Text Size

২০২১১১২৭ শ্রীমদ্ভাগবতম ১.১৩.৯

27 Nov 2021|Duration: 00:48:25|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

নিন্মোক্ত প্রবচনটি শ্রী শ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ ২৬ নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারতে প্রদান করেছেন। এই প্রবচন শ্রীমদ্ভাগবতের ১.১৩.৯ শ্লোক পাঠের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। 

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়

শ্রীমদ্ভাগবতম ১.১৩.৯
কয়া বৃত্ত্যা বর্তিতং বশ্চরদ্ভি ক্ষিতিমণ্ডলম্।
তীর্থানি ক্ষেত্রমুখ্যানি সেবিতানীহ ভূতলে॥

অনুবাদ:- আপনি ভূমণ্ডল পরিভ্রমণকালে কোন্ বৃত্তির দ্বারা দেহযাত্রা নির্বাহ করতেন? কোন্ কোন্ প্রধান পবিত্রধাম এবং তীর্থের সেবা আপনি করেছেন?

তাৎপর্য:- পারিবারিক বিষয়াদি থেকে, বিশেষ করে রাজনৈতিক জটিলতা থেকে নিজেকে নিরাসক্ত করার উদ্দেশ্যে বিদুর প্রাসাদ থেকে চলে গিয়েছিলেন। পূর্বে বর্ণিত হয়েছে, দুর্যোধন তাঁকে শূদ্রাণীর পুত্র বলায় তিনি যথার্থই অপমানিত হয়েছিলেন, অবশ্য নিজের মাতামহী সম্পর্কে লঘুভাবে মন্তব্য করা আচারবিরোধী নয়। বিদুরের মাতা শূদ্রাণী হলেও দুর্যোধনের মাতামহী ছিলেন, এবং পৌত্র ও মাতামহীর মধ্যে কখনো কখনো পরিহাসাত্মক বাক্যালাপ স্বীকৃত হয়েই থাকে। কিন্তু যেহেতু ঐ মন্তব্যটি ছিল বাস্তব সত্য, তাই সেই কথাটি বিদুরের কাছে শ্রুতিকটু মনে হয়েছিল, এবং সেটিকে প্রত্যক্ষ অপমান বলেই গ্রহণ করা হয়েছিল। তাই তিনি তাঁর পৈতৃক বাসভবন ত্যাগ করে সংসার ত্যাগের জীবন-যাপনের জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন।

এই প্রস্তুতি পর্বকে বলা হয় বানপ্রস্থ আশ্রম অর্থাৎ অবসরপ্রাপ্ত জীবনে পৃথিবীর পবিত্র ধামগুলিতে পরিভ্রমণ ও দর্শন করে বেড়ানো। বৃন্দাবন, হরিদ্বার, জগন্নাথপুরী এবং প্রয়াগ প্রভৃতি ভারতের পবিত্র ধামগুলিতে বহু মহান্ ভক্ত থাকেন, এবং এখনও সেখানে পারমার্থিক জীবনে অগ্রসর হতে ইচ্ছুক মানুষদের সুবিধার জন্য বিনামূল্যের অন্নসত্র আছে। মহারাজ যুধিষ্ঠির জানতে চেয়েছিলেন, বিনামূল্যের অন্নসত্রে কৃপালাভ করে বিদুর দেহযাত্রা নির্বাহ করেছিলেন কিনা।

***

জয়পতাকা স্বামী:- বিদুর প্রভু তিনি ফিরে এসেছিলেন এবং প্রাসাদের সকলেই অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন এবং তা ছিল যেন মৃতদেহের প্রাণ ফিরে আসার মত আর তারপর যুধিষ্ঠির মহারাজ, তিনি বিদুরকে তার খবর কি তা জিজ্ঞেস করলেন এবং প্রত্যেকে বিদুরের কাছ থেকে তার খবরাখবর জানার জন্য উদগ্রীব ছিলেন। অবশ্য আমরা বিদুরকে অনুসরণ করি এবং আমরা জানি যে তিনি কি করেছেন, কিন্তু যুধিষ্ঠির মহারাজ ও অন্যান্য হস্তিনাপুরবাসী জানতেন না তিনি কি করলেন। এখন, বিদুর সম্বন্ধে শোনা এটা হচ্ছে পবিত্র, কারণ পরমেশ্বর ভগবান সম্পর্কে শোনা এবং তাঁর ভক্ত সম্পর্কে শোনা একই স্তরের। বিদুরের সম্পর্কে শ্রবন করলে স্বাভাবিকভাবেই কৃষ্ণের স্মরণ রণ আসবে। ভাগবতমে অনেক ইতিহাস আছে বিভিন্ন ভক্তের জীবন, যেমন প্রথম ধ্রুব মহারাজ, তার ইতিহাস কিভাবে বৈকুণ্ঠ ধাম ফিরে এসেছে, এটার ইতিহাস আছে। ধ্রুব মহারাজের মা সুনীতি কিভাবে বৈকুন্ঠে ফিরে গেছেন। কিভাবে অর্চি, পৃথু মহারাজের রানী, তিনি বৈকুন্ঠ ধাম ফিরে গেছেন। পুরুষ বা মহিলা তাদের উভয়েরই ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়ার সুযোগ আছে। শ্রীল এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ, তিনি ১৪ বার পৃথিবীতে ঘুরেছেন এবং তিনি বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন মন্দির স্থাপন হয়েছে। তিনি বলেছিলেন যে যেসমস্ত মহিলারা কৃষ্ণভাবনাময়, তারা সাধারণ নারী নয়। ভগবগীতাতে সাধারণত নারী, বৈশ্য, শূদ্র তাদেরকে খারাপ কর্মের ফল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, কিন্তু তারা যদি শ্রীকৃষ্ণের স্মরণ গ্রহণ করে তাহলে তারা সর্বোচ্চ লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। দেখো প্রযুক্তিগতভাবে বিদুর শূদ্রাণীর সন্তান ছিলেন, কিন্তু তিনি ছিলেন কৃষ্ণের শুদ্ধ ভক্ত এবং দুর্যোধন তাকে শূদ্র বলে অপমান করছিল, কিন্তু আমরা দেখতে পারছি যে মহারাজ যুধিষ্ঠির এবং অন্যান্য যারা রাজমহলে ছিলেন তারা খুব আনন্দের মধ্যে তাকে সম্বন্ধ করলেন। এরপরে এই শ্লোক আছে, বলছে যে বিদুর যেহেতু কৃষ্ণ হৃদয়ে আছে, সমস্ত তীর্থস্থানকে পবিত্র করে। তাই কোন বৈষ্ণবকে এই জাত বা ওই জাতের ভাবা শাস্ত্রে নিষিদ্ধ আছে। আমাদের বিদুরকে তার কোন জাগতিক সম্পর্ক দিয়ে নয়, পড়ন্ত একজন বৈষ্ণব হিসেবে দর্শন করা উচিত। এই ধরনের নির্দেশ আমরা শ্রীমদ্ভাগবত থেকে পাচ্ছি। তাই, আমাদের এটি অত্যন্ত ঐকান্তিকভাবে গ্রহণ করা উচিত। অবশ্য বিদুর তিনি গিয়েছিলেন এবং পূর্ববর্তী স্কন্ধে এটি দেখা যায় যে তিনি মৈত্রেয় ঋষির কাছ থেকে নির্দেশ পেয়েছিলেন। এই ইতিহাস যে উনি কিভাবে কৃষ্ণের সম্বন্ধে, বিভিন্ন ভক্তের সম্বন্ধে শুনলেন এটা আছে।

আমাদের এই কল্প শুরুর সময় বিভিন্ন ইতিহাস হয়েছিল। ধ্রুব মহারাজ ছিলেন স্বয়ম্ভূব মনুর পৌত্র, স্বয়ম্ভূব মনু ছিলেন ব্রহ্মার পুত্র, এই ব্রহ্মাণ্ডের ইতিহাস অত্যন্ত পুরাতন এবং খুব প্রাচীন। এখন বর্তমান বৈজ্ঞানিকরা বলছে সবকিছু তৈরি হল বিগব্যাং-এর দ্বারা। প্রভুপাদ জিজ্ঞেস করছেন, “বিগব্যাং কে করেছে?” শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে আমরা বিজ্ঞানের সমালোচনা করছি না, কিন্তু যে সমস্ত বৈজ্ঞানিকেরা বলে যে কোন ভগবান নেই, সবকিছু ঘটনাক্রমে হচ্ছে, তারা মূর্খ। এমন কি কোন উদাহরণ আছে যে আপনি সবগুলি উপকরণ নেবেন এবং তাদেরকে ঝাকাবেন ও তা থেকে জীবন সৃষ্টি হবে? নোবেল পুরস্কার বিজয়ী একজন পদার্থবিদ আমাদের বিজ্ঞান ও ধর্ম সম্পর্কিত আলোচনা সভায় এসেছিল, তা শ্রীল স্বরূপ দামোদর মহারাজের দ্বারা আয়োজিত হয়েছিল, আমিও সেখানে অতিথি ছিলাম। সেই বৈজ্ঞানিক বলছিল যে ২০ বছর আগে যদি আপনারা আমাকে বলতেন যে আপনারা ধর্মানুরাগী তাহলে আমি বলতাম যে আপনারা পাগল, কিন্তু এই যে আমি এখানে এখন, কারণ পদার্থবিদ্যায় আমরা পদার্থ পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছি কিন্তু আমাদেরকে প্রশ্ন করা হয় যে চেতনা কি? সেই জন্য আমরা ধর্মানুরাগীদের কাছে এসেছি কারণ এটা আপনাদের বিষয়।

ভগবদগীতাতে কৃষ্ণ বলেছেন যে জড়জাগতিক শক্তি এবং উচ্চ পারোমার্থিক শক্তি আছে। স্থূল শক্তি হচ্ছে — ভূমি, জল, অগ্নি, বায়ু এবং আকাশ ও সূক্ষ্ম শক্তি হচ্ছে — মন, বুদ্ধি ও অহংকার। তার উর্দ্ধে আছে ভগবানের অপরা শক্তি। আমরা আধ্যাত্মিক শক্তি, আমরা হচ্ছি জীব শক্তি, এটাই হচ্ছে উচ্চ বিজ্ঞান। একবার আত্মা শরীর ছেড়ে দিলে, সেই শরীর মৃত। দেহের কোন চেতনা নেই চেতনা আছে আত্মার মধ্যে। চেতনা পুরো শরীরে বিভিন্ন শিরা-উপশিরা, রক্ত ও এইসবের মধ্যে দিয়ে পরিব্যপ্ত আছে। আমার ২০০৮ সালে স্ট্রোক হয়েছিল এবং সেই জন্য আমার শরীরের ডান দিক প্যারেসিসি হয়েছে। প্যারালাইসিস মানে সম্পূর্ণ নিষ্প্রাণ কিন্তু আমার কিছু কার্যক্ষমতা আছে, কিন্তু অনুভব কম, এটিকে বলা হয় প্যারেসিস। এইভাবে বুঝতে পারছি যে এখন আমি ডানদিকে বেশি অনুভব করতে পারছি না এবং ভগবদগীতাতে এই শরীরকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে — “য়ন্ত্রারূঢানি মায়য়া” — জাগতিক উপাদান দ্বারা তৈরি একটি যন্ত্র। তাই এইভাবে এটা এক উন্নত বিজ্ঞান, কারণ যেহেতু আমরা এই জ্ঞান সরাসরি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের থেকে পাই। বর্তমান বিজ্ঞান কেবল অল্প কিছু দিক উপলব্ধি করতে পারে, তারা যেটা উপলব্ধি করে তা ঠিক আছে, কিন্তু তারা অনেক জল্পনা কল্পনা করে। আত্মা নেই, ভগবান নেই এটা বলার জন্য তাদের কাছে কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। বিদুর, তিনি বিভিন্ন তীর্থ স্থানে গিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন সাধুর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তিনি উদ্ধবের কাছে শিক্ষা চেয়েছে, কিন্তু উদ্ভব লজ্জা পেয়েছে যে উনি হচ্ছেন কাকা, উনি জ্যেষ্ঠ, উনি বলছেন যে মৈত্রেয় ঋষির কাছে যেতে। কারণ কৃষ্ণ যখন উদ্ভবকে বলেছিলেন তখন মৈত্রেয় ঋষিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তারপর বিদুর মৈত্রেয় ঋষিকে বিভিন্ন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছিলেন। যুধিষ্ঠির মহারাজ জানতে চেয়েছেন কিভাবে এইভাবে একা একা ছিলেন, কিভাবে খেয়েছেন ইত্যাদি।

যখন সাধুরা মায়াপুরে আসেন, তখন আমাদের তাদের প্রসাদ দেওয়া উচিত। যে কোন সাধু, যেকোনো বৈষ্ণব এলে আমাদের তাদের সেবা করা উচিত, তাদেরকে প্রসাদ দেওয়া উচিত। যেমন বেদুর তিনি বিভিন্ন পবিত্র স্থানে গিয়েছিলেন, তিনি প্রসাদ পেয়েছিলেন, এইভাবে আমাদেরও পরিভ্রমণকারী সাধু ও বৈষ্ণবদের প্রসাদ দেওয়া উচিত। এইভাবে তীর্থ ভ্রমণকারীদের সুযোগ-সুবিধার জন্য যে বুথ থাকে, আমাদের সেইসব ভক্তদের বলা উচিত যে তাদের সাধু বা যে কোন বৈষ্ণবকে দেখা উচিত। ঠিক যেমন আমাদের অন্ন দান কার্যক্রম আছে, আমাদের বিভিন্ন সাধু ও বৈষ্ণবদের প্রসাদ সেবা করানো উচিত। বৃন্দাবনে কৃষ্ণ বলরাম মন্দির ও অন্যান্য মন্দিরে তা হয়, তিরুপতি তিরুমালাতে আমাদের প্রসাদ হয়, তারা পিঁয়াজ দিচ্ছিল, তাই আমি তাদেরকে বলেছি যে তাদের পিঁয়াজ দেওয়া উচিত না, তাদের প্রসাদ দেওয়া উচিত। বলছে যে লোক তো পিঁয়াজ পছন্দ করে, যাইহোক আমরা জনসাধারণ খুশি করার জন্য নয় আমরা তাদের পারমার্থিক উন্নতি লাভ করার জন্য প্রসাদ দেব। তাই, এইভাবে তারা এখন প্রসাদ দেয়, পিঁয়াজ দেয় না। তারা বলে যে কোন একজন সন্ন্যাসী তা তাদেরকে বলেছিল। এইভাবে উরুপি ও অন্যান্য পবিত্র স্থানে তাদের প্রসাদ দেওয়া হয়, এখন আমরা সপ্তাহে দুদিন ফ্রি প্রসাদ দিচ্ছি, কিন্তু সুলভ কিচেন তারা সুলভ মূল্যে তা দেয়। অন্ন দানে তারা ফ্রিতে প্রসাদ দেয়, আমাদের তা অনুসরণ করা উচিত। আমাদেরও এটির ব্যবস্থা করা উচিত, প্রসাদ এমনি সাধারণ হওয়া উচিত কিন্তু তাতে তাদের পেট ভরবে এমন হওয়া উচিত। হরিবোল! কে জানে যে বিদুরের মতো কেউ হয়তো দরজা দিয়ে প্রবেশ করবেন। 

আমরা গিয়েছিলাম চিত্রকূট, রামচন্দ্রের তীর্থস্থান, সেখানে একটা মন্দিরে গিয়েছি। সেখানে একজন সাধু বাবা ছিল, অভিযোগ করছে, “মায়াপুরে এসেছি কিন্তু প্রসাদ পাইনি।” তা এত লজ্জাজনক ছিল, আমি অত্যন্ত লজ্জিত অনুভব করেছিলাম! তিনি আমাদের সকল ভক্তদের প্রসাদ দিয়েছিলেন, তাই আমরা জানি না যে কে আমাদের দরজা দিয়ে প্রবেশ করছে, সেই জন্য শ্রীল প্রভুপাদ চেয়েছিলেন যে আমাদের সকল অতিথিদের জন্য প্রসাদ থাকা উচিত, যুধিষ্ঠির মহারাজ বিদুরকে জিজ্ঞেস করছে, কিভাবে খেয়েছ? তাই আমরা মানুষদের পবিত্র স্থানে যেতে উৎসাহিত করতে চাই। আমাদের বিভিন্ন ধরনের প্রসাদ আছে, কোন কোন ব্যক্তিরা দামী প্রসাদ চায়, কোন কোন মানুষেরা কম দামে প্রসাদ চায়। যাই হোক, আমরা দেখতে পারছি যে কিভাবে বিদুর তাকে পাণ্ডবদের পক্ষ থেকে কত সম্মান ও ভালবাসা দেওয়া হয়েছিল। এটা হচ্ছে এক দৃষ্টান্ত যে যখন একজন বৈষ্ণব মায়াপুরে আসে, তখন কিভাবে কত আনন্দিত থাকা উচিত। আমি একটা বা দুটো প্রশ্ন নেব।

অখিল বন্ধু গোপাল দাস [ইন্দোর]:- গুরুমহারাজ যেমন আমরা দেখতে পাচ্ছি যে যখন বিদুর দুর্যোধনের দ্বারা অপমানিত হয়েছিলেন, তখন তিনি এটিকে তার পবিত্র স্থান দর্শন, সাধু ব্যক্তিদের সাথে সঙ্গ করার সুযোগে রূপান্তরিত করেছিলেন। গুরুমহারাজ, আমরাও কিভাবে আমাদের জীবনের এমন প্রতিকূল পরিস্থিতি গুলিকে কাজে লাগাতে পারবো? কারণ যখন এইরকম কোন সমস্যা বা প্রতিকূলতা আসে, তখন আমরা দুঃখিত এবং বিরক্ত হই, ও এই সমস্ত প্রতিকূলতা আমাদের আধ্যাত্মিক কার্যে মননিবেশের ক্ষেত্রে অসন্তোষজনক হয়। 

জয়পতাকা স্বামী:- তোমার প্রশ্নের উত্তর বিদুর দিয়েছেন। তিনি দুঃখিত হননি, তিনি দেখলেন যে, তিনি এটিকে তার কৃষ্ণ ভাবনামৃত বর্ধিত করার এক সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তোমার দুঃখিত হওয়া উচিত না। হয়ত তুমি তোমার খারাপ কর্ম থেকে মুক্তি পাচ্ছ এবং এই জগতে এক ধরনের মিথ্যা সমালোচনা থাকে, এই কারণে আমরা তোমাকে আধ্যাত্মিক জগতে স্থানান্তরিত করতে চাই। তুমি মধ্যপ্রদেশ থেকে এসেছ। এটা শুনে ভালো লাগছে যে কিভাবে মধ্যপ্রদেশ থেকে মানুষেরা প্রবচন শুনছে।

সুমিত্র গৌরচন্দ্র দাস [বাংলা]:- কৃষ্ণ ভক্তির সর্বোত্তম বিজ্ঞান ও শ্রীল প্রভুপাদের মনোভাবকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে সবার কাছে আরো তথ্যসূত্র সহ জোরালো করে তুলে ধরতে আমরা বৈজ্ঞানিক গবেষণার সাথে যুক্ত হতে পারি কি?

জয়পতাকা স্বামী:- TOVP বা বৈদিক তারামণ্ডলী মন্দিরটি এই ধারণা, বৈজ্ঞানিক ভুল ধারণা বিনাশ করার জন্য চেষ্টা করছে। এখন ভক্তিবেদান্ত ইনস্টিটিউট, যদি সাহায্য করতে চাও, এই TOVP সাহায্য করার, সেটা ... করছে।

ওঁ তৎ সৎ!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 6/FEB/2024
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions