Text Size

২০২১১০১৫ শ্রীল প্রভুপাদ আসছেন – উত্সবে প্রদত্ত বক্তব্য

15 Oct 2021|Duration: 00:17:05|Bengali|Public Address|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

ওঁ অজ্ঞান তিমিরান্ধস্য জ্ঞানাঞ্জন শলাকয়া।
চক্ষুরুন্মিলিত যেন তস্মৈ শ্রী গুরুবে নমঃ।।

নমো ওঁ বিষ্ণুপাদায় কৃষ্ণপ্রেষ্ঠায় ভূতলে।
শ্রীমতে ভক্তিবেদান্ত স্বামীনিতি নামিনে।।
নমস্তে স্বারস্বতে দেবে গৌরবাণী প্রচারিনে।
নির্বিশেষ-শূন্যবাদী পাশ্চাত্যদেশ তারিণে।।

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

জয়পতাকা স্বামী:- আমরা ব্রজবিলাস প্রভুর থেকে শুনলাম যে আমরা স্ত্রী প্রভুপাদকে ১০ লক্ষ ডলার দক্ষিণা নিবেদন করতে চাই এবং আমরা ইতিমধ্যেই ৮০০০০০ সংগ্রহ করেছি ২০০০০০ কম পড়ছে। এটি কোটি টাকার একটু কম তাই, আমি নিশ্চিত যে আপনারা এই সুযোগটি গ্রহণ করবেন যে কিভাবে বর্তমানে বা পরবর্তীতে আপনারা এই অনুদানের প্রতিশ্রুতিপূর্ণ করবেন, যাতে আমরা শ্রীল প্রভুপাদকে এই দক্ষিণা প্রদান করতে পারব। আসলে এটি হচ্ছে বৈদিক তারামণ্ডলীতে প্রথম এতো বড় জন সম্মেলন অনুষ্ঠান। আমরা দেখতে পারছি যে এই মন্দিরের কক্ষ অত্যন্ত বিশাল, অতি পর্যাপ্ত এবং অতি আনন্দময় ভক্ত সমাগমে পূর্ণ। যদিও আমার মনে হয় তাও ভিড় হবে, এত ভক্তরা শ্রী বিগ্রহের অর্চনা করতে আসবেন। আসলে যেমন স্বহা দাসী বললেন যে, ভগবান নরসিংহ দেব জীব গোস্বামীকে পরিক্রমায় নিয়ে গিয়েছিলেন এবং তিনি ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন যে এক অদ্ভুত মন্দির প্রকাশ, গৌরাঙ্গের নিত্য সেবা হইবে বিকাশ। আমরা আশা করি যে এই মন্দির সেই ভবিষ্যৎ বাণী পূর্ণ করবে। সবকিছুর জন্যই আমরা অম্বরিষ প্রভু এবং স্বহা দেবী দাসীর প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। আসলে গৃহস্থ আশ্রমে, স্বামী এবং স্ত্রী তারা এক হয়ে যায়। আজকে আমাদের কাছে তারা দুজনেই আছে, আমাদের কাছে পূর্ণ অংশ আছে! এবং এই মন্দির যদিও আংশিক সমাপ্ত হয়েছে, তবুও কত সুন্দর। 

শ্রীল প্রভুপাদের শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর সংকীর্তন আন্দোলন সমগ্র বিশ্বে প্রচার করার ইচ্ছা ছিল, তিনি বৃন্দাবনে মানুষদের বলেছিলেন যে তিনি পাশ্চাত্যে যেতে চান, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন যে তাঁর বাণী সমগ্র বিশ্বে প্রচারিত হবে, কিন্তু বৃন্দাবনের অন্যান্য সাধুরা বলেছিলেন এটি সভ্য জগত নয়, তাই এটি কেবল ভারতের জন্য, তারা বিশ্বাস করেনি যে তা সমগ্র বিশ্বে প্রচারিত হতে পারবে। পৃথিবীতে মানে সমগ্র বিশ্বে। কিভাবে শ্রীল প্রভুপাদের শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বাণী সম্পর্কে এই ধারণা ছিল এবং তিনি পাশ্চাত্যে গিয়ে সেই মহান কষ্ট সাধন করেছিলেন। সেই সময় তাঁর কাছে এত বেশি ভক্ত সংখ্যা ছিল না, তার কাছে কেবল শ্রীমদ্ভাগবতম ছিল এবং তিনি ছিলেন। একজন ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “আপনি কি পাশ্চাত্যে যাচ্ছেন?” তিনি বলেছিলেন, “শ্রীমদ্ভাগবতম যাচ্ছেন, আমি তাঁর সঙ্গী হয়ে যাচ্ছি।” আমরা জানি যে শ্রীমদ্ভাগবতম হচ্ছে কৃষ্ণের গ্রন্থাবতার। যখন আমি ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে মন্দিরে এসেছিলাম, তখন প্রথম দিন আমাকে শ্রীমদ্ভাগবতমের প্রথম স্কন্ধ দেওয়া হয়েছিল, এইভাবে আমার সেই কৃপা হয়েছিল এবং শ্রীল প্রভুপাদ অবশ্য ভাগবতম দশম স্কন্ধ পর্যন্ত অনুবাদ করেছিলেন। তারপর তাঁর শিষ্যরা দশম স্কন্ধ সমাপ্ত করে ও একাদশ, দ্বাদশ স্কন্ধ সম্পূর্ণ করেছিলেন। তিনি চৈতন্য চরিতামৃত ও ভগবদ্‌গীতাও অনুবাদ করেছিলেন, এছাড়াও অন্যান্য বিভিন্ন ছোট গ্রন্থ এবং পরম পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণ গ্রন্থ যেটি দশম স্কন্ধের সংক্ষিপ্ত সংকলন তা সংকলন করেছিলেন। 

তিনি এখানে মায়াপুরে অনেকবার এসেছিলেন, বছরে প্রায় দুই বার আসতেন। তিনি গৌর পূর্ণিমার সময় আসতেন এবং তিনি বলেছিলেন যে গৌর পূর্ণিমার সময়ে সমগ্র বিশ্ব থেকে ভক্তদের এখানে মায়াপুরে আসা উচিত। তিনিও সেই সময় আসতেন, আবার ঠিক কার্তিক মাসের আগে আসতেন বা কার্তিক মাসের পরে। সাধারণত কার্তিক মাস তিনি বৃন্দাবনে থাকতেন। তবে এটি ঐতিহাসিক বিষয় ছিল যে তিনি মায়াপুরে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের আগে আসবেন এবং আমরা ভক্তদের নিয়ে পদ্মভবনে প্রস্তুত থাকতাম এবং দূর থেকে যখন আমরা তার গাড়ি দেখতে পেতাম, তখন আমরা সাইরেন বাজাতাম। এটি এত উতসেক পরিস্থিতি ছিল! জয় হোক! শ্রীল প্রভুপাদ আসছেন! ব্রজবিলাস প্রভু, অম্বরিষ প্রভু এবং স্বহা দাসী আমরা সেই আনন্দ আবার উপলব্ধি করতে পারছি যে শ্রীল প্রভুপাদ আসছেন। সেই সময় আমাদের শ্রীল প্রভুপাদকে নিবেদন করার মত যথেষ্ট কিছু ছিল না। সেই ভবনটি অসম্পূর্ণ ছিল, তাঁর উপস্থিতিতে সেই ভবনটি সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং তারপর এখানে বৈদিক তারামণ্ডলী মন্দিরের ক্ষেত্রে আমরা আশা করি শ্রীল প্রভুপাদের উপস্থিতিতে এটিও তাড়াতাড়ি সম্পূর্ণ হবে। আমরা আশা করি ১০ লক্ষ ডলারের প্রতিশ্রুতি পরবর্তী এক বা দুই ঘন্টার মধ্যেই সম্পূর্ণ হবে, আমি আশা করি আপনারা সকলেই এই বিষয়ে ভাবছেন। 

আমাদের কাছে এই মহান সুযোগ আছে, আমাদেরকে সেবা করতে হবে ও শ্রীল প্রভুপাদের স্বপ্ন বৈদিক তারামণ্ডলী মন্দিরটি সম্পূর্ণ করার মাধ্যমে তাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতে হবে। আমি সকল ভক্তদের, অম্বরিষ প্রভু, স্বহা দাসীকে ও যারা এই মন্দিরকে এই পর্যন্ত তৈরি করার জন্য অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করেছে, সেই সকলকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমরা পশ্চিমী ঝুলন্ত প্রদর্শনীটির জন্যও কার্য করছি যে কিভাবে বৈদিক তারামণ্ডলীর মিউজিয়াম প্রদর্শন করা যাবে, এটিই হচ্ছে আমাদের মস্তকের মনির মতো শিরোমনি, আমাদের চৈতন্য মহাপ্রভুর প্রচারকার্য হচ্ছে রাজ মুকুট এবং এই মন্দির হচ্ছে সেই রাজ মুকুটের মধ্যে থাকা মনি। শ্রীল প্রভুপাদ অক্লান্তভাবে সমগ্র বিশ্বে ভ্রমণ করে ব্যক্তিগতভাবে ১০৮টি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তারপর তিনি আমাদেরকে বলেছিলেন যে, তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন যে তাঁর অপ্রকটের পর আমরা যেন অন্তত তার এই সকল সম্পত্তি বিক্রি না করে দেই। অন্ততপক্ষে তিনি যা করেছিলেন আমরা তা বজায় রাখতে পেরেছি এবং সম্ভবত আমরা বৃদ্ধি করেছি। আমার মনে হয়, আজকে সমগ্র বিশ্বে ৮০০টি মন্দির আছে, হাজার হাজার ভক্তিবৃক্ষ, নামহট্ট গ্রুপ এবং গীতাচক্র ও অন্যান্য কিছু আছে। তাই শ্রীল প্রভুপাদের কৃপায় প্রত্যেকে যাতে চৈতন্য মহাপ্রভু এবং পঞ্চতত্ত্বের বাণী প্রচারের প্রতি অনুপ্রাণিত হয় তা দয়া করে অব্যাহত রাখুন এবং তাতে শ্রীল প্রভুপাদ অত্যন্ত প্রসন্ন হবেন, আমি আর বেশিক্ষণ বক্তৃতা দিতে পারবো না কারণ হয়ত অন্যান্য অনুষ্ঠান ও আছে।  

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী (27/6/2023)
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions