Text Size

২০২১০৬০৭ প্রশ্ন-উত্তর পর্ব

7 Jun 2021|Duration: 00:10:19|Bengali|Question and Answer Session|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

নিন্মোক্ত প্রশ্ন-উত্তর পর্ব শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ ৭ জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারতে প্রদান করেছেন।

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ 

প্রশ্ন:- কোন স্থানে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু নৌকায় করে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন?  

জয়পতাকা স্বামী:- উড়িষ্যার উত্তরভাগে। 

প্রশ্ন:- পুণ্ডরিক বিদ্যানিধি ভগবানকে স্বপ্নে দর্শন করে আশীর্বাদ প্রাপ্ত হয়েছিলেন। আধ্যাত্মিক গুরুদেবও কি প্রয়োজনে তার শিষ্যের উপর এমন কৃপা প্রদর্শন করেন? গুরুদেবের থেকে প্রাপ্ত নির্দেশাবলী শিষ্যের কত গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করা উচিত

জয়পতাকা স্বামী:- এটি পাঠের সাথে এটি অত্যন্ত বাহ্যিকভাবে সম্পর্কিত, কিন্তু যাইহোক প্রশ্নটি কি ছিল? একজন শিষ্যের গুরুদেবের থেকে পাওয়া নির্দেশ কত গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করা উচিত? এই বিষয়ে শ্রীল প্রভুপাদ শ্রীল বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ঠাকুরের উদ্ধৃতি তুলে বলেছিলেন যে শিষ্যের গুরুদেবের আদেশ তাঁর জীবন ও প্রাণরূপে গ্রহণ করা উচিত। যদি তুমি তোমার গুরুদেবের আদেশ পালন করতে অসমর্থ হও, তাহলে তুমি তাকে জিজ্ঞেস করতে পারো যে এক্ষেত্রে কি করা যেতে পারে। 

প্রশ্ন:- গদাধর পণ্ডিতের শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রতি যে প্রেম ও ভক্তি ছিল, আমরা কিভাবে তা লাভ করতে পারবো?

জয়পতাকা স্বামী:- আমার মনে হয় আমাদের এই রকম ভাবা উচিত নয় যে গদাধর পণ্ডিতের শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর প্রতি যে প্রেম ছিল, আমাদেরও সেই রকম প্রেম লাভ হবে। যদি আমরা তার প্রেমের এক বিন্দু লাভ করতে পারি, এটি হচ্ছে এমন কিছু যা আমরা প্রাপ্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষী। এবং শ্রীল প্রভুপাদও শুদ্ধ ভক্তদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চৈতন্য মহাপ্রভুর শ্রীপাদপদ্মের আশ্রয় গ্রহণ করে তা  সম্ভব হবে। বলা হয়েছে যে এই সমস্ত লীলা শ্রবন করে কেউ অতি শীঘ্রই চৈতন্য মহাপ্রভুর আশ্রয় প্রাপ্ত হতে পারবে। 

প্রশ্ন:- যখন গুরু শিষ্যকে নির্দেশ প্রদান করে ও পরবর্তীতে অপ্রকট হয়, তখন সেই বিরহ অসহনীয়। তাই এই অসহনীয় বিরহভাবে শিষ্য কিভাবে গুরুদেবের সেবা করতে পারে

জয়পতাকা স্বামী:- তাদের পক্ষে আর কি করণীয়? এটিই হচ্ছে আমাদের আধ্যাত্মিক গুরুর সাথে সম্পর্ক যে তাকে সেবা করা এবং তার নির্দেশাবলী পালন করা। এটি হচ্ছে বাণী সেবা। এটি অবশ্যই অত্যন্ত কঠিন, কিন্তু আর কোন কিছুই আমরা করতে পারি না। আমাদেরকে আধ্যাত্মিক গুরুর নির্দেশ, আর বাণী পালন করার মাধ্যমে তার সাথে সম্পর্ক রাখতে হবে এবং এইভাবে আমরা আমাদের আধ্যাত্মিক গুরুদেবের সাথে যুক্ত থাকতে পারব। 

প্রশ্ন:- কেন রাধারানীকে প্রত্যেক লীলায় এত বিরহ সহ্য করতে হয়? আমরা জানি গদাধর পণ্ডিত হচ্ছেন স্বয়ং রাধারানী। 

জয়পতাকা স্বামী:- তিনি প্রদর্শন করছেন যে বিরহভাবে প্রেম হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে মহত্তম, এবং সেটি আমরা অনুভব করতে পারি। এমনকি যদি আমরা কৃষ্ণ বা তার ভক্তের প্রতি বিরহ অনুভব না করি তাহলে আমরা আসল স্বাদ অনুভব করতে পারছি না এবং বিরহভাবে সেবা করার দ্বারা আমরা সর্বদা কৃষ্ণ ও তার ভক্তের সাথে সংযুক্ত থাকতে পারব। কখনও কখনও গুরুর সাথে সঙ্গ করার সময় কেউ হয়ত তার দেহ বা আহার বিষয়ে অন্য চিন্তামগ্ন হতে পারে, কিন্তু গুরুদেবের বিরহে সেই ব্যক্তি অত্যন্ত মনোযোগী থাকে। কখনও কখনও বিরহভাবে সেবা করার আরও প্রভাব থাকে। তাই আমাদের গরু এবং কৃষ্ণের প্রতি গভীর বিরহ অনুভব করার সুযোগ রয়েছে আর শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন যে আমাদের বিরহভাবে সেবা করা উচিত। 

প্রশ্ন:- গদাধর পণ্ডিতের শ্রীমতি রাধারানীর ভাব আছে। কোন পরিস্থিতিতে তিনি সেটি প্রদর্শন করেন

জয়পতাকা স্বামী:- এই লীলাতেই তিনি তা প্রদর্শন করেছেন যে তিনি ভগবানের সেবা করার জন্য সবকিছু ছেড়ে দিয়েছেন, কিন্তু শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তাকে সেই বিষয়ে অনুমতি দেননি। তারপর চৈতন্য মহাপ্রভুর সাথে বিচ্ছেদের ভাবনায় তিনি মূর্ছিত হয়েছিলেন। অতএব এটিও রাধারানীর ভাব।  

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 21/7/2023
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions