Text Size

২০২১০৬০৮ প্রশ্ন-উত্তর পর্ব

8 Jun 2021|Duration: 00:09:10|Bengali|Question and Answer Session|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

নিন্মোক্ত প্রশ্ন-উত্তর পর্ব শ্রী শ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ ৮ জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারতে প্রদান করেছেন।

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ 

প্রশ্ন:- প্রিয় গুরুমহারাজ দয়া করে আমার বিনম্র প্রণাম গ্রহণ করুন। কেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বললেন যে গদাধর পণ্ডিতের তাঁর সাথে যেতে চাওয়ার বাসনা কেবল ইন্দ্রিয়তৃপ্তি? এটি গতকালের পাঠের বিষয় থেকে প্রশ্ন।

জয়পতাকা স্বামী:- এটি হচ্ছে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কথা। বলা হয়েছে যে অন্তরে তিনি সন্তুষ্টিবোধ করছিলেন, কিন্তু বাহ্যিকভাবে প্রেমবশত তিনি গদাধর প্রভুকে তিরস্কার করেছিলেন। অতএব, এর অর্থ হচ্ছে এটি অতি গুহ্যতম। আসলে আমরা জানি যে গদাধর ইন্দ্রিয়তৃপ্তি বিষয়ে ভাবতে পারেন না, তার সবকিছুই চৈতন্য মহাপ্রভুর প্রতি প্রেমবশত কিন্তু শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তাকে স্নেহবশত তিরস্কৃত করছিলেন যে — তুমি কেবল ইন্দ্রিয়তৃপ্তির জন্য আমাকে অনুসরণ করতে চাইছো! কিন্তু আমরা জানি যে সেটি হচ্ছে তার প্রেমময় আদান-প্রদান। 

লক্ষ্মী রাধা দেবী দাসী:- ভক্তরা জানেন যে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু হচ্ছেন পরম পুরুষোত্তম ভগবান স্বয়ং, তাহলে তারা কেন ভীত হচ্ছিলেন যে হয়ত প্রতিকূল মানুষদের যেমন মুসলিম শাসকের দ্বারা ভগবানের ক্ষতিসাধন হতে পারে? তাই ওঁনাকে সেখানেই থাকতে বলেছিলেন?

জয়পতাকা স্বামী:- প্রত্যেক সরকারি পদকর্তা রাজা প্রতাপরুদ্রের জন্য কাজ করছিলেন না, তারা জানতেন যে চৈতন্য মহাপ্রভু হচ্ছেন স্বয়ং কৃষ্ণ এবং স্বাভাবিকভাবে তারা তার যাত্রাপথ অত্যন্ত শান্তিময় করতে চেয়েছিলেন। বর্তমান সময়ে উড়িষ্যার সীমারেখা রেমুনার একটু উত্তরে অবস্থিত এবং সেখানে রূপনারায়ণ নদী পর্যন্ত এটিকে বলা হয় মিদনাপুর। রূপনারায়ণ নদী অত্যন্ত চওড়া এবং শান্ত, যা গঙ্গার সাথে মিলিত হয়। তাঁকে রূপনারায়ণ নদী পার হতে হত, সেই কারণে তারা তাকে কিছুদিন তাদের সাথে থাকার জন্য বলেছিলেন, যাতে তারা শান্তিপূর্ণভাবে যাত্রা করার কোন ব্যবস্থা করতে পারে। এটি স্বাভাবিক। তারা চিন্তা করছিলেন যে কিভাবে ভগবান শান্তিময়ভাবে সেই নদী অতিক্রম করতে পারবেন, অন্যথায় মুসলমান শাসক তার অধীন রাজ্যে আসা সকল যাত্রীদের লুট করে নিত। 

প্রশ্ন:-  গুরু মহারাজ জজপুর কেন বিরজা ক্ষেত্র নামে পরিচিত ?

জয়পতাকা স্বামী:- কারণ এটি বৈতরণী নদী যা বিরজা নদী নামে পরিচিত, তার দক্ষিণ তীরে অবস্থিত। 

জলঙ্গি মাতার থেকে প্রশ্ন। (আমার প্রিয় শিক্ষা শিষ্য কন্যা, জলঙ্গি দেবী দাসী) 

জলঙ্গি দেবী দাসী:-  কেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু গদাধরের পরিবর্তে রামানন্দ রায়ের প্রতি বিরহভাব প্রদর্শন করেছিলেন?

জয়পতাকা স্বামী:-   উত্তর দেওয়ার জন্য এটি একটি কঠিন প্রশ্ন। এটিই হচ্ছে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর লীলার বৈশিষ্ট্য যে তিনি বিভিন্ন ভক্তদের সাথে বিভিন্নভাবে ভাব বিনিময় করেন। আমি যেটা ভাবতে পারি সেটা হচ্ছে, তিনি যদি গদাধর প্রভুর কাছে ফিরে যেতেন, তাহলে তিনি আর তাকে ছেড়ে আসতে পারতেন না— গদাধার প্রভুর সাথে তাঁর সম্পর্ক এমনই যে তিনি তাকে ছেড়ে আসতে পারতেন না। এবং রামানন্দ রায় বিশাখার থেকে অভিন্ন, তিনি এইভাবে ভাববিনিময় করছিলেন। কেন তিনি বিভিন্ন ভক্তদের সাথে ভিন্ন ভিন্নভাবে ভাব বিনিময় করতেন, তা ভগবান ও তাদের মধ্যেকার বিষয় — এখানে আমি কি বলতে পারি

প্রশ্ন:- গুরুদেব, ধামে থাকার মত প্রতিজ্ঞা কি গুরুর আদেশ ছাড়া নেওয়া যেতে পারে? কেউ যদি গুরুর আদেশ ছাড়া এমন প্রতিজ্ঞা করে, তাহলে তা কি অপরাধমূলক? কৃপা করে বলুন গুরুদেব। 

জয়পতাকা স্বামী:- আমার মনে হয় তোমার কেবল গুরুর আদেশ মেনেই প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করা উচিত কারণ কখনও কখনও তুমি হয়ত ভাবাবেগে কোন প্রতিজ্ঞা নিতে পারো এবং তারপর সেটি রক্ষা করা কঠিন হতে পারে। এভাবে আমাদের গুরুর আদেশ গ্রহণ করা উচিত, তিনি তোমাকে অপ্রয়োজনীয় কোন প্রতিজ্ঞা যা তুমি রাখতে পারছ না, তা ভঙ্গ করা থেকে রক্ষা করবেন। আমি ৩২ মালা জপ করছিলাম। আমি সেই প্রতিজ্ঞা নেই নি, কিন্তু আমি এটি সম্পর্কে ভাবছিলাম। তবে শ্রীল প্রভুপাদ আমাকে বলেছিলেন যে তোমার ১৬ মালা জপ করা উচিত এবং বাইরে গিয়ে প্রচার করা উচিত। 

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 23/7/2023
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions