Text Size

২০২১১০০১ প্রশ্ন-উত্তর পর্ব

1 Oct 2021|Duration: 01:22:19|Bengali|Question and Answer Session|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

দ্বিজনাথ গৌরাঙ্গ দাস, সিলেট, বাংলাদেশ:- গুরুমহারাজ আমরা জানি যে কৃষ্ণ বৃন্দাবন ছেড়ে কখনো বাইরে যান না, তাহলে কেন গোপিরা সবসময় কৃষ্ণের বিরহ অনুভব করতেন? যদিও কৃষ্ণ সবসময় বৃন্দাবনে অবস্থান করতেন।   

জয়পতাকা স্বামী:- যখন অক্রূর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং বলরামকে নদীতে দেখেছিলেন, তখন মনে হয়েছিল যেন যেই কৃষ্ণ বলারাম গিয়েছিলেন, তারা সেই একই কৃষ্ণ বলরাম নয়। কিন্তু গোপীদের কথা বলতে গেলে, কৃষ্ণ সেই স্থান ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। তিনি সেখানে ছিলেন তবে অদৃশ্য ভাবে। তাই তারা তার প্রতি বিরহ অনুভব করছিলেন এবং সেটি তাদের ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি শুদ্ধ প্রেমের ফল।  যদিও কৃষ্ণ বৃন্দাবন ছেড়ে যাননি, তবুও তিনি অদৃশ্য ছিলেন। তবে তারা তাঁকে বৃন্দাবনে দর্শন করতে অভ্যস্ত ছিলেন।  

কেয়া রাণী:- যেহেতু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সর্বদা তার ভক্তদের প্রেমময়ী সেবার সাথে ভাব আদান-প্রদান করেন, তাহলে গোপীদের কেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি এত গভীর বিরহ অনুভব করতে হয়

জয়পতাকা স্বামী:- আমরা দেখতে পাই যে গুরু এবং কৃষ্ণের প্রতি বিরহে আমরা যে প্রেম অনুভব করি, তা তাঁদের সাথে মিলনের তুলনায় অধিক। সেই কারণে কৃষ্ণ কিছু সময়ের জন্য অদৃশ্য হয়ে গোপীদের অতি গভীর প্রেমানুভূতিতে ফেলেছিলেন। আসলে আধ্যাত্মিক জগতে তিনি কেবল দুই সপ্তাহের জন্য যান, কিন্তু যেহেতু রাধারানীকে অভিশাপ দেওয়া হয়েছিল, তাই এখানে শ্রীকৃষ্ণ একটু বেশি সময় বাহিরে থেকেছিলেন। চৈতন্য মহাপ্রভুকে অনুসরণ করার মাধ্যমে আমরাও বিরহে সেবা প্রদান করতে পারব এবং তা হবে শ্রীকৃষ্ণের প্রতি আরো গভীরভাবে ভালোবাসা। 

কাকুলি রানী, দামোদর দেশ:- যেমন আপনি এর আগে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে বলেছিলেন যে, যদি আমরা কোন অপরাধ করি, তাহলে আমরা যেন সকল ভক্তদের চরণ ধূলি গ্রহণ করি। কি হবে যদি আমরা আমাদের থেকে বয়সে কনিষ্ঠ বা চার নিয়ম পালন করে না এমন কারো চরণ ধূলি গ্রহণ করি? আমাদের উপর এর কি প্রভাব পড়বে?

জয়পতাকা স্বামী:-  শিক্ষাষ্টকমের তৃতীয় শ্লোক অনুযায়ী, আমাদের তৃণের থেকেও ক্ষুদ্র হওয়া উচিত এবং নরোত্তম দাস ঠাকুর প্রার্থনা করেছেন যে, আমার থেকে নিচ আর কেউ নেই। তাই আমার সেটি নিয়ে চিন্তা করা উচিত নয়। তুমি বিনম্র অবস্থান গ্রহণ করো, তাহলে তুমি সর্বদা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা-আশীর্বাদ পেতে পারবে।

স্প্যানিশ:- আমরা কিভাবে ভক্তদের মনোভাব বুঝতে পারব আর কোন অপরাধ করব না

জয়পতাকা স্বামী:- যদি তুমি তাদের মনোভাব বুঝতে পারো, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তুমি অপরাধ এড়িয়ে চলবে। এবং যদি তুমি তাদের মনোভাব বুঝতে না পারো, তাহলে তোমার যেকোন ধরনের অপরাধ এড়িয়ে চলা উচিত।

যদি কেউ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চিন্তন করতে করতে মারা যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সে মুক্তি লাভ করে। পাঁচ ধরনের মুক্তি আছে। অসুরেরা নির্বিশেষ ব্রহ্ম জ্যোতিতে লীন হওয়ার মুক্তি লাভ করে। কিন্তু ভক্তরা সেটি গ্রহণ করে না, তারা শ্রীকৃষ্ণের সেবায় নিযুক্ত থাকতে চায়। তাই তুমি অন্য চারটি মুক্তি গ্রহণ করতে পারো, তবে যদি তার মধ্যে কৃষ্ণ সেবা থাকে।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 17/7/2023
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions