Text Size

২০২১০৭০১ প্রশ্ন-উত্তর পর্ব

1 Jul 2021|Duration: 01:25:53|Bengali|Question and Answer Session|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ 

লক্ষ্মী রাধা দেবী দাসী:- যদি কোন ভক্ত অন্য ভক্তকে ক্ষমা করতে না চায় ও ভগবানের সেবায় সহযোগিতা করতে না চায়, তাহলে তার কি করা উচিত

জয়পতাকা স্বামী:- এইরকম হয়েছিল যখন শচীমাতা অদ্বৈত আচার্যের শ্রীপাদপদ্মে অপরাধ করেছিলেন অদ্বৈত আচার্য এটি মানতে চাইছিলেন না যে শচীমাতা তার প্রতি কোনো অপরাধ করতে পারেন, তখন তিনি শচীমায়ের মহিমা কীর্তন করতে শুরু করেন ও মূর্ছিত হয়ে পড়ে গেলেনসেই সময় শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু শচীমাতাকে অদ্বৈত আচার্যের শ্রীচরণপদ্ম থেকে ধুলি নিতে বলেছিলেন আর সেইভাবে তিনি ক্ষমা প্রাপ্ত হয়েছিলেন কিন্তু যদি কোন বৈষ্ণব তোমায় ক্ষমা না করেন, তাহলে কোনভাবে তার চরণধুলি পেতে চেষ্টা করো। 

উমা দেবী:- যদি কোন বৈষ্ণব অন্য কোন ভক্ত সম্পর্কে কোন কিছু খারাপ বলতে চায় ও আমি যদি তা শুনতে না চাই, তাহলে তা কি সেই বৈষ্ণবের প্রতি অপরাধ হবে?

জয়পতাকা স্বামী:- যদি কেউ কোন বৈষ্ণব সম্পর্কে সমালোচনামূলক কথা বলে, তাহলে আমাদের সেই স্থান বা সেই বিষয়ে কথা বলা ছেড়ে দেওয়া উচিত। দয়া করে নিন্দা করবে না। যদি তুমি সেই স্থান বা সেই বিষয়ে কথা বলা ছেড়ে আসতে না পারো, তাহলে পরে তুমি সেই বৈষ্ণবের কাছ থেকে ক্ষমা পেতে পারো। 

অন্তিম প্রভু:- আমরা কখনও কখনও এমন কিছু ব্যক্তির সঙ্গ করি যারা ভক্ত ও অভক্ত দুজনের বিষয়েই সমালোচনামূলক। তারা হয়ত আমাদের বন্ধু, প্রতিবেশী, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন। এই সমস্ত ব্যক্তিদের সাথে কিভাবে সঙ্গ করবো ও কিভাবে তাদেরকে কৃষ্ণভাবনামৃতে উৎসাহিত করতে পারব? দয়া করে বলুন। 

জয়পতাকা স্বামী:- যদি তারা কোন বৈষ্ণবের নিন্দা করতে শুরু করে, তাহলে তুমি তাদেরকে এই লীলা সম্পর্কে বলতে পারো যে কিভাবে কোনো ভক্তের নিন্দা করা অত্যন্ত বিপজ্জনক কারণ যেহেতু তারা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অত্যন্ত প্রিয়, তাই তারা কোন বৈষ্ণবের সমালোচনা বা নিন্দা করলে তোমার সেই কথায় প্রতিবাদ করা উচিত। 

অখিল, ইন্দোর, ভারত:- যেমন আপনি উল্লেখ করলেন যে বৈষ্ণব অপরাধ অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং যেই বৈষ্ণবের প্রতি অপরাধ হয়েছে তার কাছে ক্ষমা চেয়ে বা তার সেবা করে সেই অপরাধ মুক্ত হতে হয়। তাই যদি আমরা না জানি যে কোন বৈষ্ণবের প্রতি অপরাধ হয়েছে, তাহলে আমাদের কি করণীয়

জয়পতাকা স্বামী:-  এটি হয়েছিল শ্রীল রূপ গোস্বামীর সাথে, তাঁরা শ্রীমদ্ভাগবতম পড়ছিলেন এবং ভাবে বিভোর হয়ে হাসছিলেন সেই সময় এক বিকলাঙ্গ ভক্ত তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তিনি ভেবেছিলেন যে তারা তাকে দেখে হাসছে। তাকে দেখে উপহাস করছেতখন সেই সময় রূপ গোস্বামীর ভক্তিভাব বন্ধ হয়ে যায়, তিনি ভাবছিলেন কিভাবে কার প্রতি তার অপরাধ হয়েছে? তাই সনাতন গোস্বামী রূপ গোস্বামীকে উপদেশ দিয়েছিলেন, সনাতন গোস্বামী বলেছিলেন, “তুমি এক বড় মহাভোজের আয়োজন কর এবং সকল বৈষ্ণবদের নিমন্ত্রণ কর, তাতে যে বৈষ্ণব আসবেন না তুমি নিশ্চিতভাবে জানবে যে তার প্রতি তোমার অপরাধ হয়েছে তাই আমি জানিনা এটা যুক্তিসিদ্ধ প্রশ্ন নাকি, তবে আমি দেখেছি যে কিছু ভক্তরা মন্দিরের বাইরে বিভিন্ন জুতা থেকে ধূলি নেয় আমার মনে হয় সেইভাবে তারা সকল ভক্তদের শ্রীচরণপদ্মের ধূলি নিতে চায়। 

লালিতাঙ্গী রাধা দেবী দাসী:-  কোন বক্তব্য কোনো ভক্তের সাথে অমত হওয়া এবং তার সমালোচনা করা ও তার প্রতি অপরাধের এই তিনটি বিষয়কে আলাদা করে

জয়পতাকা স্বামী:- যদি তোমার সিদ্ধান্ত কোনটি কৃষ্ণকে সবথেকে বেশি খুশি করবে তার উপর ভিত্তি করে হয়, তাহলে ঠিক আছে। আমাদের কোনো ব্যক্তিকে আক্রমণ করা বা তার সমালোচনা করার বিষয়ে জড়িত হওয়া উচিত নয়। 

বাংলা প্রশ্ন:- অনেক সময় আমরা বৈষ্ণব চরণে অপরাধ করে ফেলি, আর সেই বৈষ্ণবের নিকট প্রত্যক্ষভাবে ক্ষমাও চাইতে পারি না কিন্তু খুব অনুতাপ হয়। এমতাবস্থায় অপরাধ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার বা প্রায়শ্চিত্ত করার উপায় কি?  

জয়পতাকা স্বামী:- যদি মনে করো একটা বৈষ্ণব অপরাধ হল, তখন ওই বৈষ্ণব থেকে ক্ষমা পেতে হয়। তাহলে অপরাধের ক্ষমা হয়ে যাবে। এরকম বলতে হয় যে আমি জানিনা জ্ঞাত অজ্ঞাতভাবে কত অপরাধ করে ফেলি, আমাকে ক্ষমা করুন। প্রভুপাদের কাছে শেষ দিনে দেখা করছিলেন ওনার সব গুরু ভাই, তিনি তাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন যে প্রচার জন্য আমি হয়ত অনেক কিছু বলেছি, তো আমাকে ক্ষমা করুন। 

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 23/7/2023
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions