Text Size

২০২১১১০৬ শ্রীমদ্ভাগবতম ১.১২.২৩

6 Nov 2021|Duration: 00:43:51|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ 

ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
    ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
    ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!

শ্রীমদ্ভাগবতম ১/১২/২৩
পিতামহসমঃ সাম্যে প্রসাদে গিরিশোপমঃ।
আশ্রয়ঃ সর্বভূতানাং যথা দেবো রমাশ্রয়ঃ॥

অনুবাদ:- এই শিশুটি মানসিক সাম্যতায় তাঁর পিতামহ যুধিষ্ঠির অথবা ব্রহ্মার সমতুল্য হবেন, কৈলাস পর্বতের অধিপতি শিবের মতো তিনি মহাবদান্য হবেন এবং লক্ষ্মীদেবীরও আশ্রয়স্থল পরমেশ্বর ভগবান শ্রীনারায়ণের মতোই তিনি প্রত্যেকের আশ্রয় হবেন।

তাৎপর্য:- মহারাজ যুধিষ্ঠির এবং জীবসমূহের পিতামহ ব্রহ্মা উভয়েই তাঁদের মনের সাম্যতার জন্য আদর্শ। শ্রীধর স্বামীর মতে এখানে পিতামহ বলতে ব্রহ্মাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, কিন্তু শ্রীল বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ঠাকুরের মতে পিতামহ হচ্ছেন মহারাজ যুধিষ্ঠির স্বয়ং। এই দুটি দৃষ্টান্ত সমান উত্তম, কেননা উভয়েই পরমেশ্বর ভগবানের প্রতিনিধি বলে স্বীকৃত এবং তাই জীবের কল্যাণে যুক্ত হওয়ার ফলে তাদের উভয়কেই মানসিক সাম্যতা বজায় রাখতে হয়। শাসন-ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ দায়িত্বসম্পন্ন ব্যক্তিকে যাদের জন্য তিনি কার্য করে থাকেন তাদেরই কাছ থেকে নানা প্রকার সমালোচনা এবং আঘাত সহ্য করতে হয়। ভগবানের সর্বশ্রেষ্ঠ ভক্ত গোপীরা পর্যন্ত ব্রহ্মার সমালোচনা করেছিলেন। গোপিকারা ব্রহ্মাজীর কার্যে অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন, কেননা এই বিশেষ ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি কর্তারূপে তিনি তাদের চোখের পলক সৃষ্টি করেছিলেন, যার ফলে তাঁরা শ্রীকৃষ্ণের দর্শনে বাঁধা প্রাপ্ত হয়েছিলেন। তাঁরা এক পলকের জন্যও তাঁদের প্রিয়তম শ্রীকৃষ্ণের অদর্শন সহ্য করতে পারেননি। আর দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সমস্ত কার্যেই যাদের সমালোচনা করা স্বভাব, তাদের সম্বন্ধে আর কি বলার আছে? তেমনই মহারাজ যুধিষ্ঠিরকে তাঁর শত্রুদের দ্বারা সৃষ্ট বহু কষ্টদায়ক পরিস্থিতি অতিক্রম করতে হয়েছিল এবং সমস্ত পরিস্থিতিতেই তিনি তাঁর মানসিক সাম্যতা পূর্ণরূপে বজায় রেখেছিলেন। তাই মানসিক সাম্যতার ব্যাপারে উভয় পিতামহের দৃষ্টান্তই উপযুক্ত হয়েছে।

দেবাদিদেব মহাদেব যাচকদের ঈপ্সিত বরদানের জন্য বিখ্যাত। তাই তার আর এক নাম আশুতোষ, অর্থাৎ যিনি অতি সহজেই সন্তুষ্ট হন। তাঁকে ভূতনাথও বলা হয়, অর্থাৎ তিনি হচ্ছেন সাধারণ মানুষের প্রভু, যারা তাঁর প্রতি প্রধানত তাঁর উদার দানের জন্যই আকৃষ্ট। মহাদেব ফলাফলের বিবেচনা না করেই বর দান করেন। রাবণ মহাদেবের প্রতি অত্যন্ত আসক্ত ছিল, এবং অনায়াসে তাঁকে সন্তুষ্ট করে রাবণ এত শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল যে সে ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের বিরোধিতা পর্যন্ত করেছিল। অবশ্য রাবণ যখন দেবাদিদেব মহাদেবের প্রভূ, পরমেশ্বর ভগবান পর্যন্ত করেছিল। অবশ্য রাবণ যখন দেবাদিদেব মহাদেবের প্রভূ, পরমেশ্বর ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিল, তখন মহাদেব তাকে সাহায্য করেননি। মহাদেব বৃকাসুরকে এমন একটি বর দান করেছিলেন যা কেবল বিপজ্জনকই ছিল না, তা ছিল অত্যন্ত উৎপাতজনকও। মহাদেবের কৃপায় বৃকাসুর এমন শক্তি লাভ করেছিল যে সে কারো মাথায় হাত দিয়ে স্পর্শ করলেই ব্যক্তিটি তৎক্ষণাৎ ভস্ম হয়ে যেত। যদিও মহাদেব তাকে এই বরটি দেন, তথাপি সেই চতুর অসুর মহাদেবের মস্তক স্পর্শ করে তার সেই শক্তির পরীক্ষা করে দেখতে চেয়েছিল। সেই বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তখন মহাদেবকে শ্রীবিষু্র শরণাগত হতে হয়, এবং শ্রীবিষু তাঁর মায়াশক্তির দ্বারা বৃকাসুরকে বিমোহিত করে তার নিজের মস্তক স্পর্শপূর্বক তা পরীক্ষা করে দেখতে বলেছিলেন। সে তা করেছিল এবং তৎক্ষণাৎ বিনাশশ্রাপ্ত হয়েছিল। এইভাবে দেবতাদের কাছে বর প্রার্থী এক চতুর যাচকের উপদ্রব থেকে পৃথিবী রক্ষা পেয়েছিল। আসল কথা হচ্ছে যে শিব কখনও কাউকে বর দান করতে অস্বীকার করেন না। তাই তিনি হচ্ছেন সব চাইতে উদার, যদিও তার ফলে কখনো কখনো তিনি ভুলও করে থাকেন। 

রমা মানে হচ্ছে লক্ষ্মী দেবী। আর তাঁর আশ্রয় হচ্ছেন ভগবান শ্রীবিষ্ণু। ভগবান বিষ্ণু সমস্ত জীবের পালক। অসংখ্য জীব রয়েছে, কেবল এই পৃথিবীপৃষ্ঠেই নয়, অন্যান্য শত-সহস্র লোকেও। আত্মজ্ঞান লাভের পথে অগ্রসর হওয়ার জন্য তাদের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়। কিন্তু তারা যদি ইন্দ্রিয়-তৃপ্তি সাধনের পথে চলতে চায়, তা হলে তাদের নানা রকম দুঃখ-দুর্দশার সম্মুখীন হতে হয়। এই সমস্ত দুঃখ-দুর্দশার সৃষ্টি করেন ভগবানের মায়াশক্তি এবং তখন তারা অর্থনৈতিক উন্নতি সাধনের ভ্রান্ত পরিকল্পনার মার্গে বিচরণ করে। এই সমস্ত অর্থনৈতিক উন্নতি কখনই সফল হয় না, কেননা তা মায়িক। এই সমস্ত মানুষেরা সর্বদাই মায়ালক্ষ্মীর কৃপার প্রত্যাশী, কিন্ত তারা জানে না যে লক্ষ্মীদেবী কেবল বিষ্ণুর আশ্রয়েই থাকেন। বিষ্ণু ব্যতীত লক্ষ্মীদেবী হচ্ছেন মায়া। তাই সরাসরিভাবে লক্ষ্মীদেবীর কৃপার প্রত্যাশা না করে কেবল বিষ্ণুর আশ্রয় গ্রহণ করাই উচিত। শ্রীবিষ্ণু এবং বৈষ্ণবেরাই কেবল সকলকে আশ্রয় প্রদান করতে পারেন; এবং যেহেতু ভগবান শ্রীবিষ্ণু মহারাজ পরীক্ষিতকে রক্ষা করেছিলেন, তাই যারা তাঁর শাসনের অধীনে থাকতে চেয়েছিল তাদের সর্বতভাবে রক্ষা করা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল।

***

জয়পতাকা স্বামী:-  আমরা দেখছি যে দীর্ঘকাল ধরে যুধিষ্ঠির মহারাজ তাঁর পরবর্তী রাজার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানতে চাইছিলেন। গত সপ্তাহেও, আমার মনে হয় তারা জ্যোতিষীদের সাথে আলাপ-আলোচনা করছিলেন, এখনও সে জিজ্ঞেস করছেন। তো তিনি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিলেন যে পরীক্ষিত মহারাজ কেমন হবেন, তাঁর গুণাবলী কেমন হবে এবং তিনি তাদের বংশের মর্যাদা রাখতে পারবেন কিনা। যে উদাহরণ দিয়েছেন সব পারমার্থিক মূল্যবান উদাহরণ। দৃষ্টান্ত দেওয়া হয়েছে যে তাঁর ব্রহ্মা দেব বা যুধিষ্ঠির মহারাজের মতো সাম্যতা থাকবে এবং দেবাদিদেব শিবের মতো মহান হবেন এবং যেমন নারায়ণ সমগ্র সৃষ্টির পালন-পোষণ করেন, তেমনি তিনিও তার প্রজাদের দেখ ভাল করবেন। এগুলি অত্যন্ত সুন্দর দৃষ্টান্ত।

আজকে হচ্ছে বাসু ঘোষের তিরোভাব তিথি। তিনি ছিলেন এক বিশেষ ভক্ত। তারা তিনজন ভ্রাতাই ছিলেন চৈতন্য মহাপ্রভুর শুদ্ধ ভক্ত — গোবিন্দ ঘোষ, মাধব ঘোষ এবং বাসু ঘোষ। বাসু ঘোষ একটি ভজন লিখেছিলেন, “যদি গৌর না হইত তবে কি হইত?” সেটি আমাকেযদি প্রভুপাদ না হইত তবে কি হইত?” ভজনটি লেখার অনুপ্রেরণা দিয়েছিল। যদি প্রভুপাদ না হতেন তাহলে কি হত। এই বাসুঘোষ তিনি শ্রীবিগ্রহের সামনে একটি সমাধি স্থান খনন করেছিলেন, এবং তিনি সেটির মধ্যে প্রবেশ করে তার শিষ্যদের বললেন, “আমাকে জীবন্ত অবস্থায় মাটি দিয়ে ঢেকে দাও।ঠাকুর কথা বলছিলেন যে, “তুমি তোমার শরীর দিয়েছ আমাকে, তুমি আত্মহত্যা করতে পারো না!তিনি কত শুদ্ধ ছিলেন যে শ্রীবিগ্রহ তাকে এই কথা বললেন! যখন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু অপ্রকট হয়েছিলেন তখন তিনি কতই না বিরহ অনুভব করছিলেন। যাই হোক, আজকে ওঁনার তিরোভাব তিথি এবং আমরা আমাদের সশ্রদ্ধ প্রণাম নিবেদন করি।  

আমরা দেখতে পাই যে যুধিষ্ঠির মহারাজের কাছে এই শিশুর ভবিষ্যৎ গুনাবলী সম্পর্কে জানা কত গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে আমাদের গৃহস্থ ভক্তদের সন্তানেরা হচ্ছে তাদের গৃহস্থ জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ষড় গোস্বামীগণের গোপাল ভট্ট গোস্বামী সৎ-ক্রিয়া-সার দীপিকা গ্রন্থটি লিখেছেন। সেই গ্রন্থে গর্ভাধান সংস্কার সম্পর্কে বলা আছে। এটি কত গুরুত্বপূর্ণ! ষড় গোস্বামীদের একজন যিনি বাবাজি, পরমহংস, তিনি সেই গ্রন্থ লিখেছেন। প্রভুপাদও বলেছেন যে গৃহস্থদের অধিক নাম জপ করা উচিত এবং শ্রীবিগ্রহের কাছে প্রার্থনা করা উচিত। এই সম্পর্কতে কেবল অল্প সময় লাগে, কিন্তু তখন কোন ব্যক্তির চেতনা কেমন থাকে সেই মতো সন্তান হবে। আমরা দেখি যে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক মুহূর্তের জন্য সম্পর্ক এবং তার ফলে যে সন্তান হয় তা সারা জীবনের মতো। তাই, ঠিক যেমন যুধিষ্ঠির মহারাজ জানতে চেয়েছিলেন যে এই শিশু কেমন হবে, তেমনি আমাদের গৃহস্থদেরও এই বিষয়ে কিছুটা ভাবনাময় হওয়া উচিত যে তাদের যাতে কৃষ্ণচেতনাময়, দীর্ঘজীবী পুত্র ও কন্যা সন্তান হয়।  

গতকাল ছিল বিশেষ গোবর্ধন পূজা। গোবর্ধন পূজা একটা বিশেষ উৎসব। অনেক জিনিস হয়েছিল এই গোবর্ধন পূজাতে। আমি বলতে চাইছিআমার মনে পড়ে যে গোবর্ধন পূজোর দিনে প্রসাদ বিতরণের পর শ্রীল প্রভুপাদ চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পান এবং তিনি জানতে চাইছিলেন যে কি হচ্ছে। তখন কেবল পদ্ম ভবন ছিল এবং তিনি পদ্ম ভবনের বারান্দায় গিয়ে দেখছেন যে কি হচ্ছে। এবং সেখানে অনেক কলাপাতা জমা হয়েছিল যেখানে লোকেদের উচ্ছিষ্ট ফেলা হয়েছিল। সাধারণত মানুষেরা সব প্রসাদ পেয়ে নেয়, কিন্তু কিছু মানুষেরা পুরো প্রসাদ পেয়েছিল না। সেখানে গ্রামের কিছু শিশু ছিল যারা সেই উচ্ছিষ্ট প্রসাদ খাচ্ছিল। কুকুররাও সেই প্রসাদ খেতে চাইছিল, তখন কুকুররা চিৎকার করছিল, আর সেই ছেলেগুলো ছড়ি নিয়ে সেই কুকুরদের তাড়ানোর চেষ্টা করছিল। এক হাত দিয়ে তারা তাদের লাঠি দিয়ে কুকুরদের তাড়ানোর চেষ্টা করছিল, আর আরেক হাত দিয়ে তারা সেই উচ্ছিষ্ট প্রসাদ খাচ্ছিল। যখন শ্রীলো প্রভুপাদ এই দৃশ্য দেখলেন তখন তিনি কাঁদতে শুরু করলেন। তারা কতই না ক্ষুধার্ত হবে! তারা কতই না ক্ষুদার্ত! কৃষ্ণ হচ্ছেন পরম পিতা এবং পিতার সামনে তাঁর শিশু ক্ষুধার্ত হয় না।  তখন শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে, “আমাদের মন্দিরের দশ মাইলের মধ্যে থাকা কোন ব্যক্তিরই ক্ষুধার্ত থাকা উচিত নয়। কৃষ্ণ হচ্ছেন পরম পিতা, তাই প্রত্যেকের ক্ষুধা নিবারণ হওয়া উচিত।সেই দিন যারা আসত তাদের প্রত্যেককে আমরা সপ্তাহে দুই দিন করে বিনামূল্যে প্রসাদ দিতাম। জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে দেওয়া হত। এবং আমরা তা এখনও করছি। এটি গোবর্ধন পূজার দিনে হয়েছিল। 

আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে বৃন্দাবনে। গোবর্ধন পূজা এক এক-দু দিনের মধ্যে হওয়ার কথা ছিল, শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে, “আমাকে বলদের গাড়ি করে গোবর্ধনের চারিদিকে পরিক্রমায় নিয়ে চলো।কিন্তু যে কবিরাজ ছিলেন, তিনি বললেন যে, “এটা হলে উনি বাঁচবেন না।প্রভুপাদ বললেন, “আমি হচ্ছি প্রচারক, ভালোভাবে আমার প্রচারের সময়ই মৃত্যু হোক।এবং কিছু ভক্তরা ছিল প্রভুপাদকে পরিক্রমায় নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন।  এবং আমরা অনুভব করছিলাম যে শ্রীল প্রভুপাদ যেহেতু তিনি ভালো হচ্ছেন, তাই তাঁর এমন ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়।  এবং কিছু শিষ্যরা কেঁদে কেঁদে বলছিল, “শ্রীল প্রভুপাদ, দয়া করে যাবেন না!আর অন্যান্যরা শ্রীল প্রভুপাদকে গোবর্ধন পরিক্রমায় নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। তখন সেখানে তাঁর গুরুভ্রাতা কৃষ্ণদাস বাবাজি ছিলেন।  শ্রীল প্রভুপাদ তাঁকে বলেছিলেন, “দেখো আমার শিষ্যরা আমাকে কত ভালবাসে!এটিও গোবর্ধন পূজার কিছু আগেই ঘটেছিল। গতকাল গোবর্ধন পূজায় আমি বিভিন্ন মন্দির দর্শন করছিলাম এবং মন্দির ছাড়াও অনেক গৃহস্থ বাড়িতে ছিল। অবশ্য আমি যদিও অনলাইনে দর্শন করেছি, আমরা দেখছিলাম যে কিভাবে বিভিন্ন ভক্তরা বিভিন্ন সুন্দর গোবর্ধন পর্বত তৈরি করেছিল। এবং বিশাখাপত্তনামে তারা গাভীর গোবর দিয়ে কৃষ্ণ তৈরি করেছিল। এবং তিনি উপরে গোবর্ধন পর্বত ধরেছিলেন। এবং বিভিন্ন গৃহস্থরা সেখানে ভোগ নিবেদনের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেছিলেন। কোন কোন স্থানে তারা ৫৬ ভোগ নিবেদন করেছিলেন, কোন কোন স্থানে তারা ১০৮ ভোগ নিবেদন করেছিলেন, আবার কোন কোন স্থানে হাজারেরও অধিক ভোগ নিবেদিত হয়েছিল।  মায়াপুর ধামে এক বিশাল অন্নকূট উত্সব হয়েছিল।  আমি মায়াপুর ধামের মত এত বড় অন্নকূট আর অন্য স্থানে দেখিনি। এবং সবাই তাতে অংশগ্রহণ করেছিল, কেউ কেউ পুরো বৃন্দাবন পুরো গোবর্ধন বানিয়েছিল। গোবর্ধনের একদিকে ছিল রাধা কুণ্ড, শ্যাম কুণ্ড এবং অন্যদিকে ছিল মানসী গঙ্গা। কেউ কেউ তার ওপর বাঁদর এবং গাভীর ছোট ছোট খেলনা রেখেছিল। এবং কোন কোন স্থানে তারা কৃষ্ণলীলার নাটক মঞ্চস্থ করেছিল। এইভাবে কত ভক্তির অঙ্গ প্রকাশ করেছে; তাদের নাটকের মাধ্যমে শ্রবণ, কীর্তন এবং মহিমা বর্ণন; স্মরণের মাধ্যমে তারা গোবর্ধনে কৃষ্ণলীলা করেছিল; পাদসেবনং এবং অর্চনং এর মাধ্যমে তারা গোবর্ধনের শ্রীবিগ্রহ পূজা করেছিল; তারা গোবর্ধন পরিক্রমা করে তাদের প্রণাম নিবেদন করেছিল, যা হচ্ছে বন্দনং; এইভাবে আমি দেখলাম যে অনেক ভক্তরা গোবর্ধন পূজায় অংশগ্রহণ করেছিল। এবং যেমন বৃন্দাবনে এটি অনেক বিশাল ভাবে উদযাপিত হয়েছিল এবং কিছু কিছু স্থানে সাধারণভাবে উদযাপিত হয়েছে। কিন্তু সব স্থানেই গোষ্ঠীর অনেক ভক্তরাই অংশগ্রহণ করেছিল। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে সব ভক্তরা এতে এমনভাবে অংশগ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়াতে আমরা দেখেছি যে অনেক ভক্তরা এই গোবর্ধন পূজায় অংশগ্রহণ করেছিল। যেহেতু এটি কাজের দিন ছিল, তাই কেউ কেউ সন্ধ্যায় উদযাপন করেছিল ও কেউ কেউ সকালে উদযাপন করেছিল। কেউ কেউ অন্নের পর্বত তৈরি করেছিল, আবার কেউ কেউ হালুয়ার পাহাড় তৈরি করেছিল। হালুয়াকূট! হা! হা! হা! 

যাইহোক, আমরা দেখি যে ভক্তিমূলক সেবা কত আনন্দময়। এই জড় জগতে আমাদের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ আছে। কিন্তু আধ্যাত্মিক জগতে তা নেই, তা নিত্য বর্তমান।  সেখানে কেউ বৃদ্ধ হয় না, কেউ জরা-ব্যাধিগ্রস্থ হয় না, কেউ মারা যায় না। এইভাবে যদি সারাজীবন গোবর্ধন পূজোর মতো কৃষ্ণের সেবার মধ্যে থাকি, তাহলে তারপরে আমরা ভগবানের কাছে ফিরে যেতে পারি। যুধিষ্ঠির মহারাজ জানতে চেয়েছিলেন যে এই শিশু কেমন হবে, তাই একইভাবে আমাদেরও নিজেদের সন্তানদের কৃষ্ণভাবনামৃতে যতটা সম্ভব আনন্দে থাকার প্রশিক্ষণ প্রদানের চেষ্টা করা উচিত। কেউ কেউ সন্তান চায়, কিন্তু তারা সন্তান পায় না, সেক্ষেত্রে তাদের অন্যান্যদেরকে কৃষ্ণভাবনামৃতের জ্ঞান প্রদান করার চেষ্টা করা উচিত। অন্য ক্ষেত্রে, কিছু গৃহস্থরা তারা সন্তান চায় না, কিন্তু সন্তান হয়, এবং তার ফলে তারা তাদের সন্তানদের ভালোভাবে যত্ন নেয় না, এই কারণে সেই সন্তানদের বলা হয় বর্ণ-সংকর। যাই হোক, ভক্ত হিসেবে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের যত্ন নেওয়া উচিত, যেমন যুধিষ্ঠির মহারাজ তাঁর পুত্র সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন।  কেউ একজন একটি গ্রন্থ লিখেছেন যে একটি শিশুকে মানুষ করতে পুরো গ্রাম লেগে যায়, তাই আমরা সকলেই শিশুদেরকে কৃষ্ণচেতনাময় হতে সহায়তা প্রদান করার বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে চাই।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 9/9/23
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions