Text Size

২০২১০৮২৮ শ্রীমদ্ভাগবতম ১.১০.৩৩-৩৫

28 Aug 2021|Duration: 00:53:39|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

নিন্মোক্ত প্রবচনটি শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ ২৬ আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারতে প্রদান করেছেন। এই প্রবচন শ্রীমদ্ভাগবতের ১.১০.৩৩-৩৫ শ্লোক পাঠের মাধ্যমে শুরু হয়েছে।

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায় 

শ্রীমদ্ভাগবতম ১.১০.৩৩
অথ দূরাগতান্ শৌরিঃ কৌরবান্ বিরহাতুরান্।
সংনিবর্ত্য দৃঢ়ং স্নিগ্ধান্ প্ৰায়াৎস্বনগরীং প্রিয়ৈঃ॥ 

অনুবাদ:- শ্রীকৃষ্ণের প্রতি গভীর স্নেহের বশে বিচ্ছেদ -ব্যাকুল কুরুবংশীয় পাণ্ডবেরা বহুদূর পর্যন্ত শ্রীকৃষ্ণের সহগমন করেছিলেন। তখন তাঁদের ফিরে যেতে রাজী করিয়ে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর অন্তরঙ্গ অনুগামীদের সঙ্গে স্বীয় দ্বারকাপুরীতে গমন করলেন।

শ্রীমদ্ভাগবতম ১.১০.৩৩
কুরুজাঙ্গলপাঞ্চালান্ শূরসেনান্ সযামুনান্। 
ব্রহ্মাবর্তং কুরুক্ষেত্রং মৎস্যান্ সারস্বতানথ॥
মরুধন্বমতিক্রম্য সৌবীরাভীরয়োঃ পরান্।
আনর্তান্ ভার্গবোপাগাচ্ছ্রান্তবাহো মনাগ্বিভুঃ॥

অনুবাদ:- হে ভৃগুনন্দন শৌনক, তারপর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যমুনা তটবর্তী কুরুজাঙ্গল, পাঞ্চাল, শূরসেনা, ব্রহ্মাবর্ত, কুরুক্ষেত্র, মৎস্যা, সারস্বতা প্রদেশ এবং বারিহীন ও অল্প জলবিশিষ্ট মরুপ্রদেশ সমূহ ধীরে ধীরে অতিক্রম করে ঈষৎ পরিশ্রান্ত অবস্থায় অশ্ববাহিত হয়ে সৌভীর ও আভীর দেশের পশ্চিমবর্তী প্রদেশ দ্বারকায় অবশেষে উপস্থিত হলেন।

তাৎপর্য:- ভগবান যে সমস্ত প্রদেশ অতিক্রম করেছিলেন তখনকার দিনে সেই সমস্ত প্রদেশ ভিন্ন নামে পরিচিত ছিল। কিন্তু এখানে যে দিক নির্ণয় করা হয়েছে তা থেকে সহজেই সূচিত হয় যে তিনি দিল্লী, পাঞ্জাব, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, সৌরাষ্ট্র এবং গুজরাট হয়ে অবশেষে তাঁর নিবাসস্থান দ্বারকায় উপস্থিত হয়েছিলেন। তখনকার সেই সমস্ত প্রদেশগুলির নাম এখন কি নাম হয়েছে সেই নিয়ে গবেষণা করে কোন লাভ নেই, কিন্তু এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায় যে রাজস্থানের মরুভূমি এবং মধ্যপ্রদেশের মতো অল্প জলবিশিষ্ট স্থান পাঁচ হাজার বছর আগেও ছিল। নৃতত্ত্ববিদেরা যে বলে মরুভূমি- গুলির বিকাশ সম্প্রতি হয়েছে তা শ্রীমদ্ভাগবতের বর্ণনায় স্বীকৃত হয়নি। আমরা এই বিষয়টি ভূতত্ত্ববিদ্‌দের গবেষণার জন্য ছেড়ে দিতে পারি, কেননা পরিবর্তনশীল ব্রহ্মাণ্ডের ভূমির বিকাশের বিভিন্ন অবস্থা রয়েছে। ভগবান যে কুরুপ্রদেশ থেকে তাঁর নিজের রাজ্য দ্বারকাধামে পৌঁছেছেন সেজন্য আমরা অত্যন্ত প্রসন্নতা অনুভব করছি। কুরুক্ষেত্র বৈদিক যুগ থেকে বর্তমান, তাই যখন ভাষ্যকারেরা কুরুক্ষেত্রের অস্তিত্ব অস্বীকার করে, তখন বোঝা যায় যে তারা এক-একটি মহামূর্খ।

*** 

জয়পতাকা স্বামী:- আমরা দেখি যে পাণ্ডবরা ছিলেন কুরু বংশের অংশ, তারা প্রেমবশত তারা ভগবানের থেকে কিছুটা দূরে ছিলেন। তারপর তারা তাঁকে ফিরে আসতে অনুরোধ করেছিলেন, তাই তিনি কিভাবে দ্বারকায় ফিরে গিয়েছিলেন, তার উল্লেখ এখানে আছে। এইসব হচ্ছে ভারতের অংশ। হয়ত এখন ভিন্ন নাম আছে, কিন্তু এই সবই ভারতের অংশ। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই ভারত ভূমিতে তাঁর পাদপদ্ম দিয়েছেন। পাণ্ডবরা সবসময় ভগবানের চিন্তা করতেন এবং তাদের এই উৎসর্গীকৃত মনোভাবের জন্যই তাঁরা ভগবানের লীলায় অংশগ্রহণ করার জন্য অনুমোদিত হয়েছিলেন। তাই আমাদেরও সবসময় ভগবানের ভক্তিযোগে অংশগ্রহণ করা উচিত। ভক্তিযোগের পন্থাটি হচ্ছে যে ২৪ ঘন্টা, সব সময় ভগবানের চিন্তা হয় আর সব সময় সক্রিয় থাকে ভক্তি সেবার মধ্যে। নববিধা ভক্তি আছে, এর একটা না একটা ভক্তি সেবা করতে হয়। এখন আমি কীর্তন করছি, কীর্তন ভগবানের গুণগান। এখন আমি পাঠ করছি, এটাও একপ্রকার কীর্তন এবং আপনারা শ্রবণ করছেন, এটিও একটা ভক্তি পদ্ধতি আছে। যদি আপনারা দিনে ভগবানের কথা স্মরণ করেন, তাহলে এটি হচ্ছে স্মরণম এবং তারপর যদি আপনারা ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেন, প্রণাম নিবেদন করেন, তাহলে তা হচ্ছে বন্দনং। এবং পাদসেবনম্ হচ্ছে ভগবানের প্রতি কিছু সেবা নিবেদন করা, হয়তো ভগবানের জন্য রান্না করা বা হয়ত গ্রন্থ বিতরণ করা। আপনারা কিছু ব্যবহারিক সেবা করছেন, হয়তো মন্দির পরিষ্কার করছ বা তুমি নিজের বাড়ির মধ্যে পরিষ্কার করছো, যেহেতু সেই বাড়ির মধ্যে মন্দির আছে, সেটা হচ্ছে ভগবানের স্থান। ব্রহ্মচারীরা হয়ত মন্দির পরিষ্কার করেন বা অন্য কোন পারমার্থিক কার্য করেন, কিন্তু যারা গৃহস্থ আছেন, তাদেরও কৃষ্ণর চিন্তা করে তাদের সব কাজ করা উচিত। সে সন্তানের যত্ন করা বা যেকোনো কাজ হোক, সেটা কৃষ্ণের জন্য করছি বলে। এইভাবে আপনি শ্রীবিগ্রহ সেবা করুন, সেটা হচ্ছে অর্চনা। যদি আপনি নিজেকে ভগবানের সেবক রূপে চিন্তা করেন, তা হচ্ছে দাস্যং এবং ভগবানকে যদি মনে করে আমার বন্ধু, সেটা সখ্যম। আমি সবকিছু ভগবানের কাছে অর্পণ করি, সেটা হচ্ছে আত্মনিবেদনম। পাণ্ডবরা তাদের এক বিশেষ স্থান আছে, তারা ইতিমধ্যেই ভগবানের লীলার এক অংশ ছিলেন এবং শ্রীকৃষ্ণের প্রতি অত্যন্ত আসক্ত ছিলেন। যখন আমরা ভক্তিমূলক সেবা করা শুরু করি, তখন আমরা বিধি মার্গ অনুশীলন করি। আমাদের হয়ত ভগবানের জন্য স্বাভাবিক প্রেম থাকবে না, কিন্তু যদি আমরা তা অনুশীলন করি এবং এই করতে করতে ভগবানের প্রতি আসক্তি বাড়ে। ভক্তিরসামৃতসিন্ধুতে এটা লেখা আছে যে বিধিমার্গের মধ্যে রাগানুগা একটা স্তর আছে। যখন আপনি চিন্তা করবেন যে কিভাবে আপনার সেবা আরো ভালো করা যায়, যে আমি সেবা এমনভাবে এই উন্নতস্তরে আনতে চাই। অন্যান্য সব যোগের ক্ষেত্রে এমন নয় যে তা সবসময় স্থিতিশীল, কিন্তু ভক্তিমূলক সেবা করার মাধ্যমে সবসময় কৃষ্ণভাবনামৃতের স্থির থাকতে পারবে।

আমরা জানি যে ব্রহ্মচারী হওয়া খুব ভালো। কিন্তু প্রত্যেকেই এক নয় এবং কেউ হয়ত পারিবারিক জীবনে গৃহস্থ হয়ে থাকতে পছন্দ করবে এবং তাই দুই ধরনের দম্পতি হয় — গৃহমেধী এবং গৃহস্থ। একদিন আমি শ্রীল প্রভুপাদের সাথে মায়াপুরে কথা বলছিলাম এবং কিছু বলদেরা ছিল যারা গোল গোল ঘুরছিল এবং একটা লাঠি ছিল, আর তাদের পা দিয়ে গাছ থেকে ভুসি আলাদা করছিল, তখন শ্রীল প্রভুপাদ বললেন, এই দণ্ডটাকে কি বলে? এটা হচ্ছে মেইদণ্ড, মহিলাদের দণ্ড! গৃহমেধীরাও এইরকম গোল ঘুরছে, কিন্তু তাদের লক্ষ্য হচ্ছে শুধু ইন্দ্রিয়তৃপ্তি করা। গৃহস্থদের একটি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র আছে, তাদের হয়ত ইন্দ্রিয় তৃপ্তির জন্য কিছু অনুমতি দেওয়া আছে, কিন্তু তারা তা কৃষ্ণভাবনাময় ভাবে করে। আমরা আমাদের বিবাহিত ভক্তদের গৃহস্থ হতে দেখতে চাই। শাস্ত্রতে বলা আছে যে একজন পুরুষের জন্য নারী হচ্ছে নরকে যাওয়ার পথ এবং একজন মহিলার জন্য পুরুষ হচ্ছে নরকে যাওয়ার পথ, কিন্তু যদি তারা সেই পুরুষ বা মহিলাকে কেবল ইন্দ্রিয়তৃপ্তির জন্য দেখে, তাহলে পুরুষ যদি স্ত্রীর প্রতি আসক্ত হয়, তাহলে পরবর্তী জন্মে সে নারী হয়ে জন্মগ্রহণ করে এবং যদি স্ত্রী তার স্বামীর প্রতি আসক্ত হয়, তাহলে সে পরবর্তী জন্মে পুরুষ হয়ে জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু তারা যদি কৃষ্ণভাবনামৃত হয়, তাহলে এই বিপদ নেই। কারণ তাদের অধিক আসক্তি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্য আছে। আমরা ভাগবতমে পড়ছিলাম যে কিভাবে দেবহুতি তিনি ভগবদ্ধামে ফিরে গিয়েছিলেন, তিনি তার স্বামীর সেবা করেছিলেন এবং এইভাবে তার দশটা সন্তান ছিল, কিন্তু তিনি ভগবদ্ধামে ফিরে গিয়েছিলেন। ধ্রুব মহারাজের মাতা সুনীতি তিনিও ভগবান ধামে ফিরে গিয়েছিলেন। এইভাবে আমরা আমাদের সকল মহিলা ও পুরুষদের দক্ষ ভক্তিযোগী হিসেবে দেখতে চাই। আমরা তাদেরকে ভগবদ্ধামে ফিরে যেতে দেখতে চাই। আমি শ্রীল প্রভুপাদকে বলেছিলাম যে আমি জন্ম-জন্মান্তর ধরে আপনার সেবা করতে চাই। তিনি আমাকে বলেছিলেন যে তুমি কেন আমাকে ফিরিয়ে আনতে চাও? আমি চিন্তা করলাম আমি কি ঠিক বলিনি? ভুল বলছিলাম? তারপর আমি বলছি, আমি আপনাকে এমন কি জন্ম-জন্মান্তর ধরে সেবা করতে চাই। তখন শ্রীল প্রভুপাদ হাসলেন, তাই আমরা চাই, আমাদের শিষ্যরা যাতে ভক্তিমূলক সেবায় খুব সক্রিয় হয়।

এক একটা অবতার বিশেষ একটা ভাব থাকে। যেমন ভগবান নরসিংহদেবের ক্রোধপূর্ণ ভাব আছে। বরাহ দেব ভূদেবীকে গর্ভদক সমুদ্র থেকে তুলে দিয়েছেন। রামচন্দ্র ছিলেন আদর্শনীয় রাজা, কৃষ্ণ তিনি পরমেশ্বর ভগবান এবং চৈতন্য মহাপ্রভু ও পঞ্চতত্ত্ব এসছেন সবাইকে পতিত পালন করার জন্য। তাই যত কৃষ্ণভাবনামৃত বিস্তারিত হবে, ততই সমগ্র জগতে কৃষ্ণ প্রেমের বন্যা হবে। এইভাবে আমরা সাহায্য করতে পারব, আমরা হরিনাম সংকীর্তন প্রসারের মাধ্যমে ভগবানের সেবা করতে পারবো। কেউ গ্রন্থ বিতরণ করছে, কেউ নামহট্ট প্রচার করছে, কেউ ভক্তিবৃক্ষ অংশগ্রহণ করছে। এখানে কত মহিলা পুরুষ ভক্তি বৃক্ষ করছে, এই ভাবনার মাধ্যমে যে আমরা কিভাবে অন্যদেরকে কৃষ্ণভাবনাময় হতে সাহায্য করব। এর মাধ্যমে আমরা চৈতন্য মহাপ্রভু ও পঞ্চতত্ত্বকে সাহায্য করতে পারব। তাঁরা দেখতে চান যে সমগ্র বিশ্বের প্রতি নগর ও গ্রামে পবিত্র নাম প্রসারিত হয়েছে। শ্রীল প্রভুপাদ গৌরবানী প্রচার করছিলেন, এইভাবে আমরাও চৈতন্য মহাপ্রভুর বাণী প্রচারে সাহায্য করতে পারি। আমি সকল ব্রহ্মচারী ও গৃহস্থদের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যারা এই চিন্তা করছে যে কিভাবে কৃষ্ণভাবনামৃত ছড়িয়ে দেওয়া যাবে। যখন আমি ব্রহ্মচারী বলি, তার মধ্যে বানপ্রস্থ এবং সন্ন্যাসীরাও আছেন। 

চৈতন্য মহাপ্রভু হরিদাস ঠাকুরকে বললেন, “কিভাবে কিভাবে এই সমস্ত যবণ উদ্ধার হবে?” এবং হরিদাস ঠাকুর বলেছিলেন যে, “ দয়া করে চিন্তা করবেন না। তারা উদ্ধার পাবে।” দেখুন এই হচ্ছে একজন ভক্তের ভাব, তারা ভগবানের ইচ্ছা সন্তুষ্টিবিধান করতে চান। ঠিক যেমন যখন কৃষ্ণ হস্তিনাপুর থেকে দ্বারকায় গিয়েছিলেন, যুধিষ্ঠির তার চার অক্ষৌহিনী সেনাকে ভগবানের সুরক্ষার জন্য পাঠিয়েছিলেন। এখন এটা হয়তো একদিক থেকে দরকার ছিল না কিন্তু স্নেহবশত করছিলেন। এইভাবে চৈতন্য মহাপ্রভুর চান যে সবাই উদ্ধার হোক। সব ভক্ত যদি চিন্তা করে কিভাবে মানুষকে আকৃষ্ট করব ভক্তি যোগের প্রতি, যেমন শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে একজন ভক্ত তৈরি করতে কলস কলস রক্ত লাগে, তাই কারো ক্ষেত্রে ভক্ত হওয়া সহজ নয়। গীতায় বলে যে আমরা দেহ নই, আমরা আত্মা, কিন্তু সাধারণ মানুষ মনে করে যে তারা দেহ, এবং এই দেহতৃপ্তির জন্য সবকিছু করে, কিন্তু তারা জানে না যে শরীর চেতনাময় হওয়ার ফলে তারা আসলে দুঃখ পাচ্ছে, যেহেতু ইন্দ্রিয়গুলি কেবল সুখের উৎস নয়, সেগুলি দুঃখেরও উৎস। ঠিক যেমন একটা পাখা উষ্ণ জলবায়ুর জন্য ভালো কিন্তু শীতল জলবায়ুর ক্ষেত্রে তা ভালো নয়। ঠিক তেমনই ইন্দ্রিয়গুলি সুখ দেয় এবং দুঃখও দেয়। তাই আমরা চাই মানুষেরা উচ্চতর স্বাদ আস্বাদন করুন। আমরা কৃষ্ণের অংশ, তাই আমরা যদি কৃষ্ণের প্রীতিবিধান করি, তাহলে আমরাও আনন্দিত হব। কৃষ্ণ যদি একটু খুশি হয়, আমরা সুনামির মত আনন্দ হয়। 

যখন তারা হোসেন শাহের কাছে চৈতন্য মহাপ্রভুর বর্ণনা করছিলেন, তারা বলছিলেন যে কিভাবে তার শ্রীনয়ন থেকে গঙ্গার জলের ধারার মতো অশ্রু প্রবাহিত হয় এবং তিনি হাসি করতেন ২ প্রহর। হা! হা! কে ৬ ঘন্টা ধরে হাসতে পারে? কে পারে করতে? তিনি ভাবাপন্ন হয়ে করতেন। ভারতের কিছু কিছু সার্বজনীন পার্কে তাদের হাসির ক্লাব আছে। হা! হা! হা! হা! তারা প্রত্যেকদিন ১০ মিনিট হাসে। কিন্তু ৬ ঘন্টা? গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! এই বাদশা হোসেন শাহ শুনছে আর তার চোখ একদম খুলে গেছে! তিনি বলেছিলেন যে, “এই চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি নিশ্চয়ই ক্ষুধার থেকে অভিন্ন।” তাই তিনি বলেছিলেন যে, “কেউ যেন চৈতন্য মহাপ্রভুকে বিরক্ত না করে।” সেই জন্য আমরা চৈতন্য মহাপ্রভুর লীলায় থাকতে পেরে অত্যন্ত ভাগ্যবান। চৈতন্য ভাগবতে একটি শ্লোক আছে: “অদ্যাপিহ নিত্য লীলা করে গৌর রায়, কোনো কোনো ভাগ্যবানে দেখিবারে পায়।” 

কিছুদিনের মধ্যে আমরা শ্রীল প্রভুপাদের ব্যাস পূজায় তাঁর আবির্ভাব তিথি উদযাপন করব এবং চৈতন্য মহাপ্রভু এই ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন যেতিনি ৫০০ বছর পর তার সেনাপতি ভক্তকে পাঠাবেন এবং তিনি সমগ্র বিশ্বের কাছে সেই বাণী নিয়ে আসবেন। কোনো না কোনোভাবে আমরাও চৈতন্য মহাপ্রভুকে সাহায্য করতে পারি। কাসা দেশ হোক বা যারা অস্ট্রেলিয়া, মালেশিয়া, সিঙ্গাপুর, বাংলাদেশ থাকে, যাই হোক আমাদের দেখা উচিত যে প্রত্যেকে যাতে পবিত্র নাম জপ করে। মায়াপুরে একটি প্রবচনে প্রভুপাদ বলেছিলেন যে ১৯০০ দশকে কলকাতায় এক গুরুতর প্লেগ মহামারী হয় এবং সেই সময় কিছু বাবাজিরা হরেকৃষ্ণ কীর্তন প্রচার করছিল। কেবল হিন্দুরা নয়, মুসলমান, খ্রিস্টান এবং জিউরাও কীর্তন করছিল। এইভাবে, সেই প্লেগ থেকে বেঁচে গেছে, কিন্তু প্রভুপাদ বলছিলেন যে জড়জাগতিক কিছু সুবিধার জন্য হরিনাম কীর্তন করা অপরাধজনক। তবে ভক্তরা সবসময় প্রথমে এটা বলেন যে, “ভগবান আপনি যদি প্রীত হন।” এমনকি যদি অন্যান্যরা অপরাধ যুক্ত ভাবে নাম করে, তাহলেও তাতে তাদের কিছুটা ভালো হবে। অপরাধযুক্ত নাম করে, ভবিষ্যতের শুদ্ধ নাম হয়। 

এখন কোভিড ১৯ মহামারী বাড়ছে, নতুন ভ্যারিয়েন্ট আসছে। তাই আমাদের সমগ্র বিশ্বে সকলকে দিয়ে পবিত্র নাম জপ করানো উচিত। যদি হরেকৃষ্ণ নাম না করতে চায়, তাহলে অন্য ভগবানের নাম করুক। যাইহোক, আমরা দেখি যে পাণ্ডবরা সবসময় কৃষ্ণভাবনাময় ছিলেন, আমরা আশা করি তোমরা সবাই সর্বদা কৃষ্ণ ভাবনাময় থাকবে।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 6/FEB/2024
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions