Text Size

২০২১০৯১১ শ্রীমদ্ভাগবতম ১.১১.১১-১২

11 Sep 2021|Duration: 00:37:47|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

 মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
 যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
 হরি ওঁ তৎ সৎ 

ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
     ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
     ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!

শ্রীমদ্ভাগবতম ১/১১/১১-১২
শ্লোক ১১ 
মধুভোজদশার্হার্হকুকুরান্ধকবৃষ্ণিভিঃ। 
আত্মতুল্যবলৈর্গুপ্তাং নাগৈর্ভোগবতীমিব॥

অনুবাদ:- নাগলোকের রাজধানী ভোগবতী যেমন নাগদের দ্বারা সুরক্ষিত, তেমনই দ্বারকা নগরী শ্রীকৃষ্ণেরই মতো বলশালী মধু, ভোজ, দশার্হ, অর্হ, কুকুর, অন্ধক ও বৃষ্ণিদের দ্বারা সুরক্ষিত ছিল।

তাৎপর্য:- নাগলোক পৃথিবীর নীচে অবস্থিত, এবং সূর্যকিরণ সেখানে প্রবেশ করতে পারে না। তবে সেখানকার অন্ধকার দূর হয় নাগদের (স্বর্গীয় সর্পের) মাথার মণির জ্যোতির দ্বারা; এবং বলা হয় যে নাগদের উপভোগের জন্য সেখানে অনেক সুন্দর সুন্দর বাগান, নদী ইত্যাদি রয়েছে। এখানকার বর্ণনা থেকেও বোঝা যায় যে সেই স্থানটি সেখানকার অধিবাসীদের দ্বারা সুরক্ষিত। দ্বারকা নগরীও তেমন বৃষ্ণি বংশীয়দের দ্বারা সুরক্ষিত ছিল; এই বৃষ্ণি বংশীয়েরা ছিলেন ভগবানেরই মতো শক্তিশালী, যে প্রকার শক্তি ভগবান এই জগতে প্রকাশ করেছিলেন।

 

শ্লোক ১২
সর্বতুসর্ববিভবপুণ্যবৃক্ষলতাশ্রমৈঃ।
উদ্যানোপবনারামৈবৃতপদ্মাকরশ্রিয়ম্‌ ॥ ১২॥ 

অনুবাদ:- দ্বারকা নগরী সমস্ত ঝতুর সর্ববিধ ঐশ্বর্য ও সম্পদে পরিপূর্ণ ছিল। সেখানে সর্বত্র পবিত্র বৃক্ষ ও লতা, আশ্রম, উদ্যান, উপবন, বিলাসকুঞ্জ এবং বিকশিত পদ্মে পূর্ণ সরোবর ছিল।

তাৎপর্য:- মানব সভ্যতার পূর্ণতা প্রকৃতির দানগুলি যথাযথভাবে ব্যবহার করার মাধ্যমেই লাভ করা সম্ভব, যা এখানে দ্বারকার এশ্রর্য বর্ণনায় প্রকট হয়েছে। দ্বারকা নগরী পুষ্প এবং ফলের উদ্যানে পরিবৃত ছিল, আর ছিল পদ্ম ফুলে পরিপূর্ণ বহু সরোবর। সেখানে কোন কলকারখানা বা সেগুলিকে সাহাষ্য করার জন্য কসাইখানার উল্লেখ নেই, যা হচ্ছে আধুনিক নগরীর অপরিহার্য অঙ্গ। প্রকৃতির উপহারগুলির সদ্যবহার করার প্রবণতা আধুনিক যুগের সভ্য মানুষদের হাদয়েও রয়েছে। আধুনিক সভ্যতার নেতারা তাদের বাসস্থান নির্মাণের জন্য এমন স্থান মনোনয়ন করে, যেখানে এই প্রকার সুন্দর উদ্যান এবং সরোবরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রয়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষদের তারা উদ্যান এবং বাগানবিহীন সংকীর্ণ এলাকায় থাকতে দেয়। দ্বারকাপুরীর যে বর্ণনা এখানে আমরা পাই তা কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমরা দেখতে পাই যে সেই ধাম পদ্ম শোভিত সরোবর সমন্বিত উদ্যান এবং বাগানে পরিবৃত ছিল। আমরা জানতে পারি যে সেখানকার সমস্ত মানুষ প্রকৃতির দানরূপ ফল এবং ফুলের উপর নির্ভর করতেন। সেখানে কোন যান্ত্রিক উদ্যোগ ছিল না, যার ফলে মানুষের বাসস্থান নোংরা কুঁড়ে ঘরে পূর্ণ বস্তিতে পরিণত হয়। সভ্যতার প্রগতির মাপকাঠি মানুষের সূক্ষ্ম প্রবৃত্তিগুলির বিনাশকারী মিল এবং কলকারখানার বৃদ্ধি নয়, পক্ষান্তরে তা হয় মানুষের আধ্যাত্তিক প্রবৃত্তির বিকাশের মাধ্যমে, যার ফলে তারা ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পায়। কলকারখানা এবং মিলের বিকাশকে বলা হয় উগ্রকর্ম, এবং এই প্রকার কর্মের ফলে মানুষের কোমল মনোবৃত্তি বিনষ্ট হয়ে যায় এবং সমাজ অসুরদের অন্ধকার কারাগারে পরিণত হয়।

এখানে আমরা পুণ্যবান বৃক্ষের উল্লেখ দেখতে পাই, যা ঋতু অনুসারে ফুল এবং ফল উৎপাদন করে। জঙ্গলের অকেজ বৃক্ষগুলি পুণ্যহীন, এবং তাদের কেবল জ্বালানী কাঠ হিসাবেই ব্যবহার করা যায়। আধুনিক সভ্যতায় এই প্রকার পুণ্যহীন গাছগুলিকে রাস্তার পাশে লাগানো হয়। পারমার্থিক উপলব্ধির জন্য সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলি বিকশিত করার উদ্দেশ্যে মানুষের শক্তির যথাযথ সদ্যবহার করা উচিত, কেননা এই পারমার্থিক উপলব্ধির মধ্যেই নিহিত রয়েছে জীবনের সমস্যাগুলির প্রকৃত সমাধান। মনুষ্য শরীরের সূক্ষ্ম কোষগুলি বিকশিত করার জন্য ফল, ফুল, সুন্দর বাগান, উদ্যান, পদ্মফুলের মাঝে ক্রীড়ারত হংস সমদ্ধিত সরোবর, এবং যথেষ্ট পরিমাণে দুধ ও মাখন প্রদানকারী গাভীর অত্যন্ত প্রয়োজন। এগুলির বিপরীত, কলকারখানা এবং খনি সেখানকার শ্রমিকদের আসুরিক প্রবৃত্তি বৃদ্ধি করে। শ্রমিক শ্রেণীর কঠোর পরিশ্রমে স্বার্থান্বেষী মালিক সম্প্রদায় পুষ্ট হয় এবং তার ফলে তাদের মধ্যে নানাভাবে কঠোর সংঘর্ষ হয়। দ্বারকা ধামের এই বর্ণনা মানব সভ্যতার আদর্শ।

***

জয়পতাকা স্বামী:- এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে দ্বারকা কত সুন্দরভাবে ফুলের বাগানফলের বাগান দ্বারা সুপরিকল্পিত ছিল। এবং তা ছিল অত্যন্ত সুন্দর ও এতে প্রাকৃতিক সুযোগ-সুবিধা ছিল। এইভাবে আমাদের মায়াপুর নগরীর পরিকল্পনা করে করা উচিত। কিন্তু মানুষেরা বড় বড় অতিথিশালা ও ইমারত তৈরি করছে। কিন্তু এইভাবে বাগান ইত্যাদি দেখা যায় না। এজন্য এখন প্রত্যেকের বাড়ির সঙ্গে বাগান একটা থাকা উচিত। এখানে দেখতে পাচ্ছি যে দ্বারকাবাসীরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে দর্শন করার জন্য অত্যন্ত অধীর ছিলেন। যদিও তাদের এক সুন্দর নগরী এবং সব রকমের সুযোগ-সুবিধা ছিল, কিন্তু তারা সকলে কৃষ্ণকে দেখার জন্য উদগ্রীব ছিল। এবং যখন তিনি এসেছিলেন, তারা ওঁনাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছিল ও উপহার দিয়েছিল। প্রভুপাদ উদাহরণ দিয়েছেন যেমন একটা দীপ সূর্যের কাছে অর্পণ করা হয়। আমরা গঙ্গা পূজা করা, সেই গঙ্গা জল নিয়ে আমরা গঙ্গাকে অর্পণ করি। দ্বারকাবাসীর যা কিছু ছিল, তা ছিল কৃষ্ণের কৃপায়, কিন্তু তবুও তারা তাদের প্রেম প্রদর্শনের জন্য কৃষ্ণকে উপহার দিয়েছিলেন। তারা শ্রীকৃষ্ণের মধুর হাস্য দর্শনের জন্য উদগ্রীব ছিলেন। এইভাবে কৃষ্ণ শঙ্খ বাজিয়েছেন এটি ঘোষণা করার জন্য যে তিনি এসেছেন। দ্বারকার মানুষেরা শ্রীকৃষ্ণ ছাড়া অত্যন্তই বিমর্ষ ছিলেন। যখন তিনি ফিরে এসেছিলেন, তখন যেন তাদের মধ্যে প্রাণের সঞ্চার হয়েছিল। শ্রীল প্রভুপাদ বেশ সময় ধরে দ্বারকার এই সৌন্দর্য বর্ণনা করেছিলেন তিনি, কিভাবে এই দ্বারকাতে ফুলের বাগান, ফলের গাছ এই সব ছিল। আমরা দেখি যে বর্তমান PWD রাস্তায়, তাদের একপ্রকার অব্যবহারযোগ্য গাছ আছে, এই সমস্ত গাছগুলি কেবল জ্বালানির জন্য ভালো। কোন ফল নাই, কোন পুষ্প নাই, এখন গাছগুলো এমনি জঙ্গলের গাছ, কিন্তু দ্বারকায় ফল ফুল সহ সুন্দর গাছ ছিল। সেই পরিবেশ ছিল খুবই মনোরম, কিন্তু সেখানকার মানুষেরা এই সবকিছুর ঊর্ধ্বে কৃষ্ণকে ভালোবাসতেন। এই সমস্ত মানুষদের নিশ্চয়ই সুযোগ আছে ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়ার।

আমি প্রভুপাদের সঙ্গে ব্যারাকপুর ট্রাঙ্ক রোড দিয়ে গাড়িতে যাচ্ছিলাম, প্রভুপাদ বলেছিলেন যে তার ছোটবেলায় অন্তত সেখানে কিছু জুট মিল ছিল, এখন রাস্তা লরি, চাকা, ইমারত, কারখানা ইত্যাদি ভর্তি। কিভাবে দেশের মানুষেরা শহরে আসে কারখানায় কাজ করার জন্য, এবং শহরের পরিস্থিতি হচ্ছে বস্তিতে বাস করার মত, যেহেতু এই পরিবেশ হচ্ছে অত্যন্ত দূষিত। তারা নেশা করে, তারা বিভিন্ন জুয়া খেলা করে ইত্যাদি, এইভাবে গ্রামের মধ্যে ভালো পরিবেশ ছিল, এখন শহরের মধ্যে খারাপ পরিবেশ। আমি আমেরিকার আটলান্টায় একজন বাংলাদেশীর সাথে কথা বলছিলাম, উনি বলছেন, “আমি কত ভালো ছিলাম, বাংলাদেশে পুকুর ছিল, গাছ ছিল। এখানে কিছু হলে কেউ লক্ষ্য করে না, ওখানে সবাই বন্ধু-বন্ধু।তাই যদিও তার কাছে বেশি অর্থ আছে, কিন্তু অর্থই সবকিছু নয়। তাই আমরা দেখি যে মানুষদেরকে যাতে পারমার্থিক জগতে, ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়ার সম্ভবনা প্রদান করা হয়, যা হচ্ছে মনুষ্য জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য। তাই আমরা আশা করি যে সকল মানুষেরা ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়ার এই সুযোগটি গ্রহণ করবে। 

প্রভুপাদের ব্যাস পূজার জন্য চেন্নাই, দক্ষিণ ভারত, সেখানে সুন্দর একটা নাটক করেছিল। এ ছিল সম্পূর্ণ ভক্তিবৃক্ষ দ্বারা করা। যুবক ছেলে-মেয়ে নাটক করছিল যমরাজ আর দুটো যমদূতের। যমদূতরা অভিযোগ করছিল —এই ভক্তিবেদান্ত, তার প্রচারের কারণে সবাই হরে কৃষ্ণ জপ করছে, আমরা তাদেরকে নরকে নিয়ে যেতে পারছি না।আরেক যমদূত যমরাজকে বলছে, “বাড়িতে কৃষ্ণের মন্দির আছে, ঠাকুর আছে, তাদের কাছে ভাগবতম্ আছে, ভালো হবে যদি আমরা কোন নতুন চাকরি পাই, কারণ প্রত্যেকে এমন হয়ে গেলে আমাদের আর কাউকে নরকে নিয়ে যেতে হবে না।তাই আমরা চাই কাউকেই যাতে যমদূতরা নিয়ে যেতে না পারে। এবং প্রত্যেকে তাদের গৃহে কৃষ্ণের অর্চনা করুক ও হরে কৃষ্ণ জপ করুক। ছোট শিশুদের আরেকটি নাটক হয়েছিল যে একটা বাচ্চা মেয়ে জগন্নাথের শ্রীবিগ্রহ এনেছিল, সে মালতী দেবীর অভিনয় করছিল, এবং প্রভুপাদ, যে শিশু প্রভুপাদের অভিনয় করছিলসে জগন্নাথ বিগ্রহকে প্রণাম করল, “এ ত কৃষ্ণ! এ ত কৃষ্ণ! একটা সবুজ রঙের আর সাদা রঙের আর দুটো মূর্তি আছে কি?” মালতি বলল, “হ্যাঁ!“তাদেরকে নিয়ে এসো।” তারপর সে সুভদ্রা আর বলদেবকে নিয়ে এল। এইভাবে জগন্নাথ বলদেব সুভদ্রা তারা নিজেরাই আমাদের মন্দিরে এসেছিলেন! এবং এই জগন্নাথ, বলদেব, সুভদ্রা হচ্ছেন নীলাচলের, তারা দ্বারকার কৃষ্ণের থেকে ভিন্ন নয়। এবং যখন একবার রথযাত্রা হয়, তখন তারা বৃন্দাবনে ফিরে যান। শ্রীল প্রভুপাদ আমাদেরকে বলেছিলেন যে কলকাতা রথ যাত্রায় তারা যেখানে যাবে সেখানে রাধা কৃষ্ণ থাকা উচিত। তাই তারা এই রাধাকৃষ্ণ মূর্তি রাখে।  

এইভাবে আমরা এখন পড়ছি চৈতন্যদেব তিনি বৃন্দাবনে গিয়েছেন, সনদীয় ব্রাহ্মণ কৃষ্ণ দাস তাঁকে বৃন্দাবনের দ্বাদশ বনে নিয়ে যাচ্ছেন, প্রত্যেক বনে কৃষ্ণের ভিন্ন লীলা শ্রবণ করা হচ্ছে। এই লীলা শুনে চৈতন্যদেব ভাবাপূর্ণ হয়ে, প্রেম ভক্তি হয়ে, অজ্ঞান হয়ে পড়লেন। মনুষ্য জীবন হচ্ছে কৃষ্ণের প্রতি এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রেম জাগরিত করার জন্য। চৈতন্যচরিতামৃতের আদি লীলা সপ্তম অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে পঞ্চতত্ত্ব তারা এত খুশি ছিলেন যখন তারা দেখেছিলেন প্রত্যেকে কৃষ্ণ প্রেমে প্লাবিত হয়েছে, এই প্রেম বন্যার কারনে সকাম কর্মের বীজ অঙ্কুরিত হচ্ছিল না। প্রত্যেককে কৃষ্ণ প্রেমে নৃত্য কীর্তন করতে দেখে তাঁরা পরম উল্লাস অনুভব করছিলেন। এখন গৃহী হোক, বৈরাগী হোক, সকলে কৃষ্ণ নামের দ্বারা কীর্তন করে কৃষ্ণ প্রেমে মত্ত হোক। আমরা দেখতে পাই যে দ্বারকাবাসীদের কৃষ্ণ প্রেমের এই ভাব আছে এবং আমরা দেখতে পাই যে মথুরাবাসী, বৃন্দাবনবাসী তাদেরও কৃষ্ণ প্রেমের এই ভাব আছে। মথুরায় ২৪টি ঘাট ছিল। চৈতন্য মহাপ্রভু প্রত্যেক ঘাটে স্নান করেছিলেন। কৃষ্ণ দাস দেখিয়েছিলেন যে এই ছিল কুব্জার গৃহ, এই ছিল সেই ধোপান্নির গৃহ, এই ছিল সেই বস্ত্র ব্যবসায়ীর গৃহ। চৈতন্য মহাপ্রভু এত ভাবে বিভোর হয়েছিলেন, কেবল কৃষ্ণের লীলা শ্রবন করে! তারপর তিনি বললেন যে, “এটি হচ্ছে সেতুবন্ধ পুকুর।” সেখানে কৃষ্ণ বলেছিলেন, “আমি রঘুনাথ! আমি রাম!কিন্তু রাধারানী বলছেন, “না! তুমি তো একটা গোপাল ছেলে। তুমি যদি রাম হয়, তুমি এই পুকুরের মধ্যে পাথর ভাসিয়ে সেতু করো।সেখানে সকল গোপীরা, শ্রীমতি রাধারানীর সহকারীগণ, তারা বললেন যে, “আমরা পাথর এনে দিচ্ছি, তুমি সেগুলিকে ভাসাও।কৃষ্ণ বললেন, “কোন সমস্যা নেই! আমি তাই করব।তখন তারা পাথর এনে দিয়েছিলেন ও শ্রীকৃষ্ণ জলে ভাসমান পাথর দিয়ে সেই সেতু নির্মাণ করেছিলেন। তখন রাধারানী মৃদু হাসছিলেন। এইভাবে সমস্ত লীলা দেখেছিল বৃন্দাবনে এবং এই শুনে শ্রীচৈতন্যদেব বিপুল আনন্দমন্ডিত হলেন। এই লীলা বৃন্দাবনে হচ্ছিল, মথুরা, বৃন্দাবন, দ্বারকায়। তাই আমরা যদি কেবল এই কৃষ্ণ প্রেম বিকশিত করতে পারি, তাহলে আমরা খুব সহজে বৈকুন্ঠ, গোলকে ফিরে যেতে পারি। শ্রীমদ্ভাগবত অধ্যয়ন করার মাধ্যমে আমরা শ্রীকৃষ্ণের কত সঙ্গ লাভ করছি। 

কোন প্রশ্ন আছে কি

ভক্তি বিজয় ভাগবত স্বামী:- হরে কৃষ্ণ! খুবই জ্ঞানদীপ্তিময় প্রবচন — যমদূতের নাটক, কিভাবে জগন্নাথ নিজেই আমাদের মন্দিরে এসেছিলেন এবং মহাপ্রভুর বৃন্দাবনে যাত্রা। অনেক ভক্তরা আমাকে জিজ্ঞেস করেছে যে কিভাবে রাধাষ্টমী উদযাপন করা যাবে, কারণ শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর বলেছেনরাধা ভজনে যদি রতি নাহি হল, কৃষ্ণ ভজন অকারণ গেল” — যদি তুমি কৃষ্ণকে খুশি করতে চাও, তাহলে রাধারানীকে খুশি করো। তাই দয়া করে আমাদেরকে উপদেশ প্রদান করুন যে কিভাবে ভক্তরা তাদের গৃহে কারোর যদি শ্রীবিগ্রহ থাকে, কারোর যদি কেবল চিত্রপট থাকে, তাহলে তারা কিভাবে রাধাষ্টমী উদযাপন করবে এবং রাধারানী ও কৃষ্ণকে প্রসন্ন করতে পারবে আর সহজেই কৃষ্ণ প্রেম লাভ করতে পারবে

জয়পতাকা স্বামী:- যদি তোমার রাধারানীর বিগ্রহ থাকে, তাহলে তুমি রাধা কৃষ্ণের অভিষেক করতে পারো। যদি তোমাদের চিত্রপট থাকে, তাহলে তোমরা সেই চিত্রপটের সামনে জল দিয়ে অভিষেক করতে পার। তোমরা কৃষ্ণ বইতে সেই অধ্যায়টি পড়তে পার, যেখানে রাধারানীর কৃষ্ণের প্রতি প্রেমের বিষয়ে বলা আছে। 

ভক্তি বিজয় ভাগবত স্বামী:- আমাদের কি প্রসাদ গ্রহণ করা উচিত —  অনুকল্প নাকি অন্ন প্রসাদ? অনেক ভক্তরা এটিও জিজ্ঞাসা করছে।  

জয়পতাকা স্বামী:- অন্ন প্রসাদ। আমরা শ্রীল প্রভুপাদকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে কৃষ্ণের জন্য আমাদের মধ্যরাত্রি পর্যন্ত উপবাস থাকতে হয় এবং আমরা অনুকল্প প্রসাদ পাই, রাধারানীর জন্য কেন আমরা কেবল দুপুর পর্যন্ত উপবাস থাকি ও অন্ন প্রসাদ পাই? তিনি বলেছিলেন যে, “রাধারানী অধিক করুণাময়।হরিবোল! হরিবোল! জয় রাধে! 

বাংলা, পঙ্কজ চরণ দাস, নোয়াখালি, বাংলাদেশ:- কখনও কখনও ভক্তরা যখন কোন উপদেশকের তত্ত্বাবধানে থাকে, তখন সেই উপদেশক তার তত্ত্বাবধানে যারা আছে তাদেরকে কিছু শাস্তি প্রদান করে এবং কখনও কখনও এমন হয় যে সেই সমস্ত ভক্তরা যারা সেই উপদেশকের তত্ত্বাবধানে থাকে, তারা তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ও এক পরিবর্তন আনে। এক্ষেত্রে, ভক্তরা যারা কোন পরামর্শদাতার তত্ত্বাবধানে আছে, তাদের মানসিকতা কেমন হওয়া উচিত?  

জয়পতাকা স্বামী:- তোমার কি সেই কাহিনীটা মনে পড়ে যেখানে দক্ষ দেবাদিদেব শিবের প্রতি অপরাধ করেছিল? সেই তাৎপর্যে বর্ণনা করা আছে যে এইভাবে শাস্তি পাওয়ায়সেই শাস্তি তার জন্য ভালো ছিল, নয়তো সে আবার বারংবার এই ভুল করত, অবশ্য দেবাদিদেব শিব এতই শক্তিশালী ছিলেন যে তিনি তার জীবন ফিরিয়ে আনতে পারতেন। তাই আমি জানিনা পরামর্শদাতা কি শাস্তি দিয়েছেন, বা তা সঠিক কিনা, কিন্তু এটিকে সঠিক মনে করে সেই ব্যক্তির কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। যদি আমরা তা না বুঝতে পারি যে কেন আমাদেরকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, তাহলে আমরা হয়ত জিজ্ঞেস করতে পারি আমাদের ভুল বলার জন্য । 

ভক্ত ধ্রুব, আকাঙ্ক্ষী শিষ্য, বলরাম দেশ:- যদি আমরা ধামে কোন অপরাধ করি, তাহলে তা কি এমনিই মুছে যাবে কারণ আমরা ধামে আছি বলে? আমি বলতে চাইছি, ধামের শক্তি দ্বারা?  

জয়পতাকা স্বামী:- দেখো তুমি যদি ধামে থাকার বলে কোন পাপ কার্য কর, তাহলে সেটি একটি অপরাধ। ঠিক যেমন সপ্তম নাম অপরাধ হচ্ছে নাম বলে পাপ আচরণ করা। কিন্তু যদি দুর্ঘটনাক্রমে আমরা কোন পাপ করি, তাহলে ভক্তিমূলক সেবার মাধ্যমে তা মুছে যেতে পারে।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 7/10/23
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions