Text Size

২০২১১০৩০ শ্রীমদ্ভাগবতম ১.১২.১৮

30 Oct 2021|Duration: 00:51:57|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ 

ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
    ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
    ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!

শ্রীমদ্ভাগবতম ১/১২/১৮
শ্রীরাজোবাচ
অপ্যেষ বংশ্যান্‌ রাজর্ষীন্‌ পুণ্যশ্লোকান্‌ মহাত্মনঃ।
অনুবর্তিতা স্বিদ্যশসা সাধুবাদেন সত্তমাঃ ॥ 

অনুবাদ:- (ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির) জিজ্ঞাসা করলেন, হে মহাত্মাগণ, এই নবজাত কুমার কি প্রশংসা ও সৎ কীর্তির দ্বারা আমাদের বংশের পবিত্রকীর্তি মহামান্য রাজর্ষিদের অনুসরণ করতে পারবে?

 

তাৎপর্য:- মহারাজ যুধিষ্ঠিরের পূর্বপুরুষরা তাদের মহান কার্যকলাপের প্রভাবে সকলেই ছিলেন যশস্বী এবং পুণ্যবান রাজর্ষি। তাঁরা সকলেই ছিলেন রাজসিংহাসনে অধিষ্ঠিত খষি, এবং তাই রাজ্যের সমস্ত সদস্যরা ছিলেন সুখী, পুণ্যবান, সদাচারী, সমৃদ্ধিশালী এবং পারমার্থিক জ্ঞানের আলোকে উদ্ভাসিত। এই প্রকার মহান রাজর্ষিগণ মহাত্মাদের কঠোর তত্ত্বাবধানে ও শাস্ত্রের নির্দেশ অনুসারে প্রশিক্ষিত হতেন, এবং তার ফলে তাদের রাজ্য ছিল সাধুপুরুষে পূর্ণ পারমার্থিক জীবন-যাপনের এক সুখকর স্থান। মহারাজ যুধিষ্ঠির স্বয়ং তাঁর পূর্বপুরুষদের প্রতিমূর্তি ছিলেন, এবং তাঁর অভিলাষ ছিল যে তাঁর পরবর্তী রাজাও যেন তাঁর মহান পূর্বপুরুষদের অনুরূপ হন। পণ্ডিত ব্রাহ্মণদের কাছে তিনি এটি জেনে অত্যন্ত প্রসন্ন হয়েছিলেন যে জ্যোতিষ গণনা অনুসারে নবজাত শিশুটি মহাভাগবত হবেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে জানতে চেয়েছিলেন বালকটি তাঁর মহান পূর্বপুরুষদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন কি না। এটি রাজতন্ত্রের ধারা। রাজাকে পুণ্যবান, বীর ভগবদ্ভক্ত হতে হয়, এবং দুষ্কৃতকারীদের কাছে তাঁকে মূর্তিমান ভয়ের মতো হওয়া উচিত। নিরীহ জন-সাধারণের শাসনের জন্য সমান যোগ্যতা সম্পন্ন উত্তরাধিকারীকে রেখে যাওয়া তাঁর অবশ্য কর্তব্য। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাজ্যগুলিতে জনসাধারণ শূদ্র বা শূদ্রাধমে পরিণত হয়েছে, এবং তাদের যে প্রতিনিধি রাষ্ট্র পরিচালনা করছে, তাদের কারোরই রাজ্য শাসনের ব্যাপারে কোনরকম শাস্ত্রজ্ঞান নেই। তার ফলে সমস্ত পরিবেশ কাম এবং লোভে পূর্ণ শূদ্রোচিত মনোভাবের দ্বারা পরিব্যাপ্ত। এই প্রকার নেতারা প্রতিদিন নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করে, দলের অথবা গোষ্ঠীর স্বার্থে প্রায়ই মন্ত্রীমণ্ডলীর পরিবর্তন হয়। সকলেই মৃত্যু পর্যন্ত রাজ্যের সম্পদ শোষণ করতে চায়। জোর করে গদিচ্যুত না করা পর্যন্ত কেউই রাজনৈতিক জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করতে চায় না। এই প্রকার নিম্নস্তরের মানুষেরা কিভাবে জনসাধারণের কল্যাণ সাধন করতে পারে? তার ফলে যাদের হাতে ক্ষমতা রয়েছে তারা ঘুষ নেয়, ষড়যন্ত্র করে এবং মিথ্যাচার করে। তাদের বিভিন্ন পদে দায়িত্বভার প্রদান করার পূর্বে শ্রীমদ্ভাগবত থেকে শিক্ষা দেওয়া উচিত কিভাবে আদর্শ প্রশাসক হতে হয়।

***

জয়পতাকা স্বামী:-  আমরা দেখতে পারছি যে যুধিষ্ঠির মহারাজ অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এই বিষয়টি জানার জন্য যে পরবর্তী রাজার তাঁর পূর্বপুরুষদের মত এই একই মহান গুণাবলী থাকবে কিনা। তখনকার দিনে তারা শিশুর জ্যোতিষ গণনা অনুসারে ভবিষ্যৎবাণী করতেন। শ্রীল প্রভুপাদ এই রাজতন্ত্র সম্পর্কে অনেক বর্ণনা দিয়েছেন। পূর্বে যেসব রাজা ছিল, তাঁরা রাজঋষির মতো গুণবান ব্যক্তি ছিলেন। ওই তুলনা এবং বর্তমানের তুলনা তিনি করলেন। তখনকার দিনে রাজাদেরকে পূণ্যবান হতে হত ও ব্রাহ্মণ্য সংস্কৃতি অনুসারে প্রশিক্ষিত করা হত। যখন ব্রাহ্মণের মধ্যে অসুবিধা ছিল, তখন ক্ষত্রিয়ের মধ্যে অসুবিধা হয়েছিল। এবং ফলস্বরূপ বর্তমানে আমাদের গণতন্ত্র ব্যবস্থা হয়েছে। এই কারণে প্রভুপাদ বলেছেন যে যদি মানুষেরা পুণ্যবান হয়, তাহলে তারা পুন্যবাণ প্রতিনিধিকে নির্বাচন করবে। শ্রীল প্রভুপাদ উল্লেখ করেছেন যে, ভক্তরা রাজনৈতিক পদ লাভের প্রতি আগ্রহী নয়। তাই সেই সব একই রাজনীতিবিদদের তাদের কাজ করতে দেওয়া হোক, কিন্তু তাদের কৃষ্ণভাবনামৃতের শিক্ষা লাভ করা উচিত। আমার মনে পড়ে যে আমরা ব্যাঙ্গালোরের রথযাত্রার ছিলাম, সেই মন্দিরের অধ্যক্ষ বলেছিলেন যে কিভাবে রাজা প্রতাপরুদ্র জগন্নাথের রথের সামনে ঝাড়ু দিতেন, “তাই আমি উপরাষ্ট্রপতিকে ঝাড়ু দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।” তখন সেই উপরাষ্ট্রপতি বললেন যে, “এখন আমাদের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, তাই এখন আর কোন রাজাকে অনুসরণ করি না। তাই আমি রাজার পথ অনুসরণ করে জগন্নাথের সামনে ঝাড়ু দেওয়ার এই প্রথাকে প্রত্যাখ্যান করি।” তখন আমি মাইক নিলাম, বলেছি, “আমরা এখন গণতন্ত্র, তাই এখন লোক হচ্ছে রাজা। রথ ঝাড়ু দেওয়ার জন্য প্রতিনিধি যায়, তাই আমি সকল ব্যক্তিদের জগন্নাথের সামনে রাস্তা ঝাড়ু দেওয়ার অনুরোধ জানাই। যেহেতু উপরাষ্ট্রপতি হচ্ছে মানুষদের নেতা, তাই প্রথমে তিনি ঝাড়ু দিতে পারেন।তখন তিনি সেই ঝাড়ু নিয়ে এক মুহূর্তের জন্য রাস্তা ঝাড় দিলেন। তাই আমাদের বর্তমান নেত্রীরা ভগবানের ভক্ত হওয়ার জন্য প্রশিক্ষিত নয়।

এখন বর্তমান আমাদের গৃহস্থ ভক্ত তারা গর্ভধান সংস্কার যদি করে, সুসন্তান যদি হয়। যুধিষ্ঠির মহারাজ তিনি রাজা ছিলেন এবং তিনি জানতে চেয়েছেন যে পরে রাজা যে হবে, সে কি গুণ হবে? এখন গৃহস্থদের আগ্রহী হওয়া উচিত যে তাদের ভক্ত সন্তান থাকা উচিত। ঠিক যেমন যুধিষ্ঠির মহারাজ, তিনি জ্যোতিষীদের এই পুত্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছিলেন। যখন চৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাব হয়েছিল, তখন তার পিতা তার ঠাকুরদা নীলাম্বর চক্রবর্তীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন এবং নিলাম্বর চক্রবর্তী ছিলেন এক মহান জ্যোতিষী, তাই তখন তিনি গণনা করে বলেছিলেন, “তোমার পুত্র সমগ্র বিশ্বের ভার গ্রহণ করবে, তাই তাঁর নাম বিশ্বম্ভর হওয়া উচিত।”, যেহেতু তিনি নিম গাছের তলায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন বলে সেখানকার মহিলারা তারা তাঁকে নিমাই বলে ডাকতে চেয়েছিলেন। তখন নীলাম্বর চক্রবর্তীর একটি মীমাংসা করলেন এবং বললেন যে তাঁর বাড়ির নাম হবে নিমাই এবং ভালো নাম হবে বিশ্বম্ভর। তাই তিনি নিমাই পণ্ডিতরূপে পরিচিত ছিলেন, কিন্তু বিবাহের সময় ও অন্যান্য কর্ম সংক্রান্ত বিষয়ে বিশ্বম্ভর নামটি ব্যবহার হয়েছিল। কিন্তু এই সংস্কৃতি যে সন্তানের কি গুণাবলী হবে, তা এমনকি চৈতন্য মহাপ্রভুর সময়ও দেখা গিয়েছে। আমরা চাই, অভিভাবকদের তাদের নিজেদের যথাসাধ্য প্রয়াস করা উচিত যাতে তাদের কৃষ্ণ চেতনাময় সন্তান হয়। তাদের শ্রীবিগ্রহের কাছে প্রার্থনা করা উচিত, যাতে তাদের কৃষ্ণভাবনাময়, সুস্বাস্থ্যবান, দীর্ঘজীবী সুপুত্র হয়।

এখন পদ্মপুরাণে একটি ইতিহাস আছে যে একজন ব্রাহ্মণ ভীষণ গরিব ছিল এবং তার কোন সন্তান ছিল না। সে দূর দেশে চাকরি করতে চেয়েছে, পয়সা জোগাড় করতে চেয়েছে, এবং তার স্ত্রীর কাছে বলেছে, তখন স্ত্রী বলল, “অন্ততপক্ষে আমার একজন স্বামী আছে, কিন্তু এখন তুমি যদি দূরবর্তী কোনো স্থানে চলে যাও, তাহলে আমার স্বামীও থাকবে না।” তখন সে বলেছিল যে, “তোমার সন্তান না হওয়ার বিষয়ে এত বিচলিত হওয়া উচিত নয়। ৫ ধরনের সন্তান আছে — একটি হল কুকর্মের কারণে বাজে সন্তান লাভ (পূর্বজন্ম যদি তোমার ঋণ থাকে, তোমার কাছে যারা টাকা পাবে, তোমার সন্তান হয়ে জন্মায়, তারা কেবল চায় আর চায়) এছাড়াও আরেক ধরনের সন্তান হচ্ছে শত্রু (সে জন্মগ্রহণ করে কেবল তোমাকে সমস্যায় ফেলার জন্য) অন্যটি হচ্ছে সুপুত্র (যে তোমার মৃত্যুর পর শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করে এবং সকল প্রকারের ভালো কর্ম করে, তাকে বলা হয় সুপুত্র।) পঞ্চম প্রকার হচ্ছে উদাসীন, (তিনি ভাল করে না খারাপ করেনা, কোন আগ্রহ নেই পরিবারের প্রতি। এই পাঁচ ধরনের সন্তানদের মধ্যে কেবল একপ্রকার হচ্ছে ভালো, তাই দুঃখিত হওয়ার কোন কারণ নেই। কিন্তু স্বামী তা শুনল না। যাইহোক, একটা ঋষি এসেছে কাছের গ্রামে গেলে তার কাছে জিজ্ঞেস করতে পার যে কেন তোমার সন্তান হয় না, তোমার টাকা নাই?” সেই পাশের গ্রামে বশিষ্ঠ মুনি ছিলেন এবং তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “আমি এত গরিব কেন? এবং কেন আমার কোন সন্তান নেই? তখন বশিষ্ঠ মুনি তিনি একজন যোগী, তাই তিনি ভবিষ্যৎ, পাশ্চাত, বর্তমান সবকিছু দেখতে পারতেন। তিনি বললেন, “পূর্বজন্মের তুমি ছিলে এক ধনী শূদ্র। কিন্তু তুমি কৃপন ছিলে, তুমি স্ত্রী পুত্র তাদের কাছে কোন টাকা পয়সা দেওনি। তারপর তোমার অকাল মৃত্যু হয় এবং তোমার সব অর্থ একটি গোপন স্থানে পোঁতা ছিল। তাই তোমার স্ত্রী এবং পুত্রকে অনেক দারিদ্রের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল, এই কারণে এই জীবনে তোমার অর্থ নেই এবং কোন সন্তান নেই।” সে বলল, “আমি কেন ব্রাহ্মণের জন্ম নিয়েছি এবং কেন আমার ভালো একটা স্ত্রী আছে?” বশিষ্ঠ মুনি বললেন, “বৈশাখ মাসে তুমি এক বৈষ্ণব অতিথির সেবা করেছিলে সেই কারণে।বৈশাখ, মাঘ এবং কার্তিক হচ্ছে পবিত্র মাস। এখন কার্তিক মাস চলছে, প্রদীপ নিবেদনের মাধ্যমে এবং দামোদর অনুষ্ঠানের প্রচারের মাধ্যমে আমরা সকল প্রকার সুফল লাভ করছি।  তারপরে বশিষ্ট মুনি বলছে যে, “এইভাবে ৩-৪ দিন তুমি ভাল কাজ করেছ পবিত্র মাসে, তাই তুমি ভালো জন্ম এবং স্ত্রী পেয়েছ।”  তখন সেই ব্রাহ্মণ বলল, “এই কুকর্ম প্রতিকারের জন্য আমি কি করতে পারি?” বশিষ্ট মুনি তাকে বললেন যে, “এখন এই পবিত্র মাসের ৭-৮ দিন বাকি আছে, তাই তুমি কোন ভক্তিমূলক সেবায় নিযুক্ত হতে পার।” সে তাই করেছিল এবং এর ফলে সন্তান, অর্থ সব কিছু পেয়েছিল। এছাড়া সে কৃষ্ণভাবনাময় হয়েছিল। যাইহোক, এখন কার্তিক দামোদরের পবিত্র মাস এবং কেবল ১১-১২ দিন অতিক্রান্ত হয়েছে, প্রতিদিন আমরা ভগবানকে প্রদীপ নিবেদন করি, যদি আপনি অন্য ব্যক্তিদের দিয়ে তা করাতে পারেন, তাহলে তা খুব ভালো হবে।

আমি শ্রীমদ্ভাগবতম পড়ছিলাম এবং আমি পড়লাম যে কিভাবে একজন রাজা, অভিভাবক ও গুরুকে দেখতে হবে যে তাদের প্রতি নির্ভরশীল ব্যক্তিরা, সন্তানরা এবং শিষ্যরা যাতে তাদের অনুসরণ করে। তখন আমি ভাবছিলাম যে গুরু হিসেবে আমার এই দায়িত্ব আছে যে আমার শিষ্যরা যাতে সব পালন করে। আমি একটা রিপোর্ট পেয়েছি যে আমার শিষ্য তিন বছর যাবৎ জপ করছে না, নিয়ম পালন করছে না, এইভাবে আমি জানিনা আর কত শিষ্যরা আছে, যার জন্য আমাকে কষ্ট পেতে হচ্ছে। আমাদের জয়পতাকা স্বামী শিষ্য প্রযত্ন সেবাকার্যালয় আছে, কিন্তু আমি শুনলাম যে আমরা কেবল ২০% ভক্তদের সাথে যোগাযোগ করতে পেরেছি, কারণ এখন বেশিরভাগের ইমেল, ফোন নাম্বার বৈধ নেই। আমাদের জয়পতাকা স্বামী শিষ্যসমূহ কার্যক্রম হয়, যার দ্বারা আমরা চাই শিষ্যরা যাতে অন্যান্য শিষ্যদের কৃষ্ণভাবনামৃত অনুশীলন করার ক্ষেত্রে সাহায্য করে। এইভাবে সবাই যাতে কৃষ্ণভাবনামৃত নিয়ম পালন করে। যাইহোক, আমরা দেখতে পারছি যে যুধিষ্ঠির মহারাজ একজন রাজা ছিলেন এবং তিনি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিলেন যাতে পরবর্তী রাজাও যথাযথ হন। আমার মনে হয় না আমার কোন শিষ্য রাজা, হয়ত একজন আফ্রিকান রাজা রয়েছে। তবে আমার অনেক গৃহস্ত শিষ্য রয়েছে, তাদের এই বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত যাতে তাদের সন্তানেরা ভালো ভক্ত হয়। এমনকি যদি কেউ আমার শিষ্য নাও হয়, তবুও সকল অভিভাবকদের দেখা উচিত যে তাদের সন্তানেরা যাতে ভক্ত হয়। এবং যে গুরুই হন না কেন, তারা যদি নিয়ম পালন না করে, তাহলে তারা গুরুকে সমস্যায় ফেলে। যেভাবে যুধিষ্ঠির মহারাজ জানতে চেয়েছেন যে পরীক্ষিত মহারাজ কিরম হবেন, সেভাবে পিতা মাতার চেষ্টা করা উচিত সন্তান যাতে ভক্ত হয়।

উত্তরা ছিলেন একজন শুদ্ধ ভক্ত, তিনি কৃষ্ণের কাছে গিয়েছিলেন এবং তিনি কৃষ্ণের সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন এবং তাঁর স্বামী ছিলেন অর্জুন এবং সুভদ্রা দেবীর পুত্র। তাই পুত্র হিসেবে তাঁর মধ্যে সুভদ্রা এবং অর্জুনের সকল ভালো গুণাবলী ছিল। এইভাবে শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে আমাদের কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনের তৃতীয় প্রজন্মের ভক্ত হওয়া উচিত, এমনকি যদি তাদের অভিভাবক, ঠাকুরদা ঠাকুমা পূর্ণরূপে যোগ্য না হলেও।  তবে পরীক্ষিত মহারাজের ক্ষেত্রে তার পিতা-মাতা, তার দাদু-ঠাকুমা সকলেই ছিলেন শুদ্ধভক্ত। অভিমন্যু উত্তরা তাঁরা সকলেই ছিলেন মহান ভক্ত এবং তাঁরা অত্যন্ত ভাগ্যবান জীবাত্মা ছিলেন, তাঁদের পরিবার ভালো ছিল এবং তারা ছিলেন ভালো ক্ষত্রিয়। তাই এখানে আর কোন প্রশ্ন থাকা উচিত নয়। প্রভুপাদ বলেছিলেন যে আমাদের কৃষ্ণভবনামৃত আন্দোলনে এমনকি অভিভাবকদের হয়ত এইসব স্বাভাবিক ব্রাহ্মণ্য গুণাবলী থাকতে নাও পারে, কিন্তু নিয়ম পালন করতে করতে তিন পুরুষ পর জন্ম দেবে ভালো সদ্ গুণের সাথে। যাইহোক, এটি খুব ভালো নির্দেশ যে আমরা দেখি কিভাবে যুধিষ্ঠির মহারাজ তিনি রাজবংশ বিষয়ে দেখতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে শিশুরা যারা আমাদের কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনে জন্মগ্রহণ করছে, তারা বৈকুন্ঠের শিশু, তারা কৃষ্ণের দ্বারা প্রেরিত হয়েছে এবং আমাদের খুব ভালোভাবে তাদের যত্ন গ্রহণ করা উচিত। কৃষ্ণ তাদেরকে পাঠিয়ে দিয়েছেন, তাই আমাদের অত্যন্ত সাবধান হওয়া উচিত। এখন আমরা দেখি যে অনেক শিশুরা তারা চিন্তা করছে যে কিভাবে কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনের প্রচার প্রসার করা যাবে। কিছুদিন আগে নরোত্তম দাস ঠাকুরের তিরোভাব তিথি ছিল, মায়াপুরে আমাদের একজন শিশু তার বাবাকে বলেছে যে, “আমাকে কি নরোত্তম দাস ঠাকুরের সমাধি স্থানটি দেখাবে?” বাবা বলল, “হ্যাঁ! চলো যাওয়া যাক।মায়াপুর থেকে দু-তিন ঘন্টা গাড়িতে করে যাত্রা। এটা গম্ভীলা, জিয়াগঞ্জ, মুর্শিদাবাদে অবস্থিত।

আজকে হচ্ছে বীরভদ্র প্রভুর আবির্ভাব তিথি। তিনি হচ্ছেন নিত্যানন্দ প্রভুর পুত্র। তিনি হচ্ছেন ক্ষীরদক্ষয়ী বিষ্ণুর অবতার। তিনি ছিলেন এক মহান প্রচারক। আসলে, একচক্র গ্রাম তাঁর নামে নামাঙ্কিত করে দেওয়া হয়েছে বীরচন্দ্রপুর। আমাদের সম্প্রদায়ের মহান গৌরবান্বিত প্রচারকদের ঐতিহ্য আছে। ঠিক যেমন যুধিষ্ঠির মহারাজ জানতে চেয়েছিলেন যে পরীক্ষিত মহারাজ ভালো রাজা হবেন নাকি, তেমনি আমাদের সন্তানেরা ভালো প্রচারক হবে কিনা এটি জানার জন্য আমাদেরও উদ্বিগ্নতা থাকা উচিৎ। 

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 30/8/23
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions