Text Size

২০২১০৬১৬ প্রশ্ন-উত্তর পর্ব

16 Jun 2021|Duration: 01:18:17|Bengali|Question and Answer Session|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ 

এখন পরবর্তী ১০ মিনিট এই শ্লোক সম্বন্ধীয় প্রশ্ন-উত্তর আলোচনা হবে। 

গোপতি কৃষ্ণ দাস:- চৈতন্যচরিত মহাকাব্যে উল্লেখ আছে যে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু রাঘব পণ্ডিতের গৃহে ছয় দিন ছিলেন, কিন্তু চৈতন্য-চরিতামৃতে উল্লেখ আছে যে তিনি একদিন ছিলেন। আর শ্রীল প্রভুপাদ তাঁর তাৎপর্যে চৈতন্য চরিত মহাকাব্য, চৈতন্য চন্দ্রোদয় নাটক, চৈতন্য ভাগবত আদি বিভিন্ন শাস্ত্রের বর্ণনা দিয়েছেন। তাই আমাদের কোনটিকে সবথেকে প্রামানিক হিসেবে গ্রহণ করা উচিত? 

জয়পতাকা স্বামী:- কখনও কখনও বিভিন্ন শাস্ত্রে বিভিন্ন বর্ণনা উল্লেখ করা থাকে, কিন্তু সাধারণত আমরা চৈতন্য-চরিতামৃতকে সব থেকে প্রামানিক হিসেবে গ্রহণ করি। কিন্তু অন্যান্য যে সমস্ত লীলাগুলি অন্যান্য গ্রন্থে উল্লেখিত আছে, সে বিষয়ে কৃষ্ণদাস কবিরাজ উল্লেখ করেছেন যে তিনি অন্যান্য লেখকদের প্রতি অপরাধ করতে চান না। তাই আমরা খুঁটিনাটিগুলিকে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণভাবে গ্রহণ করি না, আমরা জানি যে চৈতন্য মহাপ্রভু রাঘব পণ্ডিতের গৃহে থেকেছিলেন এবং তা চৈতন্য-চরিতামৃতে উল্লেখ করা আছে। কিন্তু আমরা নিশ্চিতরূপে জানি যে তিনি রাঘব পণ্ডিতের গৃহে ছিলেন, তা প্রত্যেকেই বলছে। এক্ষেত্রে সেটি ১দিন হোক বা ৬দিন তা আমাদের জন্য কি ভিন্নতা সৃষ্টি করে? 

লক্ষ্মী রাধা দেবী দাসী:- শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু পুরন্দরকে পিতা বলে সম্বোধন করেছিলেন কেন? এর তাৎপর্য কি? যেমন পুণ্ডরিক বিদ্যানিধিকেও এরূপ ডাকা হয়েছে এবং প্রকৃতপক্ষে তিনি ছিলেন বৃষভানু, রাধারানীর পিতা। তাই পুরন্দর আচার্য কে ছিলেন

জয়পতাকা স্বামী:- আকর্ষণীয় প্রশ্ন! আমরা জানি যে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর পিতা জগন্নাথ মিশ্রকেও পুরন্দর বলে ডাকা হত। কেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু পুরন্দর আচার্যকে পিতা বলে ডেকেছিলেন, তা জানার জন্য আমাকে গবেষণা করতে হবে। 

ব্রজ বিলাস গৌরাঙ্গ দাস, বোগোটা, কলম্বিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা:-  ভক্তদের কার্যাবলী বুঝতে পারা অত্যন্ত কঠিন। আমরা ভক্তদের সাধারণ না মনে করে কিভাবে তাদের সঙ্গ করতে পারি?

জয়পতাকা স্বামী:- এই জগতে কয়েকজন মানুষই আছে যারা হরে কৃষ্ণ জপ করে এবং ভগবানের প্রতি সমর্পিত ভক্ত। তাই তুমি কেন তাদেরকে সাধারণ বলে মনে করবে? তারা হচ্ছে ভক্ত, তারা বিশেষ এবং এছাড়াও তোমার প্রশ্নই এর উত্তর দিচ্ছে যে ভক্তদের কার্যকলাপ বুঝতে পারা কঠিন কারণ চরমে তারা কৃষ্ণের সেবা করতে চায়, তাই তারা এমনকি যদি কোন অবাক করা কার্যও করে, তাহলেও তারা বিশেষ।

শান্ত গোপি দেবী দাসী, তামিল প্রশ্ন:- শ্রীবাস ঠাকুর হচ্ছেন নারদ মুনির প্রকাশ, হরিদাস ঠাকুর হচ্ছেন ব্রহ্মার প্রকাশ, তাই গৌর লীলায় তাদের সম্পর্ক কেমন ছিল? তা কি গুরু-শিষ্যের মতো ছিল

জয়পতাকা স্বামী:- আমরা জানি যে হরিদাস ঠাকুর অদ্বৈত গোঁসাই এর সাথে ঘনিষ্ঠ ছিলেন, যখন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু আবির্ভূত হয়েছিলেন তখন তিনি অদ্বৈতের সাথে ছিলেন এবং যখন চৈতন্য মহাপ্রভু পুরীতে ছিলেন, তখন তিনিও জগন্নাথপুরীতে গিয়েছিলেন ও সেখানে থেকে ছিলেন। চৈতন্য মহাপ্রভু প্রত্যেকদিন তাকে দেখতে যেতেন। তাই শ্রীবাস এবং হরিদাস ঠাকুরের তত বেশি সম্পর্ক ছিল না। কিন্তু আমরা জানি যে শ্রীমন নিত্যানন্দ প্রভু, হরিদাস ঠাকুরের কাছে যেতেন এবং তারা দুজনে প্রচার করতেন। নিত্যানন্দ প্রভু শ্রীবাস ঠাকুরেরও ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তাই নিশ্চয়ই শ্রীবাস ও হরিদাসের মধ্যে দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছিল, কিন্তু তা গুরু-শিষ্যের সম্পর্কের মতো তেমন বিধিবৎ ছিল না। 

রাজেন্দ্র নাগুলাপল্লী, ইংল্যান্ড:- মদ্যপ মুসলমান শাসক শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা এত সহজে পেয়েছিলেন কিন্তু রাজা প্রতাপরুদ্রের শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা প্রাপ্ত হতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল, আমরা কিভাবে এই লীলাটি বুঝবো

জয়পতাকা স্বামী:- দেখুন রাজার এক অদ্বিতীয় অবস্থা ছিল এবং তিনি ছিলেন রাজ্যের প্রধান। কিন্তু শাসনকর্তা হিসেবে তার কাছে সকল প্রকার জরজাগতিক সুযোগ-সুবিধা ছিল। যেহেতু শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ছিলেন একজন সন্ন্যাসী, তাই তার রাজ্যের প্রধানের সাথে সাক্ষাৎ করা ছিল অনুচিত। কিন্তু রাজ অধ্যক্ষ তিনি রাজ্যের প্রধান শাসক নয়, তিনি রাজার রাজ্যের কিছু অংশ দেখতেন এবং তিনি শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর কাছে এসেছিলেন ও কৃষ্ণ নাম উচ্চারণ করে প্রণাম নিবেদন করেছিলেন। ঠিক যেমন রামানন্দ রায় ছিলেন রাজ অধ্যক্ষ। তাই সম্ভবত চৈতন্য মহাপ্রভু অধ্যক্ষদের সাথে দেখা করতেন, কিন্তু রাজাদের সাথে দেখা করতেন না, কিন্তু তারপর যখন রাজা প্রতাপরুদ্র নিজেকে ভগবান জগন্নাথের সামনে বিনয়ীভাবে প্রস্তুত করে রাস্তা ঝাড়ু দেওয়া ও অন্যান্য কার্য করেছিলেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই চৈতন্য মহাপ্রভু তার বিষয়ে নমনীয় হয়েছিলেন। 

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 23/7/2023
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions