Text Size

২০২১১০১৭ ইস্‌কন চেন্নাইতে পাটানা উৎসবে প্রদত্ত বক্তব্য

17 Oct 2021|Bengali|Public Address|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

জয়পতাকা স্বামী:- শ্রীল প্রভুপাদ প্রতি রাত্রে অনুবাদ করার এই অসাধারণ কার্য করেছিলেন এবং রাত বারোটা থেকে তিনটে বা প্রায় এমন সময় পর্যন্ত তিনি প্রত্যেক রাতে অনুবাদ করতেন, কখনো কখনো তিনি আমাকে ডাকতেন এবং আমি নিচে যেতাম। আমি দেখতাম যে তিনি ডিকটাফোন দ্বারা অনুবাদ করছেন। তাঁর কাছে সাত টিকা সহ এক বিশেষ শ্রীমদ্ভাগবতম্ ছিল। সকলের কথা মনে নেই তবে তাতে শ্রীধর স্বামী (শ্রীধর মহারাজ), বলদেব বিদ্যাভূষণ, মাধ্বাচার্য ও অন্যান্যদের টিকা ছিল। এইভাবে তিনি তাঁদের টিকা এবং তাঁর নিজের উপলব্ধি দিয়ে অনুবাদ করতেন। বর্তমান প্রজন্ম শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ অধ্যায়নের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গ লাভ করতে পারে। তিনি এই কার্যক্রমটি ভগবদ্‌গীতা ও অন্য কয়েকটি ছোট গ্রন্থ দ্বারা শুরু করেছিলেন, এগুলি অধ্যয়ন করে কেউ ভক্তিশাস্ত্রী পেতে পারে এবং শ্রীমদ্ভাগবতমের প্রথম ষষ্ঠ স্কন্ধ পর্যন্ত অধ্যয়নের মাধ্যমে কেউ ভক্তিবৈভব ডিগ্রি লাভ করতে পারে, পরের সপ্তম থেকে দ্বাদশ স্কন্ধ পর্যন্ত অধ্যয়নের মাধ্যমে কেউ ভক্তিবেদান্ত ডিগ্রী পেতে পারে। এবং চৈতন্যচরিতামৃত ও শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর অন্যান্য শাস্ত্র গ্রন্থ অধ্যয়নের মাধ্যমে কেউ ভক্তিসার্বভৌম লাভ করতে পারে। তাই, আমরা চাই ভক্তদের শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থাবলী পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অধ্যয়ন করা উচিত এবং তার মাধ্যমে তারা ভাবনামৃতের সম্পূর্ণ উপলব্ধি প্রাপ্ত হবে। তাই বিশেষত নতুন ভক্তদের ক্ষেত্রে এটি তাদের শ্রীল প্রভুপাদের সাথে সঙ্গ করার এক সুযোগ এবং শ্রীল প্রভুপাদের কৃষ্ণভাবনামৃতে অত্যন্ত গভীর উপলব্ধি ছিল, তাই তাঁর গ্রন্থ অধ্যয়নের মাধ্যমে কেউ সেই উপলব্ধি প্রাপ্ত হতে পারে এবং এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে প্রত্যেকের শ্রীল প্রভুপাদের সঙ্গ লাভ করা উচিত। 

আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে চেন্নাইয়ের ভক্তরা শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ অধ্যয়নে সময় দিচ্ছে এবং এইভাবে তারা সমস্ত দর্শনবিষয়ে নিপুন হতে পারবে। বলা হয়েছে যে যেখানে শ্রীমদ্ভাগবতমের যেকোন অংশ অমৃত। আপনি কামড় দিয়ে তার স্বাদ না নিলেও, তা অমৃত স্বাদ দেয়। আমাদের জীবন আসলে অত্যন্ত স্বল্প, এই কলিযুগে বলা হয়েছে যে মানুষ ১০০ বছর বাঁচে, কিন্তু মানুষেরা সর্বাধিক ৮০ বছর বাঁচে।  আমাদের কাছে যাই আছে, আমরা সেই অর্থ নিতে পারবো না, আমাদের বস্ত্র নিতে পারবো না, আমাদের গৃহ বা গাড়ি সাথে করে নিতে পারব না কিন্তু আমরা কৃষ্ণভাবনামৃত নিয়ে যেতে পারবো। এই কারণে শ্রীল প্রভুপাদ প্রদত্ত তাৎপর্যসহ শ্রীমদ্ভাগবতম অধ্যয়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনাদের সকলেরকে এখানে অংশগ্রহণ করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। হরে কৃষ্ণ! 

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী (26/6/2023)
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions