Text Size

২০২১০৯২৫ শ্রীমদ্ভাগবতম ১.১১.২১

25 Sep 2021|Duration: 00:35:08|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

 মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ 

ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
    ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
    ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!

শ্রীমদ্ভাগবতম ১/১১/২১
ভগবাংস্তত্র বন্ধূনাং পৌরাণামনুবর্তিনাম্‌।
যথাবিধ্যুপসঙ্গম্য সর্বেষাং মানমাদধে॥

 

অনুবাদ:- পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, পুরবাসী এবং আর যারা তাঁকে স্বাগত জানাতে এসেছিল, তাদের সঙ্গে মিলিত হয়ে তাদের সকলকে যথোচিত সম্মান এবং শ্রদ্ধা প্রদর্শন করলেন।

 

তাৎপর্য:- পরমেশ্বর ভগবান নিরাকার নন অথবা তাঁর ভক্তদের সঙ্গে ভাব বিনিময়ে অক্ষম কোন জড় পদার্থ নন। এখানে যথাবিধি  শব্দটি তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি তাঁর প্রশংসক এবং ভক্তদের সঙ্গে যথাযথভাবে ভাবের আদান-প্রদান করেন। ভগবানের শুদ্ধ ভক্তগণ অবশ্যই একই প্রকার, কারণ ভগবানের সেবা ছাড়া তাঁদের আর অন্য কোন লক্ষ্য নেই। তাই ভগবানও তাঁর এই প্রকার শুদ্ধ ভক্তদের সঙ্গে যথাযথভাবে ভাবের আদান-প্রদান করেন, যেমন তিনি সর্বদাই তাঁর শুদ্ধ ভক্তদের সমস্ত ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক থাকেন। যারা ভগবানকে নিরাকার বলে, ভগবানও তাদের ব্যাপারে কোন উত্সাহ প্রদান করেন না। জীবের পারমার্থিক চেতনার বিকাশের মাত্রা অনুসারে ভগবান তাদের সঙ্গে আচরণ করেন এবং তাদের সন্তুষ্টি বিধান করেন। এখানে বিভিন্ন স্বাগতকারীর সঙ্গে তিনি যেভাবে আচরণ করেছেন, তার মাধ্যমে তা বোঝা যায়।

***

জয়পতাকা স্বামী:- আমরা দেখতে পাচ্ছি যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কত ব্যক্তিগতভাবে ভাব বিনিময় করেন। তিনি যথা উপযুক্ত ভাবে প্রত্যেক নাগরিকদের সাথে ভাব বিনিময় করেছিলেন। আজকালকার যুব সমাজ, অন্তত পাশ্চাত্যের যুবকরা বলে যে আমাদের মতবিনিময় হওয়া উচিত। তারা বলে যে ব্যাস আসন থেকে কথা বলা খুব একটা কার্যকরী নয়। তাদের কাছে প্রচার হচ্ছে একটি খারাপ শব্দ কারণ এর মানে মানুষদের নিচু করা। তাই এখানে আমরা দেখতে পাই যে কিভাবে কৃষ্ণ হচ্ছেন দ্বারকার প্রধান ব্যক্তিত্ব, তিনি রাজা, তিনি পরম পুরুষোত্তম ভগবান; কিন্তু আমরা দেখছি যে তিনি সকল নাগরিকদের অভিবাদন করেছিলেন ও যথা উপযুক্ত ভাবে তাদের সাথে ভাব বিনিময় করেছিলেন। প্রভুপাদ বলছিলেন যে আমরা যদি কৃষ্ণের কাছে এক পা এগিয়ে যাব, তিনি আমার কাছে ১০ পা এগিয়ে আসেন। তিনি আরো বেশি আগ্রহ যাতে আমরা ফিরে যাই। কিন্তু আমরা পিছু পা করছি, এই জড় জগৎ হচ্ছে দুঃখের স্থান কিন্তু তবুও আমরা এর প্রতি অত্যন্ত আসক্ত, আমরা মনে করি যে ইন্দ্রিয় তৃপ্তি করাই হচ্ছে জীবনের উদ্দেশ্য। অস্ট্রেলিয়ার বিরোধ করছে কিছু ভক্ত যে তারা লকডাউন চায় না। কিন্তু তা সত্বেও ভূমিকম্প হইল যার মাত্রা রিখটার স্কেলে ৫.৯। এই জড়জগৎ হচ্ছে দুঃখের স্থান যদি মহামারী না হয়, ভূমিকম্প হয়, ঘূর্ণিঝড় হয় বিভিন্ন অসুবিধা হয়। এই কারণে প্রভুপাদ সকল জীবাত্মাকে ভগবদ্ধামে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।

এখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দ্বারকায় পৌঁছে গেছেন, এটা কত ভালো! এই ভাগবতের বর্ণনা এমন আছে যে আমাদের কৃষ্ণের প্রতি স্বাভাবিক প্রেম বিকশিত করা উচিত। তিনি হচ্ছেন গুণ মনি — কৃষ্ণ হচ্ছেন ভালো গুণাবলীর মণি। মনি মানে রত্ন বা পুতি, গুণ মানে হচ্ছে ভালো গুণ, তাই তিনি হচ্ছেন ভালো গুণাবলীর মণি। আমরা কৃষ্ণ সম্পর্কে যা শ্রবণ করি তাতে তিনি হচ্ছেন আদর্শ ব্যক্তি। যখন কৃষ্ণ হস্তিনাপুর ছেড়ে চলে এসেছিলেন, তখন তারা ক্রন্দন করছিলেন। তারা ভাবছিলেন যে এই দ্বারকাবাসীরা কত সৌভাগ্যবান। এখন আমরা পড়ছি যে কিভাবে দ্বারকায় কৃষ্ণকে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিল। মানুষেরা আহার করছিলেন না, ঘুমাচ্ছিলেন না, তারা সবকিছু ছেড়ে কৃষ্ণকে দর্শন করতে এসেছিলেন। আমার মনে পড়ে যখন চৈতন্য মহাপ্রভু বৃন্দাবনে যাচ্ছিলেন, তিনি বিদ্যানগরে ছিলেন। উনি বলছেন, “কাউকে বলবে না শচীমাতাকে নিয়ে এসো।” কিন্তু এটা যেন ঠিক সূর্যকে ঢেকে রাখার মত ছিল, এই খবর কোনভাবে ফাঁস হয়ে যায় যে, “গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু এসেছেন!হরিবোল! মহিলারা রন্ধন করছিলেন, শিশুকে খাওয়াচ্ছিলেন, আর পুরুষেরা অন্যান্য বিভিন্ন কাজ করছিলেন, যখন তারা শুনলেন যে গৌরাঙ্গ এসেছেন, তারা সবকিছু ফেলে দৌড়াতে লাগলেন। তখন সেই মাঝি বললেন, “বেশি ভিড় করো না, নৌকার উপর বেশি ভিড় করো না!আহঃ! নৌকা ডুবে গেল। এত মানুষেরা ছিলেন, কেউই সেই নৌকাকে ডোবা থেকে রক্ষা করতে পারেননি। তারা জলে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতার কাটছিল। সাধারণত গঙ্গা হলদে আভা যুক্ত, তখন সেই সময় গঙ্গা কালো হয়ে গেল, সব লোকেদের মাথার জন্য। তারা চৈতন্য মহাপ্রভুকে দর্শন করার জন্য এত আগ্রহী ছিলেন, তারা সবকিছু ফেলে দৌড়াতে শুরু করেছিলেন। সেই ভাব দেখা যাচ্ছে দ্বারকায় যে সকলেই কোন না কোনভাবে সময় কাটাচ্ছিল এবং সেখানে কৃষ্ণ নেই বলে তারা সেই বিপ্রলম্ভভাবে ছিলেন। কিন্তু যখন তারা শুনলেন যে কৃষ্ণ এসেছেন, তখন তারা সবকিছু ছেড়ে দৌড়ে গেছিলেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্য কত ভক্তি আছে তাদের!

আপনারা ধারণা করতে পারবেন না বৃন্দাবনের ভাব কত গভীর। চৈতন্য মহাপ্রভু বৃন্দাবনে যাত্রা করেছেন আমরা এখন সেই অংশটি পড়ছি। বলা হয়েছে যে যখন তিনি বৃন্দাবন সম্পর্কে শুনতেন, তখন তাঁর ভাব শতভাগ বৃদ্ধি পেয়েছিল, যখন তিনি মথুরায় গিয়েছিলেন, তখন তাঁর সেই ভাব সহস্র গুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল, যখন তিনি বৃন্দাবনে গিয়েছিলেন, তখন তা দশ সহস্র গুণ বর্ধিত হয়েছিল! কৃষ্ণ দাস, সনদীয় ব্রাহ্মণ তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুকে ব্রজ মন্ডল পরিক্রমায় নিয়ে গিয়েছিলেন। চৈতন্য মহাপ্রভুর গুণ দেখে সে ভাবছে আমি ত্রিজগতে এমন কেউ দেখিনি ভাব উৎপন্ন করে। চৈতন্য মহাপ্রভু কেবল বৃন্দাবনের বনের দিকে তাকানো মাত্রই সেই গাছেরা ফুল ঝড়াতে শুরু করে! যদিও অসময় ছিল। এইভাবে চৈতন্য মহাপ্রভু অনেক অলৌকিক লীলা করেছিলেন। যখন সনদীয় ব্রাহ্মণ বলছিলেন যে এই সব কিছু রাসলীলার আগে ঘটেছিল, তখন চৈতন্য মহাপ্রভু এত মহাভাবে বিভোর হয়েছিলেন যে তাঁর বপু তরলীভূত হয়েছিল! কেউ একজন আমাকে জিজ্ঞেস করছিল যে এটি কি অতিরঞ্জিত ভাবে বলা হয়েছে নাকি এটি সত্যি হয়েছিল? এটাকে অতিরঞ্জিত ভাবার কোন কারণ নেই, চৈতন্য মহাপ্রভু তরলীভূত হয়েছিলেন এবং তারপর ঘনীভূত হয়ে গিয়েছিলেন। আমরা চৈতন্য মহাপ্রভুর মহাভাব বুঝতে পারব না। তিনি তাঁর হাত খুলে রাখতেন আর পাখিরা এসে তাঁর হাতের উপর বসত, হরিণরা এসে তাঁর শ্রীচরণপদ্ম লেহন করত এবং যখন তিনি ঝাড়খণ্ডের বনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন হরিণ আর বাঘেরা বন্ধু হয়ে গিয়েছিল, তারা হরিনাম করছিল ও একে অপরকে চুম্বন দিচ্ছিল! মনে হয়েছে এই ঝাড়খন্ড বন যেন বৃন্দাবন।

কৃষ্ণ প্রশংসা করেছিলেন যে রাধারানী তাঁর জন্য নবদ্বীপ ধাম তৈরি করেছেন। আমরা কেবল একটি ধামের কথাই শ্রবন করি যা রাধারানী সৃষ্টি করেছেন, সেটি হচ্ছে নবদ্বীপ ধাম। এখানে কৃষ্ণ রাধারানীর সাথে একতনু হন এবং সেই রূপ হচ্ছে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু। কৃষ্ণ রাধারানীর হৃদয় এবং অঙ্গ কান্তি সমন্বিত। এই জন্যই রাধা এবং ওঁনার মধ্যে রাধা আছেন, কৃষ্ণ আছেন। তিনি বৃন্দাবনে এত মহাভাবে ছিলেন যে তিনি নিজেকেই আলিঙ্গন করতে চেয়েছিলেন, এটি অবর্ণনীয় যে কিভাবে কৃষ্ণ রাধারানীকে আলিঙ্গন করতে চেয়েছিলেন এবং রাধারানী কৃষ্ণকে আলিঙ্গন করতে চেয়েছিলেন। তাই তিনি নিজেকে আলিঙ্গন করার চেষ্টা করছিলেন।

এখন আমরা দ্বারকার লীলা দেখছি, এবং তা আমাদেরকে কৃষ্ণের নবদ্বীপের লীলাসমূহ স্মরণ করায়। যেখানে তিনি আসছেন গৌরাঙ্গ রূপে, তাই আমাদের কৃষ্ণের প্রতি স্বাভাবিক প্রেম বিকশিত করা উচিত, কৃষ্ণ তিনি শক্ত, তিনি তাঁর ভক্তদের পরীক্ষা করেন। চৈতন্য মহাপ্রভু অত্যন্ত দয়ালু, তিনি কৃষ্ণ প্রেম সকলকে অবাধে বিতরণ করেন। তাই এটাই আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত যে কিভাবে আমরা কৃষ্ণের প্রতি প্রেম বিকশিত করতে পারব, কিভাবে আমরা গৌরাঙ্গের প্রতি প্রেম বিকশিত করতে পারব! আমাদের কাছে বিকল্প আছে — এই জড় জগতে থাকা বা আধ্যাত্মিক জগতে ফিরে যাওয়া।  যেমন বলা হয় যে কেউ কুঠারি দিয়ে গাছ কেটে ফেলে, কিন্তু সেই কুঠারির উপরিভাগের ধারালো অংশ কাঠের সাথে যুক্ত থাকে, ঠিক তেমনই আমরা যদি জড়জাগতিক শক্তিকে কৃষ্ণের সেবায় ব্যবহার করি, তাহলে আমরা ভগবদ্ধামে ফিরে যেতে পারব। আমরা সর্বদা ভগবানের সেবায় স্থির থাকতে পারব আর এর দ্বারা কৃষ্ণ সেবার আনন্দ পেতে পারব।  

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 9/9/23
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions