Text Size

২০২১১০১৭ শ্রীমদ্ভাগবতম ১.১২.২

17 Oct 2021|Duration: 00:40:28|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

 মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ 

ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
    ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
    ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!

শ্রীমদ্ভাগবতম ১/১২/২

তস্য জন্ম মহাবুদ্ধেঃ কর্মাণি চ মহাত্মনঃ।
নিধনং চ যখৈবাসীৎস প্রেত্য গতবান্‌ যথা॥

অনুবাদ:- অতীব বুদ্ধিসম্পন্ন এবং পরম ভক্ত, মহান সম্রাট পরীক্ষিৎ কেমন করে সেই গর্ভে জন্ম নিয়েছিলেন? কেমন করেই বা তীর মৃত্যু হল, এবং তাঁর মৃত্যুর পরে তিনি কোন্ গতি লাভ করলেন?

তাৎপর্য:- অন্ততপক্ষে পরীক্ষিৎ মহারাজের পুত্রের সময় পর্যন্ত হস্তিনাপুরের (আধুনিক দিল্লী) রাজা সারা পৃথিবী শাসন করতেন। মহারাজ পরীক্ষিৎ যখন তাঁর মাতৃগর্ভে ছিলেন, তখন ভগবান তাঁকে রক্ষা করেছিলেন; তাই একজন ব্রাহ্মণ বালকের শাপের ফলে অকাল মৃত্যু থেকে তিনি অবশ্যই রক্ষা পেতে পারতেন। কিন্তু যেহেতু মহারাজ পরীক্ষিতের রাজ্যভার গ্রহণ করার সময় থেকে কলিযুগের শুরু হয়, তাই তার প্রথম কুলক্ষণ প্রকট হয় পরীক্ষিৎ মহারাজের মতো একজন মহামতি এবং মহাভাগবত রাজাকে অভিশাপ দেওয়ার মাধ্যমে। রাজা হচ্ছেন অসহায় প্রজাদের রক্ষক তাদের কল্যাণ এবং শান্তি ও সমৃদ্ধি তাঁরই উপর নির্ভর করে। দুর্ভাগ্যবশত, অধঃপতিত কলিষুগের প্ররোচনায়, এক দুর্ভাগা ব্রাহ্মণপুত্র নির্দোষ পরীক্ষিৎ মহারাজকে অভিশাপ দিয়েছিল, এবং তার ফলে রাজাকে সাতদিনের মধ্যে মৃত্যুবরণ করার জন্য প্রস্তুত হতে হয়। শ্রীবিষ্ণু তাকে রক্ষা করেছিলেন বলে মহারাজ পরীক্ষিৎ বিষ্ণুরাত নামে বিখ্যাত। তাই একজন ব্রাহ্মণের পুত্র যখন তাকে অন্যায়ভাবে অভিশাপ দেয়, তখন তিনি ইচ্ছা করলে রক্ষা পাবার জন্য ভগবানের কৃপা ভিক্ষা করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি, কেননা তিনি ছিলেন ভগবানের একজন শুদ্ধ ভক্ত। ভগবানের শুদ্ধ ভক্ত কখনোই ভগবানের কাছে অনুগ্রহ লাভ করার জন্য অনাবশ্যক প্রার্থনা করেন না। অন্য সকলের মতো মহারাজ পরীক্ষিতও জানতেন যে তাঁর প্রতি ব্রাহ্মণপুত্রের অভিশাপ ছিল সম্পূর্ণরূপে অসঙ্গত, কিন্তু তিনি তার প্রতিকার করতে চাননি। কেননা তিনি জানতেন যে কলিযুগের আবির্ভাব হয়েছে এবং সেই সঙ্গে সেই যুগের লক্ষণ, অত্যন্ত প্রতিভা সম্পন্ন ব্রাহ্মণ সমাজের অধঃপতনও শুরু হয়ে গেছে। তিনি কালের প্রবাহে হস্তক্ষেপ করতে চাননি, পক্ষান্তরে তিনি হরষিত অন্তরে এবং যথাযথভাবে মৃত্যুকে বরণ করার জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন ভাগ্যবান, তাই মৃত্যুকে বরণ করতে প্রস্তুত হওয়ার জন্য তিনি অন্তত সাতদিন সময় পেয়েছিলেন, এবং ভগবানের মহান ভক্ত মহাত্মা শুকদেব গোস্বামীর সান্নিধ্যে তিনি সেই সময়ের যথাযথ সদ্ব্যবহার করেছিলেন।

***

জয়পতাকা স্বামী:-  নৈমিষারণ্যের ঋষিগণ মহান শাসক পরীক্ষিতের সম্পর্কে আরো শ্রবণ করতে চেয়েছিলেন এবং তাঁরা কৃষ্ণের সাথে পাণ্ডবদের বিভিন্ন লীলা শুনেছিলেন, কিভাবে কৃষ্ণ দ্বারকায় প্রবেশ করেছিলেন এইসব কাহিনী শুনেছিলেন, কিন্তু এখন এই আদি প্রশ্ন ফিরে আসছে পরীক্ষিত মহারাজ। পরীক্ষিত মহারাজ এক ব্রাহ্মণ বালকের দ্বারা অভিশপ্ত হয়েছিলেন। আসলে তা সঠিক ছিল না, পরীক্ষিত মহারাজ ইচ্ছা করলে কৃষ্ণের কাছে বাঁচাতে বলতে পারতেন, কিন্তু তিনি শুদ্ধ ভক্ত, তাই কৃষ্ণের কোন ভৌতিক জিনিস চাইতেন না। এছাড়াও সেই ব্রাহ্মণ বালক অযথার্থভাবে কার্য করে প্রদর্শন করেছিল যে কলি যুগ এসে গেছে। এখন এই কলি যুগ কলহ ও সমস্যা সৃষ্টি করে। আমাদের বাংলাদেশে হিন্দু মুসলমান সবাই শান্তিপূর্ণ বাস করে, এবং হঠাৎ করে ছোটখাটো কিছু বিষয় সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠে এসেছে এবং তার দ্বারা কলিযুগের প্রভাব পড়েছে। তারা বলে ভগবানকে ভালবাসতে, কিন্তু এর পরিবর্তে তারা ভিন্ন বিশ্বাসের প্রতি ঘৃণা করছে। সকল ধর্মীয় ব্যক্তিদের এই দুর্ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো উচিত। বিশ্বাসের প্রতি ঘৃণা প্রকৃতপক্ষে হত্যা করে। বাংলাদেশের হিন্দুরা হয়ত নির্যাতিত হয়েছে, কিন্তু নতুন নিউজিল্যান্ডে কিছু মুসলিমদের মসজিদে হত্যা করা হয়েছে, আয়ারল্যান্ডে এই বিরোধিতাকারীরা ক্যাথলিকদের সাথে লড়াই করছে। সাম্প্রতিক আফগানিস্তানে সেখানে সুন্নিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং তাদের মধ্যে কেউ কোনোভাবে শিয়া মসজিদে বোম ফাটিয়েছেএইভাবে সমগ্র বিশ্বে বিশ্বাসের প্রতি ঘৃণা দেখানো হচ্ছে এবং এর দ্বারা নির্দোষ মানুষেরা হত্যা হচ্ছে। তাই আমাদের অনুরোধ হচ্ছে যে সমস্ত ব্যক্তিরা সত্যিই ধর্মাবলম্বী, তাদের এই সমস্ত ঘৃণা প্রদর্শনকারী মানুষদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা উচিত। তাই এই ছিল সেই পরিস্থিতি যখন পরীক্ষিত মহারাজ বুঝতে পেরেছিলেন যে কলিযুগ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। ওঁনার সাত দিন পরে মৃত্যু হবে, এটা ঐ সাতদিনের প্রস্তুতি নিতে পেরেছিলেন। তিনি অত্যন্ত শান্ত ছিলেন এবং আনন্দিত ছিলেন। তিনি শুকদেব গোস্বামীর ভালো সঙ্গ লাভ করেছিলেন। তিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বিভিন্ন লীলা এবং তাঁর বিভিন্ন অবতার সম্পর্কে শুনতে পেরেছিলেন। আমরা জানি না আমাদের সকলকেই মৃত্যুবরণ করতে হবে, আমাদের সকলকেই এই শরীর ছেড়ে যেতে হবে, তাই আমরা জানি না যে তা কখন ছেড়ে যেতে হবে। ভগবদ্‌গীতা আমাদেরকে অবগত করিয়েছে যে আমরা হচ্ছি নিত্য, আমরা হচ্ছি নিত্য শাশ্বত জীব। এবং যখন দেহ পৃথিবীতে নেওয়া হয়, এটার একটা সীমা থাকে। 

ব্রহ্মাদেবের ক্ষেত্রে, আমাদের সাথে তুলনা করলে তাঁর জীবন অতি দীর্ঘ। একদিন আমরা মায়াপুরের ছাদের উপর হাঁটছিলাম এবং আমরা শ্রীল প্রভুপাদের সাথে ছিলাম। তখন আমরা দেখছিলাম যে কিছু পিঁপড়ে একদিক থেকে আরেকদিকে যাচ্ছে। প্রভুপাদ বলছিলেন, “আমরা যেভাবে পিঁপড়ে কে দেখছি, আমরা ভাবি তারা বেশি দিন বাঁচে না; এইভাবে স্বর্গ থেকে দেবতারা আমাদেরকে দেখছে এবং তারা মনে করেন যেন আমরা পিঁপড়ের মতো বেশিদিন থাকে না।” কারণ আমাদের এক বছর হচ্ছে তাদের একদিন। এইভাবে আমরা হয়তো ১০০ বছর বা ৯০ বছর বাঁচি। সেটা তাদের ১০০ দিন, তিন মাস মত সময়। কারা তিন মাস বেঁচে থাকে, ইঁদুর বা ছুঁচো? এইসবই ক্ষণস্থায়ী। তাই এই জড় জগতে প্রত্যেকেরই জন্ম এবং মৃত্যু আছে, তাদের হিসাব অনুযায়ী প্রত্যেকে ১০০বছর বাঁচে। এবং ব্রহ্মাদেবও ১০০ বছর বাঁচেন, কিন্তু তার একদিন হচ্ছে সহস্র যুগ সমাজ এবং প্রত্যেক চতুর্যুগ হচ্ছে ৪৩২০০০ বছর। তাই তা হচ্ছে এক দীর্ঘ সময়। এবং সেইরকম ১০০০ চতুর্যুগ হচ্ছে ব্রহ্মার একদিন। আমরা আন্তরিকভাবে কৃষ্ণভাবনামৃত অনুশীলনের মাধ্যমে নিত্য জীবন লাভ করতে পারব। এই যুগে সেটা জানেনা এইভাবে কৃষ্ণ সেবা করলে কি ফল হয়। এই কারণে ভগবদ্‌গীতায় বলা হয়েছে যে, যে সমস্ত মানুষেরা কম বুদ্ধিমান, তারা জড়জাগতিক সুযোগ-সুবিধা লাভের আকাঙ্ক্ষা করে। এই জড়জগতের সুখ-সুবিধা যতই হোক না কেন, তা ক্ষণিকের জন্য। সাধারণত যারা ধর্ম বিশ্বাসী তারা ভগবানের কাছ থেকে কিছু ক্ষণিকের ফল প্রার্থনা করে, তারা কোন ফলের আশা না করে বা মানসিক জল্পনা-কল্পনা না করে ভগবানের সেবা করে না। সেই জন্য কৃষ্ণ বলেন শুদ্ধ ভক্ত অতি দুর্লভ। এইভাবে শুদ্ধভাবে কৃষ্ণের সেবা করলে পারোমার্থিক আনন্দ হয়, এবং তারপর পরমানন্দ উপলব্ধ হয়। তাই আমরা চাই ভক্তরা যাতে এটি বোঝে যে জীবনের প্রকৃত সুবিধা হচ্ছে যা চৈতন্য মহাপ্রভু আমাদেরকে প্রদান করেছেন।  কিছু ব্যক্তিরা হয়ত বৈরাগী এবং কিছু মানুষেরা হয়ত গৃহস্থ, তাদের এটি মনে করা উচিত নয় যে জড় জগতে স্থায়ী কোন সমাধান রয়েছে। প্রভুপাদ বলছিলেন এই পৃথিবীতে থাকা ভদ্রলোক ভদ্র মহিলার জন্য নয়। এখানে বিভিন্ন অসুবিধা আছে বিশেষভাবে কলিযুগে কৃষ্ণ বলেছেন যে এই জড় জগত হচ্ছে পুনর্জন্ম গ্রহণ করার স্থান — 

মামুপেত্য পুনর্জন্ম দুঃখালয়মশাশ্বাতম্
নাপ্নুবন্তি মহাত্মনঃ সংসিদ্ধিং পরমাং গতাঃ
(ভগবদ্‌গীতা ৮.১৫) 

মহান আত্মা বা যোগীরা ভক্তির দ্বারা আমাকে লাভ করার পর তারা এই ক্ষণস্থায়ী জগতে আর ফিরে আসে না যা দুঃখে পরিপূর্ণ। কারণ তারা আধ্যাত্মিক জগতে ফিরে যাওয়ার সর্বোচ্চ পরিপূর্ণতা লাভ করেছে। আমি একজন খ্রিস্টান প্রচারকের কথা শুনছিলাম, সে লোকেদেরকে ভগবানের কাছে ভালো বেতনের প্রার্থনা জানাতে বলছিল। সব মানুষেরা পরমেশ্বর ভগবানের কাছে তাদের চাহিদার তালিকা নিয়ে যায়। কিন্তু আমরা যখন হরে কৃষ্ণ জপ করি বা আমরা যখন হরে কৃষ্ণ জপ করে প্রার্থনা করি, তখন তা হচ্ছে দয়া করে কৃষ্ণ ও রাধারানী আমাকে আপনাদের সেবায় নিযুক্ত করুন! রাধা মাধবের সেবা করাই হচ্ছে জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য। এটি পরীক্ষিত মহারাজ করেছিলেন যখন তিনি জেনেছিলেন যে তার বেঁচে থাকার জন্য আর ৭ দিন আছে। আমরা জানি না আমাদের কাছে ৭ দিন, ৭ বছর বা এমন কি ৭ মুহূর্তও আছে কিনা। কিন্তু আমরা এই বিষয়ে নিশ্চিত যে আমাদেরকে একসময় এই শরীর ছাড়তে হবে। ১০০% নিশ্চিত, ফাঁকি দেওয়ার অবকাশ নেই! আমাদেরকে কখন ছেড়ে যেতে হবে তা আমরা জানিনা। কিন্তু আমাদেরকে যে ছেড়ে যেতে হবে, সেই বিষয়ে নিশ্চিত!

চৈতন্য চরিতামৃত মধ্য ১৯.১৪৯ বলা হয়েছে,  

কৃষ্ণভক্ত — নিষ্কাম, অতএব 'শান্ত'
ভুক্তি-মুক্তি-সিদ্ধি — কামী সকলি 'অশান্ত' 

যেহেতু শুদ্ধ ভক্ত কেবল কৃষ্ণের সেবা করতে চায়, তাই তিনি শান্ত। যারা জর জাগতিক সুখ কামনা করে, যারা মুক্তি বা যৌগিক পন্থার বিষয়ে আকাঙ্ক্ষিত তারা শান্ত নয়। যারা যোগ শক্তি লাভের প্রতি আকাঙ্ক্ষী, তারাও শান্ত নয়। তাই আমরা যদি জীবনে প্রকৃত শান্তি পেতে চাই, তাহলে আমাদের শুদ্ধ ভক্ত হওয়া উচিত। আমি অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, বাংলাদেশের ভক্তদের দেখে অত্যন্ত খুশি হয়েছি, আমাদের বোঝা উচিত যে এই জগত আমাদের থাকার স্থান নয়, আমরা কৃষ্ণের সাথে থাকতে চাই। আমরা যদি মনে করি এই ভৌতিক ঐশ্বর্য অত্যন্ত ভালো, তাহলে আমাদের জানা উচিত যে এটি যদি ভাল হয়, তবে এটিকে যিনি সৃষ্টি করে উনি আরো ভালো হয়। আমাদের দুষ্কর্মের জন্য বিভিন্ন রকম মহামারী, সাইক্লোন এবং ভূমিকম্প ও অন্যান্য বিভিন্ন সমস্যা হয়। এই জড় জগতে, যেমন শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে আটলান্টিক মহাসাগর অতিক্রমের সময় আমরা যদি পড়ে যাই এবং যদি আমরা কৃষ্ণের কাছে প্রার্থনা করি সেই মহাসাগরকে শান্ত করে দিন, তাহলে তা এর সমাধান নয়। প্রকৃত সমাধান হচ্ছে আমাদের সেই সাগর ছেড়ে বেরিয়ে এসে শুষ্ক ভূমিতে আসতে হবে। আমরা এই ভৌতিক জগৎ থেকে ফিরে গিয়ে ভগবানের নিত্য আলোয় থাকা উচিত। 

অতএব, নৈমিষারণ্যের ঋষিগণ তারা পরীক্ষিত এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সম্পর্কে শুনতে চেয়েছিলেন, তাই তারা অত্যন্ত মহিমান্বিত। প্রত্যেকদিন আমাদের কৃষ্ণের সম্পর্কে শ্রবণ করার ও পড়ার জন্য কিছু সময় রাখা উচিত। গতকাল আমাদের একাদশী ছিল, এখন অনেকেই কার্তিক মাস পালন করছে, এবং কিছু মানুষেরা পূর্ণিমা পর্যন্ত অপেক্ষা করে। এইভাবে এই দামোদর মাসে দ্বীপ দান করা বিশেষ অনুমোদিত।

ভক্তি বিজয় ভাগবত স্বামী:- খুব ভালো প্রবচন। আমার একটি প্রশ্ন আছে। যদিও আপনি উল্লেখ করেছেন কার্তিক ব্রত সম্পর্কে যে কিভাবে কার্তিক ব্রত ভালোভাবে পালন করা যাবে এবং প্রদীপ নিবেদন করা যাবে, তবে একজন বলছিল যে তুলসী কাঠি কেউ কেউ বলে নিবেদন না করতে, আবার কোন কোন ভক্তরা অনেক কঠোর প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করে, শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে এই চার মাসে কেবল চারটি জিনিস বর্জন করতে, কিন্তু অনেক মানুষেরা অত্যন্ত কঠোরভাবে তা পালন করে বিন্স, পটল, গাজর খায় না। তাই কিভাবে কার্তিক ব্রত খুব ভালোভাবে পালন করা যাবে এবং দামোদর ভগবান প্রীত হবেন ও ভক্তি লাভ করা যাবে?

জয়পতাকা স্বামী:- দেখুন সর্বনিম্ন হচ্ছে আমাদের মাস কলাই খাওয়া উচিত নয়। আমরা এর থেকে বেশি কিছু করতে পারি, আমরা হবিষ্যন্ন গ্রহণ করতে পারি বা বিভিন্নভাবে কঠোর ডায়েট করতে পারি, শ্রীল প্রভুপাদ অভিযোগ করতেন যে কেউ যদি কোন নির্দিষ্ট প্রতিজ্ঞা পালন না করে, কেবল তার দাড়ি  বা চুল বাড়ায় তাহলে তার কোন ফল নেই, এক বছর আমরা কেবল মেঝেতে আমাদের হাত ব্যবহার না করে খিচুড়ি খাচ্ছিলাম গাভীদের মত, সেই সময় আমাদের দাড়ি গোঁফ রেখেছিলাম। তাই কেউ কোনটা পালন করতে চায় সেটা ঐচ্ছিক। যদি কেউ বেশি কিছু করে, তাহলে তাদের গর্বিত হওয়া উচিত নয় বা অন্যরা যারা তত কিছু করছে না তাদের নিন্দা করা উচিত নয়। আমরা বেশি কিছু করতে পারি অনাসক্ত হওয়ার জন্য কিন্তু আমাদের সেবা কম করা উচিত নয়। দামোদর পূজায় তুলসী কাঠি নিবেদনের যে প্রশ্নটি, সেক্ষেত্রে পদ্মপুরাণে বলা আছে যে আমরা তুলসী দিয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে দ্বীপ নিবেদন করতে পারি, তাহলে আমরা একশত যজ্ঞের ফল পাই এবং একশত গাভীকে অনুদান দেওয়ার ফল পাই। এছাড়াও সেই একই পুরাণে উল্লেখ করা আছে যে আমরা যদি কৃষ্ণকে তুলসী দিয়ে দ্বীপ নিবেদন করি, তাহলে তা ১ কোটি বা ১০ লক্ষ প্রদীপ নিবেদনের সমান। আমি আশা করি আপনি উত্তর পেয়েছেন মহারাজ।  

ভক্তি বিজয় ভাগবত স্বামী:- হ্যাঁ! গুরু মহারাজ আপনি অত্যন্ত সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং আপনি যা যা বলেছেন আমি তা অন্যদেরকে বলব। হরে কৃষ্ণ! 

জয়পতাকা স্বামী:- আর অবশ্য, তারা গ্রন্থ বিতরণও করতে পারে!  

হরিহর কৃষ্ণ চৈতন্য দাস:- যদি পূর্ববর্তী সংস্কারের জন্য কেউ দুর্গা পূজার মতো অনুষ্ঠানের প্রতি আসক্ত থাকে, তাহলে তা কি আমাদের কৃষ্ণভাবনামৃতে বাধা প্রদান করে? কৃপা করে বলবেন প্রিয় গুরু মহারাজ। 

জয়পতাকা স্বামী:- দেখো আমরা পুরাতন দুর্গা প্যান্ডেলের আয়োজকদের সাথে কথা বলেছিলাম এবং তারা বলেছিল যে তাদের শালিগ্রাম শিলা আছে, তারা প্রথমে সেই শিলাকে পূজা করে এবং সেই প্রসাদ দুর্গাদেবীকে নিবেদন করা হয়। এই ধরনের পূজা আসলে অনুমোদিত। যদি তুমি দেবী বা অন্য কোন দেবতার পূজা কোন জড় জাগতিক ইচ্ছা পূরণের জন্য করতে চাও, তাহলে তা তোমার ভক্তিমূলক সেবায় বাঁধা সৃষ্টি করতে পারে। 

শেষ প্রশ্ন।

সুজিতেন্দ্রিয় দাস:- দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলে কিছু ভক্তরা দুর্গাদেবীর কাছে যান এবং তারা মনে করেন দুর্গা হচ্ছেন কৃষ্ণের বোন, তাই সেই ক্ষেত্রে দুর্গা হচ্ছে আমাদের পিসিমা। যেহেতু তিনি হচ্ছেন শ্রীপদ্মনাভ সহোদরিম, তাই এই মানসিকতা নিয়ে যদি ভক্তরা সেখানে যায় ও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে, তাহলে সেটিকে অনুমোদিত? 

জয়পতাকা স্বামী:- আমরা দুর্গা দেবীকে কৃষ্ণের শক্তি রূপে দেখি এবং সেইভাবে আমরা আমাদের ডান দিক থেকে তাঁকে শ্রদ্ধা নিবেদন করি। আমরা বুঝি যে শিব হচ্ছেন পবিত্র ধামের রক্ষাকর্তা এবং তাঁর শক্তি দুর্গা দেবী হচ্ছেন রক্ষাকর্ত্রী।

ভাগ্যশ্রী সাহা:- যে সমস্ত মানুষেরা কৃষ্ণের সেবা করতে চায় না বা ভক্তিমূলক সেবায় আগ্রহী নয়, আমরা কি তাদের জন্য দ্বীপ নিবেদন করতে পারি এবং তার মাধ্যমে তারা কি ধীরে ধীরে ভক্তিমূলক সেবার প্রতি আগ্রহী হবে?  

জয়পতাকা স্বামী:-  তুমি ফল যে কাউকে দিতে পারো, সে তারা কৃষ্ণকে গ্রহণ করুক বা না করুক। সেটা তাদের উপর নির্ভর করে, এর দ্বারা তারা কষ্ট পাবেনা, কিন্তু তারা যে গ্রহণ করবে এই বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই। 

এখন আমি কিছু মন্দির পরিদর্শন করব। 

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 13/9/23
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions