Text Size

২০২১০৮৩১ কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের ব্যাসপূজা শ্রদ্ধাঞ্জলি

31 Aug 2021|Duration: 00:16:41|Bengali|Homages to Vaiṣṇavas|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

 মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
 যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
 হরি ওঁ তৎ সৎ 

জয়পতাকা স্বামী:- শ্রীল প্রভুপাদ, আমি আপনার শ্রীপাদপদ্মে শরণাগত। আপনি আমাকে ভ্রমণ করতে বলেছিলেনআপনি আমাকে মায়াপুরে থাকতেও বলেছিলেন। আপনি আমাকে আমার সহকারীদের মাধ্যমে কার্য করতে বলেছিলেন। কোন না কোনভাবে আপনি ১০৮টি নগরীতে কৃষ্ণভাবনামৃত নিয়ে এসেছিলেন এবং আপনি কৃষ্ণভাবনামৃত সমগ্র বিশ্বের প্রত্যেক মহাদেশে নিয়ে এসেছেন। আপনার শিষ্যরা কৃষ্ণভাবনামৃত প্রত্যেক দেশে নিয়ে এসেছেন, কার্যত এখন বিভিন্ন শহরে। আমরা ভক্তি পুরুষোত্তম স্বামীর থেকে শুনলাম যে কিভাবে এটি বনাঞ্চলেও পৌঁছেছে। আমরা জানি যে আমাদের নামহট্ট গীতাকোর্সের মাধ্যমে আমরা এখন বিভিন্ন গ্রামেও পৌঁছেছি। কিন্তু আপনি চৈতন্য মহাপ্রভুর ভবিষ্যৎবাণী পূর্ণ করতে চান যে বিশ্বের প্রত্যেক নগর ও গ্রামে ভগবান চৈতন্য মহাপ্রভুর নাম কীর্তিত হবে, তাই আমাদের এখনও অনেক কাজ করার আছে ও আমি ভাবছিলাম যে এই ভক্ত প্রজন্মের গৌরবানী পূরণ করার প্রচেষ্টায় নিযুক্ত হওয়া উচিত, যা আপনি শুরু করেছিলেন এবং এইভাবে চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপায় পঞ্চতত্ত্ব সমগ্র বিশ্বে সম্প্রসারিত হবেন। 

আমরা চৈতন্য-চরিতামৃত পড়ছি যে কিভাবে পঞ্চতত্ত্ব এত আনন্দিত ছিলেন যখন সব মানুষেরা হরে কৃষ্ণ জপ করছিল, যখন সমগ্র বিশ্ব কৃষ্ণ প্রেমে প্লাবিত হয়েছিল, আর  তখন জড়জাগতিক আনন্দের বীজ সেই বন্যার জলের কারণে অঙ্কুরিত হচ্ছিল না। তাই চৈতন্য মহাপ্রভু, পঞ্চতত্ত্ব তারা মানুষদের হরে কৃষ্ণ জপ-কীর্তন করতে দেখে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলেন। আপনি সমগ্র বিশ্বের কাছে এই বাণী এনেছেন।

যেমন আপনি বলেছেন যে আমাদের এক হাজারদশ হাজারহাজার হাজার গুরু থাকা উচিত, এমনকি লক্ষ লক্ষ, কোটি কোটি। আপনার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সমগ্র বিশ্বকে কৃষ্ণভাবনাময় দেখার। আমরা হরিসৌরি প্রভুর থেকে শুনেছি যে কিভাবে আপনি সমগ্র বিশ্বকে রক্ষা করতে চাইতেন যে মানুষেরা পিছনে ফিরে বলবে শ্রীল এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলন আমাদেরকে রক্ষা করেছে! আমাদের আপনার নির্দেশ পালন করা উচিত। আপনি বলেছিলেন এমনকিছু যে আসলে আপনি ১৮ দিনের মধ্যেই সমগ্র বিশ্বকে অধিকার করে নিতে পারবেন, যদি ভক্তরা আপনার নির্দেশ পালন করে। আমাদের আপনার নির্দেশ এখনও পালন করা বাকি আছে এবং খুব শীঘ্রই আপনার শিষ্যরাও এই জগত ছেড়ে চলে যাবে, আমরা ইতিমধ্যেই শ্রী শ্রীমৎ ভক্তিচারু স্বামী ও অন্যান্য অনেককে হারিয়েছি, তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আপনি আপনার গ্রন্থ দিয়েছেন যা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অধ্যয়ন করা উচিত এবং সেই কারণে আপনি ভক্তিশাস্ত্রী, ভক্তিবৈভব, ভক্তিবেদান্ত এবং ভক্তিসার্বভৌম উপাধীর ব্যবস্থা করেছেন যাতে ভক্তরা আপনার প্রদত্ত তাৎপর্য অধ্যয়নে নিজেদেরকে সমর্পণ করতে পারে এবং সেই জ্ঞান আহরণ করে তা প্রত্যেকের মধ্যে বিতরণ করতে পারে। যদি আমরা কৃষ্ণকে প্রসন্ন করি, আমরা যেহেতু কৃষ্ণের অংশ, তাই স্বাভাবিকভাবে আমরাও আনন্দিত হব, কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে এখন আমরা মনে করছি যে আমরা এই শরীর এবং আমাদের ইন্দ্রিয় আমাদেরকে সন্তুষ্টি প্রদান করবে। আর এইভাবে আমরা আপনার নির্দেশ অনুসরণ করছি না, তাই দয়া করে আশীর্বাদ করুন যাতে আমরা তা অনুসরণ করতে পারি।

এখানে মায়াপুরে আমার মনে পড়ে, আপনি অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন। আপনি এখানে দেড় মাস থাকতেন আপনি আপনার বই অনুবাদ করতেন এবং সন্ধ্যার সময় জননীবাস প্রভু ধুনো নিয়ে আপনার ঘরে ধুনো দিতেন ও পুরুষ শুক্ত পাঠ করতেন। তারপর আপনি ব্যক্তিগতভাবে আমাদেরকে শিক্ষা দিতেন যে কিভাবে অতিথিদের আপ্যায়ন করতে হয় ও আপনি ব্যক্তিগতভাবে কিছু বিশেষ ব্যক্তিত্বদের সাথে বসতেন ও আমাদেরকে দিয়ে তাদের প্রসাদ দিতেন। বিভিন্নভাবে আপনি এই চারিপাশে ঘুরতেন ও আপনি দেখতেন আর আপনি চাইতেন মায়াপুরে খুব পরিষ্কার পরিবেশ থাকা উচিত। এবং আপনি মায়াপুরকে বিশ্বের প্রধান কেন্দ্র বানিয়েছিলেন। এর আগে আমার মনে হয় ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে মায়াপুর হওয়ার পূর্বে লস এঞ্জেলস ছিল সমগ্র বিশ্বের প্রধান কেন্দ্র। আপনি শ্রীল ভক্তি দেবী দাসীকে শিক্ষা দিচ্ছিলেন যে কিভাবে শ্রীবিগ্রহ অর্চন করতে হয়, কিভাবে দিনে ৬ বার আরতি করতে হয়, কিভাবে মঙ্গল আরতি করতে হয়। এই সব কিছু ইসকনের ছিল না, কিন্তু আপনি তা স্থাপন করেছেন এবং এখন আমরা এত কিছু করতে পারছি কারণ আপনি তা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এখন সমগ্র বিশ্বে আমাদের ভালো মানদণ্ড আছে আর এই ভাবে কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলন প্রসারিত হচ্ছে এবং আরো বাড়ছে কিন্তু আমরা প্রত্যেক নগর ও গ্রামের সকল মানুষদের কাছে যেতে চাই। এই অনুপ্রেরণা প্রদানের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ! আমার মনে হয় আপনি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলী করেছিলেন এবং আপনি বলেছিলেন বর্ণাশ্রম চালু করা বাকি আছে, আপনি ভক্তিকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ও  বর্ণাশ্রমের জন্য আমরা সেটিকে ছুড়ে ফেলতে চাই না, কিন্তু আমরা কিভাবে দৈব বর্ণাশ্রম প্রতিষ্ঠা করতে পারি এটি একটি আকর্ষণীয় প্রশ্ন! কারণ অনেক মানুষের বর্ণাশ্রম নিয়ে বিভিন্ন ধারণা আছে, এটি হচ্ছে এমন কিছু যার উপর আমরা এখনো কাজ করছি ও নিশ্চিতরূপে গাভী সুরক্ষা হচ্ছে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। 

অতএব, আপনি আমাদের মায়াপুরে যে কৃপা প্রদান করেছেন, তার জন্য আমি আপনাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই ও আমি আশা করি যে মায়াপুর মন্ডলী আরো অধিক বর্ধিত হবে আর তা আপনার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে! হরে কৃষ্ণ! 

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 7/10/23
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions