Text Size

২০২১০৬১৯ শ্রীমদ্ভাগবতম ১.৯.১৭

19 Jun 2021|Duration: 00:50:35|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

ওঁ নমো ভাগবতে বাসুদেবায়!
ওঁ নমো ভাগবতে বাসুদেবায়!
ওঁ নমো ভাগবতে বাসুদেবায়!

শ্রীমদ্ভাগবতম্ ১.৯.১৭ 
তস্মাদিদং দৈবতন্ত্রং ব্যবস্য ভরতর্ষভ।
তস্যানু বিহিতোনাথা নাথো প্রাহি প্রজা প্রভঃ।।

অনুবাদ:- হে ভারতকুলতিলক (যুধিষ্ঠির), আমি তাই মনে করি যে, এ সবই পরমেশ্বর ভগবানের সংকল্পের অন্তর্গত। পরমেশ্বর ভগবানের অবিচিন্ত্য সংকল্পের স্বীকার করে নিয়ে তোমাকে তা অবশ্যই মেনে চলতে হবে। তুমি এখন সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে অধিষ্ঠিত হয়েছ হে নাথ, এখন যারা অনাথ হয়েছে, সেই সব প্রজাদের যত্ন এবার তোমাকে নিতে হবে।

তাৎপর্য:- একটি জনপ্রিয় প্রবাদে বলা হয় যে, শাশুড়ি নিজের কন্যাকে শেখানোর মাধ্যমে পুত্রবধূকে শিক্ষা দেন। তেমনি ভগবান তাঁর ভক্তকে শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে সমগ্র জগতকে শিক্ষা দিয়ে থাকেন। ভক্তকে ভগবানের কাছ থেকে নতুন করে কোনো কিছু শিখতে হয়না, কেননা ভগবান তাঁর ঐকান্তিক ভক্তকে সর্বদা হৃদয় থেকে শিক্ষা দিয়ে থাকেন। তাই, যখনই ভক্তকে শিক্ষা দেওয়ার অভিনয় করা হয়, যেমন শ্রীমদ্ভগবতগীতা শিক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে করা হয়েছিল, তা অল্পবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের শিক্ষা দেওয়ার জন্যই করা হয়ে থাকে। তাই ভক্তের কর্তব্য হচ্ছে, ভগবানের দেওয়া সমস্ত দুঃখ - দুর্দশাকে আশীর্বাদ বলে মনে করে অকুণ্ঠ চিত্তে তা গ্রহণ করা। ভীষ্মদেব পাণ্ডবদের উপদেশ দিয়েছিলেন যে তাঁরা যেন নির্দ্বিধায় শাসনভার গ্রহণ করেন। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের ফলে দীন - হীন প্রজারা অরক্ষিত ছিল, এবং তারা মহারাজ যুধিষ্ঠির এর রাজ্য গ্রহণের প্রতীক্ষা করছিল। ভগবানের শুদ্ধ ভক্ত সমস্ত দুঃখ - দুর্দশাকে ভগবানের কৃপা বলে গ্রহণ করেন। যেহেতু পরমেশ্বর ভগবান হচ্ছেন পরম, তাই ভক্ত ও ভগবানের মধ্যে, কোনরকম লৌকিক ভেদ নেই।

জয়পতাকা স্বামী:- যুধিষ্ঠির মহারাজ এবং তার ভ্রাতারা ভীষ্মদেবকে দেখতে গিয়েছিলেন এবং কৃষ্ণ অর্জুনের সাথে এসেছিলেন। কৃষ্ণ জাগতিক দৃষ্টিতে যুধিষ্ঠিরের কনিষ্ঠ পিসতুতো ভাই ছিলেন, তাই কৃষ্ণ এমন ব্যবহার করেছিলেন, যদিও তিনি হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবান, কিন্তু তিনি সাধারণ সদাচার অনুযায়ী আচরণ করেছিলেন। যুধিষ্ঠির এবং তার ভ্রাতারা ভীষ্মের কাছে প্রণাম করছিলেন, কিন্তু ভীষ্মদেব শ্রীকৃষ্ণের প্রকৃত স্থিতি সম্পর্কে জানেন। ভীষ্মদেব যথাযথভাবে শ্রীকৃষ্ণের অভ্যর্থনা করেছিলেন, যদিও কৃষ্ণ হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবান, তিনি একজন সাধারণ মানুষের মতো আচরণ করতেন। কখনও কখনও তিনি আশ্চর্য কার্য করতেন, যেমন সাত দিন ধরে তাঁর আঙুলে গোবর্ধন পর্বত তুলে রাখা। 

এর পরবর্তীতে জরাসন্ধ যখন তাকে ঘিরে নিয়েছিলেন, তিনি একটি পাহাড়ের উপর ছিলেন এবং জরাসন্ধ সেই পাহাড়ে আগুন জ্বালিয়ে দেয়, তারপর তিনি ও বলরাম ৮০ মাইল নিচে ঝাঁপ দেন। তখন জরাসন্ধ ভেবেছিল যে আমি কৃষ্ণকে হত্যা করেছি। তারপর কৃষ্ণ গিয়েছে রুক্মিণীকে উদ্ধার করতে, এবং জরাসন্ধ অবাক হয়ে গিয়েছিল কি করে কৃষ্ণ আছে? আমি তাঁকে মেরে দিয়েছি। এইভাবে কৃষ্ণ আসলে তিনি সবকিছু নিয়ম পালন করেন, কিন্তু কখনো কখনো তিনি যা ইচ্ছা তাই করেন। আসলে তিনি হচ্ছেন স্বরাট, কিন্তু যেমন গীতাতে বলা হয়েছে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি যা করে সাধারণ মানুষ তাই অনুসরণ করে, তাই ভগবান রামচন্দ্র তিনি তাঁর পিতার আদেশ মান্য করেছিলেন, কৃষ্ণ সবসময় এই উদাহরণ করেন যে কি কি আমাদের পালন করা উচিত। প্রত্যেক অবতারে তাঁর একটি নির্দিষ্ট ভাব আছে, যেমন নরসিংহ রূপে ওঁনার রাগ আছে, কিন্তু তিনি অসুরদের প্রতি ক্রোধান্বিত, তিনি ভক্তদের রক্ষা করেন। এই কারণে তিনি ভক্ত-বৎসল নামে পরিচিত। চৈতন্য মহাপ্রভুর তাঁর কৃপা করার মনভাব আছে, কিন্তু কখনও কখনও তিনি বিভিন্ন অবতারের মনভাবে হয়ে যেতেন, কিন্তু ওঁনার ব্যক্তিগত স্বভাব ছিল দয়া। যেমন লোচন দাস ঠাকুর এই ভজন লিখেছেন — “পরম করুণ পহুঁ দুই জন নিতাই গৌরচন্দ্র”

চৈতন্য মহাপ্রভু এইভাবে তার প্রিয়ভক্তগণকে আলিঙ্গন করতেন। রাজা প্রতাপরুদ্রের সাম্রাজ্যের বাইরে একটা তুর্কি থেকে একটা মুসলিম রাজ্যভার ছিল, সে ছিল রাজ্যপাল, যদিও সে ছিল এক মদ্যপায়ী, এক ভিন্ন ধর্মের, তবে সে চৈতন্য মহাপ্রভুকে দেখতে গিয়েছিল এবং সষ্টাঙ্গ প্রণাম করেছিল। আপন মনে কেঁদেছেন, বিভিন্ন ভাবাপন্ন হয়েছেন। এইভাবে প্রতাপ রুদ্র মহারাজ এটা শুনে অবাক হয়ে গেছে যে একজন মুসলমান রাজ্যপাল এভাবে ভক্ত হয়ে গেল এবং কিভাবে এই রাজ্যপাল নৌকা দিয়ে, সৈন্য দিয়ে তাঁকে জলদস্যুদের থেকে রক্ষা করলেন। 

তারপর চৈতন্য মহাপ্রভু শ্রীবাস ঠাকুরের গৃহে থেকেছিলেন, তিনি শ্রীবাস ঠাকুরকে জিজ্ঞেস করলেন, “আমি দেখেছি এখানে কতদিন তুমি কোথাও যাও না, কি করে তুমি সংসার পালন করো? তোমার বিরাট সংসার, স্ত্রী, ছেলেপেলে ভাই, বোন অনেক কিছু সংসারে আছে।” শ্রীবাস ঠাকুর বললেন, “তুমি আমার এই রহস্য জানো?” তিনি তার হাতে তালি দিলেন, ১...২...৩... চৈতন্য মহাপ্রভু হুংকার করে বললেন, “এটা কি?” তিনি বললেন, “আমি কোথাও যেতে ভাল লাগেনা, আমি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে কৃষ্ণের কৃপার উপরে। আমি হাতে তালি দেই ১...২...৩…, আমার যদি তিন দিন উপবাস যায়, আমি গলায় কিছু একটা কলসি বাধবো, আর গঙ্গায় ঝাপ দিয়ে মরে যাব। তাই শুনে চৈতন্য মহাপ্রভু বলেছিলেন যে ভগবদগীতাতে আমি বলেছি, “আমি আমার ভক্তের যা কিছু আছে তা দেখি এবং যা কিছু নেই তাকে তা প্রদান করি।”  অনেক কিছু বলেছেন, উনি এত খুশি হলেন শ্রীবাস ঠাকুরের কাছে, উনি বলেছেন, “যদি লক্ষী গরীব হয়, লক্ষী যদি ভিক্ষারি হয়, আর যদি বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করতে হয়, তোমার কোন গরিব হবে না, তুমি কোন অভাব হবে না। তুমি তোমার গৃহেই থাকো এবং সুখী থাকো।” তিনি শ্রীবাসের প্রতি এত খুশি ছিলেন। এইভাবে আমরা দেখতে পাই যে চৈতন্য মহাপ্রভু, যদিও তিনি হচ্ছেন কৃষ্ণ, তবে তাঁর এক বিশেষ সম্পর্ক ছিল। এভাবে চৈতন্য মহাপ্রভুর ভাব, যদিও তিনি ছিলেন কৃষ্ণ, কিন্তু কিছু বিশেষ ছিলেন, কারণ তিনি ভক্তের ভাবে ছিলেন, তবে তবুও তিনি কৃষ্ণ। এইভাবে কত ভক্তের সাথে একটা সম্পর্ক ছিল বিশেষভাবে। 

ভীষ্মদেব তিনি যুধিষ্ঠিরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে কৃষ্ণের ইচ্ছায় তিনি রাজা হয়েছেন, রাজা হয়ে তাঁর অনাথ অরক্ষিত ব্যক্তিদের রক্ষা করা উচিত। ভীষ্মদেব বললেন যে এটা হচ্ছে বিধাতার বিধান বা কৃষ্ণের ইচ্ছা, এটায় কিছু করার নাই, কৃষ্ণের কি পরিকল্পনা আমরা কেউ বুঝতে পারবে না। কৃষ্ণের সেবা করতে পেরে আমরা কত ভাগ্যবান। পরীক্ষিত মহারাজ, তিনি শুকদেব গোস্বামীর থেকে শ্রবণ করে অত্যন্ত ভাবাবিষ্ট হয়েছিলেন, তিনি উচ্চস্বরে বলেছিলেন, “ওহ! আমার প্রিয় ভগবান আর কি কি করেছেন? তিনি আর কি কি করেছেন?” কৃষ্ণদাস কবিরাজ বললেন, শ্রীবাস ঠাকুর এত মাহাত্ম্যপূর্ণ যে উনাকে অনুসরণ করে আছে, পবিত্র হয়ে যায়। কৃষ্ণদাস কবিরাজ বললেন যে শ্রীবাসকে অনুসরণ করলে ত্রিজগৎ পবিত্র হয়ে যায়। মহাদেব শিবকেও পার্বতী জিজ্ঞেস করেছিলেন যে অনেক ধরনের পূজা আছে, কিন্তু কোনটি শ্রেষ্ঠ? তখন মহাদেব শিব, তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন —

আরাধনাং সর্বেষাং বিষ্ণোরাধনং পরম।
তস্মাৎ পরতরং দেবি তদিয়ানাং সমর্চনম্॥

সব পূজার মধ্যে বিষ্ণু পূজা হচ্ছে শ্রেষ্ঠ, কিন্তু একটি ব্যতিক্রম আছে। সেই ব্যক্তিবর্গের বা সেইসব বস্তুর পূজা করা যা তাঁর সাথে সম্পর্কিত, সেটি আরো ভালো। কৃষ্ণ চেয়েছিলেন যুধিষ্ঠির যাতে ভীষ্মদেবের থেকে শ্রবণ করেন। ভীষ্মদেব এইভাবে যুধিষ্ঠির মহারাজকে নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং যুধিষ্ঠির মহারাজ রাজি হয়েছিলেন ও শান্ত হয়েছিলেন। এইভাবে কৃষ্ণ তাঁর ভক্তের মহিমা বলছিলেন, যুধিষ্ঠির কৃষ্ণের উপদেশ শুনে মনে শান্তি হয়নি, কিন্তু ভীষ্মদেবের উপদেশ শুনে মন শান্ত হয়ে গেল। এইভাবে কৃষ্ণ তাঁর ভক্তকে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে রাখেন। কখনও কখনও ভক্তরা প্রভুপাদকে জিজ্ঞেস করতেন, “চৈতন্য দেব কেন সারা পৃথিবীতে নিজের প্রচার করেননি?” শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে, “আমার জন্য রেখেছে।” শ্রীল প্রভুপাদ কি জয়! 

কেউই জানতে পারে না যে ভগবানের পরিকল্পনা কি। এখন সমগ্র বিশ্ব মহামারীর গ্রাসে আছে। সমগ্র বিশ্বে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা গেছে, এই সুযোগ নিয়ে কৃষ্ণ নাম করানোর জন্য চেষ্টা করা উচিত। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে কমপক্ষে ঈশ্বরের নাম সবাই যেন প্রার্থনা করে। যেহেতু আমরা অনেক অন্যায় করেছিলাম ও পাপ করেছিলাম, তার জন্য আমরা ভগবানকে প্রসন্ন করার জন্য তাঁর পবিত্র নাম কীর্তন করা উচিত। জাগতিক বৈজ্ঞানিকেরা মনে করে যে এই জড়জগতিক শক্তি হচ্ছে উৎস, এটাকে বলা হয় অজ গলায় স্তনের ন্যায়। যুক্তি! আসলে যেসব ব্যক্তিরা মনে করে যে ছাগলের এক ধরনের স্তন আছে, যা গলা থেকে ঝোলে, এতে কোন ধরনের দুধ হয় না। যদিও জাগতিক বৈজ্ঞানিকেরা মনে করে যে জড়জাগতিক শক্তি হচ্ছে উৎস, কিন্তু আসল কথা হচ্ছে ভগবান মহাবিষ্ণুর স্থিতিতে সবকিছু উৎপন্ন হইল, ভৌতিক শক্তি জীবশক্তি ছাড়া কোন কিছু করতে পারেনা। কৃষ্ণ, তিনি এই তটস্থা শক্তিকে মহামায়াতে সঞ্চার করেন এবং এইভাবে তা কার্য করে। আমাদের ভুল হচ্ছে আমরা নিজেদেরকে নিজেদের শরীর হিসেবে সনাক্ত করি। আমরা এই শরীর নই, আমরা প্রকৃতপক্ষে আত্মা। আত্মা হচ্ছে কৃষ্ণের একটা অংশ, আণবিক অংশ। এইভাবে কৃষ্ণের সেবা করা আমাদের কর্তব্য। যদি আমরা তা করি, তাহলে আমরা আসল আনন্দ লাভ করি। আমরা যতক্ষণ এই জড়জগতে আছি, আমাদের জড় দেহ আছে, আমাদের কিছু ইন্দ্রিয়তৃপ্তি প্রয়োজন, কিন্তু মনুষ্য হিসেবে আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে আসলে ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়া এবং আমরা ভগবানের সেবা করার মাধ্যমে খুব সহজেই তা করতে পারব। 

আমরা পড়লাম যে কিভাবে স্বয়ম্ভূব মনু, তার সব ধরনের জাগতিক সুবিধা ছিল, কিন্তু তিনি অধঃপতিত হননি। তিনি সবকিছু কৃষ্ণভাবনাময় ভাবে করেছিলেন, গন্ধর্বদের একদল সকালে এসে তার জন্য কৃষ্ণভাবনাময় ভাবে সংগীত করতেন। এই কলিযুগে আমাদের গন্ধর্বদের ব্যক্তিগত দল নেই! কিন্তু যেমন আমার কাছে একটা টিভি আছে, আমি বিভিন্ন মন্দিরের দর্শন করি — বৃন্দাবন, মুম্বাই, চেন্নাই, ঢাকা, টডু, কুয়ালালামপুর, মালেশিয়া, মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া, সিডনে, অস্ট্রেলিয়া লস এঞ্জেলস এবং টোকিও। আমি বিভিন্ন শ্রীবিগ্রহ দর্শন করি, আমার গনধর্বের দল নেই, কিন্তু আমি মন্দির দর্শন করতে পারি এবং প্রত্যেকেই টেপ রেকর্ডারে হোক বা টিভিতে হোক কৃষ্ণের মহিমা শ্রবন করতে পারে বা টিভিতে দর্শন করতে পারি। এই ক্লাসের পরে দর্শন করব বিভিন্ন মন্দির ঢাকা, সিলেট, নরসিংদী, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, বিভিন্ন মন্দিরের দর্শন করব, এছাড়াও বিভিন্ন ভক্ত বাড়িতে, বাড়িতে কিভাবে পূজা করে। এইভাবে যদি স্বামী স্ত্রী যদি উভয় ভগবানকে পূজা করে, এটা পবিত্র হয়। শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন স্বামী স্ত্রী তারা একত্রে সেবা করতে পারে এবং চৈতন্য মহাপ্রভুর এই বাণী প্রচার করতে পারে। এটা হচ্ছে কলিযুগের বিশেষ সুবিধা, আমরা যদি চৈতন্যদেবের সেবা করি, জীবন ধন্য হয়ে যায়। 

ভীষ্মদেব যুধিষ্ঠিরকে নির্দেশ দিচ্ছিলেন, তিনি তীরের শয্যায় শায়িত ছিলেন, তার নিশ্চয়ই অনেক জাগতিক কষ্ট হচ্ছিল, কিন্তু তার মন পরিষ্কার ছিল এবং তিনি যুধিষ্ঠিরকে তার নির্দেশ দিতে পারছিলেন, কিন্তু তিনি কৃষ্ণকে অনুরোধ করেছিলেন যে “আমি যাতে আপনাকে যুদ্ধক্ষেত্রের মনভাবে দর্শন করি ও তারপর আমার শরীর ত্যাগ করি।” কারণ তার কৃষ্ণের সাথে সম্পর্ক ছিল বীরত্বের। এইভাবে বিভিন্নভাবে কৃষ্ণের সাথে সম্পর্ক হয়। চৈতন্য মহাপ্রভুর ভক্তরা, তারা সবসময় চৈতন্য মহাপ্রভু এবং তাঁর ভক্তদের স্মরণ করতে চান। আমরা এই জড়জগতে থাকতে গেলে একজনকে সেবা করতে হয়, কিন্তু কৃষ্ণের সেবা করলে, এর তুলনায় আর কেউ আমাদের রক্ষা করতে পারে না, তিনি হচ্ছেন শ্রেষ্ঠ বন্ধু, শ্রেষ্ঠ প্রভু, সবকিছুতে শ্রেষ্ঠ। এই কলি যুগে আমরা যেটা করার চেষ্টা করতে পারি, তা হচ্ছে ভগবানের সাথে আমাদের হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারি। তা আমরা হরেকৃষ্ণ জপের মাধ্যমে করতে পারি।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 5/3/2024
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions