Text Size

২০২১১০২৩ শ্রীমদ্ভাগবতম ১.১২.৮-৯

23 Oct 2021|Duration: 00:51:35|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ 

ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
    ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
    ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!

শ্রীমদ্ভাগবতম ১/১২/৮-৯
শ্লোক ৮
অঙ্গুষ্ঠমাত্রমমলং স্ফুরৎপুরটমৌলিনম্‌ । 
অপীব্যদর্শনং শ্যামং তড়িদ্বাসসমচ্যুতম্‌ ॥

অনুবাদ:- তিনি (ভগবান) ছিলেন মাত্র অঙ্গুষ্ঠ পরিমাণ দীর্ঘ, কিন্তু সম্পূর্ণরূপে জড়াতীত। তাঁর অচ্যুত এবং অপূর্ব সুন্দর দেহটি ছিল ঘনশ্যাম বর্ণ। তাঁর পরনে তড়িৎ বর্ণ পীতবসন এবং মস্তকে উজ্জ্বল স্বর্ণমুকুট ছিল। এইভাবে শিশু পরীক্ষিৎ তাঁকে দর্শন করেছিলেন।

শ্লোক ৯
রীমদ্দীর্ঘচতুর্বাহুং তপ্তকাঞ্চনকুণ্ডলম্‌ । 
ক্ষতজাক্ষং গদাপাণিমাত্মনঃ সর্বতোদিশম্‌ । 
পরিভ্রমন্তমুল্কাভাং ভ্রাময়ন্তং গদাং মুহুঃ ॥ 

অনুবাদ:- ভগবান ছিলেন চতুর্ভজসম্পন্ন, তাঁর কর্ণে ছিল তপ্তকাঞ্চনের কুণ্ডল, এবং ক্রোধবশত তাঁর চক্ষু হয়েছিল আরক্তিম। তিনি যখন পরিভ্রমণ করছিলেন, তখন তার গদা উল্কার মতো নিরন্তর তাঁর চতুর্দিকে ঘুরছিল।

তাৎপর্য:- ব্রহ্ম-সংহিতায় (পঞ্চম অধ্যায়) বলা হয়েছে যে পরমেশ্বর ভগবান গোবিন্দ, তাঁর এক অংশের দ্বারা ব্রহ্মাণ্ডমণ্ডলে প্রবেশ করে পরমাত্মারূপে কেবল প্রতিটি জীবের হৃদয়েই নয়, অধিকন্তু জড় তত্ত্বের প্রতিটি পরমাণুতে পর্যন্ত প্রবিষ্ট হন। এইভাবে ভগবান তাঁর অচিন্ত শক্তির দ্বারা সর্বব্যাপ্ত, এবং এইভাবে তিনি তাঁর প্রিয়ভক্ত শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় (৯/৩১) ভগবান আশ্বাস দিয়েছেন যে, তাঁর ভক্তের কখনও বিনাশ হবে না। ভগবদ্ভক্তকে কেউ হত্যা করতে পারে না, কেননা ভগবান তাকে রক্ষা করেন। আর ভগবান যখন কাউকে হত্যা করতে চান, তখন কেউই তাকে রক্ষা করতে পারে না। ভগবান সর্বশক্তিমান, এবং তাই তাঁর ইচ্ছা অনুসারে তিনি রক্ষা করতে পারেন, আবার হত্যাও করতে পারেন। তিনি তাঁর ভক্ত মহারাজ পরীক্ষিতের সম্মুখে এক কঠিন পরিস্থিতিতে (তাঁর মাতৃজঠরে) তাঁর দৃষ্টিশক্তির উপযুক্ত রূপে প্রকট হয়েছিলেন। ভগবান হাজার হাজার ব্রহ্মাণ্ডের থেকে বড় হতে পারেন, আবার সেই সঙ্গে পরমাণুর থেকেও ক্ষুদ্র হতে পারেন। তিনি কৃপাময়, তাই তিনি সীমিত জীবের দৃষ্টিশক্তির উপযুক্ত রূপ ধারণ করেন। তিনি অসীম। আমাদের কোন গণনার দ্বারা তাঁকে মাপা যায় না। তিনি আমাদের কল্পনার থেকেও অধিক বৃহৎ হতে পারেন, আবার আমাদের ক্ষুদ্রতম ধারণার থেকেও ক্ষুদ্রতর হতে পারেন। কিন্তু সর্ব অবস্থাতেই তিনি সেই সর্বশক্তিমান ভগবান। উত্তরার গর্ভে অঙ্গুষ্ঠ পরিমাণ বিষুঃ এবং বৈকুণ্ঠ ধামবাসী পূর্ণ নারায়ণের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। তিনি তার অক্ষম ভক্তদের সেবা গ্রহণ করার জন্য অর্চা-বিগ্রহ রূপ ধারণ করেন। অর্চা-বিগ্রহের কৃপায় জড় জগতের সমস্ত ভক্ত অনায়াসেই ভগবানের সমীপবর্তী হতে পারেন, যদিও তিনি জড় ইন্দ্রিয়ের অগোচর। অতএব প্রাকৃত ভক্তদের গোচরীভূত হওয়ার জন্য অর্চা-বিগ্রহ হচ্ছেন ভগবানের পূর্ণ চিন্ময় স্বরূপ। ভগবানের এই অর্চা-বিগ্রহকে কখনও জড় বলে মনে করা উচিত নয়। যদিও বদ্ধ-জীবের কাছে জড় এবং চেতনের মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে, তথাপি ভগবানের কাছে তার কোন পার্থক্য নেই। ভগবানের কাছে সবকিছুই চিন্ময়, এবং তেমনই ভগবানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে যুক্ত শুদ্ধ ভক্তের কাছেও সবকিছুই চিন্ময়।

***

জয়পতাকা স্বামী:- সাধারণত ব্রহ্মাস্ত্র অস্ত্র অদমনীয় কিন্তু কৃষ্ণ হচ্ছেন অনন্ত। তাই তিনি উত্তরার গর্ভে ছোটা অঙ্গুষ্ঠাকারে আবির্ভূত হয়েছিলেন ও তাঁর গদার দ্বারা পরীক্ষিত মহারাজের ভ্রুণ রক্ষা করেছিলেন। এবং তিনি দৃশ্যমান ছিলেন পরীক্ষিত মহারাজের কাছে, এই সারা জীবন উনি কৃষ্ণকে দেখার জন্য সবাইকে পরীক্ষা করেছিল। এই কারণে তিনি নাম পেয়েছিলেন পরীক্ষিত মহারাজ। এখানে আমরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কিছু তত্ত্ব সম্পর্কে কিছু শিক্ষণীয় বিষয় পাচ্ছি। তিনি যুগোপৎভাবে প্রত্যেক অনুর মধ্যে থাকেন এবং যদি তিনি চান, তাহলে তিনি এমনকি কল্পনাতীতভাবে বিশাল হতে পারেন। যেভাবে থাকবেন একই পরমেশ্বর ভগবান, অসীম শক্তিমান। এই কলিযুগে অনেক তথাকথিত অবতার আছে, বলে যে তারা ভগবান। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ভগবানের লক্ষণ দেখাতে পারে না।

যখন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বিষ্ণুর সহস্রনাম শুনেছিলেন। যখন বরাহ দেবের নাম এসেছিল, তখন তিনি তাঁর চারটি ক্ষুর প্রকাশ করেছিলেন এবং তিনি একটি বরাহের মত চারিদিকে দৌড়াচ্ছিলেন। যদি কেউ বলে আমি ভগবান, ঠিক আছে ক্ষুর দেখাও। চৈতন্য মহাপ্রভুর তিনি বিভিন্ন লীলা করেছিলেন, যখন তিনি নরসিংহদেবের নাম শ্রবণ করেছিলেন, তখন তিনি রাস্তায় একটি লাঠি নিয়ে দৌড়ে গেছিলেন, তিনি বলতেন, “অসুর কোথায়? অসুর কোথায় মারব!” মায়াপুরে আমাদের নরসিংহদের এই মনোভাবের যে, “কোথায় সেই অসুর যে আমার প্রিয় ভক্ত প্রহ্লাদকে নির্যাতন করতে চায়?” এইভাবে চৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর বিভিন্ন লীলা প্রকাশ করেছিলেন। যখন একজন শিব ভক্ত দেবাদিদেব শিবের মহিমা বর্ণনা করছিল, তখন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু সেই ভক্তকে তাঁর কাঁধে নিয়ে নৃত্য করতে শুরু করেছিলেন। চৈতন্য মহাপ্রভুর তিনি বিভিন্ন অবতারের লক্ষণ প্রকাশিত করতেন। মামু ঠাকুর বাড়িতে নাটক করেছিলেন, তখন তিনি বলরামের লীলা করলেন, তখন প্রত্যেকে বাতাসে বারুনীর সুগন্ধ পাচ্ছিলেন। তারপর চৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর বলরাম রূপ প্রকাশ করেছিলেন। সেই লীলাতে চৈতন্য মহাপ্রভু লক্ষ্মী দেবী বা রাধার অভিনয় করেছিলেন, আর এমনকি তাঁর মাতা শচী দেবীও তাঁকে চিনতে পারেন নি। তিনি সেই লীলাটি তাঁর শক্তি হিসেবে প্রকাশিত করেছিলেন। উনি এইভাবে আঙ্গুলের পরিমাণে উত্তরার গর্ভের মধ্যে পরীক্ষিত মহারাজকে রক্ষা করলেন, এটা  আশ্চর্যের কিছু নয়। তিনি সবকিছুই করতে পারেন, এই কারণে আমরা বিশেষত তাঁর শ্রীপাদপদ্মে প্রার্থনা করি যে তিনি যাতে বাংলাদেশের ভক্তদের রক্ষা করেন। 

গতরাত্রে আমি চৌমহনি বাংলাদেশের ভক্তদের দেখেছিলাম এবং এটি ছিল খুবই মর্মস্পর্শী। দুজন ভক্তরা তাদের জীবন হারিয়েছেন, তাদের পিতা-মাতা সেখানে ছিলেন। এবং একজন ছিলেন গোষ্ঠীর সদস্য, তিনি মন্দিরে আসতেন, তিনি শ্রীল প্রভুপাদের মূর্তি রক্ষা করতে গিয়েছিলেন এবং তাকে হত্যা করা হয়েছে, আমরা তার বিধবা স্ত্রী এবং সন্তানকে দেখলাম। আমরা এই সকল ভক্তদেরকে কিছু সাহায্য প্রদান করার চেষ্টা করব এবং সকল ভক্তদের প্রার্থনা করা উচিত যাতে তারা আধ্যাত্মিক জগতে ফিরে যায়। প্রত্যেক ধর্ম প্রেমের শিক্ষা দেয়, কিন্তু এই চরমপন্থীরা ঘৃণার শিক্ষা দেয়, আসলে তারা হচ্ছে ধর্মের শত্রু। যাইহোক, এই কলিযুগ অত্যন্ত বিপদজনক স্থান। তাই আমরা আশা করি যে সকল ভক্তরাই কৃষ্ণের পূর্ণ শরণ করবেন। আমরা চৌমহনির শ্রীবিগ্রহ — শ্রীরাধা কৃষ্ণ এবং জগন্নাথদেব, নিতাই গৌরকে দর্শন করেছি। যেহেতু তারা তালাবদ্ধ ছিলেন, তাই তাঁরা সুরক্ষিত ছিলেন। ভক্তরা বলছিলেন যে সেই সময় সেই শ্রীবিগ্রহ শয়নে ছিলেন আর ভক্তরা প্রসাদ পাচ্ছিলেন, তারপর এই দাঙ্গাকারীরা সেখানে ঢোকে ও তাদেরকে মারধর করতে শুরু করে। তাই, আমরা প্রার্থনা করি যে এই ভক্তরা যাতে ন্যায় পায় ও মন্দির পুলিশ দ্বারা সুরক্ষিত থাকে এবং যে সব মানুষেরা তাদের দ্রব্যাদি হারিয়েছেন তাদেরকে যাতে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।  

আমরা দেখতে পাই যে এমনকি দ্বাপর যুগে পরীক্ষিত মহারাজ অশ্বথামার ব্রহ্মাস্ত দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলেন কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ ভগবান তাকে রক্ষা করলেন, আমরা কৃষ্ণের কি পরিকল্পনা তা জানতে পারি না। তিনি বললেন, “আমার ভক্ত বিনাশ হবে না।” আমরা সেই আশা নিয়া যাদের লোক ক্ষতি হয়েছে, তারা যাতে ভগবানের কাছে ফিরে যেতে পারে। ভগবান বলেছিলেন, " ন মে ভক্ত প্রণশ্যতি"। এই লীলা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে কৃষ্ণ হচ্ছেন সর্বশক্তিমান এবং সেই বিশ্বাসের সাথে আমাদের ভক্তিমূলক সেবা করা উচিত। শ্রীল প্রভুপাদ বর্ণনা করেছিলেন যে এটি একটি মহান বিজ্ঞান। প্রভুপাদ বলেছিলেন যে

ব্রহ্মাণ্ড ভ্ৰমিতে কোন ভাগ্যবান জীব।
গুরু কৃষ্ণ প্রসাদে পান ভক্তিলতা বীজ ॥
(চৈ চ মধ্য ১৯.১৫১)

মালী হতে হয়, যে এই বীজ শ্রবণাদি দিয়ে জল দিয়ে সিঞ্চন করতে হয়। আমরা আধ্যাত্মিক গুরুদেবের থেকে বীজ পাই। অনেক বিশ্ব মধ্যে ভ্রমণ করি করি ভগবানের কাছে যাওয়ার ইচ্ছা করলে, ভগবান তখন গুরু কাছে পাঠিয়ে দেন। তাই পরম্পরাগত আধ্যাত্মিক গুরুদেব লাভ করা খুবই দুর্লভ এবং এই মনুষ্য জন্মে আমরা কিছু জাগতিক ফল লাভের প্রতি খুবই আগ্রহী। ভগবানের ইন্দ্রিয় তৃপ্তি দ্বারা ভগবানের সেবা করি এটা সাধারণ বদ্ধজীব এই বিজ্ঞান বুঝতে পারে না। ।এটি মহান জ্ঞানীদের দ্বারাও বোধগম্য নয়, তারা নিজেদের ইন্দ্রিয় তৃপ্তি করতে চায় কিন্তু ভগবানের ইন্দ্রিয় তৃপ্তি করার বিষয়টি কখনো তাদের মনে আসে না। এটিই হচ্ছে ভক্তদের সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য, তারা চায় ভগবান সন্তুষ্ট হোক।

সর্বোপাধি বিনিমুক্তং তৎপরত্বেন নিৰ্ম্মলং।
হৃষীকেণ হৃষীকেশ সেবনং ভক্তিরুচ্যতে।।

এটিই হচ্ছে ভক্তির অর্থ, আমরা আমাদের ইন্দ্রিয় দিয়ে ইন্দ্রিয়ের অধীশ্বর ঋষিকেশের সেবা করতে চাই। “হৃষীকেণ হৃষীকেশ সেবনং ভক্তিরুচ্যতে” আমরা আমাদের ইন্দ্রিয় দিয়ে ইন্দ্রিয়ের অধীশ্বর ঋষিকেশের সেবা করতে চাই, এটাই হচ্ছে ভক্তি। আধ্যাত্মিক জগতে সেখানে বিভিন্নতা আছে, কিন্তু সেখানে ঐক্য আছে যে প্রত্যেকেই ভগবানের সেবা করতে চায়। জড় জগতে বৈচিত্র আছে কিন্তু কোন ঐক্য নেই, প্রত্যেকে নিজেদের ইন্দ্রিয়ের সেবা করতে চায় সরাসরিভাবে হোক বা বিস্তৃতভাবে। যেমন কেউ হয়ত তার পরিবারের সুযোগ-সুবিধা চায়, কেউ হয়ত তার সমাজের বা দেশের সুযোগ-সুবিধা চায়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে প্রত্যেকেই যদি ভগবানের সেবা করে, তাহলে আমরা বিভিন্নতার মধ্যে ঐক্য আনতে পারব। ঠিক যেমন একটি পরিবারে, যদি স্বামী এবং স্ত্রী একত্রে কৃষ্ণের সেবা করে, তাহলে তা হচ্ছে বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য। নয়ত হয়ত স্ত্রীর কোন ইচ্ছা থাকবে, স্বামীর আরেকটি ইচ্ছা থাকবে, এইভাবে কলিযুগে কিছু না কিছু মতভেদ থাকবে।

আমরা ভগবান কৃষ্ণের সেবার মাধ্যমে সার্বজনীন ঐক্য স্থাপন করতে চাই। এখন আমাদের জড়জাগতিক ইন্দ্রিয়ের দ্বারা আমরা ভগবানকে দেখতে পারি না, কিন্তু আমাদের উপকারের জন্য কৃষ্ণ অর্চাবিগ্রহ / অবতার বিগ্রহ মধ্যে আসেন। এই কার্তিক মাসে আমরা দেখছি যে ভক্তরা শ্রীবিগ্রহকে প্রদীপ নিবেদন করছেন, এই প্রদীপ নিবেদনের মাধ্যমে তারা অগ্রিম সুকৃতি লাভ করছে। তাই এমনকি যদি আমরা কোন প্রদীপ নিবেদন করি, তাহলে এটি হয়ত মনে হতে পারে যে কৃষ্ণের প্রতি তা এক ক্ষুদ্র সেবা, কিন্তু কৃষ্ণ তা অত্যন্ত বিশেষভাবে গ্রহণ করেন এবং আমরা যদি তা তুলসী কাঠি দিয়ে নিবেদন করি, তাহলে সুকৃতি আরো বৃদ্ধি পায়। এইভাবে আমাদের ভগবানের কৃপা লাভ করা উচিত এবং নিজেদের জীবন সফল করা উচিত। প্রভুপাদ বলতেন যদি কৃষ্ণের কাছে এক পা এগিয়ে যাই, তিনি আমার কাছে ১০-পা এগিয়ে আসবেন। কৃষ্ণ চান আমাদের বদ্ধ জীবন থেকে ওঁনার কাছে ফিরে যাই, আমরা এই জরজগতে ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের সেবা করছি, কিন্তু তারা আসলে আমাদের পরোয়া করে না কিন্তু কৃষ্ণ তিনি সকল বদ্ধ জীবদের পরোয়া করেন। ভগবদ্‌গীতার ১৮তম অধ্যায়ে তিনি বলেছেন যে, “যে ব্যক্তি গীতার এই জ্ঞান প্রচার করে, সে আমার কাছে সব থেকে প্রিয়।” তাই আমরা মানুষদের কৃষ্ণভাবনাময় হতে সাহায্য করতে চাই তবে সাধারণত এটি অর্জন করা খুব কঠিন, কিন্তু চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপায় এখন তা খুবই সহজ হয়েছে। চৈতন্যদেব কে উপযুক্ত আর কে নয় এই বিচার করেন না, সবার কাছে বিতরণ করেন।

শ্রীল প্রভুপাদ আটলান্টিক মহাসাগর অতিক্রম করে আমেরিকায় গিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, যদি তুমি মহাসাগরে পড়ে যাও এবং তখন যদি তুমি মহাসাগরের কাছে তাকে শান্ত হওয়ার প্রার্থনা কর, তাহলে সেখানে যে কোন ঢেউ আসবে না তা সম্ভব নয়। মহাসাগরের তার নিজস্ব স্বভাব আছে, একইভাবে এই জড়জগতেরও নিজস্ব স্বভাব আছে, “দুঃখালয়মাশাশ্বতম্” — ক্ষণস্থায়ী এবং দুঃখ কষ্ট ভোগ করার স্থান। তাই আমরা যদি মনে করি যে এই জরজগৎ ভালো হবে, এই জগত হচ্ছে জন্ম- মৃত্যু-জরা-ব্যাধির স্থান এবং তারপর আমরা মারা যাই ও আবার জন্ম গ্রহণ করি, আবার আমরা সেই পুরো পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে আবার যাই; তাই প্রভুপাদ বলছিলেন যে যদি তুমি আটলান্টিক মহাসাগরে পড়ে যাও, তাহলে সব থেকে ভালো হবে যে তোমাকে যাতে সেই মহাসাগর থেকে তুলে নেওয়া হয়। তাই এই জড়জগতে যদি কেউ পড়ি যায়, এটা উত্তম যে ভগবানের নিত্য ধাম ফিরে যাওয়া ভাল। এই জড়জাগত যে ভালো হবে, এটার আশা ছেড়ে দেওয়া। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে ফিরে যাও! এবং গোষ্টিয়ানন্দী হচ্ছে আমি একা যাব না, আমি অনেককে আমার সঙ্গে নিয়ে যাব।

প্রহ্লাদ মহারাজ, তিনি ছিলেন গোষ্টিয়ানন্দী। তিনি অসুর সন্তানদের প্রচার করেছিলেন, তিনি তাদেরকে পবিত্র নাম জপ করতে বলেছিলেন। গুরুকুলের শিক্ষক বলছে কেউ ছাত্রকে শেখাচ্ছে ভগবানের ভক্তি করতে। তাই, হিরণ্যকশিপু সৈনিকদেরকে গুরুকুলের বাইরে সুরক্ষাগণ্ডী রাখতে বলেছিল ও কোন বৈষ্ণবকে দেখতে পেলে তৎক্ষণা তাকে হত্যা করতে বলেছিল। তারপর তারা বুঝতে পারল যে আসলে প্রহ্লাদ মহারাজ সেই গুরুকুলে প্রচার করছেন। তাই তারপর হিরণ্যকশিপু প্রহ্লাদকে হত্যা করতে চেয়েছিল, কিন্তু কোন না কোন ভাবে সে তা করতে পারেনি। সে বলেছিল, “তুমি কোথা থেকে আমার সাথে দ্বন্দ্ব করার শক্তি পাচ্ছ? আমি তোমাকে হত্যা করতে পারি!” প্রহ্লাদ বলেছিলেন,যেখান থেকে তুমি তোমার শক্তি পেয়েছ, আমিও সেই একই পরমেশ্বর ভগবানের থেকেই শক্তি পাচ্ছি।

যাই হোক, আমরা ভগবানের শ্রীচরণপদ্মে প্রার্থনা করি যাতে আমরা সর্বদা তাঁর সেবায় নিযুক্ত থাকতে পারি। সকল ভক্তের কৃষ্ণের বাণী প্রচার করার, শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ প্রচার করার চেষ্টা করা উচিত। তাই, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন আমরা তা ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করার প্রচেষ্টা করতে পারি।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 30/8/23
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions