মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
জয়পতাকা স্বামী:- আমি কিছু পূর্বে সমগ্র বিশ্বে দামোদর দ্বীপ নিবেদনের অনুষ্ঠানটির শুভারম্ভের জন্য মালয়েশিয়ায় ছিলাম। তারা বলছিল যে এই অনুষ্ঠানের শেষে (যা এখনও চলছে) তারা বাংলাদেশ ভক্তদের জন্য নরসিংহ প্রার্থনা করবে, সমগ্র বিশ্বের সকলেই এর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে এবং আমি খুশি হয়েছি যে মায়াপুরের থেকে এই কার্যক্রম আয়োজন করা হয়েছে। এই কলিযুগে কোন কারন ছাড়াই বিশৃংখল পরিস্থিতি হয়, কোন প্রচেষ্টা ছাড়াই এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। যখন দুটি বাঁশ গাছ বায়ুর কারণে একে অপরের সাথে ঘষা খায়, তখন দাবানল সৃষ্টি হয়। এইভাবে কেবল পরিস্থিতির কারণে দাবানল সৃষ্টি হয়, তেমনই এই কলিযুগে কোন কারন ছাড়াই ঝগড়া শুরু হয়, মানুষেরা মিথ্যা গুজব দ্বারা উত্তেজিত হয়। আমরা সকল ধর্মকে শ্রদ্ধা করি এবং আমরা সকল ধর্মের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাবান কিন্তু ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য প্রচার করলে তা কত দুঃখকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। বাংলাদেশের হিন্দু এবং মুসলিম তারা একে অপরের সাথে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে কিন্তু কলিযুগের প্রভাবে অকারণেই কিছু মানুষেরা উত্তেজিত হয়।
তাই আমরা অত্যন্ত চিন্তিত যে কেবল বাংলাদেশে নয় সমগ্র বিশ্বে অনেক অশান্তি হচ্ছে, আর বাংলাদেশে হিন্দুরা সংখ্যালঘু তাই তারা সমস্যার বিষয় হচ্ছে। সাম্প্রতিক নিউজিল্যান্ডে একটি মসজিদে আক্রমণ করা হয়েছিল এবং কিছু সন্ত্রাসবাদি দল আফগানিস্তানে শিয়া মসজিদে আক্রমণ করেছিল ও তাতে অনেক মানুষেরা মারা যায়, এটিই হচ্ছে কলিযুগের প্রভাব। আমরা দেখছি যে এই সমগ্র বিশ্বে যেখানেই সংখ্যালঘুরা আছে, তারা নির্যাতিত হচ্ছে। যেহেতু ইস্কন সমগ্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আছে, তাই তারা কখনও কখনও আক্রমণের শিকার হয়, তবে এটি অত্যাধিক হয়েছে, আমরা এর আগে এইরকম কখনও দেখিনি যে বাংলাদেশ এমন জন দাঙ্গা ও নিরপরাধী হিন্দুদের আক্রমণ করা হয়েছে, তারা হিন্দু মন্দির এবং প্যাণ্ডেল ধ্বংস করে দিয়েছে। তাই আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন যে আমাদের বাংলাদেশের ভ্রাতা ও ভগিনীরা এইরকম অত্যাচারের শিকার হচ্ছে, আমরা নিশ্চিত যে ধার্মিক মানুষেরা বা সরকার এমন ধরনের সমস্যা চায় না, তাই আমরা আশা করছি যে বিভিন্ন ধর্মের প্রতি এইরকম বুদ্ধিহীন আক্রমণের বিরুদ্ধে গন আন্দোলন হবে। মালয়েশিয়া এবং অন্যান্য দেশে তারা নরসিংহ মন্ত্র জপ করছে, আমি শুনতে চাই মায়াপুরে তারা কি করছে।
আমি শুনেছি যে আমরা যজ্ঞ এবং বিশেষ পূজা করেছি, যা ভগবান নরসিংহ দেবকে নিবেদন করা হয়েছে। আমি প্রার্থনা করি যে যদি কৃষ্ণ চান, তাহলে হাসপাতালে থাকা ভক্তরা যাতে সুস্থ হয়ে ওঠে এবং যে সকল ভক্তদের হত্যা করা হয়েছে, তারা যাতে ভগবানের কাছে ফিরে যায়, যেহেতু সে কৃষ্ণভক্ত হওয়ার কারণে তার জীবন হারিয়েছে। আমরা শুনেছি বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন নামহট্ট এবং মন্দিরেও আক্রমণ করা হয়েছে, কেউ কেউ বুলেটের গুলি খেয়েছে, আমরা আশা করি সমগ্র বিশ্বে সকলে শান্তিপূর্ণভাবে থাকবে এবং এইরকম কোন আসুরিক সন্ত্রাসবাদী কার্য হবে না। আমাদের ধর্ম শান্তি থাকা দরকার, প্রত্যেক ধর্মের মধ্যে শান্তি থাকা দরকার। আমরা সেই একই পরম ভগবানকে পূজা করি, এমনকি কিছু ব্যক্তিরা দুর্গা দেবীর পূজা করে বা অন্য দেবী দেবতার পূজা করে। তিনি হচ্ছেন ভগবানের শক্তি, তিনি দেব তুল্য। দুর্গাপূজার পুরাতন নিয়ম ছিল প্রথমে শালগ্রাম শিলাকে সবকিছু নিবেদন করা হবে ও তারপর তা দুর্গাদেবীকে নিবেদন করা হবে। তাই এমনকি কোরান দেবদূত দ্বারা মহম্মদের কাছে প্রকাশিত হয়েছিল যে, তিনি শান্তিতে থাকুন! যাইহোক আমরা কামনা করি যে সকল ধর্মের মধ্যে প্রেম ও শান্তি বজায় থাকবে। এইভাবে আমরা আবেগ দিয়ে বাংলাদেশের ভক্তদের কাছে পৌঁছাতে চাই।
আমরা শুনেছি যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন এইরকম আর হবে না, তাই আশা করি যে তিনি তাতে সফল হবেন। এবং শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে এই কলিযুগে এই সব কিছু ঘটবেই, তাই আশা করি বিশ্ব সংস্থা এটি নজর রাখবেন যে এইসব কিছু যাতে বন্ধ হয়। গতকালকে বৈদিক তারামণ্ডলীতে আমরা শ্রীল প্রভুপাদের আগমনের মহোৎসব উদযাপন করেছিলাম এবং আমরা গতকাল এমন কিছু শুনিনি। সকালবেলা আমি যখন ঘুম থেকে উঠেছি, তখন আমি এই দুঃখ সংবাদ পেলাম। সকল জিবিসি সদস্যরাও অত্যন্ত দুঃখিত যে এমন কিছু ঘটেছে, তারা বলেছে তারা তাদের সর্বশক্তি দিয়ে প্রচেষ্টা করবে। আমার মনে হয় এই মার্চ মাসে মায়াপুরে তা ভালোভাবে শুরু করা যেতে পারে, আমরা মোমবাতি নিয়ে সমগ্র বিশ্বে এর বিরোধিতা করতে পারি এবং এই মার্চ মাসে মায়াপুরে এটি হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্রের সাথে হওয়া উচিত। সকল ধর্মের মানুষদের একত্রিত হয়ে এর বিরোধিতা করা উচিত, আশা করি এটি বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যগঠন করবে, বিভিন্নতার মধ্যে ঐক্য! আপনাদের সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ! হরে কৃষ্ণ!
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ