Text Size

২০২১০৯২৪ প্রশ্ন-উত্তর পর্ব

24 Sep 2021|Duration: 01:22:11|Bengali|Question and Answer Session|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

জয়পতাকা স্বামী:- আমি বলেছি যে আমি তিনটি প্রশ্নের উত্তর দেব — ফেসবুকের দুটি ইংরেজি প্রশ্নের এবং একটি বাংলা প্রশ্নের। 

প্রশ্ন:- এটি কি লক্ষণীয় বা সত্য যে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর অবয়ব তরলীকৃত হয়েছিল? 

জয়পতাকা স্বামী:- যেমন আমরা শ্রী শ্রীমৎ জয়দ্বৈত মহারাজকে বলেছিলাম যে মাহাপ্রভুর দ্বারা সব কিছু সম্ভব। তিনি তরলীকৃত হতে পারতেন, তিনি ঘনীভূতও হতে পারতেন। আমরা এমন কোন কিছুই বলতে পারিনা যা তাঁর দ্বারা সম্ভব নয়। তিনি সবকিছু করতে পারেন! ঠিক যেমন তিনি একটি গাছের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করেছিলেন এবং তাতে এমনকি অন্য ঋতুর ফুল প্রস্ফুটিত হয়েছিল। এইভাবে কখনও কখনও তিনি এত ভাবে বিভোর হতেন যে তিনি হাসতেন, নৃত্য করতেন। এবং বলা হয়েছে যে তিনি যখন বৃন্দাবন শব্দটি শুনতেন, তখন তাঁর মহাভাব ১০০গুণ বৃদ্ধি পেত। তিনি যখন মথুরায় ছিলেন, তখন তাঁর মহাভাব ১০০০গুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং তিনি যখন বৃন্দাবনে ছিলেন, তখন তাঁর মহাভাব ১০০০০গুন বৃদ্ধি পেয়েছিল! এটি অভাবনীয়! তাঁর সাধারণ ভাব এত উচ্চ ছিল যে তা যখন ১০০০০গুণ বৃদ্ধি পেত, তখন তা ছিল অচিন্তনীয়! হরে কৃষ্ণ!

প্রশ্ন:- গৌর মণ্ডল এবং ব্রজ মণ্ডলের লীলাসমূহ কি সমতুল্য

জয়পতাকা স্বামী:- শ্রীমতি রাধারানী বংশী বাজিয়ে কৃষ্ণকে আকর্ষিত করেছিলেন। কৃষ্ণ বললেন, “তুমি আমার জন্য এত সুন্দর নবদ্বীপ ধাম তৈরি করেছো। এই স্থান বৃন্দাবনের থেকে অভিন্ন হবে।এবং তারপর শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমতি রাধারানীর সঙ্গে যুক্ত হলেন ও তাঁরা এক রূপ হলেন। তারপর তারা দুজন ভিন্ন হলেন ও আবার এক রূপ হলেন এবং তিনি হচ্ছেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু। তিনি রাধারানীর হৃদয় ও অঙ্গকান্তি গ্রহণ করেছিলেন, তবে তিনি হচ্ছেন স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ। শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন যে নবদ্বীপ বৃন্দাবনের থেকে অভিন্ন এবং নরোত্তম দাস ঠাকুর গেয়েছেন যে, “গৌর মন্ডল ভূমি যেবা জানে চিন্তামনি তার হয় ব্রজভূমে বাস।অবশ্য আমরা এই স্থান পবিত্র মনে করি কারণ শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু এখানে ছিলেন, কিন্তু চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি বৃন্দাবন ধামে আনন্দ উপভোগ করেছিলেন। এখানে আমরা নবদ্বীপ পরিক্রমায় যাই ও চৈতন্য মহাপ্রভুর লীলাসমূহ স্মরণ করি।

ঈক্ষাকু দাস:- সাম্প্রতিক আমি ইস্‌কনের একজন স্বনামধন্য সন্ন্যাসীর থেকে শুনলাম যে হরিভক্তিবিলাস শাস্ত্র নয় কারণ এটি সাধু এবং গুরু স্থানীয়, তাই এর মধ্যে প্রদত্ত বিবরণসমূহ পরম সত্য হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। তাই শাস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হওয়ার বা শাস্ত্ররূপে গ্রহণ করার নির্ণায়ক কি? যেহেতু অনেক স্বীকৃত শাস্ত্রের বিবরণ সাধু এবং গুরুর থেকেই আসে, শ্রীমদ্ভগবতম্ বা ভগবদ্‌গীতার মত স্বয়ং ভগবানের থেকে আসে না। 

জয়পতাকা স্বামী:- হরি ভক্তিবিলাস হচ্ছে বিভিন্ন শাস্ত্রের থেকে নেওয়া উদ্ধৃতির সমন্বয়, যা সনাতন গোস্বামী সংকলিত করেছিলেন। এইসব উদ্বৃত্তিগুলি এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, যেমন কিভাবে ভীষ্মপঞ্চক করতে হবে। তিনি বিভিন্ন বেদ, শাস্ত্র, পুরাণ থেকে উদ্ধৃতি তুলে প্রকাশ করেছিলেন। যেই ব্যক্তি তোমাকে এটি বলেছেন তিনি বুঝতে পারেননি যে সনাতন গোস্বামী কি করেছেন। তিনি নিজস্ব মত প্রকাশ করেননি, তিনি বিভিন্ন শাস্ত্র থেকে উদ্ধিতাংশ তুলে তা প্রকাশ করেছেন। হরে কৃষ্ণ! 

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 17/7/2023
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions