Text Size

২০২১০৯০৫ সমগ্র বিশ্বের জয়পতাকা স্বামী শিষ্য সমূহের অনলাইন ভজন সভায় প্রদত্ত ভাষন (২য় দিন)

5 Sep 2021|Duration: 00:22:03|Bengali|Others|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

 মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
 যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
 হরি ওঁ তৎ সৎ 

মরীচি দাস, জুম পরিচালক:- গুরুদেব যত্ন গ্রহণ করা হচ্ছে আপনার সহজাত বিশেষ গুণ, তাই আপনি যদি আমাদেরকে কিছু বলেন। প্রথম প্রশ্নটি হচ্ছে — কিভাবে আমরা এই চমৎকার গুন বিকশিত করতে পারব? এবং তার সাথেই দ্বিতীয় প্রশ্ন আসে, কারণ এটিও যত্ন গ্রহণ বিষয়ে সম্পর্কিত, গুরুমহারাজ অনেক বছর ধরে আমরা জানি যে আপনি আপনার শিষ্যদের যত্ন গ্রহণ করতে চান, এখন আপনি জয়পতাকা স্বামী কেয়ার (JPS Care) তৈরি করেছেন এবং আপনি জয়পতাকা স্বামী ই-কেয়ার (JPS E-Care) তৈরি করেছেন, এখন আমাদের সমগ্র বিশ্বে জয়পতাকা স্বামী শিষ্য সমূহের গ্রুপ আছে, আমরা চাই আপনি যাতে আমাদেরকে কিছু বলেন যে কিভাবে এইগুলি আপনার শীষ্যদের যত্ন গ্রহণের সেবায় আপনাকে সাহায্য করবে? কিভাবে এগুলিকে সমন্বিত করা যাবে এবং শীষ্য হিসেবে আমরা কিভাবে অংশ নেব? আমরা এই তিনটি বিষয়ে আপনার থেকে বিশদ বর্ণনা চাই। 

জয়পতাকা স্বামী:- মরীচি দাস তুমি খুব প্রিয় ভক্ত। যেমন জগন্নাথ কীর্তনানন্দ বলল যে তুমি অনেক মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছ। দেবমাধব প্রভুও তরুণ ব্যক্তিদের যত্ন প্রদানের বিষয়ে তার ধারণা দিয়েছেন, যা আমাকে মনে করায় শ্রীধর স্বামী মহারাজ আমাদেরকে কি নির্দেশ দিয়েছেন। যদি তুমি  অনুদাতাদের থেকে অর্থ চাও, তাহলে তারা তোমাকে পরামর্শ দেবে, আর যদি তুমি তাদের থেকে পরামর্শ চাও, তাহলে তারা অর্থ দেবে। এটি আকর্ষণীয়! তিনি বলছিলেন যে যদি তুমি মানুষের যত্ন নাও, তাহলে তারা তোমাকে তাদের জীবন দেবে, আর তুমি যদি তাদের জীবন চাও, তাহলে তারা কিছুই দেবে না। তিনি এইরকম কিছু বলছিলেন। অবশ্য মায়াপুরে প্রত্যেক বৃহস্পতিবার জয়পতাকা স্বামী শীষ্য সমূহের অনুষ্ঠান হয়, আমি শুনেছি যে তাতে প্রায় ২০০০ ভক্ত যোগদান করেছিল। কিন্তু কোনভাবে সমগ্র বিশ্বের জয়পতাকা স্বামী শীষ্য সমূহের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে তাদের ৯৫২ জন সদস্য আছে, আমি জানিনা যে সেটি সঠিক কিনা। তবে সে যাই হোক তারা আমাকে শিষ্যদের সাথে সংযুক্ত হতে সাহায্য করছে এবং শিষ্যদের শিষ্যদেরকে সাহায্য করার মাধ্যমে তারা তাদের উপলব্ধি ব্যক্ত করে যা শব্দহরি বলল যে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট পড়ার মাধ্যমে যা জানকি রামচন্দ্র দেখে বা জয়পতাকা স্বামী অ্যাপের অংশ হওয়ার মাধ্যমে যা সত্যমেধা গৌরাঙ্গ দেখে, সব কিছু শ্রীল প্রভুপাদের আন্দোলনে সাহায্য করার জন্য। শ্রীল প্রভুপাদ আমাকে বলেছিলেন ও নির্দেশ দিয়েছিলেন অনেক শিষ্য করতে কিন্তু তারপর আমি উপলব্ধি করেছি যে শিষ্য করা এক বিষয় ও যেমন কস্তুরী মঞ্জুরি কৃপা দেবী দাসী বলল যে তাদেরকে ধরে রাখা আরেক বিষয়। কখনো কখনো আমরা শুনি যে শিষ্যরা তাদের জপ ছেড়ে দিতে চায়, তারা মনে করে এখনও তারা জড় জগতে কষ্ট ভোগ করছে, তাদের কিছু ভ্রান্ত প্রত্যাশা রয়েছে যে ভক্ত হলে এই জড়জগৎ অমৃতে পরিণত হবে। এই জড় জগৎ হচ্ছে জড় জগত এবং কৃষ্ণের কৃপায় তুমি হয়ত এর সবথেকে বাজে পরিস্থিতির থেকে রক্ষা পাবে, তাই আমরা মনে করি যে আমি যা কিছু কষ্ট ভোগ করছি, তা আমার প্রাপ্য কষ্টের তুলনায় থেকে কম। 

তাই আমরা চাই মানুষেরা যাতে জেপিএস কেয়ারে অংশগ্রহণ করে, আমরা চাই ভক্তরা যাতে এই জয়পতাকা স্বামী শীষ্য সমূহে যুক্ত হয়। আমরা সমগ্র বিশ্বের জয়পতাকা স্বামী শীষ্য সমূহে কার্যক্রমের প্রতি কৃতজ্ঞ তাদের এই প্রচেষ্টার জন্য। আসলে আমরা দেখতে পাই যে ব্যবহারিকভাবে তারা খুবই সংগঠিত। কিছু শিষ্যরা আসে ও বলে যে শব্দহরি দাস এবং অন্যান্যরা খুব ভালোভাবে সংগঠিত। আমরা খুবই কৃতজ্ঞ। কোন না কোন ভাবে আমরা চাই ভক্তরা যাতে এই বৈষ্ণব সঙ্গের সাথে যুক্ত হয়। আমি এপিএস কেয়ারে তা উল্লেখ করেছি যে আমরা চাই আকাঙ্ক্ষী, আশ্রিত, দীক্ষিত, শিক্ষা এবং শুভাকাঙ্ক্ষী শিষ্যদের বা ভক্তদের যত্ন নিতে, কিন্তু এখন আমি জানি না সর্বাধিক ২০% কন্টাক্ট আছে সাম্প্রতিককালীন। বেশিরভাগ সেগুলি নষ্ট হয়ে গেছে এবং যখন মানুষেরা তাদের স্থিতি পরিবর্তন করেছে, তখন তারা তাদের ইমেইল পরিবর্তন করেছে আর সেটা তারা আমাদেরকে জানায়নি। এইভাবে জয়পতাকা স্বামী শিষ্য সমূহের কার্যক্রম হয়ত বিভিন্নভাবে সাহায্য করতে পারবে। 

প্রত্যেকদিন আমি যা কিছু করি আমি জয়পতাকার স্বামী অ্যাপে দিই। দুদিন আমি সেলুলাইটিসের জন্য মঙ্গল আরতি দেখতে পারিনি, আজকে আমি মঙ্গলারতিতে অংশগ্রহণ করেছি এবং তা সেই অ্যাপে বলেছি। আর আমি কিছু মন্দির দর্শন করেছি, সব সময়ের মতো তত মন্দিরে নয়, কেবল ৯-১০ টি তে, সব সময়কার মতো কুড়ি বা তার অধিক মন্দিরে নয় এবং এইভাবে আমি জয়পতাকা স্বামী শিষ্য সমূহের এই অনলাইন ভজন সভায় আমার উপস্থিতির কথাও সেখানে বলব। তাই এইভাবে আমি যতটা সম্ভব করতে চাই, আমি বলতে চাই যে আমি যে কোন ব্যক্তির থেকে তার মত নিতে পারি। আমি এই সব শিষ্যদের যত্ন নিতে চাই, আমি দেখতে চাই যে তারা ভগবাদ্ধামে ফিরে গেছে। দয়া করে আমাকে সাহায্য কর! শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন আমাদের এক হাজার, হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ গুরু থাকা উচিত। আমার জীবনকালে আমি হয়ত সেই ১০ লক্ষ গুরুকে দেখতে পাবো না, শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে সবার ভগবদগীতা এবং শ্রীমদ্ভাগবতম জানা উচিত। চৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষা জানা উচিত। তাই কমপক্ষে যদি ভক্তরা ভক্তিবেদান্ত ডিগ্রী পায়, তাহলে নিশ্চিত হওয়া যাবে যে তারা এই বাণী প্রচার করতে পারবে। আমি জানিনা যে জয়পতাকা স্বামী শিষ্য সমূহ আমাকে ভক্তদের নির্দেশ প্রদানে সাহায্য করতে পারবে কিনা কিন্তু সেটা —  অতুল কৃষ্ণ আমাকে বলেছে যে যারা বরিষ্ঠ ভক্ত বা যারা অনেকবার শাস্ত্র পড়েছে, শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ অনেকবার পড়েছে, তাদেরকে সেই সব কোর্সের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে না। তাদের ক্ষেত্রে কেবল পরীক্ষা নেওয়া হবে ও সেই উপাধি দেওয়া হবে। তাই আমি মনে করি ভক্তরা এমনকি যদি তারা সেই কোর্সের মধ্যে দিয়ে যায় বা তারা শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ ভালোভাবে জানে, তাহলে তারা সেই পরীক্ষা দিতে পারে এবং আমি আমার জীবনকালে ৫০০ শিষ্যদের গুরু রূপে দেখতে চাই। এখন আমাদের কেবল ১০০ জন আছে। বলা যায় ৫০ বছর পরে তারা সকলে বৃদ্ধ হবে এবং আমরা জানি না কতদিন তারা বেঁচে থাকবে, তাই মানুষদের প্রভুপাদের গ্রন্থ অধ্যয়ন করা উচিত, পরীক্ষা দেওয়া উচিত ও ডিগ্রী পাওয়া উচিত। কিছু কিছু মানুষের তারা জপ করেনা, তারা এই বিষয়ে কোনো যত্ন নেয় না, তারা ভক্তদের সাথে যোগাযোগের বাইরে চলে গেছে। আমাদের দেখা উচিত যে কিভাবে জেপিএস কেয়ার, জেপিএস ই-কেয়ার বা জয়পতাকা স্বামী শিষ্য সমূহের বিভিন্ন গ্রুপের দ্বারা এই সমস্ত মানুষদেরকে নিযুক্ত করা যাবে, অনুপ্রেরণা দেওয়া যাবে, তাদেরকে দিয়ে আবার জপ করানো যাবে ও কৃষ্ণভাবনামৃত অনুশীলন করান যাবে। এর সম্পর্কে আর কি বলার আছে? অনেকে এমনকি ভক্ত নয়, তারা হৃদয়ে ভক্ত কিন্তু তারা এত অনুশীলন করে না। এই বিষয়ে তোমরা কি ভাব

মরীচি দাস:- আপনার শব্দগুলি খুবই স্পর্শ করেছে। আপনি সবকিছু বলে দিয়েছেন। মালয়েশিয়াতে যা হয় [missing] আমি একটি উদাহরণ দিতে চাই, আজ পর্যন্ত আপনার যেসব শিষ্যরা দেহ ছেড়েছে, কুয়ালালামপুরের মন্দির কর্তৃপক্ষ তাদের বিষয়ে একটি গবেষণা করেছে। সেই পুরো সংখ্যা হচ্ছে ৭৫ জন। তাই তারা যা করে তা হচ্ছে, জগন্নাথ মন্দিরে আমরা ভগবান নরসিংহদেবের কাছে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য একটি করে দ্বীপ নিবেদন করি। ৭৫টি দ্বীপের একটি থালা বছরে দুবার নিবেদন করা হয় — একবার নরসিংহ চতুর্দশীতে, আরেকবার দামোদর মাসের একাদশীতে। এবং আমরা তাদের পরিবারকে সেই সম্পর্কে জানাই ও প্রত্যেককে এই বিষয়টি খুবই স্পর্শ করেছে। কেবল শরীর ত্যাগ করা আত্মাদের জন্যই নয়, এক থালা প্রদীপ অসুস্থ ভক্তদের জন্যও দেওয়া হয়, বিশেষত এখন যখন অনেক ভক্তরা কোভিড আক্রান্ত হয়েছে এবং আরেকটি থালা দেওয়া হয় গোষ্ঠীর ভক্তদের জন্য এবং অনুদানকারীদের জন্য আর যাত্রার আশীর্বাদের জন্য। আমি নিশ্চিত যে এটি একটি সরল উদাহরণ যে কিভাবে আমরা ভক্তদের যত্ন নিতে পারি। 

জয়পতাকা স্বামী:- তারা যেটি মালয়েশিয়াতে করছে তা খুবই আকর্ষণীয় এবং আমাকে অনেক চিঠি পাঠানো হয়েছিল যে আমার কাকা দেহ ত্যাগ করেছে আর আমার বোন কোভিড আক্রান্ত এবং তারা আমাকে তাদের জন্য প্রার্থনা করতে বলছিল। আমি তাদেরকে covid@jaypatakaswami.com এ তাদের ঠিকানা দিতে বলেছি এবং আমি ভগবান নরসিংহদেবের কাছে তাদের জন্য প্রার্থনা করেছি। এই সবকিছুর মাধ্যমে তারা মনে করে না যে তারা এসবের থেকে বাদ হয়ে গেছে। আমি তাদেরকে covid@jaypatakaswami.com লিখতে বলেছি। এইভাবে আমি অন্যান্য পন্থা ভাবতে পারি, কিন্তু আমার মনে হয় যে শব্দহরি দাস সে যে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছে সেগুলি খুবই ব্যবহারিক। আমি জানি না এখন আর কি বলার আছে। 

মরীচি দাস:- ধন্যবাদ গুরুদেব, হরে কৃষ্ণ! আপনার প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের কোন শব্দ নেই। 

জয়পতাকা স্বামী:- আরো অনেক মানুষেরা জয়পতাকা স্বামী শিষ্য সমূহ গ্রুপে যুক্ত হলে তাও খুব ভালো হবে। হরে কৃষ্ণ! কাউন্সিলিং এর বিষয়ে বিশেষত তিনি একটি কোর্স করাচ্ছেন এবং এটিও এক দিক থেকে ভক্তদের সাহায্য করবে। এছাড়া শব্দহরি দাস তিনি কিভাবে কাউন্সিলিং করতে হয় সেই বিষয়ে একটি বই বের করেছে।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 7/10/23
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions