Text Size

২০২১০৯১৪ ৫১তম সন্ন্যাস বার্ষিকী উপলক্ষে প্রদত্ত বক্তব্য

18 Sep 2021|Duration: 03:23:28|Bengali|Public Address|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ 

জয়পতাকা স্বামী:- শ্রীমতি রাধারানীর জয় হোক! আমার মনে পরে যে ৫১বছর আগে এই শুভ দিনে শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে লস এঞ্জেলসে ৯ জন সন্ন্যাস আছে, আর বলেছিলেন যে ভারতে দুজন আছে, এবং এরপর তিনি বলেছিলেন যে আমি ১১তম সন্ন্যাসী। এই পবিত্র দিনে তিনি আমাকে দণ্ড  দিয়েছিলেন, তিনি আমাকে সন্ন্যাস গায়ত্রী প্রদান করেছিলেন। আমার কি ইংরেজিতে বলা উচিত নাকি বাংলায়? যদি আমি ইংরেজিতে, বলি তাহলে সুজিতেন্দ্রিয় প্রভু তা পুনরায় বাংলায় বলবে। আমি শুনলাম যে একই সাথে অনুবাদ করা হচ্ছে। যাই হোক, আমি ভাবছিলাম যে আমাদের অনেক গৃহস্তরাও সন্ন্যাসীদের মত, তারাও কৃষ্ণের সেবার প্রতি অত্যন্ত উৎসর্গীকৃত। মূল বিষয়টি হচ্ছে কৃষ্ণের সেবা করা, আধ্যাত্মিক গুরুদেবের নির্দেশ পালন করা। সন্ন্যাসী হওয়ায় আমার দায়িত্ব আছে কেবল মন্দিরের প্রতি, আমার শিষ্যদের প্রতি এবং আধ্যাত্মিক গুরুদেবের প্রতি। যদি আমি গৃহস্ত হতাম, তাহলে হয়ত আমাকে নিজের পরিবারের জন্য অনেক সময় অতিবাহিত করতে হত। প্রভুপাদ অত্যন্ত কৃপালু ছিলেন, তাই তিনি আমাকে অনেক নির্দেশ দিয়েছিলেন ও তিনি আমাকে অনেক সঙ্গ প্রদান করেছিলেন। তিনি আমাকে মায়াপুর ধাম বিকশিত করতে বলেছিলেন। আমরা শুনেছি যে কিভাবে রাধারানী ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রীতিবিধানার্থে মায়াপুর ধাম, নবদ্বীপ ধাম সৃষ্টি করেছিলেন। 

অতএব, এটি একটি অতি বিশেষ স্থান এবং আমি এই পবিত্র ধামে থাকতে পেরে অত্যন্ত ভাগ্যবান। এই COVID নিয়মের কারণে আমি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এখানে মায়াপুরে আছি। একই সময় ইন্টারনেট ব্যবহার করে আমি সারা বিশ্বের বিভিন্ন মন্দির দর্শন করতে পারছি। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে আমার বেশি সময় মায়াপুরে থাকা উচিত এবং একই সাথে ভ্রমণ করে প্রচার করা উচিত, এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমি দুটোই করতে পারছি। তবে আমি অনেকবার সমগ্র বিশ্বে ভ্রমণ করেছি, কখনও কখনও এক বছরে ৫-৬ বার ভ্রমণ করেছি এবং এতে আমার সচিবরা ক্লান্ত হয়ে যেত। এবং সমগ্র বিশ্বের বিভিন্ন ভক্তদেরকে দেখা অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। এখন আমি ভাবছি যে কিভাবে সব পুরুষরা, মহিলারা কৃষ্ণভাবনাময় হতে পারবে। আমরা দেখি যে সুনীতি, দেবহুতি তারা এমন মাতা ছিলেন, যারা নিজেদের সন্তানকে কৃষ্ণভাবনামৃতে পথ প্রদর্শন করেছিলেন, এবং তারা ভগবদ্ধামে ফিরে গিয়েছিলেন। অবশ্য দেবহুতি, তিনি পরম পুরুষোত্তম ভগবান কপিল দেবকে নিজের সন্তান রূপে পাওয়ার মতো সৌভাগ্যবতী ছিলেন। 

আমি ভাবছিলাম যে সব পুরুষদের ও মহিলাদের নিজেদেরকে কৃষ্ণভাবনামৃতে এমনভাবে সংযুক্ত করা উচিত, যার মাধ্যমে শ্রীল প্রভুপাদের, পঞ্চতত্ত্বের ইচ্ছা পরিপূর্ণ হবে। আমি জানিনা কৃষ্ণ আমাকে কত দীর্ঘ সময় এই ধরাধামে থাকতে দেবেন, কিন্তু আমি আশা করি যে আমার জীবনের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত আমি যেন শ্রীল প্রভুপাদের নির্দেশাবলী পালন করতে পারি। আমি ব্যক্তিগতভাবে অন্যান্য ভক্তদের সাথে পদযাত্রার অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করার পর খুব শীঘ্র শ্রীবিগ্রহ দর্শন করেছিলাম। তারপর এখন আমি আপনাদের সকলের উদ্দেশ্যে এই কথা বলছি। আমরা শ্রীল প্রভুপাদ এবং তার নির্দেশাবলীকে কেন্দ্রস্থানে রাখতে চাই। আমরা জানি যে এই জড়জাগত অত্যন্ত সংকটপূর্ণ স্থান। প্রতি পদক্ষেপে বিপদ আছে। তবে শ্রীল প্রভুপাদের কৃপায় কৃষ্ণের সেবা করার প্রচেষ্টার কারণে আমি অসাধারণ অনুভব করছি। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু চাইতেন প্রত্যেকে যাতে ভগবত প্রেম আস্বাদন করে, তিনি বলেছিলেন যে ভক্তিবৃক্ষের ফল বিতরণ করতে হবে, তাই আমি আশা করি প্রত্যেকেই যাতে সেই ফল আস্বাদন করতে পারে, এবং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু যেমন অনুরোধ করেছেন সেইমতো তা সকলের মধ্যে বিতরণ করতে সাহায্য করে। একবার কেউ একজন শ্রীবিগ্রহের সামনে শ্রীল প্রভুপাদকে জিজ্ঞেস করল যে তিনি কি প্রার্থনা করছেন। অবশ্য এটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত প্রশ্ন এবং আমার মনে হয় না কোন শিষ্যের এমন কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার অধিকার আছে। কিন্তু প্রভুপাদ সেই শিষ্যের দিকে ফিরলেন এবং বললেন, “আমি প্রার্থনা করছি যাতে আমার কখনও অধঃপতন না হয়!” তাই অবশ্যই আমরা জানি যে এই চরজগৎ আমাদেরকে প্রত্যেক সময় পরীক্ষা করছে এবং তাই এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা যাতে নিজেদেরকে গুরু গৌরাঙ্গের প্রতি সমর্পণ করি। আমার সন্ন্যাসী হওয়ার এই সুযোগ হয়েছিল এবং আমরা ৫১তম বার্ষিকী উদযাপন করছি। আমি আশা করছি রাধা-মাধবের কৃপায় আমি সর্বদা শ্রীল প্রভুপাদের সেবা করতে থাকব। হরে কৃষ্ণ! 

আসলে শ্রী শ্রীমৎ ভক্তি পুরুষোত্তম স্বামীর প্রকাশিত শ্রীমতি রাধারানীর মহিমা সমন্বিত সেই গ্রন্থের দ্বিতীয় খন্ড পড়ার জন্য আমি অপেক্ষা করছি। প্রথমভাগে বলা হয়েছে যে তারা বিভিন্ন মহিলাদের সতীত্ব পরীক্ষা করেছিলেন, তারা অনেক ছিদ্রযুক্ত একটি পাত্র দিয়েছিলেন ও তা নিয়ে যমুনা বা এরকম কোন স্থান পার করে আসতে হত তবে সব জল যেন সেই পত্রের ভেতরই থাকে এবং রাধারানী ছাড়া সকলেই সেই পরীক্ষায় অসফল হয়েছিলেন। শ্রীমতি রাধারানীর জয়!  

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 23/8/2023
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions