মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
শ্রীমদ্ভাগবতম ১/১২/২৯
ইতি রাজ্ঞ উপাদিশ্য বিপ্রা জাতককোবিদাঃ।
লব্ধাপচিতয়ঃ সর্বে প্রতিজগ্মুঃ স্বকান্ গৃহান্॥
অনুবাদ:- জ্যোতিষ-শাস্ত্রে পারদর্শী এবং নবজাত শিশুর ভাগ্য গণনায় দক্ষ সেই বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণেরা এইভাবে মহারাজ যুধিষ্ঠিরকে নবজাত শিশুর ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে উপদেশ দিয়ে, প্রচুর পরিমাণে পারিতোষিক লাভ করে স্বগৃহে প্রত্যাবর্তন করলেন।
তাৎপর্য:- বেদ জাগতিক এবং পারমার্থিক উভয় জ্ঞানেরই ভাণ্ডার। কিন্তু আত্ম-উপলব্ধির পূর্ণতা প্রাপ্ত হওয়াই হচ্ছে এই জ্ঞানের উদ্দেশ্য। পক্ষান্তরে বলা যায় যে, বেদ সভ্য মানুষদের জন্য সর্বতভাবে পথিকৃৎস্বরূপ। যেহেতু মনুষ্য জীবন জড় জগতের দুঃখ-দুর্দশা থেকে মুক্ত হওয়ার একটি সুযোগ, তাই জড়জাগতিক প্রয়োজন এবং পারমার্থিক মুক্তি উভয় উদ্দেশ্য সাধনের জন্যই বৈদিক জ্ঞান যথাযথভাবে মানুষকে পথ প্রদর্শন করে। বিশেষ বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন যে মানুষেরা বিশেষভাবে বৈদিক জ্ঞানের প্রতি অনুরক্ত, তাদের বলা হয় বিপ্র বা বৈদিক জ্ঞানের স্নাতক। বেদে বিভিন্ন জ্ঞানের বিভাগ রয়েছে, যার মধ্যে জ্যোতিষ এবং চিকিৎসা হচ্ছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা, যা সাধারণ মানুষের জন্য আবশ্যক। তাই বুদ্ধিমান মানুষেরা, যারা সাধারণত বাহ্মন বলে পরিচিত, সমাজকে পথ প্রদর্শন করার জন্য বৈদিক জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় পারদর্শী হন। এমন কি সামরিক-বিদ্যা বা ধনুর্বেদ ও বুদ্ধিমান ব্রাহ্মণেরা অধ্যয়ন করতেন এবং সেই জ্ঞান দান করার শিক্ষকতা করতেন, যেমন দ্রোণাচার্য, কৃপাচার্য প্রমুখ।
এখানে যে বিপ্র শব্দটির উল্লেখ করা হয়েছে, তা তাৎপর্যপূর্ণ। বিপ্র এবং ব্রাহ্মণদের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। বিপ্র হচ্ছেন তাঁরা, যাঁরা বৈদিক কর্মকাণ্ডে বা সকাম কর্ম বিষয়ক শাখায় পারদর্শী, এবং তাঁরা সমাজকে জীবনের জড়জাগতিক আবশ্যকতাগুলি চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে পথ প্রদর্শন করেন। কিন্তু ব্রাহ্মণেরা পারমার্থিক চিন্ময় জ্ঞানের বিষয়ে পারদর্শী; জ্ঞানের এই বিভাগকে বলা হয় জ্ঞানকাণ্ড, এবং তার উধের্ব রয়েছে উপাসনাকাণ্ড। উপাসনাকাণ্ডের চরম পরিণতি হচ্ছে বিষ্ণুভক্তি, এবং ব্রাহ্মণেরা যখন এই বিষয়ে পূর্ণতা প্রাপ্ত হন, তখন তাদের বলা হয় বৈষ্ণব। বিষ্ণুর আরাধনা হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ আরাধনা। উন্নত ব্রাহ্মণেরা হচ্ছেন ভগবানের প্রেমময়ী সেবায় যুক্ত বৈষ্ণব। তাই শ্রীমদ্ভাগবত, যা হচ্ছে ভগবদ্ভক্তির বিজ্ঞান, তা বৈষ্ণবদের প্রিয়। শ্রীমদ্ভাগবতের শুরুতেই বিশ্লেষণ করা হয়েছে যে শ্রীমদ্ভাগবত হচ্ছে সুপক্ক ফল, এবং তার বিষয়বস্তু কর্ম, জ্ঞান এবং উপাসনা, এই তিনটি কাণ্ডেরই অতীত।
কর্মকাণ্ডে পারদর্শীদের মধ্যে, জাতক-কর্মে দক্ষ বিপ্রেরা জ্যোতিষ-শাস্ত্রে অত্যন্ত পারদর্শী হতেন, এবং তারা নবজাত শিশুর ভবিষ্যৎ কেবল লগ্ন গণনা করার মাধ্যমেই বলতে পারতেন। এই প্রকার সুদক্ষ জাতক-বিপ্রেরা মহারাজ পরীক্ষিতের জন্মের সময় উপস্থিত ছিলেন, এবং তাঁর পিতামহ মহারাজ যুধিষ্ঠির সেই সমস্ত বিপ্রদের যথেষ্ট পরিমাণে স্বর্ণ, ভূমি, গ্রাম, শস্য ও গাভী সমেত জীবনের অন্যান্য আবশ্যক বস্তুসমূহ উপহার দিয়েছিলেন। সমাজ ব্যবস্থায় এই প্রকার বিপ্রদের আবশ্যকতা রয়েছে, এবং রাষ্ট্রের কর্তব্য হচ্ছে তাদের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে তাদের পালন করা, যা বৈদিক সমাজ ব্যবস্থায় প্রচলিত ছিল। এই প্রকার সুদক্ষ বিপ্রেরা রাজ্যের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে পারিতোষিক লাভ করার ফলে বিনামূল্যে জনসাধারণের সেবা করতে পারতেন, এবং তার ফলে বৈদিক জ্ঞানের এই শাখা সকলের কাছেই সুলভ হতে পেরেছিল।
***
জয়পতাকা স্বামী:- এই নির্দিষ্ট শ্লোক বিভিন্ন ধরনের ব্রাহ্মণদের প্রসঙ্গে বলা হয়েছে। বিপ্র মানে যারা কর্মকাণ্ডীয় বিষয় দক্ষ। আর ব্রাহ্মণেরা আধ্যাত্মিক দিব্য জ্ঞানে দক্ষ। এবং বৈষ্ণব হচ্ছেন সেইসব ব্রাহ্মণ যারা সিদ্ধি অর্জন করেছেন। এবং বলা হয়েছে যে সমাজের মধ্যে বিপ্ররা রাষ্ট্রের পরিচালনা করতেন। এইভাবে বিপ্ররা বিনামূল্যে তারা জ্যোতিষীর সেবা করতে পারতেন। দুর্ভাগ্যক্রমে এখনকার পরিস্থিতি এমন নয়। রাষ্ট্র জনসাধারণের সেবার জন্য জ্যোতিষীদের ভরণপোষণ করে না। আমি একটা জ্যোতিষী সাইনবোর্ড দেখেছি যে ১০০ টাকায় কিছু করবে, আর ২৫০ টাকা দিলে সব ভালো করে দেব। এইভাবে তারা মানুষদেরকে প্রতারণা করে। বৈদিক সমাজের বিভিন্ন প্রথা আছে।
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাবের সময় তাঁর ঠাকুরদা নীলাম্বর চক্রবর্তী ছিলেন একজন জ্যোতিষী। অন্নপ্রাশনের সময় তারা নামকরণও করেছিলেন, এখন আমরা এই অন্নপ্রাশনের সময় টাকা আর বই দেই, তা ওঁনারা যা করেছেন, টাকা অনেক রকম টাকা – ২০টাকা, পয়সা, সোনা। তারা এমনভাবে টাকা রাখতেন এটি দেখার জন্য যে দীর্ঘ সময়ের জন্য সাফল্য লাভ করবে, নাকি অল্প সময়ের জন্য সাফল্য হবে। ২০ টাকা, পয়সা, রূপা, সোনা — সে কোনটি ধরবে? সে সোনা ধরবে নাকি পয়সা ধরবে? এবং তারা সেখানে কলম রাখতেন, সেটি ধরলে সে পাণ্ডিত্যপূর্ণ হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের বই রাখা হত — কর্মকাণ্ড, জ্ঞানকাণ্ড, ভাগবতম। তখন সেখানে চৈতন্য মহাপ্রভুকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি সোজা শ্রীমদ্ভাগবতমের কাছে গিয়েছিলেন। হরিবোল! কেবল স্পর্শই করেননি, তিনি তা জড়িয়ে ধরেছিলেন, তিনি তা আলিঙ্গন করছিলেন। এবং তাঁর মায়ের পিতা নীলাম্বর চক্রবর্তীকে তারা জিজ্ঞেস করলেন, “এই শিশুর ভবিষ্যৎ কি?” তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে সে সন্ন্যাস গ্রহণ করবে, কিন্তু তিনি তার পরিবারের কাউকে কিছু বলেননি কারণ তারা হয়ত তা শুনে দুঃখিত হয়ে পড়তেন। কিন্তু তিনি বলেছিলেন যে, “এই শিশু সমগ্র বিশ্বের ভার গ্রহণ করবে! তাই তার নাম বিশ্বম্ভর হওয়া উচিত।” কিন্তু সেখানে উপস্থিত মহিলারা ভেবেছিলেন যে যেহেতু তিনি নিম গাছের তলায় আবির্ভূত হয়েছেন, তাই তার নাম হওয়া উচিত নিমাই। তখন নীলাম্বর চক্রবর্তীকে বলেছে এর মীমাংসা করতে। উনি বললেন, “ডাকনাম হবে নিমাই আর ভালো অনুষ্ঠানের নাম হবে বিশ্বম্ভর।” তাই প্রত্যাকে নিমাই পণ্ডিতরূপে জানতেন, কিন্তু তার বিবাহের সময় ও অন্যান্য কর্মক্ষেত্রে তিনি বিশ্বম্ভর নামে পরিচিত ছিলেন। এই জ্যোতিষ গণনা চৈতন্য মহাপ্রভুর জীবনের ক্ষেত্রেও দেখা হয়েছিল।
আমি পূর্ববর্তী প্রবচনে বলছিলাম যে কিভাবে শিশুর ভবিষ্যৎ পিতা-মাতার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গোপাল ভট্ট গোস্বামী ৬ গোস্বামীর অন্যতম, তিনি লিখেছেন সদক্রিয়াসারদীপিকা। এবং সেই গ্রন্থে গর্ভাধান সংস্কারের পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে এবং এটি বলা আছে যে গৃহস্থদের জন্য এই পন্থা অনুসরণ করা কত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা দেখি যে কিভাবে ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের দুজন পুত্র সন্ন্যাসী ছিলেন, এবং সাধারণত আমার মনে হয় তাঁর পরিবারের সকলেই ভক্ত ছিলেন। অবশ্য এতে কোন নিশ্চয়তা নেই। ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর বলছিলেন যে তিনি ১০০ সন্তান করতেন, যদি উনি জানতেন যে সব ভক্ত হত। তাহলে তিনি গৃহস্থ হতেন ও ১০০ পুত্র জন্ম দিতেন, যদি প্রত্যেকেই ভক্ত হত। যাইহোক, এটি বলা হয়েছে যে আমরা শ্রীবিগ্রহের কাছে ভক্ত সন্তানের প্রার্থনা করি — ভক্ত সন্তান, দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য, সুপুত্র। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে স্বামী এবং স্ত্রী অধিক ৫০ মালা জপ করতে পারে তাদের চেতনাকে সেইভাবে গড়ে তোলার জন্য যাতে সন্তান ভালো হয়। তারপর প্রভুপাদ বলেছিলেন যে কিভাবে পিতা-মাতার তাদের সন্তানদেরকে যথেষ্ট সময় দেওয়ার প্রয়োজন আছে। একটা পূজারী প্রভুপাদকে লিখেছিলেন, তিনি বলছিলেন ওনার পুজো ব্যাঘাত হয় সন্তান দেখে। তখন প্রভুপাদ লিখেছিলেন, “তাহলে শ্রীবিগ্রহ অর্চন বন্ধ করে দাও।” তিনি বলেছিলেন, “কারণ তোমার সন্তানেরা কৃষ্ণ কর্তৃক প্রেরিত, তাই তোমাকে এটি দেখতে হবে যে তারা যাতে ভক্ত হয়।” এবং চাণক্য পণ্ডিত নির্দেশ দিয়েছেন যে প্রথম পাঁচ বছর তুমি তোমার সন্তানের সাথে খুব স্নেহপূর্ণ আচরণ কর, ৫-১৫ বছরের সময় অত্যন্ত কঠোর হও এবং ১৬ বছরের উর্ধ্বে সন্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ থাকো। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে শৈশবকালে তিনি ছবিতে দুজন রাখাল বালককে দেখে পিস্তল চেয়েছিলেন। তাঁর বাবা দুটো পিস্তল কিনে দিয়েছে, যখনই তাদের গৃহে কোন সাধু আসত, তাঁর বাবা তাদেরকে বলতেন, “দয়া করে আমার ছেলেকে আশীর্বাদ দিন, যাতে সে রাধারানীর ভক্ত হয়।” তাই সন্তান যখন তরুণ বয়সী হয়, সেক্ষেত্রে পিতা-মাতার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার একজন মহিলা, তিনি প্রযুক্তির শিক্ষিকা ছিলেন, তিনি মায়াপুরে এসেছিলেন, তিনি বলেছিলেন, “শিশুরা যখন খুব ছোট থাকে, সেই সময় থেকেই তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে যায়, তাদের দু-তিন বছর বয়সে কিভাবে পিতা-মাতা তার সাথে ব্যবহার করে, তা সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলে।”
আমি গতকাল গোপাষ্টমীর পূজার জন্য মায়াপুর গোশালায় গিয়েছিলাম। আমি সেখানে কত মহিলাদের ছোট শিশুদের সাথে দেখলাম। তা অত্যন্ত মঙ্গলজনক! শ্রীল প্রভুপাদ বলতেন যে তারাই হচ্ছে আমাদের এই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ। অনেক সেবার মধ্যে এটি হচ্ছে এমন একটি সেবা যা কেবল মহিলারা করতে পারে! যাইহোক, আমরা দেখছি যে সেই সময় সরকার বিপ্রদের ভরণপোষণ করেছিলেন যাতে তারা জনসাধারণকে বিনাশুল্কের সেবা দিতে পারে। বৈদিক সংস্কৃতিতে এইসব বিষয় ছিল, যেটাকে বর্তমানে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় না। প্রভুপাদ বলছিলেন বৈদিক শাস্ত্র হচ্ছে সর্ব মনুষ্যের ন্যায় গ্রন্থ। এইভাবে মনুষ্য যাতে প্রগতি করতে পারে ভগবানের কাছে সেটা উপদেশ আছে। যেমন যুধিষ্ঠির মহারাজ তিনি বিশ্বের সম্রাট ছিলেন, পূর্বে পৃথু মহারাজ এই সারা জগত আধিপত্য ছিল, সাত দ্বীপ সম্রাট ছিলেন। এখন আমরা দেখি যে দক্ষিণ আমেরিকায় তারা বিষ্ণু মূর্তি খুঁজে পেয়েছে, এখন গির্জা বলছে ভারতে ফেরত দাও। সেখানে সেই প্রথম স্থানে শ্রীবিগ্রহ কিভাবে গেছে? তারা এটি প্রকাশ করতে চায় না যে পূর্বে সমগ্র বিশ্বে বৈদিক সংস্কৃতি ছিল। রাশিয়াতে সেখানে অনেক বিগ্রহ অনেক কিছু আছে, যার দ্বারা বোঝা যায় বৈদিক সংস্কৃতি ছিল। তাদের একটি গ্রন্থ আছে রাশিয়ান বেদ নামে এবং তারা সেখানে বিভিন্ন শ্রীবিগ্রহের বর্ণনা দিয়েছে। শ্রীল প্রভুপাদ বলছিলেন যে অস্ট্রেলিয়া হচ্ছে সেই স্থান যেখানে পাণ্ডবরা তাদের অস্ত্র রেখেছিলেন। পূর্ববর্তী যুগের সমগ্র বিশ্ব ছিল বৈদিক। শ্রীমদ্ভাগবতমে একটি শ্লোক আছে—
রাতহুণান্তরপুলিন্দপুক্ষশী
আভীরশুভ্তী যবনাঃ খসাদয়ঃ।
(ভাগবত ২.৪.১৮)
খসাদয়ঃ চীনা, মঙ্গলীয়, জাপানি। আর পুলিন্দ অর্থ হচ্ছে গ্রীক, ইউরোপিয়ান। যবন মানে হচ্ছে যে সমস্ত মানুষেরা তুর্কি আর মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য স্থানের। মুসলিম রাজত্ব শুরু হবার অনেক আগের কথা এগুলি। ইসলাম ১৪০০ বছর পুরাতন আর শ্রীমদ্ভাগবতম ৫০০০ বছর পুরাতন। হূনন্দা, হূনন হচ্ছে রাশিয়ান, জার্মান। এই সমস্ত স্থানের মানুষেরা ভক্ত হবে যদি তারা কৃষ্ণের শুদ্ধ ভক্তকে অনুসরণ করেন। তবে বিষয়টি হচ্ছে যে উল্লেখ করা আছে এই সকল স্থান বৈদিক রাজার রাজত্বকালে বর্তমান ছিল। ধ্রুব মহারাজ যক্ষদের সাথে লড়াই করেছিলেন, গন্ধর্বরা অন্য গ্রহ থেকে এসে কুরুদের আক্রমণ করেছিল। পূর্বে এই জগতের রাজা অন্যান্য জগতে যাত্রা করত। এবং ঊর্ধ্বতন জগত থেকে দেবতারা এই জগতে আসতেন। এখন তারা আসে না কারণ এই স্থানগুলো ভগবান বর্জিত। এমনকি তারা এখানে মূত্র ত্যাগ করতেও আসেন না। কিন্তু আমরা সেই মহিমা ফিরিয়ে আনতে পারি, যদি প্রত্যেকে হরে কৃষ্ণ জপ করে। ভগবানের নাম করার জন্য এখন এই কলিযুগের একমাত্র উপায়। “হরের নাম হরের নাম হরের্ নামৈব কেবলম্” এর অর্থ হচ্ছে ভগবানের নাম কীর্তন করবে। যদি তারা ভগবান কৃষ্ণের নাম ছাড়া পরম পুরুষোত্তম ভগবান হরির অন্যান্য নাম বলতে চায়, তাহলে ঠিক আছে। শ্রীল প্রভুপাদ এটিও বলছিলেন যে ইরানে যাত্রা করার পর ইসলামের পণ্ডিতেরা বলেছিল যে আল্লাহ আকবর পর-ব্রহ্মের একই নাম। যাইহোক, এখন কলিযুগে যজ্ঞের পন্থা হচ্ছে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পবিত্র নাম জপ করা। এখনও সমগ্র বিশ্বের বিভিন্ন অংশে এই মহামারী চলছে, তাই ভগবানের নাম-কীর্তন করা উচিত।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।
শিরিশা হরিপ্রিয়া দেবী দাসী:- গুরু মহারাজ কৃপা করে আমাকে বলুন যে কিভাবে ছোট শিশুদের, তরুণদেরকে কৃষ্ণভাবনামৃতের প্রতি আকর্ষিত করা যেতে পারে?
জয়পতাকা স্বামী:- দেখো এই কারণেই তাদের ছোট অবস্থা থেকেই শুরু করতে হবে, কারণ তরুণ বয়সে তারা তাদের অন্যান্য বন্ধুবান্ধব ও অন্যদের দ্বারা প্রভাবিত থাকে। এবং তোমার যদি সন্তানের সাথে ভালো সম্পর্ক থাকে, তাহলে এটির একটি ভালো সম্ভাবনা থাকে যে সন্তান তোমার কথা শুনবে। ৮ বছর বয়সে তারা আকাঙ্ক্ষী হতে পারে এবং ১১ বছর বয়সে তারা আশ্রয় গ্রহণ করতে পারে। ১২ বছর বয়সে তারা দীক্ষা নিতে পারে। তাহলে তরুণ হওয়ার আগে তারা ইতিমধ্যেই সেই পর্যায়ে স্থির হবে। কিভাবে তরুণদের আকর্ষিত করা যাবে হয়ত সেই বিষয়ে আমাদের বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করা উচিত। ভক্তি মার্গ স্বামী, তাদেরকে নাটকে নিযুক্ত করেন, তাই যদি পিতা-মাতার আন্তরিক এবং ভালো ভক্ত হন, তাহলে তা হয়ত তাদের উপর ভালো প্রভাব ফেলবে। এবং দেখার চেষ্টা করো যাতে তোমার সন্তান ভালো সঙ্গে থাকে। আলাচুয়াতে আমি দেখেছি যে ২৪জন মেয়ে মৃদঙ্গ বাজায়। ভারতে আমরা পুরুষদের মৃদঙ্গ বাজাতে দেখি কিন্তু পাশ্চাত্যে আমরা দেখি মহিলারাও মৃদঙ্গ বাজায়।
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address