Text Size

২০২১১১২৮ ইস্‌কন দক্ষিণ ভারতের তরুণদের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত প্রবচন

28 Nov 2020|Duration: 00:15:41|Bengali|Youth Programs|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

"মুকম করোতি বাচালম পঙ্গুম লঙ্ঘয়তে গিরিম
যৎকৃপা তমহম বন্দে শ্রীগুরুম দিন তারিনম্
পরমানন্দ মাধবম শ্রীচৈতন্য ঈশ্বরম।"
হরি ও তৎসৎ

জয়পতাকা স্বামী: সুতরাং কীভাবে অস্থির জগতে স্থির থাকা যায়? এই সকালে আমরা পড়েছিলাম কীভাবে ব্যাসদেব সরস্বতী নদীতে ভোরবেলায় স্নান করে এবং ধ্যানে বসে চিন্তা করতেন- যখন কলিযুগ খুব অস্থির ও জড়বাদী হবে তখন কলিযুগের মানুষ কীভাবে সৌভাগ্যশালী হয়ে উঠবে? তাই তিনি ভবিষ্যৎ দর্শন করতে পারতেন যে কলিযুগ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠবে। মানুষ তাদের দেহের সাথে অত্যন্ত একাত্ম। তারা মনে করে যে জড়জগত কেবলমাত্র গুরুত্বপূর্ণ। তারা বোঝে না যে মনুষ্য হিসাবে আমরা আমাদের আধ্যাত্মিক প্রকৃতি উপলব্ধি করতে পারি। পশুরা খায়, ঘুমায়, সঙ্গম করে ও প্রতিরক্ষা করে। যদি মানুষ একই জিনিস করে তাহলে লাভ কি হল? পার্থক্য হল যে মানুষ তাদের আধ্যাত্মিক প্রকৃতি উপলব্ধি করতে পারে। অন্যথায়, আমরা হলাম বাস্তববুদ্ধিসম্পন্ন পশুদের মতো। পূর্ববর্তী যুগে উচ্চতর গ্রহের বাসিন্দারা পৃথিবী পরিদর্শন করতে আসত, তার কারণ পৃথিবীর ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়রা আধ্যাত্মিকভাবে সচেতন ছিল। আর আমরা প্রযুক্তিতে অনেক উন্নত কিন্তু মানুষ জড়াপ্রকৃতির সাথে অত্যন্ত একাত্ম। তারা মনে করে না যে জাগতিক জীবনের বাইরে কিছু আছে এবং জাগতিক জীবন মানেই হল অস্থির। আমরা যেভাবে জড়জগতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছি তাতে করে পরে আমরাও অস্থির হয়ে উঠব। কিন্তু যদি আমরা কৃষ্ণ, তাঁর পবিত্র নাম ও ভক্তিযোগের উপর নির্ভরশীল হই, তাহলে তখন আমরা স্থির থাকতে পারি। সুতরাং, এটাই হল সমাধান।

আমাদের অস্থির জগতের উপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়, আমাদের স্থির পরম পুরুষোত্তম ভগবানের উপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত। ঠিক যেমন কৃষ্ণ গোবর্ধন পাহাড় তুলেছিলেন এবং তিনি গিরিধারী নামে খ্যাত। তাই, সেইরকম আমরা কৃষ্ণের আশ্রয় গ্রহণ করতে পারি। যদিও জগত অশান্ত তবুও আমরা স্থির থাকতে পারি তার কারণ আমরা পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সংরক্ষণাধীন রয়েছি। পূর্ববর্তী যুগে মানুষ ধ্যান, হোম ও মন্দিরে পূজা অর্চনা করত। বর্তমানে আমরা অতটা যোগ্যতাসম্পন্ন নই। পরমেশ্বর ভগবান অস্থির জগতে-আমাদের সংকটাবস্থা পরিদর্শন করেছেন এবং তিনি ভগবদ্গীতা, শ্রীমদ্ভাগবতম এবং পবিত্র নাম রূপে প্রকাশিত হয়েছেন। আমরা সর্বদা হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করতে পারি, আমরা ভগবদ্গীতা ও শ্রীমদ্ভাগবত অধ্যয়ণ করতে পারি এবং আমরা ভক্তিমূলক সেবায় নিয়োজিত থাকতে পারি। এমনকি যদিও জড়জগত স্থির নয়, তবুও আমরা এইভাবে স্থির থাকতে পারি। বেশিরভাগ মানুষ দুঃখ-কষ্ট ভোগ করছে, এর কারণ আমরা সর্বদা পরিবর্তনশীল জিনিসের ওপর নির্ভর করিতেছি। তাই কৃষ্ণের ওপর নির্ভর করার মাধ্যমে আমরা মানুষকে প্রশান্ত করতে চাই। ভারত হল একটি অত্যন্ত পবিত্র স্থান। এখানে পরমেশ্বর ভগবান তাঁর লীলাবিলাস সম্পাদন করেছিলেন, হয় ব্যক্তিগতভাবে অথবা তিনি ভগবান শিবরূপে এসেছিলেন যিনি হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ বৈষ্ণব। তিনি বিগ্রহরূপে আবির্ভূত হন। যেমন: পুরীতে শ্রীজগন্নাথ, তিরুমালায় বালাজী, শ্রীরঙ্গমে রঙ্গনাথ বিগ্রহ, তিরুবনন্তপুরমে অনন্ত বিগ্রহ, গুরুবায়ুর বিগ্রহ ও অনেক অন্যান্য বিগ্রহসমূহ। এছাড়া অনেক অন্যান্যও মন্দিরও রয়েছে। মানুষ যেখানেই যাক আমরা তাদেরকে সহায়তা করার চেষ্টা করছি যাতে তারা হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করে। এইভাবে তারা অস্থির জগতে স্থির থাকতে পারে। তারা যাই করুক না কেন তারা হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করতে পারে। ঠিক যেমন: প্রাচীন জাহাজগুলি সমুদ্রে পাড়ি দিত কিন্তু তারা ধ্রুবতারার (ধ্রুবলোক) ওপর নেত্রপাত করত যেটা প্রধানত নিরন্তর গতিশীল অন্যান্য নক্ষত্রের তুলনায় এক জায়গায় অবস্থান করে। সুতরাং এইরকম যদি আমরা কৃষ্ণের ওপর নির্ভরশীল থাকি তাহলে আমরা সর্বদা স্থির থাকতে পারি। যদিও জগত সর্বদা পরিবর্তনশীল তবুও আমরা সকলকে ভক্তিযোগে যুক্ত হওয়ার জন্য সাহায্য করতে চাই। এইভাবে তারা স্থির থাকতে পারে। এবং পড়াশোনার ক্ষেত্রে আমরা এটাকে পরমেশ্বর ভগবানের সেবা হিসেবে সম্পাদন করতে চাই। আমরা মনে করি যে আমরা যা কিছু পড়ছি যেমন: ইঞ্জিনিয়ারিং বা ফিন্যান্স বা মেডিসিন বা যাই হোক না কেন, আমরা মনে করি যে আমরা এটা সম্পাদন করছি পরিশেষে কৃষ্ণকে সেবা করার জন্য। পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে সেবা ও সন্তুষ্টিবিধানের জন্য আমরা আমাদের শিক্ষাকে ব্যবহার করিতেছি। আমাদের সহকর্মী, আমাদের কাজের বন্ধুদের ভগবদ্গীতার প্রকৃত অর্থ সম্পর্কে বলার জন্য এই সুযোগটিকে কাজে লাগাও। তাদের বল কীভাবে কৃষ্ণ অর্জুনকে বলে তার কী করা উচিত, আর কী করা ‍উচিত নয় এবং অর্জুন একটি সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে ছিল। অর্জুন তাঁর গুরু, তার কুটুম্ব ও তার ভাইয়েদের সাথে যুদ্ধ করতে যাচ্ছিল, তাই সে জানতে চাইল সে কী করবে। তিনি যুদ্ধ থেকে পালিয়ে যেতে প্রস্তুত ছিলেন কিন্তু কৃষ্ণ তাকে বলল যে তার পালিয়ে যাওয়া উচিত নয়, কেননা তার স্বভাবই হল একজন যোদ্ধা হয়ে উঠা। যাই হোক না কেন, আমার জন্য তোমার যুদ্ধ করা উচিত এবং তারপর আমি দায়িত্ব গ্রহণ করব। সুতরাং এইভাবে কৃষ্ণ অর্জুনকে আশ্বাসন দেন যদি সে তাঁর জন্য যুদ্ধ করে সে সমস্ত দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

          সুতরাং আমরা জানতে চাই কীভাবে অস্থির জগতে স্থির থাকা যায়। কিন্তু কৃষ্ণ হলেন সর্বদা স্থির। তিনি অচ্যুত নামে পরিচিত ও তিনি নির্ভরযোগ্য। আর আমরা তার ওপর নির্ভরশীল থাকতে পারি এবং তিনি পরিবর্তিত হন না। তাঁর একটি অপরিবর্তনশীল ব্যক্তিত্ব রয়েছে। এবং জগজড়গত পরিবর্তন হতে পারে কিন্তু তিনি পরিবর্তিত হন না। সুতরাং কৃষ্ণের আশ্রয় গ্রহণ করাই এই সমস্যার সমাধান। কেননা কৃষ্ণ হলেন সমস্ত সুখের উৎস। সুতরাং একইভাবে আমরাও খুব সুখী হব। আমরা একজন ব্রহ্মচারী হই বা আমরা একজন গৃহস্থ হইনা কেন, আমাদের কৃষ্ণকে কেন্দ্রে রাখা উচিত। এবং এইভাবে আমরা আমাদের সারা জীবন ধরে আধ্যাত্মিক সুখ লাভ করতে পারি। যদি আমরা এটা না করি, যদি আমরা কৃষ্ণকে কেন্দ্রে না রাখি, যদি আমরা জড় জগতকে কেন্দ্রে রাখি তাহলে পরে আমরা স্বাভাবিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্থ হব এবং জড়শক্তির দ্বারা আবর্তিত হব। আমাদেরকে দুঃখকষ্ট ভোগ করতেই হবে। আমরা মানুষকে সহায়তা করতে চাই যাতে তারা দুঃখকষ্ট পরিহার করে, তাই কৃষ্ণের আশ্রয় গ্রহন কর এবং এইভাবে সর্বদা সুখী হয় এবং জাগতিক দুঃখকষ্ট ও বিষন্নতাকে দূরীভূত কর।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by মনসা কারক
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions