মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়!
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়!
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়!
জয়পতাকা স্বামী:- আজ হচ্ছে বামন দ্বাদশীর বিশেষ দিন। আমরা গতকাল বামন একাদশীতে উপবাস করেছি। আজ দ্বাদশীতে কারো উপবাস করা উচিত নয়। আজ বামনদেবের আবির্ভাব তিথি এবং শ্রীল জীব গোস্বামীরও আবির্ভাব তিথি। গতকালও আমরা শ্রীশ্রীমৎ ভক্তিচারু স্বামী মহারাজের ব্যাসপূজা উৎসব উদযাপন করেছি। আজ বামনদেবের আবির্ভাব তিথি এবং আরাধনার জন্যে এটি এক অতি অতি বিশেষ দিন। বলি মহারাজ বৈধভাবে সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড জয় করেছিলেন। যদি একজন রাজা অন্য রাজাকে জয় করেন, তাহলে তাকে বৈধ বিবেচনা করা হয়। সুতরাং, সেই একইভাবে, বলি মহারাজ, তিনি বিশ্বজিৎ যজ্ঞ করলেন এবং অশ্বমেধ যজ্ঞ করলেন, আর তারপর তিনি সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড জয় করতে বের হলেন। সেইজন্যে তার কাছ থেকে সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার দুটিই পথ ছিল — হয় তাকে যুদ্ধে পরাজিত করা অথবা তার কাছে ভিক্ষা করা।
অতএব, ইন্দ্রের মাতা অদিতি খুবই বিষন্ন যে ইন্দ্রের পদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তখন তার পতি কাশ্যপ মুনি ধ্যানে বসেছিলেন। যখন তিনি উপদেশ দিলেন। কিন্তু অদিতি তার পতির বাক্য শ্রবণ করে প্রসন্ন হতে পারলেন না। মাতা অদিতি চেয়েছিলেন যে ইন্দ্র যেন তার পদ ফিরে পান। সেটিই তার অভিলাস ছিল। তারপর কশ্যপ মুনি অদিতিকে নির্দেশ প্রদান করলেন যে তার পরমেশ্বর ভগবানের আরাধনা করা উচিত। অতএব, তিনি ভগবান বিষ্ণুকে সন্তুষ্ট করার জন্য পয়োব্রত করলেন। ফলস্বরূপ তিনি ভগবানকে তাঁর পুত্ররূপে লাভ করেছিলেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলা বিলাসের সময় তখন তিনি ভগবানের বাল্য লীলাবিলাস উপভোগ করতে পারেন নি। বামনদেব, তিনি প্রথমে চতুর্ভূজ বিষ্ণু অবতার রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। শঙ্খ, পদ্ম, গদা এবং চক্র সহযোগে, তারপর ভগবান একজন বামন ব্রাহ্মনের রূপ ধারন করেন। পরমেশ্বর ভগবান বলেন যে, “বলি এবং অন্যান্য অসুরেরা ব্রাহ্মনদের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা প্রাপ্ত হওয়ায় প্রায় অপরাজেয় হয়েছে।” তাই ভগবান বিষ্ণু বললেন যে, “যেহেতু তুমি তোমার পুত্র ইন্দ্রের কুশল কামনায় পয়োব্রতের মাধ্যমে আমাকে আরাধনা করেছ, তাই আমি তোমার সাহার্য্যার্থে তোমার পুত্ররূপে আসব।” এইভাবে বামনদেব তার পুত্ররূপে আবির্ভূত হন। ভগবান মাতা অদিতির গর্ভে প্রবেশ করেন। সেইজন্যে মাতা অদিতির গর্ভ থেকে আবির্ভূত হবার সময় তিনি শঙ্খ, গদা, পদ্ম এবং চক্র ধারণ করে চতুর্ভূজ রূপ নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর বক্ষে শ্রীবৎস চিহ্ন ছিল এবং তাঁর কর্ণকুণ্ডল ছিল অপূর্বসুন্দর মকরাকৃতি সম্পন্ন। তাঁর শ্রীহস্তে কঙ্কন এবং বাহুতে বাজুবন্ধ ছিল। তাঁর মস্তকে মুকুট শোভা পাচ্ছিল, এবং তাঁর বক্ষে একটি ব্রাহ্মনোপবীত ছিল। তাঁর শ্রীচরণে নূপুর এবং কণ্ঠে অপূর্ব মালা ছিল, ভ্রমরেরা সেই মালা থেকে মধু আহরনের জন্য গুঞ্জন করে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। তিনি তাঁর কণ্ঠে কৌস্তভ মনি ধারণ করেছিলেন। তাঁর জ্যোতিতে কশ্যপ মুনির সমগ্র গৃহ আলোকিত হয়ে উঠিছিল। তাঁর আবির্ভাবে সমগ্র বহ্মাণ্ডে প্রত্যেকে আনন্দিত হয়ে উঠেছিল। দেবতাগণ, গাভীগণ, ব্রাহ্মনগণ, প্রত্যেকে আনন্দে ভরে উঠল। বামনদেবের আবির্ভাব দিবসের অপর একটি নাম আছে এবং তা হল বিজয়। কৃষ্ণ হলেন সৎ-চিৎ-আনন্দ। তিনি পূর্ণরূপে চিন্ময়। যেমন ব্রহ্মসংহিতায় বর্ণিত আছে “অনাদি অনন্ত রূপম্” তাঁর অনন্ত রূপ, তিনিই আদি। ঠিক একজন প্রধান অভিনেতার মতোই তিনি যে কোন রূপ গ্রহণ করেন। সুতরাং তিনি একজন বামন ব্রাহ্মণের রূপ ধারণ করেছিলেন। এবং সকল মুনি ও ঋষিগণ তাঁকে যুবক ব্রাহ্মণের বেশে দেখে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলেন। কেউ একজন তাঁকে অনতিবিলম্বে উপনয়ণের মাধ্যমে ব্রাহ্মণ দীক্ষা প্রদান করলেন। কেউ তাঁকে একটি ছত্র দিলেন; কেউ দিলেন ব্রহ্মচারী দণ্ড; কেউ দিলেন কমাণ্ডলু, জলের পাত্র। কেউ তাঁকে ছত্র নিবেদন করলেন। এইভাবে একজন ব্রাহ্মনের সকল সামগ্রী তিনি প্রাপ্ত হলেন। চৈতন্য ভাগবতে বর্ণনা আছে যে যখন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর পবিত্র উপনয়ন উৎসব হয়েছিল, তখন শ্রীচৈতন্যদেবকে অবিকল তাঁর বামন অবতারের মতো দেখাচ্ছিল। তিনি এক দ্বার থেকে অন্য দ্বারে ভিক্ষা করে ফিরছিলেন। এটি ভগবানের অত্যন্ত সুন্দর রূপ। তারপর তিনি বলি মহারাজের কাছে গেলেন এবং তাঁকে ত্রিপাদ ভূমি দান করার জন্য বললেন। বলি মহারাজ বললেন, “আমি আপনাকে সমগ্র গ্রহ দিতে পারি, কেন আপনি এত অল্প চাইছেন?” কিন্তু বামনদেব বললেন, “আমি অধিক চাইনা, যদি আমি ত্রিপাদ ভূমিতে সন্তুষ্ট না হই, আমি সমগ্র গ্রহেও সন্তুষ্ট হব না।” তাই বলি মহারাজ বললেন, “ঠিক আছে আপনি যা চান আমি তাই দেব।” কিন্তু তার গুরু শুক্রাচার্য তাকে বললেন, “না, না, ওঁকে দেবেন না। উনি প্রকৃতপক্ষে বিষ্ণু। উনি সব নিয়ে নেবেন।” বলি বললেন, “আমি ইতিমধ্যেই ওঁনাকে কথা দিয়েছি” সুতরাং শুক্রাচার্য বললেন, “বারংবার বিভিন্নভাবে মিথ্যা কথা বলা যায়।” একটি বিষয় আমার মনে পরে যে বিবাহের সময় যদি আপনি কিছু অতিরিক্ত বলেন তার মধ্যেও কোন দোষ নেই। সেইমতো শুক্রাচার্য বললেন যে, “তুমি বলতে পার যে এটি একটি মিথ্যা কথা ছিল।” কিন্তু বলি, তিনি তার গুরুকে অমান্য করলেন। এবং শুক্রাচার্য তাকে অভিশাপ দিলেন যে, “তুমি সমস্ত কিছু হারাবে।” তারপর বামনদেব, তিনি তাঁর কমণ্ডলু থেকে কিছু জল বলি মহারাজের হাতে দিতে চাইলেন। কিন্তু শুক্রাচার্য একটি মাছির রূপ ধারণ করে কমণ্ডলুর নলে ঢুকে জলের পথ বন্ধ করে দিলেন। কিন্তু তখন বামনদেব পাত্রটি তুলে দেখলেন একটি মাছি পথ রোধ করেছে। তিনি একটি কাঠি নিয়ে মাছিটিকে খোঁচা দিলেন, সেইভাবে বামনদেবের কাঠিতে শ্রক্রাচার্যের একটি চোখ অন্ধ হয়ে গেল। এরপর বামনদেব বললেন যে তাঁর পায়ের মাপে তিনি শুধুমাত্র ত্রিপাদ ভূমি অভিলাষ করেন। বলি মহারাজ বললেন, “আপনি বুদ্ধিমান নন। আমি আপনাকে সবকিছু দিতে পারি, আমি আপনাকে সমগ্র গ্রহ দিতে পারি, অর্থ দিতে পারি, স্ত্রী দিতে পারি, কিন্তু আপনি শুধু ত্রিপাদ ভূমি চাইছেন।” তখন তিনি তাঁর কমণ্ডলু থেকে বলি মহারাজের হাতে তিন ফোঁটা জল ঢাললেন এবং চুক্তি নিশ্চিত হল। তারপর বামনদেব, তিনি নিজেকে বিস্তার করতে শুরু করলেন, এক পদে তিনি সমগ্র পৃথিবী আবৃত করলেন। দ্বিতীয় পদে সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড আবৃত করলেন। এবং ব্রহ্মাণ্ডের প্রান্তে পৌছে ব্রহ্মাণ্ডের আবরণ ভেদ করলেন, আর গঙ্গা জল এর মাধ্যমে প্রবেশ করল। তারপর মহাদেব তাঁর মস্তকে গঙ্গাকে ধারণ করলেন। গঙ্গা দিব্যধাম হতে প্রবাহিত হল। পরবর্তীকালে ভাগীরথ মহারাজা গঙ্গাকে এই গ্রহে অবতরণ করতে অনুরোধ করেন। মায়াপুরে আমরা ভাগীরথীকে পাই এবং তা গঙ্গাসাগরে কপিল মুনির আশ্রমে প্রবাহিত হয়। এই ভাবে, বামনদেবের অবতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ তাঁর সাথেই গঙ্গা এই আমাদের গ্রহে এসেছেন। তারপর বামনদেব বলি মহারাজকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমার তৃতীয় পদ আমি কোথায় রাখব?” অতঃপর বলি মহারাজ বললেন, “আমার মাথায় রাখুন।” তারপর তিনি বামনদেবের শ্রীচরণ পদ্ম তার মস্তকে ধারণ করলেন। অতঃপর তিনি চোরের মতো বাঁধা পড়লেন। তারপর তাকে সুতল লোক প্রদান করা হল। কিন্তু বামনদেব তার দ্বাররক্ষী হতে সম্মত হলেন। এবং তিনি তাকে সকল আক্রমণকারীদের কাছ থেকে রক্ষা করলেন। তিনি এও বললেন যে তিন মনুর পরে তিনি বিধিসম্মতভাবে ইন্দ্র হবেন। সুতরাং, এটি একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় লীলা। আমরা দেখতে পাই যে ভগবানের কাছে শরণাগত হলে আমরা কখনও কিছু হারাই না। দুই পদে তিনি বলি মহারাজের সব সম্পদ নিয়ে নিলেন এবং তৃতীয় পদে, তিনি বললেন, “কোথায় আমি স্থাপণ করব?” তিনি দুই পদে তার সব সম্পদ নিয়ে নিলেন। সুতরাং বলি মহারাজ সম্ভাব্য সকল পথে ভগবানকে প্রসন্ন করতে চাইলেন এবং সেইজন্য তিনি বললেন, “কৃপা করে আপনার তৃতীয় পদ আমার মস্তকের উপর স্থাপণ করুন।” অতঃপর বলি মহারাজ প্রকৃতপক্ষে ভগবানকে বিস্তার লাভ করতে দেখতে পাননি, কারণ ভগবানের শ্রীপাদপদ্ম তার মস্তকের উপর ছিল। কাঞ্চীপুরম মন্দিরে আমি দেখেছি। বলি মহারাজ বলেছেন, “আমি আপনার রূপ দর্শন করতে পারছি না। দয়া করে আপনার রূপ দর্শন করতে দিন।” দক্ষিণ ভারতে কাঞ্চীপুরমে একে উলাগাই আলারনাথ বা পেরুমল বলে। যাইহোক, সেখানে এক বিশাল ৩৫ ফুট বিস্তীর্ণ বিগ্রহ আছে। তিনি তার এক পা এইভাবে বিস্তার করেন যে এই রূপে তিনি বিগ্রহকে তিন পাদ বিস্তার লাভ করতে দেখতে সক্ষম হন। আমি সেই মন্দিরে গিয়েছিলাম। এটি অত্যন্ত সুন্দর। আমার মনে হয় না এই রূপ অন্য কোন মন্দির আছে — ৩৫ ফুটের শ্রীবিগ্রহ। যাইহোক, আজ ভগবান বামনদেবের সেই লীলা হয়েছিল। সেটা ব্যাখ্যা করার প্রয়াসে আমাদের পুরো সময় ব্যাতীত হয়ে গেল। আমি শ্রীল জীব গোস্বামীর সম্বন্ধেও বলতে চেয়েছিলাম। তিনি শ্রীরূপ এবং শ্রীসনাতন গোস্বামীর ভ্রাতুষ্পুত্র ছিলেন। তিনি যখন সর্বদা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কথা চিন্তন করতেন, তখন তার পিতা অনুপম অপ্রকট হলেন। কিন্তু শ্রীল জীব গোস্বামী সব সময় শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে অনুসরণ করে বৃন্দাবনে শ্রীল রূপ এবং সনাতন গোস্বামীর সঙ্গে যোগ দিতে অভিলাষ করেছিলেন। সুতরাং তিনি স্বপ্নে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কাছ থেকে আদেশ পেলেন যে কাশী, বারাণসীতে সার্বভৌম ভট্টাচার্যের এক শিষ্যের কাছে তার সংস্কৃত শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। সেই জন্য তিনি সংস্কৃতের এক মহাপণ্ডিত হলেন। তিনি সকল বেদ এবং বৈষ্ণব তত্ত্বের সকল প্রমাণ অধ্যয়ন করলেন। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে তার সতসন্দর্ভে তিনি সকল তত্ত্ব উপস্থাপণ করেছেন, পৃথিবীর সর্ব্বোচ্চ তত্ত্ব। যাইহোক, তিনি বৃন্দাবনে গেলেন এবং রূপ গোস্বামীপাদের কাছে দীক্ষা গ্রহণ করার জন্য সনাতন গোস্বামীপাদের কাছে আদিষ্ট হলেন। এক দিগ্বিজয় পণ্ডিত বৃন্দাবনে এলেন এবং রূপ গোস্বামীকে বললেন যে, “আমি আপনার সাথে তর্ক করতে চাই।” রূপ গোস্বামী বললেন, “ওহ আপনি মহান পণ্ডিত, এভাবে আপনার সময় নষ্ট করার দরকার নেই।” তিনি বললেন যে, “তাহলে আমার বইয়ে সাক্ষর করুন যে আপনি আমার কাছে পরাজিত হয়েছেন।” তাতে তারা সাক্ষর করলেন। শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর বলেছেন যে “জড়ের প্রতিষ্ঠা, শুকরের বিষ্ঠা”— জড় জড়তের যশ শুকরের বিষ্ঠা তুল্য। কিন্তু এই পণ্ডিত, তিনি উচ্ছাস প্রকাশ করছে, “আমি রূপ এবং সনাতনকে পরাজিত করেছি, আমার সামনে ওরা কিছুই না।” এই শুনে শ্রীল জীব গোস্বামী ক্রোধান্বিত হলেন। তারপর তিনি সেই পণ্ডিতকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আহ্বান করলেন। সাত দিন যাবৎ সেই পণ্ডিতের সাথে তর্ক করার পর শ্রীল জীব গোস্বামী বিজয়ী ঘোষিত হলেন। তিনি নিজস্ব যশ এবং সন্মানের জন্য এটি করেন নি। তিনি শুধু নিজ আধ্যাত্মিক গুরুদেবের সম্মান রক্ষার্থে এটি করেছিলেন। তিনি বললেন, “তুমি সাতদিন নষ্ট করেছ! তুমি বৃন্দাবনে বসবাসের যোগ্য নও।” সুতরাং গুরুদেব অসন্তুষ্ট হওয়ায় শ্রীল জীব গোস্বামী অত্যন্ত দুঃখিত হলেন। এবং তখন তিনি এক কুমিরের গর্তে বাস করতে লাগলেন। তিনি ২-৩ দিন পরে পরে আহার গ্রহণ করতেন। কোনওভাবে সনাতন গোস্বামী সেই গ্রামে এসে শুনলেন যে একজন সাধু সেখানে আছেন, তখন সেই গর্তের কাছে গিয়ে তিনি জীব গোস্বামীকে দেখতে পেলেন এবং তখন জীব গোস্বামী এত দূর্বল হয়ে পড়েছিলেন যে গর্ত থেকে বার হতে পারছেন না। সুতরাং, সনাতন গোস্বামী তাকে বার করে আনলেন এবং বৃন্দাবনে ফিরিয়ে নিয়ে গেলেন। সনাতন গোস্বামী রূপ গোস্বামীকে বললেন যে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর তত্ত্বের একটি বিষয় তুমি উপলব্ধি করনি। সেটি হল “জীবে দয়া সকল জীবাত্মার প্রতি দয়া” জীবের অর্থ হল দ্বৈত — তিনি বলেছেন জীব দয়া, জীব অর্থাৎ সকল জীবাত্মা এবং আরেকটির অর্থ জীব গোস্বামীও। যাইহোক, রূপ গোস্বামী জীব গোস্বামীকে আলিঙ্গন করলেন। জাহ্নবাদেবী পরবর্তীকালে জীব গোস্বামীকে লিখেছিলেন যে, “গোস্বামীগণ বিরচিত সকল গ্রন্থাবলী আমাদের প্রয়োজন।” তাই জীব গোস্বামী গ্রন্থগুলির অনুলিপি তৈরী করার জন্য গ্রন্থগুলি বাংলায় পাঠিয়েছিলেন। সেইসময়, শ্রীল জীব গোস্বামী নরোত্তম দাস ঠাকুর, শ্রীনিবাস আচার্য এবং শ্যামানন্দ পণ্ডিতের শিক্ষাগুরু ছিলেন। যাইহোক, অনেক ইতিহাস আছে। শ্রীরূপ এবং সনাতন গোস্বামীর পরে শ্রীল জীব গোস্বামীই ছিলেন বৈষ্ণবগণের চুড়ামনি। সুতরাং তিনি তার সটসন্দর্ভে সকল তত্ত্ব লিপিবদ্ধ করেছেন।
আজ শ্রীল জীব গোস্বামীর ও আবির্ভাব তিথি এবং গতকাল ভক্তি চারু স্বামীর আবির্ভাব বা ব্যাসপূজা ছিল। তিনি শ্রীল প্রভুপাদের ইংরাজী গ্রন্থগুলির বঙ্গানুবাদ করেছেন। ভক্তি চারু স্বামী শ্রীল প্রভুপাদের নির্দেশের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। যাইহোক, আজ এক অত্যন্ত বিশেষ দিন। আমাদের উপলব্ধি করা উচিত যে কেমন করে ভগবানের অনন্ত রূপ আছে। তিনি যেমন অভিলাষ করেন, তেমন রূপ পরিগ্রহণ করতে পারেন। এবং এ সকল ব্যাতীজ্ঞ, তিনি সেই পরমেশ্বর ভগবান।
আমি কিছু প্রশ্ন নেব এবং তারপর আমরা এখানে বিশ্রাম দেব। দয়া করে চ্যাটে একটি বাংলা এবং এক ইংরাজী প্রশ্ন রাখুন।
বাংলা: সুকমল নিত্যানন্দ দাস, হবিগঞ্জ: বলি মহারাজ ত্রিপাদ ভূমি দান করলেন এবং ভগবান দুই পদে সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড আবৃত করলেন এবং তারপর ভগবানের কাছে সর্বস্ব নিবেদন করার জন্য, তিনি এমন কি নিজেকে, তিনি ভগবানের তৃতীয় পদের জন্য তার মস্তক অর্পন করলেন। সুতরাং এখানে আমরা দেখি যে বলি মহারাজ একজন অত্যন্ত দানী ব্যাক্তি, তিনি ভগবানকে তার সর্বস্ব অর্পন করেছেন। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি সর্বতভাবে আত্মনিবেদনও করেছেন। সুতরাং বলি মহারাজের কোন বিষয়টি অধিক মহিমান্বিত করা হয়েছে — ভগবানের প্রতি তার পূর্ণ আত্মসমর্পনের বিষয় নাকি তার একজন মহান দানী ব্যাক্তি হবার বিষয়?
জয়পতাকা স্বামী: তার ভগবানের একজন ভক্ত হওয়ার বিষয়টি। অন্য লীলাটি অন্য কোন যুগে হয়েছিল। কিন্তু তখন ইন্দ্রের সৎ ভাই ছিলেন ভাস্কর পণ্ডিত। ভাস্কর মহারাজ, সেখানে বামনদেব ভাস্করকেও জয় করেছেন এবং ত্রিপাদ ভূমি যাচনা করেছেন। তিনি সেইজন্য ভাস্কর পণ্ডিতকে বলেছেন, “তুমি বড় দানী, তুমি আমার কাছে কোন বর চাও।” এই লীলায় ভাস্কর মহারাজ তার দানশীলতার জন্য মহিমান্বিত হয়েছিলেন। ভাস্কর বললেন, “যেখান থেকে আপনি এসেছেন। আমি সেই স্থানে যেতে চাই। আমি সেখানে যেতে চাই, আমি বৈকুণ্ঠে যেতে চাই।” তাই তিনি ভগবানের কৃপা লাভ করেছিলেন। অতএব, এটি ব্রহ্মার অন্য জন্মের লীলা হতে পারে, আমি জানিনা।
শেষ প্রশ্ন ইংরাজীতে
সুধাময়ী চিত্রা দেবী দাসী: কেন এতো কৃপা লাভের পরেও বলিমহারাজ ভগবদ্ধামে প্রত্যাবর্তন না করে ইন্দ্ররূপে ফিরে এলেন কেন?
জয়পতাকা স্বামী: তিনি শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গ লাভ করেছিলেন। যেহেতু তার ইন্দ্রপদ পাবার অভিলাষ ছিল। সেইজন্য তিনি তিন মনুর পর ইন্দ্র হন। এবং তার জীবনান্তে তিনি অবশ্যই ভগবদ্ধামে ফিরে যাবেন।
ঠিক আছে! আপনাদের অনেক ধন্যবাদ। প্রথমে মায়াপুর ভক্তদের দেখি, তারা তাদের প্রাতরাশ পেতে পারেন। তারপর মন্দির এবং সুদুর প্রাচ্যের ভক্তগনকে দর্শন দেব।
Lecture Suggetions
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ