নিন্মোক্ত প্রবচনটি শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ ২১ আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারতে প্রদান করেছেন। এই প্রবচনটি শ্রীমদ্ভাগবতের ১.১০.২৭ পাঠের মাধ্যমে শুরু হয়েছে।
মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
শ্রীমদ্ভাগবতম ১.১০.২৭
অহো বত স্বর্যশসস্তিরস্করী
কুশস্থলী পুণ্যযশঙ্করী ভুবঃ।
পশ্যন্তি নিত্যং যদনুগ্রহেষিতং
স্মিতাবলোকং স্বপতিং স্ম যৎপ্রজাঃ॥
অনুবাদ:- নিঃসন্দেহে এটি পরম আশ্চর্যের বিষয় যে দ্বারকা স্বর্গের মহিমাকেও লাঞ্ছিত করেছে এবং পৃথিবীর পুণ্য প্রসিদ্ধি বৃদ্ধি করেছে। দ্বারকাবাসীরা সর্বদাই সমস্ত জীবাত্মার আত্মা শ্রীকৃষ্ণকে তার প্রেমময় রূপ-বৈশিষ্ট্যে দর্শন করছেন। তিনি মধুর হাস্যময় কৃপাদৃষ্টি দ্বারা তাদের অনুগৃহীত করছেন।
তাৎপর্য:- স্বর্গলোকে ইন্দ্র, চন্দ্র, বরুণ, বায়ু আদি দেবতারা বাস করেন, এবং পুণ্যবান ব্যক্তিরা পৃথিবীতে বহু পুণ্য কর্ম করার পর সেখানে যেতে পারেন। আধুনিক বৈজ্ঞানিকেরা স্বীকার করে যে উচ্চতর লোকে সময়ের বিচার এই পৃথিবী থেকে ভিন্ন। তেমনই শাস্ত্র থেকে আমরা জানতে পারি যে সেখানে মানুষের আয়ু দশ হাজার বছর (আমাদের গণনা অনুসারে)। পৃথিবীর ছয় মাস স্বর্গের একদিনের সমান। তেমনই সেখানে সুখ উপভোগের সুযোগ-সুবিধাও অনেক উন্নত এবং সেখানকার অধিবাসীদের সৌন্দর্য অতুলনীয়। পৃথিবীর সাধারণ মানুষেরা স্বর্গলোকে যাওয়ার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী, কেননা তারা শুনেছে যে সেখানকার সুখ-সুবিধা পৃথিবীর থেকে অনেক অনেক বেশি। তারা এখন অন্তরীক্ষ যানে চড়ে চন্দ্রলোকে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এই সমস্ত কিছু বিচার করে বোঝা যায় যে স্বৰ্গলোক পৃথিবী থেকে অনেক বেশি বিখ্যাত। কিন্তু দ্বারকায় শ্রীকৃষ্ণ একজন রাজারূপে রাজ্য শাসন করার জন্য সেই স্বর্গের খ্যাতি পৃথিবীর কাছে নিষ্প্রভ হয়ে গেছে। তিনটি স্থান, যথা বৃন্দাবন, মথুরা এবং দ্বারকা এই ব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত প্রসিদ্ধ স্থানগুলি থেকে অধিক মহত্ত্বপূর্ণ। এই সমস্ত স্থানগুলি সর্বদা পবিত্র, কেননা যখনই ভগবান অবতরণ করেন তখন তিনি এই তিনটি স্থানে দিব্যলীলা প্রদর্শন করেন। এগুলি হচ্ছে ভগবানের নিত্য ধাম, এবং যদিও ভগবান এখন অপ্রকট হয়েছেন, তথাপি পৃথিবীর অধিবাসীরা এই ধামগুলির উপস্থিতির সুযোগ গ্রহণ করেন। ভগবান সমস্ত জীবের আত্মা, এবং তিনি সব সময় চান যে, সমস্ত জীব যেন তাদের স্বরূপে অবস্থিত হয়ে তাঁর অপ্রাকৃত লীলায় অংশগ্রহণ করে তাঁর সান্নিধ্যে থাকে। তাঁর আকর্ষণীয় রূপ এবং মধুর হাস্য সকলের হৃদয়কে এমনই গভীরভাবে প্রভাবিত করে যে, একবার তা হৃদয়ঙ্গম করার পর জীব ভগবানের ধামে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকে সে আর কখনও এখানে ফিরে আসে না। এই তত্ত্ব শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় প্রতিপন্ন হয়েছে।
জড় সুখভোগের উন্নততর সুযোগ-সুবিধার জন্য স্বর্গলোক প্রসিদ্ধ হতে পারে, কিন্তু শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (৯/২০-২১) থেকে আমরা জানতে পারি যে, অর্জিত পুণ্য শেষ হয়ে গেলে মানুষকে আবার এই পৃথিবীতে ফিরে আসতে হয়। দ্বারকা নিশ্চিতভাবে স্বর্গ থেকে অধিক মহত্ত্বপূর্ণ, কেননা ভগবানের হাস্যোজ্জ্বল দৃষ্টিপাতের দ্বারা যাঁরা একবার অনুগৃহীত হয়েছেন, তাঁরা আর কখনো এই দূষিত পৃথিবীতে ফিরে আসেন না, যার সম্বন্ধে ভগবান নিজেই বলেছেন যে এটি হচ্ছে দুঃখভোগের স্থান। কেবল এই পৃথিবীই নয়, ব্রহ্মাণ্ডের সব কটি লোকই হচ্ছে দুঃখের আলয়, কেননা এই ব্রহ্মাণ্ডের কোন লোকেই নিত্য, জ্ঞানময় এবং আনন্দময় জীবন লাভ করা যায় না। যাঁরা ভগবানের সেবায় যুক্ত হয়েছেন, তাঁদের উপরোক্ত এই তিনটি স্থানে যথা দ্বারকা, মথুরা এবং বৃন্দাবনে বাস করার উপদেশ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু এই তিনটি স্থানে ভগবদ্ভক্তি অনুশীলনের ফল বিবর্ধিত হয়, তাই যাঁরা সেখানে শাস্ত্ৰ নির্দিষ্ট বিধি-বিধান অনুসরণ করতে যান, তাঁরা অবশ্যই সেই ফলই লাভ করেন যা স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ সেখানে উপস্থিত থাকার সময় লাভ হত। তাঁর ধাম এবং তিনি স্বয়ং অভিন্ন, এবং এখনও কোন শুদ্ধ ভক্ত অন্য কোন শুদ্ধ ভক্তের নির্দেশনায় সেই সমস্ত ফল লাভ করতে পারেন।
***
জয়পতাকা স্বামী:- শ্লোকে বলা হচ্ছে যে কিভাবে হস্তিনাপুরের মহিলারা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সম্পর্কে কথা বলছিলেন এবং পূর্ববর্তী শ্লোকে বলা হয়েছে যে এই মহিলাদের চিন্তাভাবনা বেদের স্তুতির থেকেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে প্রিয়। আর এই শ্লোকেতেও বিশেষত দ্বারকার মহিমা বর্ণনা করা হয়েছে। আমরা পড়ছি যে কিভাবে দ্বারকাতে চন্দ্র এবং বিভিন্ন ব্রাহ্মণেরা কৃষ্ণকে দর্শন করতে আসতেন। প্রভুপাদ বলছিলেন এই তিনটে ধাম বাস করলে — দ্বারকা, মধুরা বা বৃন্দাবন, এটা ভগবানের নিত্যধামে ফিরে যাওয়া যায়, কিন্তু এটা প্রমাণ আছে নবদ্বীপ ধামে বাস করলে, এটা বৃন্দাবনের থেকে অভিন্ন। বৃন্দাবন ধাম হচ্ছে মাধুর্য ধাম — মধুরতার ভাব, আর নবদ্বীপ ধাম হচ্ছে ঔদার্য ধাম — উদারতার ভাবের। এবং এরপর পুরী ও দ্বারকা ধাম এগুলিও অভিন্ন। রথযাত্রা হচ্ছে দ্বারকা থেকে বৃন্দাবন যাওয়া।
আমরা পড়ছিলাম যে কিভাবে চৈতন্য মহাপ্রভু কাশিতে গিয়েছিলেন, তিনি এক বিক্রেতার উপমা দিয়েছিলেন, তিনি বলেছিলেন যে, “আমি জিনিসপত্রের অনেক ভার নিয়ে বিক্রয় করতে এসেছি। শুদ্ধ কৃষ্ণপ্রেম বিক্রয় করতে এসেছি। আমি যদি কাশি থেকে ফিরে যাই এত ভার নিয়ে, তাহলে কি লাভ হবে? এখানে খরিদ্দার আছে না কেউ, এখানে সব অদ্বৈতবাদী, মায়াবাদী। তাহলে আমি কেমন করে বিক্রি করে এই ভার হাল্কা করি? এমনকি আমি যদি কিছু ছাড় দিয়েও বিক্রি করতে পারি।” চৈতন্য মহাপ্রভুর ভাব অসাধারণ। শ্রীল প্রভুপাদ এই বাণী সমগ্র বিশ্বের কাছে নিয়ে এসেছিলেন, তিনি হচ্ছেন চৈতন্য মহাপ্রভুর প্রতিনিধি, তাই কোন না কোনভাবে তিনিও তা বিক্রয় করতে চান। তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুর এই বস্তু প্রদান করতে চান, যেমন চৈতন্য মহাপ্রভু জিজ্ঞেস করছিলেন যে তিনি নিজে কতই বা করতে পারবেন, তাই প্রত্যেকের তাঁকে সাহায্য করা উচিত। এইভাবে চৈতন্য মহাপ্রভু উনি সারা বিশ্বতে কৃষ্ণ প্রেম বিতরণ করতে চেয়েছেন। শ্রীল প্রভুপাদ ভগবানকে সহায়তা করার এই দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু যদি মানুষেরা তা গ্রহণ না করে, তাহলে তারা অত্যন্ত অভাগা। এইজন্য আমরা এই মহামারীর সময় এই প্রচেষ্টা করছি যে মানুষের পবিত্র নাম জপ করা উচিত। আমরা পবিত্র নাম কোন জাগতিক সুবিধা লাভের জন্য ব্যবহার করতে করি না, আমরা সব সময় বলি যে “যদি এতে ভগবান প্রসন্ন হন” এইভাবে, কিন্তু যদি কেউ ভগবানের নাম নেয় কোন কষ্ট থেকে উদ্ধার হতে, তাহলে তা হয়তো অপরাধজনক, কিন্তু জপ না করার থেকে অপরাধযুক্ত নাম জপ করা ভালো। এখন যদি অপরাধ যুক্ত না করে, ভবিষ্যতে এটা শুদ্ধ নাম হবে। কাশিতে মানুষেরা বলছিল ব্রহ্ম, আত্মা, চৈতন্য, মায়া এইসব, কিন্তু তারা কৃষ্ণের নাম বলেনি, কিন্তু চৈতন্য মহাপ্রভু চেয়েছেন সবাই হরে কৃষ্ণ নাম করুন। তাই, তিনি জপ-কীর্তন করছিলেন এবং সব সাধারণ মানুষেরাও তাঁর সাথে যুক্ত হয়েছিলেন, কিন্তু মায়াবাদী সন্ন্যাসীরা নির্বিশেষবাদী হওয়ায় তারা তা করছিল না। তারা চৈতন্য মহাপ্রভুর সমালোচনা করছিল।
এইভাবে আমাদের কোন না কোনভাবে এই জগতের মানুষদের দিয়ে জপ করাতে হবে। দক্ষিণ আমেরিকাতে আমি এটা তাদেরকে বলেছিলাম যে তারা ভগবানের যে কোন নাম জপ করতে পারে কিন্তু হরে কৃষ্ণ জপ করা ভালো। একজন খ্রিস্টান নান তিনি জপ করতে শুরু করে — যীশু খ্রীষ্ট যীশু খ্রীষ্ট খ্রীষ্ট খ্রিষ্ট যীশু যীশু এবং তারপর সে ভাবল যে এটা হরে কৃষ্ণের সাথে অনেকটা একই তাহলে আমি কেন হরে কৃষ্ণ বলার চেষ্টা করব না? হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে/ হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে। হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে/ হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে। তিনি অনুভব করেছেন যে হরে কৃষ্ণ নাম করা অনেক বেশি শক্তি আছে। তাই, তারপর তিনি হরে কৃষ্ণ জপ করতে শুরু করলেন, তারপর তিনি দীক্ষা নিয়েছেন, কিন্তু এখনও তিনি খ্রিস্টান নান আছেন। কিন্তু তিনি হরে কৃষ্ণ জপ করেন এবং নিয়ম-নীতি পালন করেন।
যাইহোক, আমরা পবিত্র নবদ্বীপ ধামে বাস করছি এবং এটা বৃন্দাবনের থেকে অভিন্ন। যেখানে যেখানেই ইসকন মন্দির আছে, সেই নির্দিষ্ট মন্দিরের চারিপাশের এলাকা ছোট ধাম হিসেবে বিবেচিত। ভক্তি তীর্থ স্বামী তা দেখিয়েছিলেন যে যখন তিনি তাঁর শরীর ত্যাগ করছিলেন গীতা নগরীতে। সেখানে রাধা দামোদরের শ্রীবিগ্রহ আছে, যা শ্রীল প্রভুপাদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাই কোন না কোনভাবে কারো পবিত্র ধামে বাস করা উচিত।
এখন আমরা ভাদ্র পূর্ণিমা উৎসব উদযাপন করছি এবং আমরা ২৫ হাজার ভাগবতের সেট সমগ্র বিশ্বে বিতরণ করার চেষ্টা করছি। বৈশ্যসিকা শিক্ষাপ্রভু এই লক্ষ্য উপস্থাপন করেছেন। আমরা ভাগবতের মাহাত্ম্যে পড়ি যে যেখানেই শ্রীমদ্ভাগবত আছে, যা হচ্ছে কৃষ্ণের গ্রন্থাবতার, সেখানে সকল দেবতারা ও প্রত্যেক আসে। যেখানেই ভাগবত রাখা হয়েছে, যদি নবদ্বীপ বা বৃন্দাবনে বাস না করতে পারে কমপক্ষে বাড়িতে একটা ভাগবতম সেট রাখা উচিত। যেহেতু শ্রীমৎ ভাগবতে ভগবানের ভক্তি সেবা ছাড়া আর কিছু উপদেশ নাই। তাই, চৈতন্য মহাপ্রভু দেবানন্দ পণ্ডিতকে বলছেন, “তুমি শ্রীমদ্ভাগবতম উপদেশ দিচ্ছ, কিন্তু ভক্তি বলছ না এটা অপরাধ। তাই, তোমাদের গৃহে ভাগবত রাখার মাধ্যমে সেটিকে ধামে পরিণত করতে পারবে, যদি তোমাদের কাছে সেই অর্থ না থাকে, তাহলে ভাগবতের কিছু শ্লোক লিখে রাখো। এই কারণে ব্যাক টু গডহেড ম্যাগাজিনে তারা শ্রীমদ্ভাগবতের কিছু শ্লোক তার মধ্যে দেয়। কিন্তু সব থেকে ভাল হচ্ছে শ্রীমদ্ভাগবতের পুরো এক সেট রাখা এবং প্রতিদিন তা পড়া।
তাই আমরা দেখি যে হস্তিনাপুরের মহিলারা তাদের প্রাসাদের উপরে উঠে গিয়েছিলেন এবং ভগবানকে দেখছিলেন ও তাদের প্রার্থনা বলছিলেন। কোন না কোনভাবে পুরুষ ও মহিলা প্রত্যেকের ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেবার প্রতি মনোযোগী হওয়া উচিত। আমি একজন ভক্তের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলাম, তিনি আমাকে বলেছিলেন যে তিনি স্বর্গে বা আমেরিকাতে জন্মগ্রহণ করতে চেয়েছিলেন। আমরা দেখি যে এই বিশ্বের প্রত্যেক স্থান হচ্ছে দুঃখের স্থান। কিছু মানুষেরা স্বর্গে যায়, সেখানে এক দীর্ঘ জীবন আছে, কিন্তু সেখানেও মৃত্যু এবং বার্ধক্য আছে। কিন্তু তাদের মরতে হয়, আবার ফিরে আসতে হয়। আমেরিকাতে আমরা দেখেছি যে এটা হচ্ছে কোভিড ১৯ -এর ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানে আছে। এই জগতের সর্বত্র, এই ব্রহ্মাণ্ডের সর্বত্রই দুঃখ আছে। আমি প্রভুপাদকে বলছিলাম একদিন আমি তোমাকে জন্মে জন্মে সেবা করতে চাই। তিনি বলছেন, “কেন তুমি আমাকে ফিরিয়ে আনতে চাও?” তারপর আমি তা পরিবর্তন করে বললাম যে “আমি আপনাকে এমনকি জন্ম-জন্মান্তর ধরে সেবা করতে চাই।” আমি ভাবছিলাম যে আমার সব শিষ্যরা পুরুষ ও মহিলারা তাদের আধ্যাত্মিক জগতে ফিরে যেতে হবে, এখন এই জগতে ৫০% হচ্ছে নারী ৫০% হচ্ছে পুরুষ। ভারতে ৫২% হচ্ছে নারী এবং ৪৮% হচ্ছে পুরুষ। আমার সব শিষ্যদের, তাদের একে অপরের সাথে খুব ভালোভাবে ব্যবহার করা উচিত, তাদের আমাকে শিষ্যদের ভগবদ্ধামে ফিরিয়ে যেতে সাহায্য করা উচিত। এখন তা বাংলাদেশ হোক, ভারত হোক বা যেখানেই হোক না কেন, সে যাতে ভগবত ধামে ফিরে যায় এটা প্রয়োজন আছে। এবং আমার গুরুভ্রাতা ও গুরুভগিনী ও সকলকে হরে কৃষ্ণ জপ এবং এই অনুশীলন চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করার জন্য আমার সাহায্য দরকার। এখন যা পরিস্থিতি কেউ আছে যে ভক্তিপথে সক্রিয়, কেউ ছেড়ে দিয়েছে, তারা যাতে ফিরে আসে এটা চেষ্টা করা উচিত। যারা জপ করছে, যারা এই অনুশীলন করছে, আমাদের তাদেরকে উৎসাহিত করা উচিত। আমাদের তাদেরকে এই অনুশীলন করতে ও এই কার্য অব্যাহত রাখতে উৎসাহিত করা উচিত। আমরা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপার এই এক বিরাট সুযোগ পেয়েছি এবং শ্রীল প্রভুপাদ তিনি সমগ্র বিশ্বের কাছে গৌর বাণী নিয়ে এসেছেন। ভগবদগীতাতে কৃষ্ণ বলেছেন যে যদি কেউ তার শরণ গ্রহণ করে, তাহলে তারা পবিত্র ধামে ফিরে যায়, তারা স্ত্রী হোক, বৈশ্য হোক, শূদ্র হোক, যেই হোক না কেন। তাই এটা এক বিশেষ কৃপা যে শ্রীল প্রভুপাদ এটি সমগ্র বিশ্বে বিতরণ করেছেন, তাই আমাদের অত্যন্ত কৃতজ্ঞ থাকা উচিত এবং এই ধন গ্রহণ করা উচিত। ভগবদগীতা ও শ্রীমদ্ভাগবত পড়ুন, আমি এই সব ভক্তদের অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যারা ভাগবত ও ভগবদগীতা বিতরণ করছে, এইভাবে আমাদের মনুষ্য জীবন সার্থক হয়।
হস্তিনাপুরের রানীগণ তারা বলছিলেন কি ভাগ্যবান দ্বারকারবাসী, তারা কৃষ্ণের হাসি মুখ দেখে তাদের জীবনকে সার্থক করছে। আমাদের চৈতন্য মহাপ্রভুর এই বিশেষ কৃপা গ্রহণ করা উচিত। আমাদের স্মরণ করা উচিত যে কিভাবে এই জগত হচ্ছে দুঃখের স্থান। নিজেদেরকে ভক্তিমূলকসেবায় নিযুক্ত করার মাধ্যমে আমরা নিত্য ধামে ফিরে যেতে পারব। এটা হচ্ছে শ্রীল প্রভুপাদের দ্বারা এক বিশেষ আত্মত্যাগ। আমি দেখতাম যে কিভাবে মায়াপুরে তিনি প্রত্যেক দিন রাতে উঠে পড়তেন এবং অনুবাদ করতেন, তাঁর তাৎপর্য লিখতেন। তিনি রাত ১২টায় উঠে ভোর ৪টে পর্যন্ত তিনি লিখতেন। তারপর তিনি জপ করতেন, তিনি যেতেন। এখন আমাদের কাছে শ্রীল প্রভুপাদের দ্বারা লিখিত এইসব গ্রন্থাবলী আছে, তাই আমাদের সেগুলি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অধ্যয়ন করা উচিত।
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ