Text Size

২০২১০৮৩০ শ্রীমদ্ভাগবত (জন্মাষ্টমীর বিশেষ প্রবচন)

30 Aug 2021|Duration: 00:59:52|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

 মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
  যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
  পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
  হরি ওঁ তৎ সৎ 

 ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
      ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
      ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!

জয়পতাকা স্বামী:-  আজকে হচ্ছে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী আবির্ভাব লীলা। আমার মনে হয় আপনারা শুনেছেন যে কিভাবে কৃষ্ণ আবির্ভূত হন। কিভাবে তিনি কংসের কারাগারে আবির্ভূত হয়েছিলেন, যেখানে তিনি প্রথমে চতুর্ভুজ রূপে প্রকটিত হয়েছিলেন, এটাই ছিল প্রমাণ যে তিনি হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবান। দেবকী প্রার্থনা করলেন যে সাধারণ একটা বাৎসল্যরূপে দেখার, এইভাবে বাৎসল্যরূপ ধারণ করে সেই বাসুদেব তাঁকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এইভাবে আমার মনে হয় আপনারা এসব লীলা শুনেছেন। কিভাবে কৃষ্ণের যৌগিক শক্তিতে সকল প্রহরীরা ও প্রত্যেকে নিদ্রাচ্ছন্ন হয়েছিল, কিভাবে বাসুদেবের শিকল খুলে গিয়েছিল ও তিনি সেই শিশু কৃষ্ণকে গোকুলে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণ ব্রহ্মার প্রতিদিনে একবার আসেন। তার একদিন হচ্ছে ১০০০ যুগ, আর ভগবান একটি যুগে অবতীর্ণ হন। এবং তিনি আসেন সমগ্র বিশ্বকে শুদ্ধ ভক্তির আশীর্বাদ প্রদান করতে। তিনি আসেন সকলকে বৃন্দাবন মথুরা এবং দ্বারকার লীলা প্রদর্শনের জন্য। কিন্তু তাঁর বৃন্দাবন লীলা হচ্ছে সর্বাপেক্ষা আকর্ষণীয়। আসলে, এই যে স্থলে বৃন্দাবন আছে, এটা হচ্ছে অভিন্ন পারমার্থিক বৃন্দাবন থেকে। এখন এটা শুকিয়ে গেছে কিন্তু পাঁচ হাজার বছর আগে এটা অত্যন্ত সুন্দর সবুজ সর্বত্র ছিল। কৃষ্ণের মধ্যে সমস্ত বিষ্ণু অবতার প্রকাশ আছেন। মহাবিষ্ণু হচ্ছে সঙ্কর্ষণের প্রকাশ, এবং সঙ্কর্ষণ হচ্ছেন নারায়ণের প্রকাশ, নারায়ণ হচ্ছেন চতুর্বুহ্যের প্রকাশ, চতুর্বুহ্য হচ্ছেন বলদেবের প্রকাশ এবং বলদেব হচ্ছেন কৃষ্ণের প্রথম প্রকাশ। এইসব প্রকাশ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শরীরের মধ্যে আছেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মধ্যে থাকা বিষ্ণু অংশ হচ্ছেন তিনি, যিনি অসুরদের হত্যা করেন। যেহেতু আধ্যাত্মিক জগতে কোন অসুর নেই, তাই অসুরেরা এই জড়জগতের আর বিষ্ণু অবতারেরাও জড়জগতে প্রকাশিত। শ্রীকৃষ্ণ, তাঁর লীলা প্রদর্শন করেন বৃন্দাবনে সখ্য, বাৎসল্য রস এবং মাধুর্য রস প্রকাশ হয়। কৃষ্ণ এই প্রকাশ করার জন্য উনি আসেন। কিন্তু এই সমস্ত লীলাসমূহ শুদ্ধ ভক্তের শ্রীমুখ থেকে শ্রবণ করা উচিত। যদি মানুষেরা এমনকি একটুখানিও কৃষ্ণের সম্পর্কে শ্রবন করতে আগ্রহী হয়, তাহলে তারা মুক্তি লাভ করবে। প্রত্যেকে মনে করে যে তারা হচ্ছে তাদের শরীর এবং তাদের জীবনের লক্ষ্য হচ্ছে ইন্দ্রিয় তৃপ্তি করা, আসলে এরা কৃষ্ণের মহিমা, কৃষ্ণের মাধুর্য বোঝে না। সেই জন্য কৃষ্ণ এসেছেন গৌরাঙ্গ রূপে এই কৃষ্ণ প্রেম বিতরণ করার জন্য। তাই আমরা শ্রীল প্রভুপাদের কাছে প্রার্থনা করি, যে তিনি আমাদেরকে গৌরবানী প্রদান করছে।

যারা চৈতন্য মহাপ্রভুর ভক্ত তারা একইসাথে গোলক বৃন্দাবনে ও চৈতন্য লীলাতে থাকেন। গোলক বৃন্দাবনের চারটি ভাগ আছে — বৃন্দাবন, মথুরা এবং দ্বারকা আর শ্বেতদ্বীপ। শ্বেতদ্বীপ হচ্ছে চৈতন্য মহাপ্রভুর স্থান। যদি আপনারা চান, যেমন কৃষ্ণ লীলায় যারা কৃষ্ণের প্রতি সম্পূর্ণ শরণাগত, তারা ওঁনার কৃপা পেতেন। চৈতন্য মহাপ্রভু ছিলেন কৃষ্ণের থেকেও অধিক কৃপালু, তিনি অবাধে কৃষ্ণ প্রেম বিতরণ করেছেন। প্রভুপাদ বলেছিলেন যে আমরা হচ্ছি কৃষ্ণের ভক্ত, তাই যেহেতু তিনি হচ্ছেন অবতারী, তাই আমাদের কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী ও গৌর পূর্ণিমাতে সম্পূর্ণ উপবাস করা বাধ্যতামূলক। জন্মাষ্টমীতে আমরা মধ্যরাত্রি পর্যন্ত উপবাস করি ও তারপর অনুকল্প প্রসাদ পাই। এবং গৌড় পূর্ণিমা তে আমরা বিকেল পর্যন্ত উপবাস করি তো তারপর অনুকল্প প্রসাদ গ্রহণ করি। অন্যান্য দিনগুলিতে এটির বিকল্প আছে যে আমরা সম্পূর্ণ উপবাস করব নাকি অন্ন প্রসাদ পাব। আমরা যে জন্মগ্রহণ করি সেখানে আমাদের কোনকিছু বেছে নেওয়ার উপায় থাকে না। কে আমার মা হবে, কে আমার বাবা হবে, এটা আমরা কোন বিচার করতে পারি না। কৃষ্ণ সেটা পাঠান। সেই জন্য প্রভুপাদ বলছিলেন এরা হচ্ছে বৈকুন্ঠ সন্তান। কিন্তু কৃষ্ণ তিনি কোন সময় আসবেন, কে তাঁর মা-বাবা হবে সেই সবকিছু আগে থেকে ঠিক করেন। তাই আমাদের বোঝা উচিত যে কৃষ্ণের আবির্ভাব হচ্ছে দিব্য। তাঁর আবির্ভাব ও তাঁর লীলা সবকিছুই দিব্য। সেই জন্য ভগবদগীতায় শ্লোক আছে: 

জন্ম কর্ম চ মে দিব্যমেবং যো বেত্তি তত্ত্বতঃ।
ত্যক্ত্বা দেহং পুনর্জন্ম নৈতি মামেতি সোহর্জুন।।

এজন্য আমরা যদি তাঁর জন্ম লীলা কর্ম বুঝি সবকিছু দিব্য তবে আমাদের এই দেহ ছাড়ার পর আর পুনর্জন্ম হবে না। দেখুন জড়জাগতিক মানুষেরা কৃষ্ণের আবির্ভাবকে সাধারন বলে মনে করে। কিন্তু এইসব ভক্ত বুঝতে পারে যে কৃষ্ণের আবির্ভাব চিন্ময়। তিনি বাছাই করেন যে কে তাঁর মাথা হবেন, কে তাঁর পিতা হবেন। এবং আপনারা শুনেছেন যে কিভাবে তারা  কৃষ্ণকে তাদের সন্তান রূপে পাওয়ার জন্য কঠোর তপস্যা করেছিলেন। ভাগবতমের স্কন্ধগুলিতে বর্ণিত কৃষ্ণের প্রত্যেক লীলা চিন্ময়। এই কারণে আমরা বলছি যে প্রত্যেক গৃহস্থের তাদের গৃহে শ্রীমদ্ভাগবত থাকা উচিত। যদি তাদের শ্রীমদ্ভাগবত সেট রাখার সামর্থ্য না থাকে, অন্ততপক্ষে তারা কৃষ্ণ বইটি রাখতে পারে এবং ধীরে ধীরে শ্রীমদ্ভাগবতম এবং চৈতন্য-চরিতামৃতের পুরো সেটটি রাখতে পারে। কৃষ্ণ আবির্ভূত হন ও এটি প্রতিষ্ঠা করেন যে তাঁর আবির্ভাব ও প্রকট লীলা সবকিছুই দিব্য। তাঁর আবির্ভাব, তাঁর লীলা-বিলাস এবং তাঁর অপ্রকট সবকিছুই চিন্ময়। জড় জগতের ত্রিগুণাত্মিকা নিয়ন্ত্রণের ঊর্ধ্বে। তিনি দেখাচ্ছেন যে পরম পুরুষোত্তম ভগবান হচ্ছেন একজন ব্যক্তি। অনেক ধর্ম জানেনা যে ভগবান কি, তারা মনে করে ভগবান নিরাকার। চৈতন্য মহাপ্রভু কোরান থেকে বলেছিলেন এবং পাঠানদের এই বিশ্বাসী করিয়েছিলেন যে — আল্লাহ হচ্ছেন একজন ব্যক্তি। এবং আমি আজেরবাইজানের একজনকে জানি, যিনি কুরান পড়েছেন এবং তিনি খুঁজে পেয়েছেন যে কেবল একটি শ্লোকে বলা হচ্ছে আল্লাহ আলোর মত। কিন্তু আর সব জায়গায় বলে যে আল্লাহ দয়াময়, তবে কোন আলো দয়াময় হতে পারে না। আমরা ভাবি না যে ওহ! দয়াময় আলোর বাতি! তাই কৃষ্ণ তাঁর লীলাবিলাস করেন যে তিনি হচ্ছেন একজন ব্যক্তি, তিনি হচ্ছেন লীলা পুরুষোত্তম। তাই এই নিরাকারবাদ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি অত্যন্ত অপরাধমূলক। নিরাকারবাদীরা বলে যে কৃষ্ণের কোন শ্রীহস্ত নেই, শ্রীচরণ নেই, শ্রীমস্তক নেই। আপনি যদি আপনার স্ত্রী বলেন যে তার কোন মুখ নেই, হাত নেই, পা নেই; তাহলে সে ঝগড়া করবে! এইভাবে মায়াবাদীরা কৃষ্ণ অপরাধী। আমাদের পূর্ববর্তী আচার্যগণ ও  শাস্ত্র বলে যে কৃষ্ণ হচ্ছেন চিন্ময় ব্যক্তি।

কৃষ্ণ গিরি গোবর্ধন ধারণ করেছিলেন, যে কেউ এটা পারবেনা! যখন তিনি অর্জুনকে ভগবদগীতা বলেছিলেন, তখন একাদশতম অধ্যায়ে তিনি তাঁর বিশ্বরূপ দর্শন করিয়েছিলেন। যদি কেউ বলে যে সে হচ্ছে ভগবান, তাহলে তাদেরকে বিশ্বরূপ দেখাতে বলুন। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বরাহ রূপ ধারণ করেছিলেন এবং তাঁর চারটে খুর প্রকাশিত ছিল, যদি কেউ দাবি করে যে সেই হচ্ছে ভগবান, তাহলে তাদেরকে তাদের খুর দেখাতে বলুন। রাজমুন্ড্রিতে একজন ব্যক্তি ছিল, তিনি বলছিলেন যে তিনি হচ্ছেন কল্কি অবতার। যদিও শাস্ত্রে বলা হয়েছে যে কল্কি কলি যুগের শেষে আসবেন, তা এখন থেকে ৪৩২০০০ বছর পর, তার থেকে ৫ বছর বাদ যাবে। তখন সেই ব্যক্তিকে তারা জিজ্ঞেস করল, “আপনি একটু আগে এসে যান নি?” সে বলল, “আমি হয়ত কল্কি নই, কিন্তু আমি একটা অবতার।তারা মনে করে এই সবকিছু যেন এতই সস্তা। কৃষ্ণলীলায় আমরা দেখতে পাই যে পৌন্ড্রক সে অনুকরণ করছিল যে সে হচ্ছে কৃষ্ণ। এইভাবে দ্বাপর যুগেও এক প্রতারক ছিল, এখন এই কলিযুগে অসীম অনুকরণকারী আছে। একজন বৈষ্ণব বলছিলেন যে কৃষ্ণ বলেছেন, “সম্ভবামি যুগে যুগে” — তিনি প্রত্যেক যুগে আসেন। কিন্তু এখন কলিযুগে তাদের প্রতি শতাব্দী, প্রতি দশক, কার্যত প্রতিমুহূর্তেই অবতার রয়েছে। তাই এতসব প্রতারকদের কারণে কৃষ্ণ এই কলি যুগে নিজেকে অবতার রূপে ঘোষণা করেননি। তিনি চ্ছন্ন অবতাররূপে এসেছিলেন। যেমন চৈতন্য মহাপ্রভু এসেছিলেন, কিন্তু তিনি বলেননি যে তিনি হচ্ছেন ভগবান। যদিও কৃষ্ণ তা গোপন রাখেন নি যে তিনি হচ্ছেন পরম পুরুষোত্তম ভগবান, তিনি মানুষের মতো লীলা করেছিলেন, তিনি নন্দ মহারাজের জুতা মাথায় নিয়ে গেছেন, যশোদা অত্যন্ত স্নেহ দিয়ে কৃষ্ণ সেবা করলেন। 

যখন কৃষ্ণের দামোদর লীলা হয়েছে, যশোদা চেষ্টা করেছে একটা রশি দিয়ে বাঁধার। কিন্তু সব সময় দু-আঙ্গুল ছোট ছিল। অবশেষে কৃষ্ণের কৃপায় তিনি কৃষ্ণকে বাঁধতে সক্ষম হয়েছিলেন। তারপর কৃষ্ণ সেই উদুখল নিয়ে দুটি যমাল অর্জুন গাছের মধ্যে চলে গেছেন, এবং সেই দুটি গাছ ভেঙে নিচে পড়ে যায়। তখন কুবেরের দুই পুত্র উদ্ধার হয়। নারদ মুনি তাদেরকে অভিশাপ দিয়েছিলেন কিন্তু সেই অভিশাপ ছিল ছদ্মবেশী আশীর্বাদ। তারা ইন্দ্রিয় তৃপ্তিতে অন্ধ হয়ে মগ্ন ছিল, তখন নারদ মুনি তাদেরকে অভিশাপ দিয়েছিলেন যে তারা নন্দ মহারাজের গৃহে বৃক্ষ হবে, এইভাবে কৃষ্ণ তাদের উদ্ধার করলেন। তারপর তারা ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে তাদের প্রণাম নিবেদন করে সর্গলোকে ফিরে গেল। তখন নন্দ মহারাজ এসে সেই পড়ে যাওয়া গাছগুলিকে দেখলেন। তিনি অন্য শিশুদের জিজ্ঞেস করলেন, “কি হয়েছিল?” বাচ্চারা বলল, “কৃষ্ণ এই দুটো গাছ ভেঙে দিয়েছে এবং দুটো জ্যোতির্ময় ব্যক্তি এসেছে এবং উঠে স্বর্গে চলে গেছে।” “এই শিশুরা কি বলছে? সবকিছু কাল্পনিক!” এইভাবে কৃষ্ণের লীলাসমূহ অত্যন্ত মধুর! এবং যেমন আপনারা শুনেছেন যে কংসের অনুগামীদের সন্তানেরা পুতনার দ্বারা নিহত হয়েছিল, এবং কিভাবে কৃষ্ণ এত দয়ালু যে তিনি তাকে আধ্যাত্মিক জগতে মাতৃ স্থান প্রদান করেছিলেন। এই লীলা গান করে শ্রীবাসের ভাই বলছিলেন, তার জন্য চৈতন্য মহাপ্রভু গৌরাঙ্গ ভাবাপন্ন হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ছিল। এছাড়াও মুকুন্দ দত্ত  পুণ্ডরীক প্রেমানিধির সামনে এই গান করেছিলেন, এবং পুণ্ডরীক প্রেমানিধি ভাবাবেগে সম্পূর্ণ উন্মত্ত হয়ে গিয়েছিলেন। তখন গদাধর তা দেখলেন, তখন তিনি বুঝতে পারলেন যে তিনি অপরাধ করে ফেলেছেন। কৃষ্ণের লীলাসমূহ অমৃতে পরিপূর্ণ। অনন্তদেবের হাজার হাজার মুখ আছে, এবং একইসাথে তিনি এইসব মুখ দিয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মহিমা বর্ণনা করছেন। কিন্তু তবুও কখনোই কৃষ্ণের মহিমার অন্ত খুঁজে পান না! তাহলে আমাদের আর কি আশা আছে

আজকে হচ্ছে অতি পবিত্র দিন, যখন আমরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের লীলা স্মরণ করছি। এইভাবে কৃষ্ণ গোকুলে চলে গিয়েছিলেন, তিনি যশোদার সাথে ছিলেন। চেন্নাইতে তাদের রথযাত্রা হয়েছিল এবং দীনবন্ধু বলছিল যে কিভাবে দেবাদিদেব শিব যশোদার গৃহে এসেছিলেন যশোদার কাছে, এবং আমাদের রথযাত্রা শিব মন্দিরের সামনে শুরু হয়েছিল। যশোদা বলেছিলেন, “না! না! আমার ছোট্ট লালা আপনাকে দেখে ভয় পেয়ে যাবে!” কিন্তু তারপরে কৃষ্ণ বাচ্চা রুপে খাচ্ছে না, তখন অন্যান্য মহিলারা সুপারিশ করছিল যে হয়ত এই সাধুতে অপরাধ হইল। তারপর তিনি দেবাদিদেবকে ডাকলেন (যিনি একটি সাধুর বেশে ছিলেন) এবং যশোদা তাকে কিছু রুটি দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দেবাদিদেব শিব বললেন, “আপনি শিশুকে যেই জলে স্নান করান, প্রত্যেকদিন আমি সেই জল পেতে চাই। আমাকে সেই জল দিন, আমি তা পান করব।” হরিবোল! আজকের দিনে, আসলে আমি জানিনা তারা এমন করে কিনা, তবে আমরা কৃষ্ণ বই পড়তাম ও মধ্যরাত্রির আগে পুরো বই শেষ করার চেষ্টা করতাম। যাইহোক, আমরা আজকে কৃষ্ণকে স্মরণ করতে চেষ্টা করব এবং প্রত্যেকদিনও তা করব! আজকে হচ্ছে অতি বিশেষ দিন!  

আমি এখানে সমাপ্ত করব।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 7/10/23
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions