Text Size

২০২১০৬০৫ শ্রীমদ্ভাগবত ১.৮.৫২

5 Jun 2021|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

নিন্মোক্ত প্রবচনটি শ্রীল জয়পতাকা স্বামী ৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারতে প্রদান করেছেন। এই প্রবচনটি শুরু হয়েছে শ্রীমদ্ভাগবতের ১ম স্কন্ধ, ৮ম অধ্যায়, ৫২নং শ্লোক পাঠের মাধ্যমে।

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎ কৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 পরমানন্দমাধবম্ শ্রীচৈতন্য ঈশ্বরম্
 হরি ওঁ তৎ সৎ

শ্রীমদ্ভাগবতম ১.৮.৫২
যথা পঙ্কেন পঙ্কাম্ভঃ সুরয়া বা সুরাকৃতম্।
ভূতহত্যাং তথৈবৈকাং ন যজ্ঞৈর্মাষ্টুমর্হতি॥

অনুবাদ: কর্দমের দ্বারা যেমন কর্দমাক্ত জল পরিশ্রুত করা যায় না অথবা সুরার দ্বারা যেমন সুরা-কলঙ্কিত পাত্র পবিত্র করা যায় না, তেমনই যজ্ঞে পশুবধ করে নরহত্যাজনিত পাপও রোধ করা যায় না।

তাৎপর্য: অশ্বমেধ-যজ্ঞ বা গোমেধ-যজ্ঞ অবশ্যই পশুবধের জন্য অনুষ্ঠান করা হত না। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেন যে যজ্ঞবেদীতে সেই পশুবলির ফলে পশুদের নতুন জীবন দান করা হত। বৈদিক মন্ত্রের অভীষ্ট ফল প্রদানের ক্ষমতা প্রমাণ করার জন্যই কেবল তা করা হত। যথাযথভাবে বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ করার ফলে অনুষ্ঠানকারী নিশ্চিতভাবে পাপের ফল থেকে মুক্ত হন, কিন্তু কোন অক্ষম ব্যক্তি অনুপযুক্ত বিধিতে এই যজ্ঞ অনুষ্ঠান করলে তাকে অবশ্যই পশুহত্যার জন্য দায়ী হতে হয়। কলহ এবং কপটতার এই যুগে এই প্রকার যজ্ঞ অনুষ্ঠান করার মতো সুদক্ষ কোন ব্রাহ্মণ না থাকায় এই সমস্ত যজ্ঞ অনুষ্ঠান করা সম্ভব নয়। মহারাজ যুধিষ্ঠির তাই কলিযুগের যজ্ঞ অনুষ্ঠানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। কলিযুগের একমাত্র যজ্ঞ হচ্ছে ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু কর্তৃক প্রবর্তিত হরিনাম-যজ্ঞ। কিন্তু তা বলে পশুহত্যা করে সেই পাপ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য হরিনাম-যজ্ঞ অনুষ্ঠান করা উচিত নয়। যাঁরা ভগবানের ভক্ত, তাঁরা কখনো নিজেদের স্বার্থে পশুহত্যা করেন না এবং ক্ষত্রিয়ের কর্তব্য সম্পাদনেও তাঁরা অবহেলা করেন না (যে আদেশ ভগবান অর্জুনকে দিয়েছেন)। তাই ভগবানের ইচ্ছা অনুসারে যখন সব কিছু সম্পাদন করা হয়, তখন সমস্ত উদ্দেশ্যই সাধিত হয়। সেটি কেবল ভক্তদের পক্ষেই সম্ভব।

ইতি “কুন্তীদেবীর প্রার্থনা এবং পরীক্ষিতের প্রাণরক্ষা” নামক শ্রীমদ্ভাগবতের প্রথম স্কন্ধের অষ্টম অধ্যায়ের ভক্তিবেদান্ত তাৎপর্য।

শ্রীল জয়পতাকা স্বামী: যুধিষ্ঠির মহারাজ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে হত মানুষদের জন্য অপরাধ বোধ করছিলেন। এখানে এই উদাহরণ প্রতিপন্ন হয়েছে যে—ঠিক যেমন কর্দমাক্ত জল কাদা দিয়ে শোধন করা যায় না, এবং যদি কোনো পাত্র সুরা দ্বারা অপবিত্র হয়, তাহলে তা আপনি সুরা দিয়ে শোধন করতে পারবেন না। আপনি হয়ত ভাবতে পারেন যে সুরা তরল পদার্থ, তাই সুরা দিয়ে পাত্র শোধন করতে পারি, কিন্তু সেটা সম্ভব নয়। যদি আপনার কাছে শুদ্ধ জল থাকে, তাহলে আপনি তা ধৌত করতে পারেন। দুধের মধ্যে যদি এক বিন্দু সুরা পড়ে, তাহলে পুরো দুধ অপবিত্র হয়ে যাবে। এইভাবে যুধিষ্ঠির মহারাজ চিন্তা করছিলেন—আমি যদি গোমেধ বা অশ্বমেধ যজ্ঞ সম্পাদন করি, তবুও এত মানুষের মৃত্যুর কর্মফল অপনোদন করা যাবে না। কৃষ্ণ তাঁকে বোঝাতে পারেনি, কেননা কৃষ্ণ চেয়েছেন যে ভীষ্মদেব তাঁকে বোঝাবে। কৃষ্ণ তাঁর ভক্তের গুণগান করতে পছন্দ করেন। ভগবান একাই কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে সবাইকে বধ করতে পারতেন, কিন্তু উনি অর্জুনের দ্বারা করালেন। যেহেতু অর্জুন সমস্ত গুণগান পাক সেটা উনি চেয়েছেন। তাই এক্ষেত্রে কৃষ্ণ যুধিষ্ঠিরকে বোঝাতে পারেননি, কিন্তু ভীষ্ম তাঁকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন। এর একমাত্র কারণ হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণ চেয়েছিলেন তাঁর ভক্তের মহিমা কীর্তিত হোক। তখন দ্বাপর যুগে মন্দিরে পূজা করার যজ্ঞ ছিল বা ত্রেতাযুগে হোম-যজ্ঞ ছিল, সত্যযুগে ছিল ধ্যান, আমাদের কলিযুগের মধ্যে সেখানে হরিনাম হচ্ছে উপায়। 

পাঁচ প্রকারের পাপ আছে যা আপনি এড়িয়ে চলতে পারবেন না। যেমন—যখন আপনি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যান, তখন আপনি ছোট পোকা বা পিপড়ের ওপর পা দিয়ে ফেলেন, আর গাড়ি করে চললে কত কত পোকা আদির মৃত্যু হয় সেটা হিসাব করা যায় না। যখন আপনি আগুন জ্বালান, তখনও আপনি কত জীব, কত ছোট পোকামাকড় মেরে ফেলেন। আবার আপনি যখন শ্বাস গ্রহণ করেন, তারফলেও আপনি অণুবীক্ষণিক জীবের হত্যা করে ফেলেন, এবং যখন আপনি জল পান করেন, তখনও কিছু সূক্ষ জীবাণুর হত্যা হয়। তাই আমরা এই সবকিছু  গঙ্গাজল দ্বারা স্পর্শ করি। যেহেতু মানুষ গঙ্গা জলে নোংরা ফেলে, তাই আমার দেখি সামান্য গঙ্গা জলের নমুনায় ষাট হাজার জীবাণু থাকে। এর মধ্যে সালমোনেল্লা নামে একটা-দুটো জীবাণু ছিল, কিন্তু গঙ্গা জলের নিজস্ব পরিশুদ্ধকারী উপায় আছে। এইভাবে প্রতিদিন অর্ধেক পশু-ময়লা শুদ্ধ হত, মোটামুটি। তার মানে একদিন পরে সেটা ষাট হাজার থেকে ত্রিশ হাজারে নেমে আসবে, তারপরের দিন পনের হাজার, এরপর দশ দিন পরে একশোরও কম হয়ে যাবে। তো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মত অনুযায়ী একশোরও কম দিনের মধ্যেই সেটা সম্পূর্ণ নিরাপদ জলে পরিণত হয়। তার মানে এমনকি শুদ্ধ জলেও আমরা একশোর কম জীবাণু হত্যা করছি। তো এইরকম পাঁচ প্রকারের কর্ম রয়েছে, যার দ্বারা আপনি জীবাণু ইত্যাদির হত্যা করে ফেলেন। তো জৈনধর্মাবলম্বী সাধুরা তাদের মুখের ওপর একটা কিছু পড়ে, তারপর তাদের তুলোর তৈরি একটা ঝাড়ু থাকে, আর তারা চলার আগে রাস্তায় ঝাড়ু দেয় যাতে তারা কোন জীবাণু হত্যা না করে ফেলে। এইভাবে তারা সবরকমের কুকর্ম এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে। তারা কোনো শিকড় জাতীয় সবজি খায় না, কারণ যখন মাটি খুঁড়ে শিকড় বার করা হয়, তখনও কিছু জীব হত্যা হয়। আমরা এটা জানি কারণ আমাদের যে সেক্রেটারি এয়ারপ্লেনে জৈন নিরামিষ খায়, এটা কোনো পেয়াজ-রসুন থাকে না। তো এরকম পাঁচ রকম অবর্জনীয় পাপ রয়েছে, তাই এই পাপের প্রতিষেধক হিসেবে আমাদের যজ্ঞ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেটা দূরের কথা, মানুষ এখন পশু কসাইখানায় হত্যা করে খাচ্ছে। মদ্যপান এবং নেশা খুবই সাধারণ ব্যাপার হয়ে উঠেছে। পাশ্চাত্যে মানুষেরা বিবাহের ঝামেলা নিতে চায় না। আর দক্ষিণ আমেরিকাতে একটা আইন প্রণয়ন করা হয়েছে—মহিলা, পুরুষ যদি একসাথে দুবছরের বেশি থাকে, সেই স্ত্রী স্বয়ংক্রিয়ভাবেই অধিকার পাবে বিবাহের মতো। ভগবদগীতার আঠের অধ্যায়ের পঞ্চম বা ষষ্ঠ শ্লোকের তাৎপর্যে শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন কিভাবে তিনি বিবাহযজ্ঞে অংশগ্রহণ করেছেন। যদিও তিনি বলেছেন যে এটা সাধারনত কোন সন্ন্যাসীর কর্তব্য নয়, কিন্তু বিবাহকে শুভ করার জন্য ও বিবাহের ব্যবস্থার প্রচার করার জন্য তিনি সেখানে অংশগ্রহণ করতেন। তো অষ্ঠাদশ অধ্যায়ের ৫ম শ্লোকে তিনি এই বিষয়টি ব্যাখা করেছেন। এইভাবে যথার্থ বৈদিক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি এমন অনেক কিছু করেছিলেন।

এখন সমগ্র বিশ্ব জুড়ে আমরা করোনা ভাইরাসের মহামারীর জন্য কষ্ট ভোগ করছি, কারণ মানুষ এত পরিমাণে পাপকার্যে লিপ্ত। কোনো সময় তারা একটা প্রতিকারের উপায় পায়, কিন্তু জীবনুও তার নিজের চরিত্র বদলে ফেলে, ফলে তখন সেই প্রতিকারের উপায় আর কার্যকরী হয় না। তো ব্রাজিলে, রিও-ডি-জেনিরোতে তারা ‘কোপা আমেরিকানা’ ফুটবল খেলাতে যাচ্ছে, কিছু মানুষ এটাকে ফুটবলের মৃত্যুর মেলা বলছে। কারণ মানুষেরা সেখানে যাবে আর করোনা ভাইরাসের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে মারা যাবে। যাইহোক, আবশ্যকতা হচ্ছে—মানুষের হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র নামকীর্তন করা উচিত। ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু উপদেশ দিয়েছেন যে এই যুগে আমাদের ভগবানের পবিত্র নামকীর্তন করা উচিত। আমাদের পবিত্র নামকীর্তন করা উচিত ও পাপকার্য থেকে বিরত থাকা উচিত। এটাই হচ্ছে প্রকৃত সমাধান। বিশ্বব্যাপী সকল মানুষের এই হরিনাম সংকীর্তন গ্রহণ করা উচিত। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে এমনকি যদি তাদের হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা বা বিশ্বাস না থাকে, তাহলে তারা ভগবানের যেকোন অনুমোদিত নাম জপ করতে পারে। হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্রটি সংস্কৃত ভাষায় রয়েছে, আর সংস্কৃত হচ্ছে সমস্ত ভাষার মাতৃভাষা। বৃহন্নারদীয় পুরাণে বলা হয়েছে—

“হরের্নাম হরের্নাম হরের্নামৈব কেবলম্।
কলৌ নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব গতিরন্যথা।।”

অন্য কোন উপায় নেই! অন্য কোন উপায় নেই! অন্য কোন উপায় নেই! অতএব, কর্ম, জ্ঞান বা ধ্যান এর দ্বারা হবে না, শুধু জপ করতে হবে—“হরে কৃষ্ণ!” কোন না কোনভাবে আমাদের এটা বিশ্ব জুড়ে প্রচার করা উচিত যে আমরা ভগবানকে ভুলে যাচ্ছি বলেই আমরা কষ্ট পাচ্ছি, যদি আমরা ভগবানকে মনে রাখি, তাহলে সমাধান হবে। কিন্তু এসব অজ্ঞাত পাপের জন্য যজ্ঞ করার আর কি কথা, আমরা প্রকাশ্যে পাপ কাজ করছি—কসাইখানা, মদ খাওয়া, অবৈধ মৈথুন করা, জুয়া খেলা সবকিছু পাপ কর্ম করছি। আমাদের ভক্তরা এইসব বর্জন করে চলে। তারা হরেকৃষ্ণ নৃত্য-কীর্তনের মাধ্যমে অসীম আনন্দ উপলব্ধি করে এবং এইভাবে তারা তাদের শ্রেষ্ট যজ্ঞ সম্পাদন করে, তারা কৃষ্ণপ্রসাদ গ্রহণ করে। এটা খুবই সহজ এক পন্থা। আপনার যদি কারোর সাথে দেখা হয় এবং কেউ আপনাকে জিজ্ঞেস করতে পারে—“তুমি কেমন ছুটি কাটালে? আপনি বলবেন, “আহ, আমি গান গেয়েছি, নাচ করেছি, অনেক ভোজন করেছি!” তখন তারা বলবে—“ওহ! তুমি তো বেশ ভাল ছুটি কাটিয়েছো!” সেটা হচ্ছে আমাদের আত্ম-উপলব্ধির পন্থা, এতে সমস্যা কোথায়?

আমি যখন এই প্রবচনের পরে অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ বা মালয়েশিয়াতে দর্শন করতে যাই, আমরা কত প্রীতিভোজের ব্যবস্থা দেখি! প্রসাদ—বিভিন্নধরণের রাজকীয় প্রসাদ। অতএব, আমাদের এই পন্থা অনুসরণ করা অত্যন্ত সহজ, তবে তা বেশ কার্যকরীও। সেইজন্য আমরা আশা করি, সবাই হরে কৃষ্ণ নাম করে আনন্দিত থাকবে।

যুধিষ্ঠির মহারাজ অত্যন্ত অপরাধবোধ ও হতাশ অনুভব করছিলেন। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের মধ্যে কত মানুষ মারা গিয়েছিল। উনি ভেবেছেন যে এটা ওনার দোষ। ভীষ্মদেব ওঁনাকে এমন শিক্ষা দিয়েছিলেন যে উনি হালকা বোধ করেছিলেন। কত পশু প্রতিদিন মারা যাচ্ছে, মানুষ বিনাকারণে পশুবধ করছে কেবল তাদের জিহবার লালসা পরিতৃপ্তি করার জন্য। কোন কোন অমিষভোজীরা বলে—আমাদের পরিবারে ঐতিহ্য হচ্ছে আমরা পরম্পরাক্রমে শতাব্দী ধরে মাংস খেয়ে আসছি, তাই এখন আর আমরা থামাব না। এরপর তারাই আবার আশ্চর্য হয় যে কেন আমাদের মহামারী হচ্ছে। আমরা যদি হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র নাম-কীর্তন করি, তাহলে আমরা সমগ্র বিশ্বে এক বিরাট পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারব। এই ছিল চৈতন্য মহাপ্রভুর কার্যক্রম, এটাই ছিল শ্রীল প্রভুপাদের কার্যক্রম। এখন আশা করি সব ভক্ত ভাল করে প্রভুপাদের গ্রন্থ পড়বে এবং এটা বিস্তার করবে তাদের এলাকায়। শ্রীল প্রভুপাদ চেয়েছিলেন যে তাঁর প্রত্যেক শিষ্যের এই আন্দোলন সমগ্র বিশ্বে প্রচার করা উচিত। তিনি বলেছিলেন যে তার কমপক্ষে দশ হাজার শিষ্য রয়েছে এবং এই প্রত্যেক শিষ্যদের কমপক্ষে দশ হাজার করে শিষ্য থাকতে হবে। তাই আমাদের এখনো দীর্ঘ পথ চলা বাকি! এখন শ্রীল প্রভুপাদের শিষ্যবর্গ ক্রমে ক্রমে প্রস্থান করছেন, তাই প্রশিষ্যদের এই দায়িত্বভার গ্রহণ করতে হবে, যা হচ্ছে পরম্পরার নিয়ম। এইভাবে শ্রীল প্রভুপাদের দূরদৃষ্টি ছিল অন্যরকম, তিনি চেয়েছিলেন মানুষের এই বাণী প্রচার করা উচিত। আমি ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞ যে তারা আমাকে শ্রীল প্রভুপাদের আদেশ পালনে সহায়তা করছে—প্রতি মাসে দশ হাজার বড় গ্রন্থ এবং ১ লক্ষ ছোট গ্রন্থ বিতরণ করা। কিন্তু ভক্তরা যদি অন্তত গ্রন্থ অধ্যয়ন করে, তাতেই আমি খুশি হব। ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু আদেশ দিয়েছে, “বলো কৃষ্ণ, ভজ কৃষ্ণ, করো কৃষ্ণ শিক্ষা”। ভগবদগীতা হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা এবং শ্রীমদ্ভাগবত হচ্ছে কৃষ্ণসম্বন্ধীয় জ্ঞান—তবে উভয় গ্রন্থই কৃষ্ণশিক্ষা। এটাই হচ্ছে সংস্কৃত ব্যাকরণ। কৃষ্ণশিক্ষা দু ধরনের—শ্রীকৃষ্ণের নির্দেশ ও তাঁর সম্বন্ধীয় বর্ণনা। অতএব, আমরা আশা করি প্রত্যেক ভক্তবৃন্দ এই আন্দোলনের দায়িত্বভার গ্রহণ করবে ও তারা যে স্থানে আছে সেখানেই প্রচারের চেষ্টা করবে।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by পায়েল চন্দ্র 25/12/2025
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions