Text Size

২০২১০৯৩০ প্রশ্ন-উত্তর পর্ব

30 Sep 2021|Duration: 00:12:49|Bengali|Question and Answer Session|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

প্রশ্ন:- যদি পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনার কারণে কিছু তরুণরা আমাদের বিরুদ্ধে থাকে, তাহলে কি করা উচিত? কৃপা করে নির্দেশ প্রদান করুন। 

জয়পতাকা স্বামী:- তুমি কি ইস্‌কনের পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনার কথা বলছ? সে যাই হোক, তারা যতটা সঠিক, তুমি ততটা তাদের প্রতি সহায়ক হতে পারো। ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে হয়ত একটি আসতে পারে ও পরবর্তীতে অন্য হতে পারে, কিন্তু শাস্ত্র এবং কৃষ্ণ হচ্ছেন নিত্য সত্য। প্রত্যেককে নিজেকে উড়ে যেতে হবে। যেমন পাখিরা আকাশে এক ঝাঁক হয়ে ওড়ে। মূলত প্রধান যে পাখি থাকে, তাকে অন্যান্য পাখিরা অনুসরণ করে ও তারা কিছুটা অব্যাহতি পায়। কয়েকজন বৈজ্ঞানিকেরা এটি প্রকাশ করেছে যে এতে তাদের ৩০% কম বায়ু চাপ প্রতিরোধ করতে হয়। সেই যে প্রধান পাখি আছে সে হচ্ছে গুরু। এবং অন্যান্য পাখিরা তাকে অনুসরণ করে, কিন্তু এর মানে এই নয় যে প্রধান পাখি অন্যান্য পাখিদের তার নিজের কাঁধে বহন করে উড়ে যায়, অন্যান্যরা তাকে অনুসরণ করে উড়ে যায়। যদি তারা তাকে অনুসরণ করে, তাহলে তাদের কম চাপ পেতে হয়। 

মাধবকান্ত দাস:- একজন গৃহস্থ ভক্ত কি যুবকদের প্রচারক হতে পারবে বা যদি কোন তরুণ ভক্ত গৃহস্থ জীবনে প্রবেশ করে তাহলে সে কি যুব প্রচারের নেত্রী হতে পারবে

জয়পতাকা স্বামী:- যদি তারা সঠিকভাবে প্রচার করে, তাহলে তাদের নেত্রী না হওয়ার কোন কারণ নেই। শ্রেষ্ঠ প্রচারকদের ক্ষেত্রে আমরা দেখি যে ব্রহ্মচারীও আছে এবং গৃহস্থও আছে। তুমি কোন আশ্রমে আছো সেটি দেখার বিষয় নয়, তুমি কিভাবে প্রচার করো এবং কিভাবে মানুষের সাথে চলো সেটি দেখার বিষয়। সাধারণত ব্রহ্মচারীরা প্রচার করার ক্ষেত্রে মুক্ত। যেমন রাধেশ্যাম প্রভু ও অন্যান্যরা আছেন এবং বরদ কৃষ্ণ প্রভু তিনি গৃহস্থ, কিন্তু তিনি অনেক প্রচার করেন। তাই আমার মনে হয় না প্রচার করার জন্য এটি সম্পূর্ণ অযোগ্যতা। হয়তো কিছু কিছু ব্যক্তিরা শ্রবণ করার জন্য কম বা বেশি উদ্বিগ্ন, তবে যাই হোক আমাদের অনেক ব্রহ্মচারী যুব প্রচারক আছে। আমি এটা বলতে চাই না যে যদি তুমি গৃহস্ত হও, তাহলে তুমি যুব প্রচারক হতে পারবেনা। দেবকীনন্দন প্রভু তিনি বিহার ও ঝাড়খণ্ডে প্রচার করছেন। তিনি গৃহস্থ কিন্তু তিনি অত্যন্ত সক্রিয় প্রচারক।  

অমৃতেশ গৌর দাস:- যুব প্রচারকের কোন ছাত্রের জীবনে প্রবেশ করে, তাকে সাহায্য করার বিষয়ে কতটা ভাবা উচিত? আমি বলতে চাইছি, আমাদের কি ছাত্রদের জড় জাগতিক জীবনেও সাহায্য করা দরকার? যদি তাই হয়, তাহলে কতদূর অবধি তাদের সাহায্য করা যেতে পারে

জয়পতাকা স্বামী:- আমরা তাদের জীবনের মধ্যে খুব একটা প্রবেশ করতে চাই না। কিন্তু যদি তাদের কোন প্রশ্ন থাকে বা সংশয় থাকে, তাহলে হয়তো আমরা সেগুলি শুনতে পারি ও তাদেরকে কিছু উপদেশ দিতে পারি বা তাদেরকে শাস্ত্রের কোন বিশেষ একটি অংশ পড়তে বলতে পারি। আমার মনে হয় না আমরা তাদের কথা শোনা একেবারে বন্ধ করে দেব, কিন্তু আমরা সেইসব বিষয়ের মধ্যে পড়তে চাই না — যেমন তারা যদি জিজ্ঞেস করে আমি বি.কম পড়ব, নাকি বি.এস.সি? আমার পড়াশোনার বিষয়টি কোনটি হওয়া উচিত? এইসব বিষয়গুলির কৃষ্ণভাবনামৃতের সাথে কোন সম্পর্ক নেই। তাই কোনভাবে তুমি যদি তাদেরকে কৃষ্ণভাবনামৃতে নিয়ে আসতে পারো বা তাদের কার্যকলাপ কৃষ্ণভাবনাময় করতে পারো। যেমন উদাহরণস্বরূপ— এমন হতে পারে যে তুমি যদি বি.কম পড়ো, তাহলে তুমি মন্দিরের হিসাব রক্ষক হতে পারো বা ব্যবসা করতে পারো অথবা তুমি যুব প্রচারে সাহায্য করতে পারো। আমি শুনেছি যে পুনেতে তাদের একটি নিয়ম আছে যে যদি তুমি গৃহস্থ হও, তাহলে তুমি তোমার আয়ের ২০% যুব প্রচারের জন্য অনুদান দেবে। এইভাবে কিছু কিছু ভক্তরা গৃহস্থ হয় এবং যুব প্রচারে সাহায্য করে। কিন্তু যদি এমন কেউ থাকে যে বলছে সে গৃহে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, নিরামিষ খাবার পাচ্ছে না। তাহলে তখন তুমি বলতে পারো যে, “তুমি আমাদের সাথে মন্দিরে এসে থাকছ না কেন? এখানে নিরামিষ খাবার পাওয়া যায়।” 

মহেশ কুমার:- আমাদের ভারতবর্ষে লক্ষ লক্ষ যুবক আছে, তাই আমরা কিভাবে মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যুবকদের কৃষ্ণভাবনামতে নিয়ে আসার জন্য যুবকদের প্রচারের সঠিক পন্থা এবং কৌশল গড়ে তুলতে পারবো?  

জয়পতাকা স্বামী:- প্রত্যেক প্রজন্মের ক্ষেত্রে ভিন্ন পরিস্থিতি থাকে, এইজন্য আমরা এইভাবে সমবেত হচ্ছি, এটি অত্যন্ত কার্যকর কারণ আমরা দেখি যে কোন পদ্ধতিটি কাজ করে। কোন প্রক্রিয়া কার্যকর হচ্ছে আর কোনটি হচ্ছে না। তুমি হয়ত কোন পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারো, কিন্তু সেটা যদি কাজ না করে, তাহলে তা ভুলভাবে প্রয়োগ হচ্ছে। এইভাবে তোমরা একে অপরকে তোমাদের ভাবনাগুলি বলতে পারো। এটি নির্ভর করে স্থান-কাল-পাত্রের উপর। ঠিক যেমন পাশ্চাত্যের যুবকরা আবহাওয়া এবং বাস্তুশাস্ত্র বিষয়ে অধিক উদ্বিগ্ন। আমি দেখছিলাম যে একটি মেয়ে বলছিল, “সব নেত্রীরা আমাদের সাথে কথা বলে, কিন্তু ব্লা ব্লা ব্লা ব্লা ব্লা কোন কাজ করে না। খালি কথা বলে ব্লা ব্লা ব্লা।” এবং তাতে সব তরুণরা সবাই দাঁড়িয়ে তার জন্য হাততালি দিচ্ছিল। এই হচ্ছে পাশ্চাত্যের যুব সমাজ। আমি জানি না ভারতীয় তরুণরা বিশেষত কিসের প্রতি অধিক ভাবিত। কিন্তু আমাদেরকে তাদের দেখাতে হবে যে কৃষ্ণভাবনামৃতই হচ্ছে সমাধান। 

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 17/7/2023
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions