Text Size

২০২১০৬০২ প্রশ্ন-উত্তর পর্ব

2 Jun 2021|Duration: 00:13:06|Bengali|Question and Answer Session|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ 

পূজা, আহমেদাবাদ:- এখানে আমরা দেখতে পারছি যে স্বরূপ দামোদর এবং পুণ্ডরিক বিদ্যানিধি খুব ভালো বন্ধু। বর্তমান জগতে এমন প্রেমময় ও বিশ্বাসপরায়ণ বন্ধুত্ব কিভাবে গড়ে তোলা যাবে?

জয়পতাকা স্বামী:- শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে একজনের ভক্তের অন্যান্য ভক্তদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা উচিত। যেমন বলা হয় ঝাঁকের কই ঝাঁকে মেশে, তেমনি যদি সেই ভক্ত তোমার স্তরের হয়, তাহলে তুমি তাদের বন্ধু হতে পারো। আমরা হয়তো কোনো ভক্তকে খুঁজে না পেতে পারি, যাদের সাথে আমরা বন্ধু হতে পারবো। কিন্তু কোনো ভক্ত যে তোমার সব কথা গোপনীয় রাখে, যদি এমন হয়, তাহলে তুমি সেই ব্যক্তির সাথে আলোচনা করতে পারো।

কৈরব চন্দ্রিকা দেবী দাসী:- আপনি কি কৃপা করে বলতে পারবেন যে পুণ্ডরিক বিদ্যানিধি ভক্তদের দোষ দেখেছিলেন কেন? এই লীলা আমাদেরকে কি শিক্ষা দিতে চায়?

জয়পতাকা স্বামী:- কখনও কখনও ভগবান ও তাঁর ভক্তদের কার্যাবলী শাস্ত্র নির্ধারিত বাক্যের উর্ধে এবং পুণ্ডরিক বিদ্যানিধি শাস্ত্রের উপর ভিত্তি করে এইসব বিচার করছিলেন। তিনি বলছিলেন যে ভগবানকে তা নিবেদন করা যেতে পারে, কারণ তিনি সব নিয়ম-কানুনের ঊর্ধ্বে। কিন্তু তিনি ভক্তদের প্রশংসা করেন নি, তিনি ভাবছিলেন যে তাদের নিয়ম মানা উচিত। তাই এটি দেখায় যে কখনও কখনও ভক্তরাও অতি উন্নত স্তরে থাকতে পারে। 

নন্দকুমার কৃষ্ণ দাস, আমেরিকা:- আমরা কখনও কখনও দেখি যে কোন ভক্ত নির্ধারিত আচার-বিধির থেকে ভিন্ন বা অন্য কিছু করছে। তা হয়ত ভালো মনোভাব নিয়ে বা নিজের জল্পনা-কল্পনার উপর ভিত্তি করে করছে। তাই আমাদের তা কিভাবে গ্রহণ করা উচিত

জয়পতাকা স্বামী:- খুব শ্রদ্ধা সহকারে! তুমি সবসময় সেই ভক্তকে প্রশ্ন করতে পারো, এভাবে যে তিনি যেটা করছে সেটা কি গ্রহনীয়? এবং যদি তারা ভালো উত্তর দিতে পারে, তাহলে ঠিক আছে। যদি তারা বলে যে এটি আমার ভুল, তাহলে তিনি সংশোধিত হবে। কিন্তু আমাদের সরাসরি এটি নির্ধারণ করা ঠিক নয় যে তারা ভুল। প্রথমে আমরা তাদেরকে জিজ্ঞেস করি যে কেন তারা সেটি করছে এবং দেখি যে তারা কি উত্তর দেয়।  

সুমুখি হরিণী দেবী দাসী:- কখনও কখনও শ্রীবিগ্রহকে শীত বস্ত্র পড়ানোর মতো শীত পড়ে না, আমি গৃহের শ্রীগ্রহের কথা বলছি। তাই সেই অবস্থায় কি এই সেবা যতদিন না শীত পড়ছে ততদিন পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া যেতে পারে?

জয়পতাকা স্বামী:- এই রকম নয় যে তারা মার যুক্ত উলের পোশাক পড়িয়েছিলেন, তারা সুতির বস্ত্র নিবেদন করেছিলেন, যা ছিল মার যুক্ত। ওড়ন ষষ্ঠীর সময় তারা সুতির চাদর, সুতির বস্ত্র নিবেদন করেন। যখন শীত হয়, তখন তারা উলের পোশাক ব্যবহার করে 

ভাগ্যশ্রী, কলকাতা:- কখনও কখনও আমরা হয়ত কাউকে ভিন্ন ব্যবহারের দেখতে পাই। যদিও আমি সেই ভক্ত সম্পর্কে কোনো বাজে কিছু বলি না, বা আমি তার প্রতি অপরাধ করতে চাই না, কিন্তু আমার মনে বিভিন্ন ভাবনা আসে যা হয়ত সেই ভক্তের প্রতি অপরাধজনক। সেই সময় আমার কি করা উচিত? কৃপা করে নির্দেশ প্রদান করুন।

জয়পতাকা স্বামী:- আমি এর উত্তর ইতিমধ্যেই দিয়েছি যে আমরা সবসময় শ্রদ্ধাপূর্ণভাবে সেই ভক্তকে জিজ্ঞেস করতে পারি যে কেন তারা এইরকম কিছু করছে। যদি আমরা জানি যে তারা নতুন ভক্ত, তারা জানে না তারা কি করছে এবং যদি আমাদেরকে তাদের সংশোধন করতে হবে, তাহলে তারা হয়ত বিব্রত বোধ করতে পারে। এটি সেই পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে যে তিনি কোনো বরিষ্ঠ ভক্ত বা আমাদের স্তরের ভক্ত নাকি নতুন ভক্ত। সেই অনুসারে তিনি যদি কোন বরিষ্ঠ ভক্ত হয়, তাহলে আমরা তাদেরকে প্রথমে জিজ্ঞেস করবো। যদি তারা আমাদের স্তরের ভক্ত হয়, তাহলে আরও বন্ধুত্বপূর্ণভাবে এবং আমাদের সাথে তার সম্পর্ক বুঝে সেটি বলা যেতে পারে, এইভাবে আমাদের কাজ করা উচিত।  

গিরিজা:- কিভাবে এই দোষ দেখার মানসিকতা আমাদের ভক্তিমূলক সেবায় প্রভাব ফেলে

জয়পতাকা স্বামী:- বৈষ্ণব অপরাধকে মত্ত হস্তির সাথে তুলনা করা হয়েছে, তা তোমার ভক্তি লতাকে শেষ করে দেবে — তাই অপরাধমূলক মানসিকতা থাকা খুবই বিপদজনক।  

সুদেবী জয়শ্রী দেবী দাসী, ভুবনেশ্বর:- ভক্ত বন্ধুর কি কি গুন থাকে? যাদেরকে আমরা আমাদের হৃদয়ের কথা বলতে পারব এবং যাদেরকে সত্যিকারের আধ্যাত্মিক বন্ধু হিসেবে বুঝতে পারব? 

জয়পতাকা স্বামী:- আমার মনে হয় এটিই ছিল প্রথম প্রশ্ন। যাই হোক, বন্ধু আমাদের একই স্তরের হওয়া উচিত, এমন কেউ যে তুমি যা বলছ তা সব জায়গায় বলে বেরাবে না। তুমি সেই ভক্তের সাথে আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলতে পারবে এবং এমন কেউ যার কৃষ্ণভাবনামৃতে উপলব্ধিকে তুমি শ্রদ্ধা করো। এমন কেউ যিনি দোষ খোঁজেন না, যিনি কৃষ্ণভাবনামৃত অনুশীলনের প্রয়াস করছেন, কিন্তু যেমন প্রথম ভক্তকে বললাম যে সব সময় এমন ভক্ত খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়, এবং এইরকম একজন বন্ধু থাকা খুব মঙ্গলজনক। 

নরোত্তম দাস ঠাকুর তার একটি ভজনে বলেছেন, “রামচন্দ্র সঙ্গ মাঙ্গে নরোত্তম দাস” কারণ তার ক্ষেত্রে সেই রকম একজন বন্ধু ছিলেন যেমন রামচন্দ্র দাস, এটি অতি মঙ্গলজনক। আমাদেরও এমন সঙ্গ দরকার যাদের সাহায্যে আমরা আধ্যাত্মিকভাবে উন্নত হতে পারব। যেমন পুণ্ডরিক বিদ্যানিধি সর্বদা স্বরূপ দামোদরের সাথে সবকিছু আলোচনা করতেন এবং স্বরূপ দামোদর বলেছিলেন যে, “তারা যা করছে তাতে আমি কোনো দোষ দেখি না।” তাই সত্যিকারের বৈষ্ণব বন্ধু সবসময় সত্য বলবে, এমন নয় যে তুমি যা বলবে তাতেই সায় দেবে!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 24/7/2023
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions