রতি নির্ভরশীল, আমরা তাঁর প্রতি শরণাগত। তিনি অত্যন্ত দয়ালু, তিনি তাঁর ভক্তদেরকে তাঁর বন্ধু করেন। আমি পড়ছিলাম যে ওঁনার আসার আগে তিনি কিছু ভক্ত পাঠান মা-বাবা হওয়ার জন্য। কে মা হবে? কে বাবা হবে? আমরা সেটা বিচার নাই, উনি আগে পাঠান কে ওনার বাবা-মা হবে। যখন কৃষ্ণ আবির্ভূত হন, তাঁর শরীর দিব্য এবং এই কারণেই তিনি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কখনই বিস্মৃত হন না, কিন্তু যখন তাঁর লীলা সম্পাদিত হয়, তখন তিনি একজন সাধারণ বন্ধুর মত আচরণ করেন। এমনকি যখন তিনি কুরুক্ষেত্রে সূর্য গ্রহণকালে উপস্থিত ছিলেন, তখনও সেখানে তিনি অতিথিদের পাদপ্রক্ষালন করেছিলেন, তিনি তাঁর ভক্তদের জন্য এমন নগণ্য সেবাকার্য গ্রহণ করতে পারেন এবং ওঁনার ভক্ত, ওঁনার জন্য, কৃষ্ণের জন্য কোন সেবা বাদ নাই।
তিনি নারদ মুনিকে বলেছিলেন যে, “আমার মাথা ব্যথা হয়েছে এবং আমার ভক্তদের শ্রীচরণধূলি প্রয়োজন।” নারদ মুনি বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের কাছে গিয়েছিলেন এবং তাঁদের চরণধূলি চেয়েছিলেন। তিনি যোগীদের কাছে গিয়েছিলেন, তখন যোগীরা বললেন, “আপনি কেন আমাদের চরণধূলি চান?” নারদ মুনি বললেন যে, “কৃষ্ণের মাথায় দিতে চাই, তাঁর মাথা বেদনা আছে।” “না! না! না! আমি দিতে পারব না, আমি নরকে যাব।” তারপর তিনি দ্বারকায় মহিষীদের কাছে গিয়েছিলেন এবং তারাও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, “আমরা কিভাবে আমাদের চরণধূলি আমাদের স্বামীকে দিতে পারি? এতে অপরাধ হবে।” তখন তিনি বৃন্দাবনে গিয়েছেন, গোপীগণ জিজ্ঞেস করছে, “কৃষ্ণের মাথায় বেদনা আছে, ভক্তের চরণ ধুলি চাই।” “কৃষ্ণের মাথাব্যথা হয়েছে? তিনি ভক্তদের পদধূলি চান? এই নিন! আপনি কত চান?” নারদ মুনি জিজ্ঞেস করলেন, “ভয় নাই নরকে যাবে?” “আমরা নরকে যেতে প্রস্তুত, কিন্তু কৃষ্ণের মাথাব্যথা উপশম হওয়া দরকার।” হরিবোল! এই হচ্ছে গোপিদের ক্ষেত্রে পার্থক্য। যদি কোনকিছু শ্রীকৃষ্ণের হিতের জন্য হয়, তাহলে তারা এমনকি নরকাগামী হতেও প্রস্তুত।
আজকে হচ্ছে কাত্যায়নী পূজার প্রথম দিন। তারা তপস্যা করেছিলেন এবং কাত্যায়নী পূজা করেছিলেন শ্রীকৃষ্ণকে তাঁদের স্বামী রূপে লাভ করার জন্য। তাই আসলে, এই গোপিকারা এত শুদ্ধ যে, আমি চিন্তা করছিলাম যে কাউকে গোপিরূপে জন্মগ্রহণ করতে হলে অত্যন্ত যোগ্য হতে হবে। এই শ্লোক থেকে আমরা অনেক কিছুই দেখতে পাই যে—কিভাবে কৃষ্ণ হচ্ছেন একজন বন্ধু, কিভাবে ব্রাহ্মণদের যোগ্যতা সম্পন্ন হওয়া উচিত, আরো বিভিন্ন কিছু, কিভাবে যখন তিনি ধরাধামে আবির্ভূত হয়েছিলেন, তিনি একজন মানুষের মতো আচরণ করেছিলেন। যখন তিনি অর্জুনকে ভগবদগীতা বলেছিলেন, তিনি বলেছিলেন যে আমার সবকিছু স্মরণ আছে। ৪০ মিলিয়ন বছর আগে আমি এই শিক্ষা বিবস্বানকে প্রদান করেছিলাম। তুমিও উপস্থিত ছিলে, কিন্তু তুমি ভুলে গেছো, আমার মনে আছে। ভক্ত হিসেবে শ্রীকৃষ্ণের সেবায় নিযুক্ত হওয়ার এটি আমাদের কাছে এক মহৎ সুযোগ। এই জগতে সাধারণত মানুষেরা কৃষ্ণ পূজা অথবা কোন দেবতার পূজা করে নিজেদের ইন্দ্রিয়তৃপ্তির জন্য, কিন্তু আদপে সমস্ত প্রকার জড়জাগতিক উপাধি মুক্ত হয়ে শ্রীকৃষ্ণের সেবা করা ও তাঁর ইন্দ্রিয়ের প্রীতিবিধান করা অতীব বিরল।
সর্বোপাধিবিনির্মুক্তং তৎপরত্বেন নির্মলম্ ।
হৃষীকেণ হৃষীকেশ-সেবনং ভক্তিরুচ্যতে।।
(চৈ. চ. মধ্য ১৯.১৭০)
— আমাদের ইন্দ্রিয় দ্বারা ভগবানের ইন্দ্রিয়ের সেবা করা। যুধিষ্ঠির কৃষ্ণকে বলেছিলেন, “দয়া করে এই যজ্ঞের জন্য থেকে যাও।” শ্রীকৃষ্ণ কেবল উপস্থিতিই ছিলেন না, তিনি বলেছিলেন, “আমিও কিছু করব। আমি সেইসব ব্রাহ্মণদের নির্বাচন করব, যারা এই সেবা করার যোগ্য।” প্রত্যেক অবতারের এক নির্দিষ্ট ভাব আছে, কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন প্রকৃতস্বরূপ। তাই তাঁর সব ধরনের ভাব আছে। নরসিংহদেব, সে ভক্তকে রক্ষা করার জন্য, তাঁর বিশেষ ক্রোধ ছিল। পরশুরাম একটা শক্ত্যাবেশ অবতার ছিল, এবং সে বিভিন্ন দুষ্কৃতিদের বধ করার জন্য এসছে। বরাহাদের গর্ভদক মহাসাগর এর মধ্যে পতিত ধরিত্রী দেবীকে রক্ষা করার জন্য আবির্ভূত হয়েছিলেন। তিনি এক শুকর রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং তার বরাহদন্ত দ্বারা ধরিত্রীকে তুলে ধরেছিলেন। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু কৃপা করার জন্য, সংকীর্তন আন্দোলন প্রতিষ্ঠা করার জন্য এবং ভগবত প্রেম বিতরণের জন্য আবির্ভূত হয়েছিলেন। আমাদের অত্যন্ত ভাগ্য হইল চৈতন্য মহাপ্রভুর অনুগামী হতে পারছি এবং তাঁর প্রচার করতে পারি। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু কৃপা ভাব সহ আবির্ভূত হয়েছিলেন, শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে—শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপার কোনো সীমা নেই এবং তিনি নিত্যানন্দ প্রভুকে কৃপা বিতরণ করতে বলেছিলেন। নিত্যানন্দ প্রভু এমনকি মাধাই দ্বারা আক্রান্ত হয়ে ও তাঁর রক্তক্ষরণ হলেও, তিনি বলেছিলেন, “তুমি কেবল আমাকে আঘাত করেছ ও আমার রক্তক্ষরিত হয়েছে বলে, এর আর্থ এই নয় যে আমি তোমাকে কৃপা করব না।” নিতাই গৌরের কত অসীম কৃপা আছে। তাঁদের কৃপায় আমাদের এই কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলন অব্যাহত রাখা উচিত। আমরা তাঁদের মত এমন দয়ালু কাউকে কোথায় খুঁজে পাব? জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলকে উদ্ধার করার জন্য এসেছেন। চৈতন্য মহাপ্রভু কি জয়!
এখন আমরা কিছু প্রশ্ন নেব।
হরি-হর কৃষ্ণ চৈতন্য দাস: যেমন আপনি বললেন যে আপনার শীষ্যদের মধ্যে কেবল ১২% দ্বিতীয় দীক্ষিত। তাই, ব্রাহ্মণ দীক্ষার ক্ষেত্রে ভক্তিশাস্ত্রী ছাড়া আর কি কি এমন গুণাবলী আছে যা আপনি চান যেন আমাদের মধ্যে থাকে?
জয়পতাকা স্বামী: মূলত তোমাকে শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ পড়তে হবে। তোমাকে প্রতিদিন নিয়মিত সংখ্যামালা জপ করতে হবে এবং অনুষ্ঠানাদিতে অংশগ্রহণ করতে হবে। যদি প্রথম দীক্ষার তালিকায় প্রদত্ত বিষয়গুলির মধ্যে এমন কোন কিছু থাকে যা তুমি প্রথম দীক্ষার পূর্বে সম্পূর্ণ করতে পারনি, তাহলে দ্বিতীয় দীক্ষার পূর্বে তোমার তা সম্পূর্ণ করা উচিত এবং এছাড়াও অন্যান্য বিষয় আছে, যার জন্য তুমি জে.পি.এস. অফিসের সঙ্গে কথা বলতে পার।
সুকমল নিত্যানন্দ দাস: শ্রীল প্রভুপাদের ওঁনার একজন শিষ্যকে দ্বিতীয় দীক্ষা প্রদান করলেন, তখন ওই শিষ্য শ্রীল প্রভুপাদকে জিজ্ঞেস করলেন, “প্রভুপাদ আমি কি আজ থেকে ব্রাহ্মণে পরিণত হলাম?” তখন প্রভুপাদ বললেন, “না আমি তোমাকে ব্রাহ্মণ হওয়ার সুযোগ প্রদান করলাম মাত্র।” গুরুমহারাজ তাহলে দ্বিতীয় দীক্ষা গ্রহণ করার পরও যদি আমি ব্রাহ্মণের বারটি গুণের কোন একটি গুণ অর্জনে অক্ষম হই, তাহলে কি আমি ব্রাহ্মণ?
জয়পতাকা স্বামী: তোমার পুরো ১২টি গুণই অর্জন করার চেষ্টা করা উচিত এবং যদি আমাদের কোনোটিতে সমস্যা থাকে, তাহলে আমরা আমাদের বরিষ্ঠ গুরুভ্রাতা, গুরুভগিনী অথবা গুরুদেবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি। দীক্ষা নেওয়া হচ্ছে একটা নতুন জন্ম, জন্ম পরে স্বাভাবিকভাবে কিছু উন্নতি হবে। এমন নয় যে জন্ম থেকেই সবকিছু গুণ অর্জন হল। এটা অর্জন করতে হয়।
গৌরচন্দ্র ভগবান দাস: আপনি উল্লেখ করলেন শ্রীকৃষ্ণের প্রতি নির্ভরশীল থাকার কথা, কিন্তু কখনো কখনো আমরা বলি আমরা শ্রীকৃষ্ণের উপর নির্ভরশীল ও একইসাথে আমরা আমাদের দায়িত্ব অবহেলা করি। তাই এটি কিভাবে বোঝা যাবে যে আমরা কৃষ্ণের সেবা করছি ও একইসাথে কৃষ্ণের প্রতি নির্ভরশীলও আছি?
জয়পতাকা স্বামী: এটি আমাকে একটি উদাহরণের কথা মনে করিয়ে দিল। একসময় বন্যা হয়েছিল এবং পুলিশ এসেছিল ও একজন ব্যক্তিকে বলেছিল, “আমরা আপনাকে এই বন্যা থেকে রক্ষা করতে এসেছি।”
তিনি বললেন, “আমি কৃষ্ণের প্রতি নির্ভরশীল।”
তারপর আরো জল বাড়ল। তখন একটি নৌকা তাকে তুলে নিতে এসেছিল এবং তিনি আবার বললেন, “আমি কৃষ্ণের উপর নির্ভরশীল!”
এবং তারপর জলস্তর আরো বাড়ল এবং তিনি ছাদে চলে গেলেন, তখন একটি হেলিকপ্টার এল এবং বলল, “উঠে আসুন! আমাদের সাথে চলুন!” কিন্তু তিনি বললেন, “না! আমি কৃষ্ণের প্রতি নির্ভরশীল।” তখন বন্যা আরো বাড়ল এবং তিনি মারা গেলেন।
এরপর তিনি বৈকুন্ঠে গেলেন এবং কৃষ্ণকে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি কেন আমাকে রক্ষা করতে এলেন না?” “আমি তোমার কাছে পুলিশ পাঠালাম, নৌকা পাঠালাম, হেলিকপ্টার পাঠালাম, তুমি কোন কিছুই গ্রহণ করনি!” তাই দেখো, কৃষ্ণের প্রতি নির্ভরশীল হওয়ার অর্থ হচ্ছে তিনি যা কিছু সাহায্য প্রেরণ করেন, আমরা তা গ্রহণ করি। কিভাবে কৃষ্ণ কার্য করবেন, তিনি অনন্যভাবে কার্য করেন!
প্রশ্ন: দ্বারকের মহিষীগণ শ্রীকৃষ্ণের মাথাব্যথায় তাঁকে তাঁদের শ্রীপাদপদ্মের ধূলি দিতে অস্বীকার করেছিলেন, কিন্তু তবুও তাঁরা শ্রীকৃষ্ণের ভক্ত। তাই তো? আমরা কিভাবে এটি বুঝব?
জয়পতাকা স্বামী: এটি একটি কাহিনী, কিন্তু আমি জানিনা এটি কোন শাস্ত্রে আছে নাকি। সাধারণত দ্বারকার মহিষীগণ ভক্ত, কিন্তু সেখানে পরকীয়া এবং স্বকীয়া রস আছে। স্বকীয়া রস আছে স্ত্রীদের, যারা তাদের শ্রীচরণধুলি তাদের স্বামীর মাথায় দেন না। কিন্তু গোপিকারা, তাঁরা কৃষ্ণের মাথাব্যথা উপশমের জন্য নরকগামী হতেও প্রস্তুত। আমি জানি না এটি সত্য নাকি, কিন্তু আমরা এটা জানি যে কৃষ্ণের প্রতি গোপীদের যে প্রেম তা দ্বারকার মহিষীদের প্রেমের তুলনায় উচ্চতর। এবং এইটাই আমরা এই উদাহরণের মাধ্যমে প্রদর্শন করতে চেয়েছি।
বলবান শ্রীনিবাস দাস: কোন স্তরে আমাদের অপরাধ ক্ষমা হয় না?
জয়পতাকা স্বামী: আমি আশা করি তুমি কোনদিনও সেই স্তরে না পৌঁছাও! এবং সর্বদা অপরাধ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করো। আমি জানিনা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপার পরিসীমা কত দূর, কিন্তু আমি তত দূর নিয়ে যেতে চাই না। বিশেষত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ক্ষেত্রে, তিনি চান না কেউ কোন বৈষ্ণবের প্রতি অপরাধ করুক। চাপাল গোপাল শ্রীবাসের প্রতি অপরাধ করেছিলেন এবং তিনি বলেছিলেন, “তোমাকে কষ্ট ভোগ করতেই হবে।” তবে পরবর্তীতে চাপাল গোপাল শ্রীবাসের কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চেয়েছিলেন, তারপরে শ্রীচৈতন্য চাপাল গোপালকে আলিঙ্গন করে উদ্ধার করলেন।
Lecture Suggetions
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ