Text Size

২০২১০৮১৪ শ্রীমদ্ভাগবতম ১.১০.২১

14 Aug 2021|Duration: 00:49:31|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ 

ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায় 

শ্রীমদ্ভাগবতম ১.১০.২১
স বৈ কিলায়ং পুরুষঃ পুরাতনো
য এক আসীদবিশেষ আত্মনি।
অগ্রে গুণেভ্যো জগদাত্মনীশ্বরে
নিমীলিতাত্মন্নিশি সুপ্তশক্তিষু ॥ 

অনুবাদ:- তারা বলেছিলেন — ইনিই সেই আদি পুরুষোত্তম ভগবান, যাঁর কথা আমরা স্মরণ করে থাকি। প্রকৃতির গুণসমূহ সৃষ্টি হওয়ার পূর্বে তিনিই কেবলমাত্র বিরাজমান ছিলেন, এবং যেহেতু তিনিই পরমেশ্থর ভগবান, তাই কেবলমাত্র তারই মধ্যে নিশাকালে নিদ্রা যাওয়ার মতো সমস্ত জীব শক্তিরহিত হয়ে লীন থাকে।

তাৎপর্য:- নিখিল সৃষ্টিতে দুই প্রকার প্রলয় হয়। ৪৩২,০০,০০,০০০ সৌর বৎসরের পর কোন বিশেষ ব্রহ্মাণ্ডের নিয়ন্তা ব্রহ্মা যখন নিদ্রা যান তখন এক প্রকার প্রলয় হয়। আর ব্রহ্মার শতবর্ষ পূর্ণ হলে, তার জীবনের অন্তে সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডের পূর্ণ প্রলয় হয়। আমাদের গণনায় ব্রহ্মার শত বর্ষ হচ্ছে ৮৬৪,০০,০০,০০০×৩০×১২×১০০ সৌর বৎসর। উভয় প্রলয়ের সময়েই মহত্তত্ত্ব নামক জড়া শক্তি এবং জীব-তত্ব নামক তটস্থা শক্তি পরমেশ্বর ভগবানের অঙ্গে লীন হয়ে যায়। পুনরায় জড় জগৎ সৃষ্টি হওয়া পর্যন্ত জীবেরা ভগবানের শরীরে সুপ্ত অবস্থায় থাকে। এইভাবে জড় জগতের সৃষ্টি, স্থিতি এবং প্রলয় কার্য চলতে থাকে। ভগবানের দ্বারা সক্রিয় হওয়ার পর প্রকৃতি তিনটি গুণের প্রতিক্রিয়ার প্রভাবে ক্রিয়াশীল হয়, এবং তাই এখানে বলা হয়েছে যে প্রকৃতির গুণ সক্রিয় হওয়ার পূর্বে ভগবান বিরাজমান ছিলেন। শ্রুতি-মন্ত্রে বলা হয়েছে যে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীবিষ্ণুই কেবল সৃষ্টির পূর্বে ছিলেন, এবং তখন ব্রহ্মা, শিব এবং অন্যান্য দেবতারা ছিলেন না। বিষ্ণু বলতে এখানে কারণ-সমুদ্রে শায়িত মহাবিষ্ণুকে বোঝানো হয়েছে। তার নিঃশ্বাসের ফলে বীজরূপে  সমস্ত ব্রহ্মাণ্ডের উৎপত্তি হয়, এবং ধীরে ধীরে তা অসংখ্য গ্রহ সমন্বিত বিরাট রূপ ধারণ করে। অশ্বথ বৃক্ষের বীজ থেকে যেমন অসংখ্য বৃক্ষের বিকাশ হয়, ঠিক তেমনই ব্রহ্মাণ্ডের বীজ থেকে বিশাল ব্রহ্মাণ্ড বিকশিত হয়। এই মহাবিষ্ণুও হচ্ছেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অংশ, যাঁর সম্বন্ধে বর্ণনা করে ব্রহ্ম-সংহিতায় বলা হয়েছে যে - “আমি আদি পুরুষ গোবিন্দকে আমার সম্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি, যার অংশ হচ্ছেন মহাবিষ্ণু। যার অপ্রাকৃত শরীরের রোমকূপ থেকে সমস্ত ব্রহ্মাণ্ডের উৎপত্তি হয়, এবং সেই ব্রহ্মান্ডের পরিচালক ব্রহ্মাগণ কেবল তার নিঃশ্বাসের কাল অবধি জীবিত থাকেন।” ব্রহ্ম-সংহিতা ৫/৫৮)। এই ভাবে গোবিন্দ বা কৃষ্ণ হচ্ছেন মহা বিষ্ণুরও কারণ স্বরূপ। সেই বৈদিক তত্ব আলোচনারত সমস্ত কুলরমণীরা অবশ্যই মহাজনদের কাছ থেকে সে কথা শুনেছিলেন। মহাজনেদের কাছ থেকে শ্রবণ করাই হচ্ছে চিন্ময় বিষয়ে যথাযথ ভাবে অবগত হওয়ার একমাত্র উপায়। এর কোনো বিকল্প নেই। ব্রহ্মার শতবর্ষের সমাপ্তিতে জীবেরা আপনা থেকেই  মহাবিষ্ণুর শরীরে লীন হয়ে যায়। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে জীবেরা তাদের সত্তা হারিয়ে ফেলে। তাদের সত্তা বর্তমান থাকে, এবং ভগবানের ইচ্ছায় যখন আবার সৃষ্টি হয় তখন সমস্ত সুপ্ত নিষ্ক্রিয় জীবেরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের পূর্ব জীবনের কার্যকলাপ অনুসারে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার জন্য ছাড়া পায়। একে বলা হয় সুপ্তত্থিত ন্যায়, অর্থাৎ_ঘুম থেকে জেগে উঠে পুনরায় তাদের স্ব-স্ব কর্তব্যকর্মে নিযুক্ত হয়। মানুষ যখন রাত্রি বেলায় নিদ্রা যায় তখন সে ভুলে যায় সে কে, তার কর্তব্য কী; কিন্তু ঘুম থেকে জেগে ওঠার পরই তার মনে পড়ে যায় তাকে কি করতে হবে এবং এইভাবে সে তার কার্যকলাপে লিপ্ত হয়। জীবেরাও প্রলয়ের সময় মহাবিষ্ণুর শরীরে লীন হয়ে যায়, কিন্তু অন্য আরেকটি সৃষ্টিতে জেগে ওঠা মাত্রই তারা তাদের অসমাপ্ত কার্য শুরু করে। সে কথাও শ্রীমদ্ ভাগবত গীতায় (৮/১৮-২০) প্রতিপন্ন হয়েছে। সৃজনাত্মক শক্তি সক্রিয় হওয়ার পূর্বে ভগবান বর্তমান ছিলেন। ভগবান জড়া প্রকৃতি থেকে উৎপন্ন হননি। তার শরীর পূর্ণরূপে চিন্ময়, এবং তার শরীর এবং তার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। সৃষ্টির পূর্বে ভগবান তার এক এবং অদ্বিতীয় পরম ধামে ছিলেন।

*** 

জয়পতাকা স্বামী:- মহা বিষ্ণুরূপে তাঁর প্রকাশে এটা হয়। যখন সবকিছু ধ্বংস হয়ে যায়, তখন সব জীব মহা বিষ্ণুর ভিতর প্রবেশ করে। কেবল মুক্ত আত্মারা বাদে এবং যারা আধ্যাত্মিক জগতে ফিরে যায়, তারা বাদে অন্যথায় সবাই মহাবিষ্ণুর শরীরে থাকে, যতক্ষণ না পর্যন্ত জড়জগত পুনরায় সৃষ্টি হচ্ছে। ব্রহ্মা, শিব, দেবতারা কেউ থাকে না, একমাত্র মহাবিষ্ণু আছেন। তিনি বিভিন্ন বিশ্ব সৃষ্টি করেন এবং তাঁর মধ্যে গর্বদক্ষয়ী বিষ্ণুরূপে প্রবেশ করেন ও তাঁর নাভি থেকে একটি পদ্ম প্রস্ফুটিত হয়, এবং সেই পদ্মে ব্রহ্মার জন্ম হয় এবং ক্ষীরদক্ষয়ী তিনি পরমাত্মারূপে প্রত্যেকের হৃদয়ে আসেন। তাই, আমাদের এই তিন পুরুষকে জানা উচিত — মহা বিষ্ণু, গর্ভদক্ষয়ী বিষ্ণু এবং ক্ষীরদক্ষয়ী বিষ্ণু। এই প্রার্থনা গুলি কে করছেন? বিভিন্ন বৈষ্ণবী মহিলাগণ। এই মহিলাগণ প্রায় অজ্ঞান হয়ে পড়েছে চিন্তা করে যে কৃষ্ণ চলে যাচ্ছেন। এবং সেই সমস্ত ক্ষতি না পুর থেকে ভক্ত বেরিয়েছেন, তারা কাঁদছেন যে কৃষ্ণ চলে যাবেন, কিন্তু এটা চিন্তা করছে যে অমঙ্গল হবে কৃষ্ণের যাত্রায়, তাই কোনভাবে ক্রন্দন নিয়ন্ত্রণ করা। কৃষ্ণ একজন সাধারণ মানুষের মতো আচরণ করছিলেন, তারপর তিনি যুধিষ্ঠির মহারাজকে প্রণাম করেন, জ্যেষ্ঠ পিসতুত ভ্রাতা হিসেবে যুধিষ্ঠির মহারাজ ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে আলিঙ্গন করেন। আমাদের মনে পড়ে যে আগে যুধিষ্ঠির মহারাজ কৃষ্ণকে আরো কিছুদিনের জন্য থাকতে অনুরোধ করেছিলেন, তারপর কৃষ্ণ তা করেছিলেন, আর এখন তিনি চলে যাচ্ছেন। পাণ্ডবরা কৃষ্ণকে কত ভালোবাসেন, তারা তাঁর সাথে বসেছেন, তাঁকে স্পর্শ করেছেন, তাঁর সাথে কথা বলেছেন, তাঁরা একসাথে প্রসাদ পেয়েছেন, তাঁদের জীবন তাঁদের প্রাণ তাঁদের সম্পদ হচ্ছে কৃষ্ণ। ভক্তিবিনোদ ঠাকুর তিনি একটি গান লিখেছিলেন — “কৃষ্ণ মাতা কৃষ্ণ পিতা কৃষ্ণ ধন ও প্রাণ” — কৃষ্ণ হচ্ছে পিতা, কৃষ্ণ হচ্ছে মাতা, কৃষ্ণ হচ্ছে একমাত্র ধন। এইভাবে হস্তিনাপুর নিবাসীরা চিন্তা করছিলেন। 

নারদ মুনি উনি খুঁজছিলেন যে সবথেকে বড় ভক্ত কে? এইভাবে বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করল এবং প্রহ্লাদ মহারাজের কাছে গেলেন। কিন্তু প্রহ্লাদ মহারাজ বললেন যে, “আপনি পাণ্ডবদের কাছে যান, তারা হচ্ছে সবথেকে মহান ভক্ত।” তারপর তিনি পাণ্ডবদের কাছে যান, সেখানে তাদের একটি বৈঠক চলছিল, সেই ব্যক্তিগত বৈঠকে তাদের সব ভ্রাতারা, দ্রৌপদী এবং স্ত্রীরা যুদ্ধের বৈঠক করছিল। কিন্তু কি আলোচনা হচ্ছিল? কিভাবে কৃষ্ণকে ফিরিয়ে আনা যাবে? কেউ বলছে, “শত্রু থেকে বাঁচানোর জন্য” , আরেকজন বললেন, “সেটা কাজ করবে না, কারণ ইতিমধ্যেই কৃষ্ণ সব শত্রুদের পরাজিত করেছেন।” এইভাবে তারা বিভিন্নভাবে আলোচনা করছিলেন যে কিভাবে কিভাবে কৃষ্ণকে ফিরিয়ে আনা যাবে এবং নারদ মুনি এসে বললেন, “আপনারা হচ্ছেন সব থেকে মহান ভক্ত, তখন অর্জুন দাঁড়িয়ে বলছেন, “ঠিক আছে আমি ভক্ত, কিন্তু আমরা সব থেকে উঁচু ভক্ত নই, সবথেকে উঁচু ভক্ত হচ্ছে বৃষ্ণিরা। আপনি দ্বারকা চলে যান, দেখবেন তারা কৃষ্ণের প্রিয়! কৃষ্ণ আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেছেন এবং তিনি দ্বারকাতে গেছেন।” এইভাবে পাণ্ডবরা সম্পূর্ণ কৃষ্ণভাবনামায় ছিলেন। 

আজকে সকালে শ্রীল প্রভুপাদের উদ্ধৃতিতে পড়লাম যে এক জাগতিক দম্পতি স্বামী-স্ত্রী তারা একই সময়ে মারা গেছে। শ্রীমদ্ভাগবতের তৃতীয় স্কন্ধে কপিলমুনি তার মা দেবহুতিকে শিক্ষা দিচ্ছিলেন যে স্ত্রীয়ের জন্য স্বামী হচ্ছে তার নরকের দ্বার, কারণ সে তার প্রতি আসক্ত, আর অনেক সময় শাড়ি গয়না পায় ও সন্তান জন্ম দেয়, কিন্তু স্বামীর ক্ষেত্রেও তার স্ত্রী হচ্ছে নরকের দ্বার, স্ত্রীবিধি, দায়িত্ব, তাদের কথা বলার ধরন এগুলি হয়ত স্বামীকে অত্যন্ত আসক্ত করে। যখন সে মারা যাচ্ছে তখন সে যদি তার স্ত্রীর কথা চিন্তা করে, তাহলে পরবর্তী জন্মে সে স্ত্রী হবে এবং স্ত্রী যখন সে মারা যাচ্ছে, তখন যদি তার স্বামীর কথা চিন্তা করে, তাহলে সে পুরুষ হবে। কিন্তু শ্রীল প্রভুপাদ সেই তাৎপর্যে বলেছেন যে কৃষ্ণভাবনাময় দম্পতিদের ক্ষেত্রে তিনি একটু নিরুদ্বেগ ছিলেন, কারণ তারা দুজনেই কৃষ্ণের প্রতি আরো আসক্ত, তাই তারা কৃষ্ণের কাছে ফিরে যাবে। আমরা জুম ভিজিটের সময় অনেক গৃহ দেখি যে কিভাবে তাদের শ্রীবিগ্রহ আছে, তারা তাদের গৃহে কৃষ্ণের সেবা-পূজা করে, অনেকেই শ্রীল প্রভুপাদ ও তাদের গুরুদেবের প্রতি আসক্ত। তারা কোন সাধারণ ব্যক্তি নয়, পাণ্ডবেরা তারাও সকলে গৃহস্থ ছিলেন, কিন্তু তাদের স্ত্রী, স্বামী তারা সবাই কৃষ্ণের প্রতি অত্যন্ত আসক্ত ছিলেন। আমাদের এটা প্রচার করা উচিত যারা সাধারণ দম্পতি আছেন, তারা যদি কৃষ্ণ ভক্তি না হয়, এটা বিপদজনক। তাদেরকে আবার জন্মগ্রহণ করতে হবে। আমরা প্রত্যেককে ভক্ত হতে এবং এই জন্ম মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্ত হতে দেখতে চাই। যারা ব্রহ্মচারী, তারা কৃষ্ণভক্তিতে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত থাকতে পারে, কিন্তু যদি তারা তাদের আশ্রম পরিবর্তন করতে চায়, তাহলে আমরা দেখি যে একজন ভক্তকে বিবাহ করা কত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের হয়ত অন্য কিছু অধিকার থাকতে পারে, কিন্তু ভক্ত চাই। যাইহোক, যদি কেউ ব্রহ্মচারী হিসেবে নিজেকে বজায় রাখতে পারে, তাহলে তা হচ্ছে মহাব্রত, বৃহৎ ব্রত।

যাইহোক, কিভাবে হস্তিনাপুরের এই নারীরা পরমেশ্বর ভগবানের অবস্থান জানেন, এইভাবে এই সাধারণ জ্ঞান সকলের ছিল। যদিও কৃষ্ণ একজন সাধারন মানুষের মতো আচরণ করছেন, কিন্তু তবুও তারা সবাই তাঁর প্রকৃত স্থিতি সম্পর্কে জানেন।  এবং আমরা ভাগ্যবান যে আমরা চৈতন্য মহাপ্রভুর ভক্ত হতে পারছি। যে চৈতন্যদেবের ভক্ত, সে কৃষ্ণের ভক্ত। চৈতন্য লীলায় অংশগ্রহণ করলে, কৃষ্ণ লীলার মধ্যে থাকে। আমাদের শ্রীমদ্ভাগবতে এখানে উল্লেখিত এই সাধারন বিষয়টি বোঝা উচিত আমরা নিত্য শাশ্বত জীব এবং এই বিশ্ব ধ্বংস হয়ে গেলেও, আমরা ধ্বংস হই না। আমরা মহাবিষ্ণুর মধ্যে চলে যাই, কিন্তু আমরা ঠিক থাকি। ঠিক যেমন, আমরা ঘুম থেকে উঠে আজকে কি কর্তব্য আছে মনে হয়, এইভাবে মহাবিষ্ণু যখন আবার সৃষ্টি করেন, আমরা যেখানে ছিলাম, সেখান থেকে শুরু হয়। আমরা আবার পুনরায় সৃষ্ট হই না, আমরা সবসময় থাকি। এই বিশ্ব সৃষ্টি, প্রলয়, স্থিত হয়। আমরা হচ্ছি কৃষ্ণের অংশ, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ। 

আমরা প্রতি রাত্রে চৈতন্য মহাপ্রভুর লীলা পড়ি, যখন উনি রামকেলি গেলেন, মালদার কাছে, তিনি সেখানে বিভিন্ন ভাব লক্ষণ প্রকাশ করেছিলেন। তাই হোসেন শাহ বাদসা, তিনি তার পাহারাদারকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, “তাঁর কি কি লক্ষণ আছে?” পাহারাদার বলছিল, “চৈতন্য দেব কাঁদছে মনে হয়, গঙ্গা চোখ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে এবং কখনো কখনো তিনি উচ্চস্বরে হাসতেন এবং ছ ঘন্টা ধরে হাসতেন।” একপ্রহর হচ্ছে তিন ঘন্টা। হোসেন শাহের চোখ বড় হয়ে যায়, তিনি বলেন “উনি নিশ্চই আল্লাহ। মানুষ হয়ে কারো এমন গুণাবলী থাকতে পারে না।” চৈতন্য মহাপ্রভু এত অসাধারণ গুনসমূহ প্রদর্শন করছিলেন, হোসেন শাহ জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি মনে কর যে চৈতন্য মহাপ্রভু কে?” তারা তাকে বললেন, “মহারাজ আপনি হচ্ছেন রাজা, আপনি হচ্ছেন সমগ্র রাজত্বের শাসক, আপনি হচ্ছেন ভগবানের প্রতিনিধি। আপনার আমাদেরকে উত্তর দেওয়া উচিত যে এই ব্যক্তি কে?”

তিনি বললেন, “কেন সবাই আমার নির্দেশ মেনে চলে?”

“আপনি হচ্ছেন রাজা, আপনি হচ্ছেন শাসক।”

“না! এটা কারণ নয়, আমি সবাইকে পয়সা দিচ্ছি বলে কাজ করছে। যদি আমি ছ'মাস পয়সা বন্ধ করি, তাহলে একটা বিপ্লব হয়ে যাবে। আমার রাজত্বে আমার নির্দেশ কার্যকর হয়, কিন্তু এই চৈতন্য মহাপ্রভু, সারা পৃথিবীতে যেখানেই যান, ওঁনার আদেশ পালন হয়। সর্বত্র চৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ পালিত হচ্ছে, প্রত্যেক স্থানে। তিনি কাউকে কোন অর্থ প্রদান করেন না, কিন্তু মানুষেরা তাঁকে অনুসরণ করে, তাই তিনি নিশ্চয়ই ক্ষুদার থেকে অভিন্ন।” এইভাবে চৈতন্য মহাপ্রভুর লীলাসমূহ কত আনন্দময়। দূর থেকে তিনি বিদ্যানগরে গিয়েছিলেন, বিদ্যানগর থেকে তিনি কুলিয়ায় গেলেন, কুলিয়াতে মানুষেরা যখন শুনেছে যে তিনি কুলিয়ায় আছেন, সেটা হচ্ছে যেখানে এখন বর্তমানে নবদ্বীপ আছে। সেখানে বিভিন্ন কীর্তন দল আসে ও চৈতন্য মহাপ্রভু নিত্যানন্দ প্রভুর সামনে কীর্তন করে। এর ফলস্বরূপ নিতাই গৌর দুজনেই কীর্তন দলে আসে ও নৃত্য কীর্তন করে। তাদের সাথে চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি ভাবেবিভোর হয়ে ক্রন্দন করছিলেন, অশ্রুধারা তাঁর চোখ থেকে পিচকারির মতো বের হচ্ছিল। এক কীর্তন দল, তারপর আরেক কীর্তন দল, তারপর আরেক কীর্তন দল, এভাবে তারা সকলে আসে।  প্রত্যেক দলে চৈতন্য মহাপ্রভু এবং নিত্যানন্দ প্রভু নৃত্য করছিলেন।

একজন গুরুভ্রাতা ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি আমাকে বলছিলেন যে সান ফ্রান্সিসকোতে রথ যাত্রার পর তিনি শ্রীল প্রভুপাদকে গাড়ি চালিয়ে নিয়ে আসছিলেন এবং প্রভুপাদ ওনার কাছে যখন গাড়িতে বসেছিলেন, জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি দেখেছ কি কত সুন্দর ছিল নিতাই গৌড় নাচছিল ভক্ত সাথে?” অবশ্যই তিনি দেখতে পারছিলেন না, তিনি বললেন, “জয় প্রভুপাদ!” জয়! এখন যখন তোমরা কীর্তন কর, তখন তোমরা যদি কোন অধিক আনন্দ অনুভব কর, এটা হয়তো হতে পারে যে নিতাই গৌর তোমাদের কীর্তনে আছেন। ভাগবতে লীলা আছে যে ভগবান রাম তিনি বিশ্বের রাজা ছিলেন, তখন কারো কোন কষ্ট, জরা, বৃদ্ধ তারা হয়নি। এমনকি যেহেতু শ্রীরাম ছিলেন সম্রাট, তাই মৃত্যু হতো না যদি কারো ইচ্ছা না হতো। শ্রীল প্রভুপাদ মন্তব্য করেছিলেন যে এমনকি কলিযুগেও আমরা তা লাভ করতে পারি, যদি কেউ অপরাধমুক্ত ভাবে পবিত্র নাম জপ-কীর্তন  করে। ভগবান এবং তাঁর নাম অভিন্ন। আমরা হরি নামের দ্বারা ভগবানের উপস্থিতি আনতে পারি। হরিবোল! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! নিত্যানন্দ! হরিবোল! হরিবোল! হরিবোল!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 6/FEB/2024
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions