Text Size

২০২১০৯০৪ সমগ্র বিশ্বের জয়পতাকা স্বামী শিষ্য সমূহের অনলাইন ভজন সভায় প্রদত্ত বক্তব্য

4 Sep 2021|Duration: 00:19:39|Bengali|Public Address|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

 মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
 যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
 হরি ওঁ তৎ সৎ 

জগন্নাথ কীর্তনানন্দ দাস, জুম পরিচালক:- আপনি কেমন আছেন গুরু মহারাজ

জয়পতাকা স্বামী:- শারীরিকভাবে নাকি আধ্যাত্মিকভাবে? আমি এখন আমার ডান পায়ে সেলুলাইটিসের জন্য একটু কষ্ট পাচ্ছি। নয়ত, আমি ঠিক আছি। 

জগন্নাথ কীর্তনানন্দ দাস, জুম পরিচালক:- গুরুমহারাজ আপনি হচ্ছেন এমন ব্যক্তি যিনি আমাদের সকলকে অনুপ্রেরণা দেন। [missing] এত কিছু শারীরিক কঠিনতা সত্ত্বেও আপনি যে যত্ন দেখান। [missing] আপনি আমাদের সকলকে অনুপ্রেরণা দেন, কিন্তু যত্ন গ্রহণের ব্যাপারে আপনি আপনার শিষ্যদের থেকে কি দেখতে চান

জয়পতাকা স্বামী:- আমি এই জয়পতাকা স্বামী শিষ্যসমূহ কার্যক্রমের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। তারা প্রত্যেক শিষ্যের কাছে পৌঁছাচ্ছে এবং এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি জয়পতাকা স্বামী কেয়ার (JPS Care)-এর মাধ্যমে তাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি, যেমনটা শচী জননী দেবী দাসী উল্লেখ করল। শিষ্যদের যত্ন গ্রহণের জন্য এটি হচ্ছে আমার উদ্যোগ। কিন্তু এই জয়পতাকা স্বামী শিষ্যসমূহ হচ্ছে একটি কার্যক্রম যেখানে শিষ্যরা অন্য শিষ্যদের সাহায্য করে এবং এছাড়াও তাদের কিছু উপলব্ধি সকলের সাথে ভাগ করে নিতে পারে, যা অন্যান্য মানুষদের অনুপ্রেরণায় সাহায্য করে। কিছু দিক যা শচী জননীর উপস্থাপনে অনুপস্থিত যে এমনকি শিক্ষাশিষ্যরাও আছে, যারা হয়ত অন্য গুরুর শিষ্য, কিন্তু তারা আমাকে শিক্ষাগুরু রূপে দেখে। যেমন তোমরা জানো যে আমাদের একের অধিক শিক্ষাগুরু থাকতে পারে। তাই যারাই আমাকে শিক্ষাগুরুরূপে গ্রহণ করে, আমি তাদেরও যত্ন নিতে চাই এবং এছাড়াও যারা আমাকে তাদের যত্ন নিতে বলে, যেহেতু তারা আমাকে শ্রীল প্রভুপাদের নির্দেশাবলী পূরণে সাহায্য করে, তাই আমি তাদেরও যত্ন নিতে চাই। তারা হয়ত শিষ্য বা আকাঙ্ক্ষী বা শিক্ষাশিষ্য এমন কেউ কিন্তু তারা সাহায্য করতে চায় বা আমার সাহায্য পেতে চায়, এইভাবে তাদেরও যত্ন হওয়া দরকার। এখন আমরা দেখতে পারছি যে কাসা দেশে বা নব দ্বারকা ও অন্যান্য স্থানে অন্যান্য গুরুর কিছু শিষ্যরা আমাকে তাদের শিক্ষাগুরু রূপে গ্রহণ করেছে। এইভাবে সমগ্র বিশ্বে শিক্ষা শিষ্যরা আছে। কিন্তু যেমন আমি ৫:৩০ সময় গৌর সারস্বত ব্রাহ্মণ গোষ্ঠীর একটি অনুষ্ঠান করেছিলাম এবং সেখানে হাজার হাজার মানুষের মধ্যে আমার ১৩ জন দীক্ষিত শিষ্য ছিল। একজন আমাকে জিজ্ঞেস করল, যে ২০০২ সালে দীক্ষা নিয়েছে কিন্তু এখনো জড়জাগতিক সমস্যায় কষ্ট পাচ্ছে। তাই মনে হচ্ছিল তার এই আশা ছিল যে, যদি সে দীক্ষা গ্রহণ করে, তাহলে আর কোন জড়জাগতিক সমস্যা হবে না। কিন্তু আমি তাকে বললাম যে এটা এমনটা নয়। কৃষ্ণ ভগবদগীতায় বলছেন যে এই জগতটি হচ্ছে — দূঃখালয়মাশাশ্বতম্। তাই আমরা মনে করি যে যদিও আমরা কিছু জাগতিক সমস্যায় ভুগছি কিন্তু এটা আরো খারাপ হওয়া উচিত ছিল, তবে কৃষ্ণ তা কমিয়ে দিয়েছেন। তখন আমি একটি উদাহরণ দিলাম যে আজকে কিছুদিন পর আমি সুইমিংপুলে কিছু এক্সারসাইজ করার জন্য গিয়েছিলাম, কিন্তু আমি সেলুলাইটিসের জন্য আমার পায়ে ব্যথা অনুভব করছিলাম। তারপর আমি ভাবছিলাম যে কিভাবে চৈতন্য-চরিতামৃতের আদি লীলার সপ্তম অধ্যায়ে চৈতন্য মহাপ্রভু এবং তাঁর পার্ষদগণ পঞ্চতত্ত্ব বলছেন যে যখন সমগ্র বিশ্ব কৃষ্ণভাবনামৃতে প্লাবিত হয়েছিল, তখন তারা পরম উল্লাসে উল্লাসিত হয়েছিলেন, তারা পরম আনন্দিত হয়েছিলেন ও ভাবে বিভোর হয়েছিলেন। আর আমি ভাবছিলাম যে পঞ্চতত্ত্বকে এইভাবে প্রসন্ন করা কত ভালো হবে! আমি কিছু করতে পারছিলাম না কিন্তু আমি হাসছিলাম। তাদেরকে প্রসন্ন মনে করে আমি কত আনন্দ অনুভব করছিলাম, কিন্তু একই সময় আমার পায়েও ব্যথা হচ্ছিল, তাই আমার এটা উপলব্ধি হচ্ছিল যে এই জড়জাগতিক দুঃখ কষ্ট আধ্যাত্মিক আনন্দের সাথে সম্পর্কিত নয়। আমি এই শরীর নই, আমি আমার মন নই, তাই আমি আধ্যাত্মিক স্তরে আনন্দ অনুভব করছিলাম আর শারীরিক স্তরে ব্যথা পাচ্ছিলাম।

আমি বলছিলাম যে কিভাবে মানুষেরা যমদূতদের থেকে রক্ষা পেতে পারবে। আমি গৌরাঙ্গি দেবীকে চেন্নাইতে এটি উপস্থাপনা করার জন্য ধন্যবাদ জানাই যে কিভাবে এটি আমাদের শিশু ও যুবকদের জন্যখুব গুরুত্বপূর্ণ। চেন্নাইতে ভক্তিবৃক্ষের দল তারা শ্রীল প্রভুপাদকে বিভিন্ন কিছু নিবেদন করেছিলেন, এর মধ্যে একটি ছিল ব্যঙ্গনাট্য। সেখানে দুজন যমদূত যমরাজকে অভিযোগ করছিল যে তারা মানুষদের নরকে নিয়ে যেতে চায়, কিন্তু তারা হরে কৃষ্ণ জপ করছে তাই তারা তাদেরকে নিয়ে যেতে পারছে না। অন্য আরেকজন বলল, “তাদের বাড়িতে মন্দির আছে, তাদের কাছে জগন্নাথ ও কৃষ্ণ আছে। আমরা তাদেরকে নিয়ে যেতে পারি না, আমরা কি করব? আমাদের অন্য একটা চাকরি খুঁজতে হবে।” হা! এটি এত সুন্দর একটি নাটক ছিল, হা! হা! এইভাবে সেখানে বাচ্চার সেই ব্যঙ্গনাট্যে অভিনয় করছিল। তাই আমরা চাই মানুষেরা যাতে যমদূতদের থেকে রক্ষা পেয়ে ভগবদ্ধামে ফিরে যায়। এই জয়পতাকা স্বামী শিষ্যসমূহ আমাকে সাহায্য করতে পারে, যদি কেউ আমাকে সাহায্য করে, সেক্ষেত্রে আমি ডেটাবেসে থাকা শিষ্যদের একটি বার্তা দিতে চাই। বিশেষত জন্মাষ্টমী এবং আগত রাধাষ্টমী উপলক্ষে, কিন্তু আমাদের কাছে সম্প্রতিকতম তথ্য (up-to-date database) নেই। বেশিরভাগ ইমেইল কাজ করে না, তাই তোমরা যদি সাহায্য করতে পারো যে শচীজননী দেবী দাসী যেমন বলল, আমাদের যোগাযোগ সাম্প্রতিকতম করা দরকার, তাতে বিভিন্ন মানুষেরা আমাকে সাহায্য করছে, কিন্তু জয়পতাকা স্বামী শিষ্যসমূহও এতে সাহায্য করতে পারে।

তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ! তোমার স্ত্রীয়ের শরীর কেমন আছে?

জগন্নাথ কীর্তনানন্দ দাস:- সর্বশেষ প্রশ্ন গুরু মহারাজ: তার শরীর ভালো আছে গুরুমহারাজ এবং আমরা আপনাকে তার প্রগতি সম্পর্কিত একটি ইমেইল পাঠাবো। ইংল্যান্ডে আমাদের একজন সদস্য আছেন, যিনি আসলে আত্মহত্যা করার কথা ভাবছিলেন কিন্তু সেই সময় তিনি ধরা পড়ে যান। যখন এরকম ঘটল, তা শুনতে পারা খুবই দুঃখজনক। তাই প্রথমত, অনলাইন হচ্ছে এইরকম তাহলে আমাদের কি করা উচিত আর দ্বিতীয়ত, আপনার শিষ্য হওয়ায় আমরা আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি

জয়পতাকা স্বামী:- প্রথমত তাদের যা করা উচিত, সেটা হচ্ছে তা না করা। আত্মহত্যা কর না! প্রথম দীক্ষিতরা ভূত হবে এবং দ্বিতীয় দীক্ষিতরা ব্রহ্মরাক্ষস হবে। তাই এইরকম কর না। কখনো কখনো আমি ইমেইল পাই যে আমি আত্মহত্যা করতে চাই এবং কিছু কারণবশত আমার সচিবরা সেই মুহূর্তে তা আমাকে দেখায় না, আমি জানি না তাদের কি করা উচিত। তারা আমাকে, জেপিএস কেয়ারকে, স্থানীয় জয়পতাকা স্বামী শিষ্যসমূহ গোষ্ঠীকে লিখে পাঠাতে পারে যদি তারা খুব আবেগপূর্ণ কোন সমস্যা অনুভব করে বা যদি কোন দরকার থাকে, তাহলে সেক্ষেত্রে আমাদের দেখা উচিত যে আমরা তাদেরকে কিভাবে সাহায্য করতে পারব। তারা যেন বিষয়ের জায়গায় সেটিকে অত্যন্ত দরকারী লেখে এবং আমি যখন এইরকম কোন চিঠি পাই, যেখানে তারা নির্দিষ্টভাবে আত্মহত্যার কথা বলে না, কিন্তু তারা বলে যে তাদের কিছু সমস্যা হচ্ছে হয়ত স্বামী স্ত্রীর কোন সমস্যা হচ্ছে, সেক্ষেত্রে আমাদের কাছে ভক্তরা আছে যারা এই বিষয়ে সাহায্য করার জন্য স্বেচ্ছায় নিযুক্ত। আর আমার কাছে কিছু মনোবিজ্ঞানীরা আছে, যারা প্রয়োজনে স্বেচ্ছায় চিকিৎসা করে পরামর্শ দেবে। তাই বিভিন্নভাবে আমরা তাদের সাহায্য করতে পারি, কিন্তু যদি এইরকম ভাবনা মাথায় আসে তাহলে তা আসলে খুবই বিপদজনক। হয়ত কোন সূক্ষ্ম দেহধারী সঙ্গ চায় ও তোমাকে অনুরোধ করছে এটা করো! এটা করো! কোন লাভ নেই! তুমি যতদিন এই শরীরে থাকতে, ততদিন পর্যন্ত সেই একই স্থানে তোমাকে ভূত হয়ে থাকতে হবে, কিন্তু তোমার কোন ইন্দ্রিয় থাকবে না। তোমার কাছে মন থাকবে এবং সেটাই হচ্ছে সব সমস্যা। 

তোমাদের অসংখ্য ধন্যবাদ! আমি ভক্তি পুরুষোত্তম স্বামী, রেবতী রমন প্রভু এবং রামবাড়ু মাতাজীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি শুনেছি রামবাড়ু মাতাজি চাপলিন, ভার্জিনিয়া আমেরিকাতে আছেন। চাপলিন, আমার মনে হয় তা অনেক মানুষকে বিভিন্ন আধ্যাত্মিক ও মানসিক যত্ন প্রদান করছে। আমি জয়পতাকা স্বামী শিষ্যসমূহের কার্যক্রমের প্রতিও অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। যদি তারা শ্রীল প্রভুপাদের লীলা বলে সেটিও খুব ভালো হবে, হয়ত বিশেষত তার ব্যাস পূজার এই সময় তা খুব ভালো হবে যে যদি কিছু শ্রীল প্রভুপাদের ওপর বলা যায়। সাম্প্রতিক আমি ইউরোপিয়ান জয়পতাকা স্বামী শিষ্যসমূহ কার্যক্রমে নিমন্ত্রিত হয়েছিলাম। যদি আমাকে কোন জায়গায় নিমন্ত্রণ করা হয়, তাহলে আমি সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করব। নয়ত যদি তা কোন অমিল সময়ে হয়, তাহলে আমি কিছু ভিডিও করে পাঠানোর চেষ্টা করব। 

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 7/10/23
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions