Text Size

২০২১০৮০১ ভাদ্র পূর্ণিমার প্রচারের শুভ সূচনা উপলক্ষে বিশেষ প্রবচন

1 Aug 2021|Duration: 00:18:17|Bengali|Public Address|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

নিন্মোক্ত প্রবচনটি শ্রী শ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ ভাদ্র পূর্ণিমার প্রচারের শুভ সূচনা উপলক্ষে জুমে ১ আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারতে প্রদান করেছেন

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ 

জয়পতাকা স্বামী:- শ্রীমদ্ভাগবতম কি জয়! ভাদ্র পূর্ণিমার এই তিথিতে আমরা একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করতে চলেছি। আমি সকল ভক্তদের নিজেদের মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখার অনুরোধ করছি, — সকল ভক্তরা নিজেদের মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখুন, ভাদ্র পূর্ণিমায় শ্রীমদ্ভাগবতম বিতরণ করা হচ্ছে এক অতি বিশেষ অনুষ্ঠান। এবং সেই দিন যদি আমরা শ্রীমদ্ভাগবতম পাই বা কাউকে দান করি, তাহলে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অত্যন্ত প্রসন্ন হন। শ্রীমদ্ভাগবতমে বলা হয়েছে যে, যদি কেউ ভাদ্র পূর্ণিমার দিনে শ্রীমদ্ভাগবত দান করেন, তাহলে তিনি গোলক বৃন্দাবনে ফিরে যান। দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীমদ্ভাগবতমের পেশাদারী পাঠক ছিলেন। কিন্তু তিনি শ্রীবাস ঠাকুরের প্রতি অপরাধ করেছিলেন, তাই তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা পাননি। কিন্তু যখন তিনি বক্রেশ্বর পণ্ডিতের সঙ্গ লাভ করেছিলেন, তখন তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুর শ্রীচরণপদ্মে ভক্তি লাভ করেছিলেন। তারপর দেবানন্দ পণ্ডিত চৈতন্য মহাপ্রভুকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, “আমাদের শ্রীমদ্ভাগবতম কিভাবে অধ্যয়ন করা উচিত?” চৈতন্য মহাপ্রভু বলেছিলেন যে, “শ্রীমদ্ভাগবতম হচ্ছে এক অতি বিশেষ শাস্ত্র, আমাদের শ্রীমদ্ভাগবতমের বর্ণনা এমনভাবে করা উচিত যাতে ভক্তি মুখ্য। যেই গৃহে শ্রীমদ্ভাগবতম আছে, সেখানে কোন অমঙ্গল কিছু প্রবেশ করতে পারে না। বিশেষত কলিযুগে আমাদের প্রত্যেক গৃহে শ্রীমদ্ভাগবতম রাখা উচিত। প্রত্যেকদিন সেই গৃহে ভগবান শ্রীহরি ১৩ জন মুখ্য দেবতাগণসহ আসেন। যেখানে শ্রীমদ্ভাগবতম আছে, সেখানে সকল পবিত্র স্থান, নদী, গঙ্গা, যমুনা, পর্বত আবির্ভূত হয়। এবং এছাড়াও অনুদান, যজ্ঞ সেখানে অবস্থান করে। এইভাবে প্রত্যেকের তাদের গৃহে শ্রীমদ্ভাগবতম রাখা উচিত। 

এই কারণে আমরা ভাদ্র পূর্ণিমার আগে প্রচার করছি, যাতে প্রত্যেকে তাদের গৃহে শ্রীমদ্ভাগবতম রাখতে পারে। স্কন্ধ পুরাণের মত বিভিন্ন শাস্ত্রে শ্রীমদ্ভাগবতমের মহিমা বর্ণিত আছে যে, যদি আপনার কাছে শ্রীমদ্ভাগবতম থাকে, তাহলে হাজার হাজার শাস্ত্র সংগ্রহ করার কি মানে আছে? যাদের গৃহে শ্রীমদ্ভাগবতম নেই, যমরাজ তাদের দায়িত্ব নেবেন। যদি কেউ বৈষ্ণব হয়, কিন্তু তার কাছে যদি ভাগবতম না থাকে, তাহলে সে চণ্ডালের থেকেও নিচ বা পাপী ব্যক্তি। এমনকি আমাদের যদি শ্রীমদ্ভাগবতম ক্রয় করার জন্য সবকিছু পরিত্যাগও করতে হয়, তাহলেও তা এর তুলনীয় নয়। যদি কারোর গৃহে শ্রীমদ্ভাগবতম থাকে, তাহলে তারা সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘ জীবন ইত্যাদি লাভ করে। আপনি যদি শ্রীমদ্ভাগবতমকে আপনার সামনে দেখেন, তাহলে শ্রীমদ্ভাগবতমকে দর্শন করার পর প্রত্যেকের তাকে প্রণাম করা উচিত। শ্রীমদ্ভাগবতম হচ্ছে পরম পুরুষোত্তম ভগবানের গ্রন্থাবতার। এই কারণে সকলের মঙ্গলের জন্য আমরা শ্রীমদ্ভাগবতম বিতরণের এই প্রচার করতে চাই। প্রত্যেকের কাছে শ্রীমদ্ভাগবতম পাওয়ার এবং শ্রীমদ্ভাগবতম দান করার এ এক মহান সুযোগ। শাস্ত্রে এটি বর্ণিত আছে যে, যদি কেউ এমনকি একটি শ্লোকও পড়েতাহলে তাও কাজে দেবে। আমি দেখেছি আসামে তারা পিতলের আসনে শ্রীমদ্ভাগবতমকে রেখেছেন, এবং তারা তা পূজা করেন। 

যাই হোক, এখন থেকে আপনারা পরিকল্পনা করতে পারেন যে কিভাবে আপনাদের বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় পরিজনদের মধ্যে শ্রীমদ্ভাগবতাম বিতরণ করা যেতে পারে। এখন এই মহামারীর সময় আমরা ফোনের মাধ্যমে শ্রীমদ্ভাগবতম বিতরণ করি। যে স্থানেই হোক না কেন, শ্রীমদ্ভাগবতম বিতরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয়। এখন আমরা শ্রী শ্রীমৎ ভক্তি পুরুষোত্তম স্বামী, শ্রী শ্রীমৎ গৌরাঙ্গ প্রেম স্বামী মহারাজ, শ্রীপাদ ব্রজবিলাস প্রভুর থেকে শ্রীমদ্ভাগবতমের মহিমা শুনলাম। এই জগৎ শূন্য, কিন্তু যদি ভাগবতম থাকে, তাহলে তা প্রত্যেককে শুদ্ধ করে। যাই হোক, এখন ইতিমধ্যেই দেরি হয়েছে, তাই আমি আর বেশি বলব না। কিন্তু শ্রী শ্রীমৎ ভক্তিবিজয় ভাগবত স্বামী বলেছেন যে আমরা ভাদ্র পূর্ণিমা পর্যন্ত ৪০০০ ভাগবত সেট বিতরণ করার প্রতিশ্রুতি নিয়েছি। আমরা সকলে প্রার্থনা করব যে আমরা যাতে আমাদের এই লক্ষ্য পূর্ণ করতে পারি। হরে কৃষ্ণ! শ্রীল প্রভুপাদের জয়! শ্রীল প্রভুপাদ অনেক কষ্ট করেছিলেন। শ্রীল প্রভুপাদ প্রত্যেকদিন গভীর রাত্রে শ্রীমদ্ভাগবতম অনুবাদ করতেন। শ্রী শ্রীমৎ ভক্তিচারু স্বামী মহারাজ শ্রীমদ্ভাগবতমকে বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন। এইভাবে এই সকল ভক্তরা বিশেষ যজ্ঞ করেছেন এবং শ্রীমদ্ভাগবতম লিখেছেন। তাই আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে আমরা শ্রীমদ্ভাগবতম শুনবো, ভাগবতম অধ্যায়ন করব এবং চেষ্টা করব যাতে তা প্রত্যেকের গৃহে থাকে। হরে কৃষ্ণ!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 13/8/2023
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions