Text Size

২০২১১১০৮ শ্রীল প্রভুপাদের তিরোভাব তিথি উপলক্ষে ইস্‌কন মায়াপুর ভক্তদের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত বক্তব্য

8 Nov 2021|Duration: 02:35:17|Bengali|Prabhupāda Kathā|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ  

জয়পতাকা স্বামী:-  আজকে শ্রীল প্রভুপাদের তিরোভাব তিথিতে আমরা তাঁর আধ্যাত্মিক জগতে প্রবেশের উৎসব উদযাপন করছি। তিনি বৃন্দাবনে বলেছিলেন, “যদি আমি দেহ রাখি, তাহলে দুঃখিত হওয়ার কোন কারণ নেই, কারণ আমি আমার দিব্য শাস্ত্র রেখে গেছি এবং তোমরা সবাই আমার গ্রন্থের মাধ্যমে আমার সঙ্গ করতে পারো।” আমরা দেখেছি যে শ্রীল প্রভুপাদ যখন মায়াপুরে ছিলেন, তিনি মধ্যরাতে উঠতেন এবং ভোর পর্যন্ত গ্রন্থ অনুবাদ করতেন ও তাৎপর্য লিখতেন। কখনও কখনও তিনি রাত্রি ১-২ নাগাদ আমাকে ডেকে কিছু বলতেন এবং সেখানে আমি দেখতাম একটি মশারি টানানো থাকতো ও তিনি অনুবাদ করতেন। তখন তার মনে যে কথা আসতো তা আমাকে বলতেন ও তারপর আমি সেই স্থান থেকে চলে আসতাম। এইভাবে শ্রীল প্রভুপাদ গ্রন্থ লিখতেন এবং এটি আমাদের সকলের জন্য এক মহাযজ্ঞ। যদিও তাঁর শিষ্য, প্রশিষ্যগণ এখন তাঁর সাথে সরাসরি সঙ্গ করতে পারছেনা। কিন্তু শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থের মাধ্যমে আমরা তাঁর সঙ্গ করতে পারি। আমরা জানি যে সাধুকে কর্ণ দ্বারা দর্শন করা উচিত, চোখ দ্বারা দর্শন করা উচিত নয়। তাই আমরা প্রভুপাদের শিক্ষা আমাদের কান দিয়ে শ্রবন করতে পারি। তিনি মায়াপুরে বৈদিক তারামণ্ডলী মন্দির নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন, তিনি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর এই আন্দোলন সমগ্র বিশ্বের প্রতি নগর ও গ্রামে প্রচারিত করতে চেয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তানে মন্দির করার জন্য কিছু অর্থ দিয়েছিলেন ও এই  কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার করতে চাইছিলেন। শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের নির্দেশ অনুসারে তিনি সারস্বত পরিবারকে একত্রিত করতে চেয়েছিলেন। তিনি তাঁর সকল গুরুভ্রাতা, গুরুভ্রাতাদের শিষ্যদের মায়াপুরে নিমন্ত্রণ করেছিলেন ও তাদেরকে একসাথে কার্য করার জন্য উৎসাহিত করার চেষ্টা করেছিলেন। যা কিছু পূর্ব আচার্যগণ চেয়েছিলেন, তিনি সেই সবকিছু করার প্রচেষ্টা করেছিলেন। আমাদের তাঁর ইচ্ছা পূরণ করার এক মহা সুযোগ আছে। আমার মনে পড়ে, এখানে মায়াপুরে তিনি আমাকে ডেকে বলেছিলেন, “দয়া করে দেখো আমার চলে যাওয়ার পর, কমপক্ষে যে সব মন্দিরগুলি আমি প্রতিষ্ঠা করেছি, তা যাতে বিক্রি করা না হয় বা বিনষ্ট না হয়।” তিনি ১০৮টি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, “যদি তোমরা এর বিস্তার করতে পারো, তাহলে খুব ভালো কিন্তু কমপক্ষে আমি যা করেছি তা হারিও না, সেগুলি রক্ষা কর।” কারণ তিনি দেখেছিলেন যে প্রতিষ্ঠাতা অপ্রকটের পর স্বাচ্ছন্দে থাকার জন্য সেখানকার অনেক সংস্থা ও সম্পত্তি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তাই তিনি এই বিষয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। আসলে তিনি বলেছিলেন যে তিনি বৃন্দাবন অথবা মায়াপুরে শরীর ত্যাগ করবেন। তিনি মায়াপুরে যেতে প্রস্তুতও ছিলেন, আমরা সকলেই তাঁকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু তখন এক অলৌকিক ঘটনা ঘটে, সব গাড়িগুলি আর চলছিল না। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে, “এটি কৃষ্ণের ইঙ্গিত যে আমাকে এখানে থাকতে হবে।” তাঁর হৃদয় অবশ্য মায়াপুরে ছিল এবং তিনি বলেছিলেন যে, “যদি আমি বৃন্দাবনে দেহ রাখি, তাহলে মায়াপুরের আমার পুষ্প সমাধি হবে।” এখন আমরা সবাই যেখানে সমবেত হয়েছি এবং তিনি বলেছিলেন যে যদি তিনি মায়াপুরে দেহ রাখেন, তাহলে তার পুষ্প-সমাধি বৃন্দাবনে হবে। যাই হোক, তিনি এইভাবে ভিন্ন ভক্তদেরকে বিভিন্ন নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং আমি জননিবাস প্রভুর সাথে কথা বলছিলাম, তিনি তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে কিভাবে বিভিন্ন পূজারীদের প্রশিক্ষিত করতে হয়, সেই সময় প্রত্যেক ভক্তরা যারা মায়াপুরে ছিলেন, তারা সকলেই কিছু না কিছু নির্দেশ পেয়েছিলেন। আমি অনেক নির্দেশ পেয়েছিলাম। অন্যান্যরাও কিছু নির্দেশ পেয়েছিলেন। দয়া করে সেগুলি বলুন এবং আমরা যা সম্ভব তাই করার চেষ্টা করব। আমি দীর্ঘক্ষন বলব না, কারণ অন্যান্যরাও বক্তব্য রাখবেন। শ্রীল প্রভুপাদ অত্যন্ত কৃপালু ছিলেন, তিনি তাঁর আধ্যাত্মিক পুত্র-কন্যাদের ভালোবাসেন ও সকলের প্রতি তার স্নেহ ছিল। তিনি দেখেছিলেন যে পশ্চিমের মানুষেরা কিভাবে রজ ও তমগুনের অগ্নিশিখায় জ্বলছে, তাই তিনি চেয়েছিলেন যে সমগ্র জগতে যাতে শ্রীকৃষ্ণ এবং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা বর্ষিত হয়। আমাদেরকে শ্রীল প্রভুপাদের শিক্ষা বুঝতে সাহায্য করার জন্য আমি মায়াপুর ইনস্টিটিউটকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। যেহেতু মায়াপুর হচ্ছে আধ্যাত্মিক প্রধান কেন্দ্র, তাই এখানে আমাদের কেবল শ্রীল প্রভুপাদের শিক্ষার মাধ্যমে জীবনযাপন করা উচিত। হরে কৃষ্ণ! 

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 19/7/2023
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions