Text Size

২০২১১১০৪ শ্রীমদ্ভাগবতম ১.১৩.১৬

4 Nov 2021|Duration: 00:55:40|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ 

ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
    ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
    ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!

শ্রীমদ্ভাগবতম ১/১৩/১৬
যুধিষ্ঠিরো লন্ধরাজ্যো দৃষ্টী গৌত্রং কুলন্ধরম্‌
ভ্রাতৃভির্লোকপালাভৈর্মুমুদে পরয়া শ্রিয়া॥

অনুবাদ:- মহারাজা যুধিষ্ঠির তাঁর রাজ্য জয় করে এবং তাঁর বংশের মহান্‌ এতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখবার উপযুক্ত এক পৌত্রের জন্মের দর্শন লাভ করার পরে, শান্তিতে রাজত্ব করেছিলেন এবং তাঁর কনিষ্ঠ ভ্রাতারা, যাঁরা ছিলেন জনসাধারণের কাছে সকলেই দক্ষ প্রশাসক, তাঁদের সহযোগিতা নিয়ে তিনি অসামান্য ঐশ্বর্য ভোগ করেছিলেন।

তাৎপর্য:- কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের শুরু থেকেই মহারাজ যুধিষ্ঠির এবং অর্জুন উভয়েই বিমর্ষ হয়ে ছিলেন, কিন্তু তাঁদের আত্মীয়-স্বজনদের যুদ্ধে হত্যা করতে তাঁরা অনিচ্ছুক হলেও, কর্তব্য রূপেই তাদের তা করতে হয়েছিল, কারণ পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পরম অভিলাষ মতোই তা পরিকল্পিত হয়েছিল। যুদ্ধের পরে, ঐ ধরনের গণহত্যার কথা ভেবে যুধিষ্ঠির মহারাজ অত্যন্ত বিষাদগ্রস্ত হয়েছিলেন। প্রকৃতপক্ষে পাণ্ডবদের পরে কুরুবংশের ধারা অব্যাহত রাখার মতো আর কেউ ছিল না। একমাত্র শেষ আশা ছিল তাঁদের পুত্রবধূ উত্তরার গর্ভস্থ শিশু এবং তাঁকেও অশ্বথামা আক্রমণ করেছিল, তবে পরমেশ্বরের কৃপায় শিশুটি রক্ষা পেয়েছিল। 

               তাই বিশৃঙ্খল অবস্থা আয়ত্তে আনার পর এবং রাজ্যে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করার পর, এবং জীবিত সন্তান পরীক্ষিতকে দেখার পরে, যথেষ্ট সন্তোষ লাভ করে মহারাজ যুধিষ্ঠিরের মানব-সত্তা কিছুটা স্বস্তি বোধ করে, যদিও জড়জাগতিক সুখ যা নিয়তই মায়াময় এবং অনিত্য অস্থায়ী, তার প্রতি তাঁর লেশমাত্র আসক্তিও ছিল না।

***

জয়পতাকা স্বামী:-  আমরা দেখি যে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পর, যুধিষ্ঠির মহারাজ তিনি এক অত্যন্ত শান্তিময় সমৃদ্ধশালী স্থিতি লাভ করেছিলেন। আমরা দেখি যে ভক্তরাও জড়জাগতিক শান্তিময় পরিস্থিতি লাভ করতে পারে, কিন্তু জড়জাগতিক এই সাফল্য ক্ষণস্থায়ী এবং অতিক্রমণীয়। তাই যুধিষ্ঠির মহারাজ জড়জাগতিক সাফল্যের প্রতি খুব একটা আসক্ত ছিলেন না, কিন্তু তিনি দেখেছিলেন যে তিনি সাফল্য অর্জন করেছেন, তিনি দেখেছিলেন যে তিনি সফল হয়েছেন। যুধিষ্ঠির মহারাজ সবসময় কৃষ্ণের প্রতি আসক্তি বেশি ছিল, সেজন্য যুধিষ্ঠির মহারাজকে শোনার জন্য, আর কৃষ্ণের শোনার জন্য তফাৎ নেই। দেখুন কৃষ্ণের শুদ্ধ ভক্তরা সব সময় কৃষ্ণের সাথে সংযুক্ত, তাই এই জড় জগতে হয়ত কিছু সাফল্য থাকতে পারে, তবে তা ক্ষণস্থায়ী এবং স্বল্প সময়ের জন্য থাকে। এইজন্য আমাদের কৃষ্ণের প্রেম পাওয়া, কৃষ্ণের সেবা পাওয়ার আশা থাকা উচিত। এটা পরিবর্তন হয় না। কৃষ্ণ হচ্ছেন নিত্য, জীব নিত্য এবং আমাদের কৃষ্ণের প্রতি প্রেমও নিত্য। 

নারদ মুনি সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সবথেকে মহান ভক্তকে খোঁজার প্রচেষ্টা করছিলেন। তিনি বিভিন্ন মানুষদের কাছে যান এবং এইভাবে তিনি তারপর পাণ্ডবদের কাছে গিয়েছিলেন। তখন পাণ্ডবরা বিশেষ যুদ্ধের বিষয়ে আলোচনা করছিলেন কিন্তু কি কথা হচ্ছিল —  কি করে আমরা কৃষ্ণকে দেখব আবার? কেউ বলছে, “শত্রু বিপদ আছে তাই জন্য কৃষ্ণের আসা উচিত” এই অজুহাত কাজ করবে না কারণ কৃষ্ণ ইতিমধ্যেই সব শত্রুদের সরিয়ে দিয়েছেন। এইভাবে তারা আলোচনা করছিলেন যে কিভাবে তারা আবার কৃষ্ণের সঙ্গ লাভ করতে পারবেন। তখন নারদ মুনি বললেন, “আপনারা হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ ভক্তগণ।তখন অর্জুন উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, “আমি ভক্ত কিন্তু আমি সর্বশ্রেষ্ঠ ভক্ত নই, কৃষ্ণ বৃষ্ণি ও যদুদের সাথে দ্বারকায় যান, তারা হচ্ছেন মহান ভক্ত।” এইভাবে সব ভক্তরা ভাবছিলেন যে অন্য ভক্তরা তাদের থেকে বেশি ভালো, পাণ্ডবেরা অত্যন্ত বিশেষ। কৃষ্ণের ভক্ত সবসময় বিশেষ লক্ষণ আছে, কৃষ্ণের ভক্ত হওয়ার জন্য এখন সেটা কঠিন ব্যাপার, আমরা আকাঙ্ক্ষী ভক্ত হতে পারি। কৃষ্ণের প্রকৃত ভক্তরা এত মহান হন, তাই তুমি যদি কৃষ্ণের ভক্ত হও, কৃষ্ণের শুদ্ধ ভক্ত হও, তাহলে তা এক মহান বিষয়। আমরা হয়ত কোন জাগতিক পরিস্থিতির প্রতি অত্যন্ত আসক্ত হতে পারি, কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি সুখ-দুঃখ যাই হোক না কেন, যুধিষ্ঠির মহারাজ এবং পাণ্ডবগণ কৃষ্ণের প্রতি আসক্তি বেশি।  এবং এইটি আমাদের অর্জন করার চেষ্টা করা উচিত। আমরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি শুদ্ধ ভক্তি লাভ করতে চায়। এমন নয় যে আমরা হয়ত জাগতিক সাফল্য অর্জন করব বা জড় জাগতিক দুঃখ পাব, যাই হোক না কেন আমরা কেবল কৃষ্ণের সেবা করতে চাই। এই ভক্তগণ অত্যন্ত মহান।

শ্রীমদ্ভাগবতমভগবদ্‌গীতা অধ্যায়ন করার মাধ্যমে আমরা কৃষ্ণ এবং তাঁর মহান ভক্তদের সঙ্গ লাভ করি এবং তাদের সঙ্গ লাভের মাধ্যমে আমরা স্বাভাবিক ভক্তি বিকশিত করতে পারব। অনেক লোক মনে করে বই পড়ে কি হবে? কিন্তু এই বই পড়ার দ্বারা আমরা কৃষ্ণের সঙ্গ করতে পারছি। এবং যদি তুমি এসব গ্রন্থাবলী অধ্যয়ন কর, তাহলে তুমি শ্রীল প্রভুপাদের সঙ্গ লাভ করতে পারবে। তিনি বলেছিলেন যে তাঁর তাৎপর্যগুলি হচ্ছে তাঁর শ্রেষ্ঠভাব। তাই তার গ্রন্থাবলী করার মাধ্যমে তুমি শ্রীরো প্রভুপাদের আরো বেশি সঙ্গ লাভ করতে পারবে। আমাদের এই মনুষ্য জীবন আছে এবং এটি হচ্ছে কৃষ্ণের আরাধনা করার এক বিরল সুযোগ। অনেক ব্যক্তিরা জড় জাগতিক ভালো পরিস্থিতি লাভের জন্য কোন দেবদেবীর আরাধনার প্রতি আসক্ত। কিন্তু এর মাধ্যমে তারা এই জড়জগতে বারংবার জন্ম গ্রহণ করার জন্য আবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। আসলে আমরা যদি কৃষ্ণের প্রতি আসক্ত হই, আমরা এই ভৌতিক জগত থেকে চলে যেতে পারি, কৃষ্ণের কাছে ফিরে যাব, আমাদের যেখানে নিত্য জীবন থাকবে কৃষ্ণের সঙ্গে। তাই আমাদের ভৌতিক পরিস্থিতির প্রতি খুব একটা আসক্ত হওয়া উচিত নয়। বিশেষত এই কলি যুগে আমরা এই জগতে অনেক সমস্যা দেখতে পাই, এখন কোভিড ১৯ এর প্রকার দেখা যাচ্ছে, এর আগে ডেলটা প্রকার ছিল, সেটাই এখনো মূল প্রকার রয়েছে কিন্তু এখন ওম-আইক্রন প্রকার হয়ে গেছে। তাই মানুষেরা উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করছে যে কি করা যেতে পারে! প্রকৃতপক্ষেপ্রত্যেকের হরের নাম জপ করা উচিত —  

হরের্ নাম হরের্ নাম হরের্ নামৈব কেবলম্
কলৌ নাস্ত্য্ এব নাস্ত্য্ এব নাস্ত্য্ এব গতির্ অন্যথা ॥
(চৈতন্য ভাগবত  ১.১৪.১৪৪)

এইভাবে আপনারা সীমাহীন শান্তি লাভ করতে পারবেন। ঠিক যেমন বিদুর তিনি ফিরে এসে পাণ্ডবদের স্থিতাবস্থা দেখে আনন্দিত হয়েছিলেন। তার ইচ্ছা ধৃতরাষ্ট্র, তার দাদা কিকরে ধর্ম পথে দিন যাপন করবে। তখন যুধিষ্ঠির মহারাজ বিদুরকে জিজ্ঞেস করছিলেন যে, “আপনি কেমন আছেন? কৃষ্ণ এবং যদু বংশীয়রা কেমন আছেন?” তখন বিদুর সমস্ত সুসংবাদ দিয়েছিলেন কিন্তু উনি বলেননি যে যদু সব শেষ হয়েছে, যে কৃষ্ণ চলে গেলেন। কারণ তিনি পাণ্ডবদের দুঃখ পেতে দেখতে চাননি। আমাদের সেই সত্য বলা উচিত যা অন্যের ক্ষেত্রে প্রিয়কর। যদি কারোর নাকে আঁচিল থাকে, এটা এরকমভাবে বলা হয়ত সত্য হবে যে, “হ্যাঁ! তোমার নাকে আঁচিল আছে।” কিন্তু আমরা এমন সত্য বলব না যা বেদনাদায়ক।  সত্য কথা মিষ্টভাবে বলা উচিত, এমনি খারাপ খবর তারা জানতে পারবে বিভিন্ন সূত্রে, কেন বিদুর বলবে? তাই, এইভাবে এই মহান জীবাত্মাদের কার্যাবলী থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি।  

মনুষ্য জীবন হচ্ছে মহান জীবাত্মাদের সঙ্গ করার জন্য, এখন এই কলিযুগ মধ্যে সজ্জন কিভাবে সঙ্গ পাব? কৃষ্ণ আমাদের জন্য শ্রীমদ্ভাগবতম দিয়েছেন, এটা আমাদের এই সৎসঙ্গ পেতে সুযোগ। কলিযুগের শুরু হয়েছেতার সাথে শ্রীমদ্ভাগবতও সূর্যের মতো উদয় হলো। পরীক্ষিত মহারাজ ছিলেন অর্জুন এবং সুভদ্রা দেবীর পৌত্র। আমরা রথযাত্রার সুভদ্রা দেবীর পূজা করি, তিনি হচ্ছেন কৃষ্ণের যোগমায়া শক্তি। আমি দেখতে পাচ্ছি ওই যে মন্দির ইস্‌কন প্রবর্তক, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ, সেখানে জগন্নাথ বলদেব সুভদ্রা আছেন। সুভদ্রা দেবীর পুত্র আমাদেরকে শ্রীমদ্ভাগবতম দিয়েছেন, তাই আমাদের তা পড়া উচিত, আমাদের তা অধ্যায়ন করা, ভালোভাবে পড়া উচিত। প্রভুপাদ বলেছিলেন, কিছু অভিযোগ আসছে, কিছু ভক্তরা, বিশেষ ব্রাহ্মণ এই পারমার্থিক জ্ঞনে সম্পন্ন নয়। আমরা বলেছি যে দ্বিতীয় দীক্ষা পেতে হলে কোন ব্যক্তির ভক্তিশাস্ত্রী থাকতে হবে, এবং যারা দ্বিতীয় দীক্ষা পেয়েছে কিন্তু ভক্তিশাস্ত্রী উপাধি নেই, তাদের গ্রন্থ অধ্যয়ন করা উচিত ও ভক্তিশাস্ত্রী উপাধি অর্জন করা উচিত। এটা উনি বলছিলেন যে সন্ন্যাস নিতে গেলে ভক্তিবৈভব ডিগ্রী পাওয়া উচিত। যদি তারা গুরু হতে চায়, তাহলে তিনি বলেছিলেন যে কোন ব্যক্তির ভক্তিবেদান্ত উপাধি থাকা উচিত। তাই যেহেতু গত ১০ বছর ধরে আমাদের মায়াপুর এবং বৃন্দাবন ইনস্টিটিউট থেকে ভক্তিবেদান্ত ডিগ্রি দেওয়া হচ্ছে, এখন ছয় মাসের মধ্যে মায়াপুর ইনস্টিটিউট বলছে যে ভক্তিসার্বভৌম শুরু করবে। তাই প্রত্যেকেরই শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থাবলী অধ্যয়ন করা উচিত। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে এই উপাধিগুলো হচ্ছে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, পিএইচডি এর মতো। প্রত্যেক ভক্তের এটি চিন্তা করা উচিত যে কিভাবে তারা শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ অধ্যায়ন করতে পারবে। এইজন্য মিনিস্ট্রি অফ এডুকেশন থেকে এই বিষয়ে প্রচেষ্টা করা হচ্ছে যে কিভাবে বিভিন্ন দায়িত্বপ্রাপ্ত ভক্তরা শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ অধ্যায়ন করে এই সমস্ত উপাধি অর্জন করতে পারবে।

এই মনুষ্য জীবন হচ্ছে কৃষ্ণকে জানার জন্য। আমাদের পরম সত্যকে জানা উচিত। তারা বলছে যে একটা পৃথিবী আছে, একটা বিশ্ব আছে, আর নাই। কিন্তু ভাগবতে পাওয়া যাচ্ছে স্বর্গ, ভূর্লোক, ভুবর লোক তারা সমস্ত বিশ্ব মধ্যে জীব আছে। ঠিক যেমন জলে জীব থাকে, তেমনি আগুনের মধ্যেও জীব থাকতে পারে। কারণ আত্মাকে সিক্ত করা যায় না, পুড়িয়ে ফেলা যায় না, এটি হচ্ছে সমস্ত জড় উপাদানের শ্রেষ্ঠ বস্তু। তারা একটি পরিকল্পনা করছে যে কেবলমাত্র আমাদের বাস্তুতন্ত্র এই যাতে জীবনকে ধারণ করে রাখতে পারে, কিন্তু প্রত্যেক পরিবেশে জীব রয়েছে। তাই আমরা কেবল দেখছি যে বর্তমান বিজ্ঞানের কাছে এই বিশ্ব সম্পর্কে অতি সীমিত ধারণা আছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে যদি আমরা জানতে চাই যে এই মহাবিশ্বে কি আছে, তাহলে আমাদের বৈদিক শাস্ত্র থেকে অবরোহ পদ্ধতিতে আসা জ্ঞান প্রাপ্ত হওয়া উচিত। এই কারণে আমরা বৈদিক তারামণ্ডলী মন্দিরে পশ্চিমী প্রদর্শনীর মাধ্যমে তা দেখানোর চেষ্টা করছি। আমরা বিভিন্ন প্রদর্শনী ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রদর্শন করছি, যখন আমরা শ্রীমদ্ভাগবতম পরব, তখন আমরা একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিশ্বব্রহ্মাণ্ড, ভিন্ন সৃষ্টি সম্পর্কে জানতে পারব। মহতত্ত্বের মধ্যে বহু বিশ্ব রয়েছে, অনন্ত কোটি ব্রহ্মাণ্ড। এবং করুণা সিন্ধু ভগবানের ত্রিবিক্রমের ফলে এই বিশ্বে ফুটো হয়েছে এবং সেখান থেকে গঙ্গা ঢুকে গেছে, ব্রহ্মা তিনি গর্ভদক্ষয়ী বিষ্ণু থেকে এসেছেন এবং গর্ভদক্ষয়ী বিষ্ণু মহাবিষ্ণু থেকে এসেছেন আর মহাবিষ্ণু এসেছেন সঙ্কর্ষণ থেকে ও সঙ্কর্ষণ এসেছেন বলরাম থেকে এবং বলরাম এসেছেন কৃষ্ণ থেকে। এইভাবে সমগ্র জড় জগৎকে বলা হয় একপদ বিভূতি, এটি হচ্ছে ভগবানের সম্পূর্ণ শক্তির ১/৪। এবং আধ্যাত্মিক জগত হচ্ছে তিন পদবিভূতি সমগ্র সৃষ্টির ৩/৪। যাই হোক, পরম সত্য সম্পর্কে জানা হচ্ছে এক মহান বিজ্ঞান। 

এখন একটু বিরতির পর আমরা কিছু প্রশ্ন নেব। 

জয়রাশেশ্বরী দেবী দাসী:- আপনি বলেছেন যে বাস্তব সত্য আমাদের সুমিষ্টভাবে বলা উচিত, কিন্তু আমি ভয় পাই যে যদি আমি আমার কোন কাছের ব্যক্তিকে কঠোর বাস্তব সম্পর্কে বলি, তাহলে তাতে হয়ত আমাদের সম্পর্কের অবনতি হবে, তাই কৃপা করে আমাকে পথপ্রদর্শন করুন কি করা ঠিক হবে।

জয়পতাকা স্বামী:- এই কারণে আমরা কেবল সহনীয় সত্য কথা বলি। আমরা এমন কোন কথা বলি না যেক্ষেত্রে আমরা জানি যে অন্যরা তা শুনে বিচলিত হবে। 

প্রশ্ন:- মহেশ ধাম কি আধ্যাত্মিক জগতের অংশ নাকি জড়জগতের অংশ? যদি বদ্ধ জীবেদের নিত্যবদ্ধ বলে ডাকা হয়, আমরা যদি নিত্যবদ্ধ হই, তাহলে আমাদের প্রকৃত নিত্য স্থিতি সম্পর্কে কিভাবে জানতে পারব?  

জয়পতাকা স্বামী:- এটি সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থিত। আমরা নিত্যবদ্ধ থেকে নিত্যসিদ্ধ হতে পারি। তাই যেখানে বলা হয়েছে নিত্যবদ্ধের কথা, এটি এই বিষয়ে বলা হয়েছে যে আমরা নিত্যভাবে বদ্ধ অবস্থায় থাকি, যতক্ষণ না আমরা নিত্যসিদ্ধ হওয়ার ইচ্ছা করছি। তাই তুমি যদি নিত্যসিদ্ধ হওয়ার বাসনা কর, তাহলে আমরা সেই স্থিতি অর্জন করতে পারব। 

প্রশ্ন:-  দীক্ষা নেওয়ার জন্য কি কি করা প্রয়োজন? গুরুমহারাজ দয়া করে বলবেন। 

জয়পতাকা স্বামী:- একটা তালিকা আছে, সেখানে ৩১ - ৩২ তা উল্লেখিত পয়েন্ট আছে, এটা জয়পতাকা স্বামী অফিস ওয়েবসাইটে আছে, সেখান থেকে পেতে পার। 

মিল্টন চৌধুরী, বাংলাদেশ:-  ভক্তিশাস্ত্রী কোর্স কি শুধু দীক্ষিত ভক্তরা করতে পারবেন? কিন্তু যাদের এখনো দীক্ষা হয়নি, তারা এই ভক্তিশাস্ত্রী কোর্স করতে পারবে কিনা যদি কৃপা করে বলেন। হরে কৃষ্ণ পতিতপাবন গুরু মহারাজ। 

জয়পতাকা স্বামী:- প্রভুপাদ বলছিলেন যে দীক্ষিত/অদক্ষিত ভক্তি শাস্ত্রী নিতে পারে, কিন্তু সন্ন্যাস নেওয়া বা দীক্ষা নেওয়া বা গুরু হওয়া সেখানে আচরণ দেখা হবে। শাস্ত্র অধ্যয়ন তুমি করতে পার।  

অখিল বন্ধু গোপাল দাস:- গুরু মহারাজ যেমন আপনি বললেন যে সমগ্র সৃষ্টির এক চতুর্থাংশ হচ্ছে জড়জগৎ এবং তিন চতুর্থাংশ হচ্ছে আধ্যাত্মিক জগত, তাই গুরু মহারাজ এমনকি কোন সময় আসতে পারে যখন সবাই আধ্যাত্মিক জগতে চলে যাবে, এবং সব ব্যক্তিরা মুক্ত হয়ে যাবে ও এই জড় জগতে দুঃখ কষ্ট পাওয়ার জন্য কেউই থাকবে না?

জয়পতাকা স্বামী:- এটি একটি আশাবাদী ভাবনা! আপনি কি কখনও দেখবেন যে ১০০% ব্যক্তিই গ্রহনক্ষম?  এমন কিছু ব্যক্তিরা থাকবে, যারা তাদের জাগতিক বিষয়ের প্রতি আসক্ত। এটি কেবল আমাদের এই জগতে, তাহলে অন্যান্য গ্রহের কথা আর কি বলার আছে? নিন্মলোকের গ্রহের মানুষেরা অত্যন্ত আসুরিক ভাবাপণ্য। কিন্তু যাই হোক, এটি সমস্যা নয়। যদি তুমি কাউকে ভক্ত বানাতে পার, তাহলে খুব ভালো! কৃষ্ণ কোন অভিযোগ করবেন না। কিন্তু সব সময় এমন কেউ না কেউ থাকবে যারা এর প্রতি আগ্রহী থাকবে না। আমাদের জীবজন্তু, পাখি, গাছপালা, মাছ আছে; যদি তুমি এদের সকলকে কৃষ্ণ চেতনাময় করে তুলতে পার, তাহলে খুব ভালো! চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি সকল জীবজন্তুদের দিয়ে হরে কৃষ্ণ কীর্তন করিয়েছিলেন। তাই, আমরা যদি অন্ততপক্ষে মানুষদেরকে কৃষ্ণভাবনাময় করতে পারি তাহলে তা খুব ভালো হবে। 

 

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 9/9/23
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions