নিন্মোক্ত প্রশ্ন-উত্তর পর্বটি শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ ৪ জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারতে প্রদান করেছেন।
মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
হরিহর কৃষ্ণ চৈতন্য দাস:- হরে কৃষ্ণ গুরু মহারাজ, দণ্ডবৎ প্রণাম। শ্রীল প্রভুপাদ ও আপনার জয় হোক! পুণ্ডরিক বিদ্যানিধির এই লীলা থেকে আমরা শিখেছি যে এমনকি বৈষ্ণবগণের প্রতি সামান্যতম ঈর্ষা ভাবও অত্যন্ত বিপদজনক। এই ঈর্ষার ভাবনা অতিক্রম করা আমার জন্য খুবই কঠিন। দয়া করে সহায়তা করুন।
জয়পতাকা স্বামী:- দেখো, আমরা এই লীলা থেকে সেই শিক্ষা গ্রহণ করার চেষ্টা করতে পারি এবং যেমন কোন কোন দেশে তুমি চুরি যদি করো, তাহলে দণ্ডস্বরূপ তোমার মস্তক ছেদন করা হবে, এবং তাই মানুষেরা সেখানে চুরি করতে ভয় পায়, কারণ তাদের শিরচ্ছেদ হবে। তাই আমরা যদি বুঝতে পারি যে কোন ভক্তের প্রতি ঈর্ষান্বিত হওয়া কত গুরুতর বিষয়, তাহলে আমরা এইরকম কিছু এড়িয়ে চলবো।
কোটিশশী গৌরাঙ্গ দাস:- ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ভগবান গীতায় বলেছেন: “যদ্ যদাচরতি শ্রেষ্ঠঃ” — “শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি যেভাবে আচরণ করেন, সাধারণ মানুষেরা তার অনুকরণ করে।” তাই ভক্তরা যদি নিয়ম পালন না করে, তাহলে সাধারণ মানুষও এর অভ্যন্তরীণ উদ্দেশ্য না বুঝে একই রকম কাজ করতে থাকবে। এটি কিভাবে বুঝব?
জয়পতাকা স্বামী :- যদি কোন ভক্ত ভগবানের সেবা করে, তাহলে আমাদের দেখা উচিত যে তিনি এই সেবাটি কিভাবে করছেন? যেহেতু জগন্নাথদেব এই সেবা অনুমোদন করেছেন, তাই এই সেবায় কোন ত্রুটি নেই, যেমন স্বরূপ দামোদর বলেছিলেন। তাই মূল ধারণাটি হচ্ছে ভগবান যা চান, কেউ সেটাই করে, এবং তাই অন্যদের তা অনুসরণ করা উচিত।
কৃপা সিন্ধু দাস:- আমাদের কতটা ভগবানের সাথে নিজেদের ব্যক্তিগত ভাব বিনিময়ের আকাঙ্ক্ষা করা উচিত?
জয়পতাকা স্বামী:- দেখো এটি হচ্ছে এমন কিছু যার আকাঙ্ক্ষা করা উচিত কিন্তু এটি কদাচিৎ কখনো লাভ হয়। এই কারণে আমরা দেখছি যে পুণ্ডরিক বিদ্যানিধি এমন কোন আশা ছাড়াই তিনি দণ্ড পেয়েছিলেন এবং এটিকে ভগবানের বিশেষ কৃপা রূপে গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু যদিও ভগবান আমাদের সাথে বিভিন্নভাবে ভাব বিনিময় করেন, কিন্তু আমরা হয়তো তা উপলব্ধি করতে পারি না। তবে পুণ্ডরিক বিদ্যানিধে ভগবানের থেকে এমন এক নির্দেশ পেয়েছিলেন, তিনি যখন ঘুম থেকে উঠেছিলেন, তখন তার গাল ফুলে গিয়েছিল এবং তিনি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করছিলেন। এছাড়াও চাঁদ কাজি অর্ধ নর অর্ধ সিংহরূপে একজনকে দেখেছিলেন, যিনি তার কাছে এসে বলেছিলেন, “তুমি যদি আবার সংকীর্তনে ব্যাঘাত সৃষ্টি করো, তাহলে আমি তোমাকে শাস্তি দেব।” এবং তাঁর নখ দিয়ে বুকে আঁচড় দিয়েছিল। তিনি যখন জেগে উঠেছিলেন, তখনও তার বুকে সেই আচরের দাগ ছিল, এটি এক বিশাল আশীর্বাদ। তাই আমরা আশা করি যে তুমি কোন অপরাধ করবে না, কিন্তু আমরা গুরু এবং কৃষ্ণের আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য সর্বদাই অধীর থাকি।
প্রশ্ন:- আপনি যেমন বললেন যে পুণ্ডরিক বিদ্যানিধি এই লীলাটি ভগবানের কৃপা হিসেবে দেখেছিলেন, তেমন আমরাও কিভাবে আমাদের জীবনের সবকিছুই ভগবানের কৃপা হিসেবে দেখতে পারব?
জয়পতাকা স্বামী:- পুণ্ডরিক বিদ্যানিধির পদাঙ্ক অনুসরণ করে। আমরা দেখি যে আমাদের সাথে যা কিছু ঘটে তা ভগবানের কৃপায় হয়। এমনকি আমরা যদি কোন শাস্তি পাই, তাহলে আমরা মনে করি যে এটি অতি অল্প, আমাদের আরো খারাপ কিছু প্রাপ্য ছিল। আর আমরা যদি ভালো কিছু লাভ করি, তাহলে আমরা মনে করি যে তা ভগবানের কৃপা।
লীলা কৃষ্ণচরণ দাস:- আমরা জানি যে একজন মুসলিম যখন প্রসাদ গ্রহণ করেছিলেন না, তখন স্বপ্নে তিনি রাজাপুর জগন্নাথের থেকে দণ্ড পেয়েছিলেন। কখন তিনি প্রসাদ গ্রহণ করেননি? এটি কিভাবে বুঝব?
জয়পতাকা স্বামী:- রাজাপুরে একজন মুসলিম যখন জগন্নাথ, বলদেব, সুভদ্রাকে দর্শন করতে এসেছিল, তখন পূজারী তাকে কিছু প্রসাদ দিয়েছিলেন। সে সেটি নিয়ে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল ও তাঁদের সামনেই বলেছিল যে “আমি এই মূর্তিতে নিবেদিত খাবার গ্রহণ করি না।”
তারপর সেই পূজারী এসে তাকে বললেন, “যদি তুমি এইরকম মনে কর, তাহলে তুমি এখানে এসেছ কেন?”
তখন সে সেখান থেকে চলে যায়। পরের দিন আবার সে এসে ভগবানকে সষ্টাঙ্গ প্রণাম নিবেদন করে ও পূজারীর থেকে প্রসাদ ভিক্ষা চায়। পূজারী তাকে জিজ্ঞেস করেন, “তুমি কি পাগল নাকি? গতকাল তুমি প্রসাদ ছুড়ে ফেলে দিলে, আজকে তুমি প্রসাদ ভিক্ষা চাইছো। কি হচ্ছে?”
সে বলল কালকে রাতে এই তিনজন আমার স্বপ্নে এসেছিলেন। সাদা মুখের ব্যক্তিটি আমার ঘাড় চেপে ধরেছিলেন এবং বলছিলেন যে, “তুমি আমার ভাইয়ের প্রসাদ ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছো? আমি তোমাকে ধরতে চলেছি!” এবং সেই মহিলা বলছিলেন, “তাকে ধরো! তাকে ধরো!” কিন্তু যে কালো করে হাসি মুখের, তিনি বলছিলেন, “তাকে ছেড়ে দাও, সে তত বড় অপরাধ করেনি।” কিন্তু এখন আমি বিশ্বাস করি! আমি বিশ্বাস করি! আমি বিশ্বাস করি! আমি কখনও প্রসাদ ছুড়ে ফেলবো না! আমি বিশ্বাস করি!
এইভাবে সে জগন্নাথ বলদেব সুভদ্রার বিশেষ কৃপা পেয়েছিল। এই কারণে আমরা বলি যে রাজাপুর জগন্নাথ অত্যন্ত কৃপাময় এবং খুবই জাগ্রত। সাধারণত যবনরা এইরকম কৃপা পায় না, কিন্তু রাজাপুর জগন্নাথ তিনি খুবই বিশেষ। হরিবোল! জগন্নাথ কি জয়! জগন্নাথ কি জয়! জগন্নাথ কি জয়!
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়