Text Size

২০২১০৬০১ প্রশ্ন-উত্তর পর্ব

1 Jun 2021|Duration: 00:22:28|Bengali|Question and Answer Session|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ 

প্রশ্ন:- ধন্যবাদ গুরুমহারাজ! অন্যান্য জায়গার থেকে জগন্নাথদেবের সেবা কি একটু সহজভাবে করা হয়

জয়পতাকা স্বামী:- জগন্নাথদেবের অর্চন বিধির উপর একটি বই আছে এবং সেই বইয়ের নির্দেশ অনুসারে তাঁর পূজা করতে হয়। তারা একটি নির্দিষ্ট সময়ে রথযাত্রা করে। তারা অভিযোগ করেছিল যে ইস্‌কন সেই একই সময়ে রথযাত্রা পালন করে না। ভারতে আমরা একটি সংকল্প গ্রহণ করি যে আমরা রথযাত্রা নয় দিন ধরে উদযাপন করব, এইভাবে কিছু বিশেষ উৎসব থাকে যেমন — স্থান যাত্রা, চন্দন যাত্রা। আর ওড়ন ষষ্ঠী হচ্ছে সেগুলির মধ্যে একটি উৎসব এবং সেই সবকিছু কিভাবে পালন করা হবে তা সেই গ্রন্থে আছে। জগন্নাথদেবের তাঁর পূজার নিজস্ব রীতি আছে। 

হরে কৃষ্ণ গুরু মহারাজ! দয়া করে আমার বিনীত সস্রদ্ধ প্রণাম গ্রহণ করুন।  

প্রশ্ন:- কেন শ্রী বার্ষভানুবিমুরারি আপনার প্রাণধন? আপনার সাথে তাঁর বিশেষ কি সম্পর্ক?

জয়পতাকা স্বামী:- বার্ষভানুবি হচ্ছে বৃষভানুর কন্যা। চৈতন্য লীলায় পুণ্ডরিক বিদ্যানিধি হচ্ছেন বৃষভানুর প্রকাশ। সেই কারণে সেই শ্রীবিগ্রহকে বলা হয় বার্ষভানুবিমুরারি। এবং কৃষ্ণকে বলা হয় মুরারি এবং গৌরাঙ্গ হচ্ছেন গৌরাঙ্গ। এই শ্রীবিগ্রহ প্রত্যেকের কাছেই অত্যন্ত প্রিয়, কারণ পুণ্ডরিক বিদ্যানিধি সকলের খুব প্রিয়। 

প্রশ্ন:- উল্লেখ আছে যে রথ যাত্রার পর অদ্বৈত আচার্য নবদ্বীপে ফিরে গিয়েছিলেন। যখন চৈতন্য মহাপ্রভু কুয়োতে পড়ে গিয়েছিলেন, তখন অদ্বৈত আচার্য সেখানে গিয়েছিলেন এবং এটি বলা আছে যে যখন সকল ভক্তরা ফিরে এসেছিলেন, তখনও পুণ্ডরিক বিদ্যানিধি পুরীতেই ছিলেন?

জয়পতাকা স্বামী:- আমরা যে শ্লোকগুলি পাঠ করছি, সেগুলি সঠিক কালানুক্রমিক নয়। অবশ্যই চৈতন্য মহাপ্রভু যখন কুয়োতে পড়ে গিয়েছিলেন, অদ্বৈত আচার্য তখনও জগন্নাথপুরীতে ছিলেন এবং বলা হয়েছে যে তিনি তাঁর সকল ভক্তদের বাংলায় ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এবং সেই বছর পুণ্ডরিক বিদ্যানিধিও সেখানে ছিলেন। তাই মনে হয় বাংলা থেকে ভক্তরা সেখানে তখন বা তার কিছু পরে ছিলেন। পুণ্ডরিক বিদ্যানিধি সেখানে এসেছিলেন। তারপর চৈতন্য মহাপ্রভু তাদেরকে বাংলায় পাঠিয়েছিলেন কিন্তু তিনি পুণ্ডরিক বিদ্যানিধিকে সেখানে থাকতে বলেছিলেন, তাই তিনি সেখানে ছিলেন। 

বিনোদ কৃষ্ণ এবং নন্দপ্রিয়া পদ্ম:- গুরু মহারাজ আমাদের মনের কথা নির্দ্বিধায় অন্যকে বলার গুরুত্ব কি? যেহেতু এই কথোপকথনের সময় এটি বারবার উল্লেখ করা হয়েছে, তাই কার কাছে আমাদের নিজের মনের কথা প্রকাশ করা দরকার? যেহেতু কখনও কখনও আমদের অপরাধজনক বা বাজে ভাবনাও আসে। 

জয়পতাকা স্বামী:-  অবশ্যই তুমি কেবল খুব ঘনিষ্ঠ ভক্তদের কাছেই তোমার মনের কথা খুলে বলতে পারো, এবং আমরা আশা করি যে তোমার কোন অপরাধজনক ভাবনা আসবে না। পুণ্ডরিক বিদ্যানিধির ক্ষেত্রে তার সন্দেহ ছিল। এর ফল কি হয়েছিল তা আমরা পরবর্তীতে শুনব। তাই যদি তোমার ভগবান ও তাঁর ভক্তদের প্রতি সন্দেহ হয়, তাহলে এটি খুবই বিপদজনক। তিনি তা স্বরূপ দামোদরকে বলেছিলেন এবং তখন স্বরূপ দামোদর ভুল সংশোধন করেছিলেন। তাই তুমি যদি এমন কোন স্থিতিতে থাক, যদি কেউ তোমার কাছে এসে তার মনের কথা বলে যে তাদের কিছু সন্দেহ আছে, তাহলে তোমাকে তাদের সন্দেহের উত্তর দিতে হবে। 

নন্দকুমার কৃষ্ণ দাস:- ওড়ন ষষ্ঠীর জন্য অধৌত বস্ত্র ব্যবহার করা হয়, কিন্তু বাকি সবসময় ধৌত বস্ত্র ব্যবহার করা হয়। যাইহোক, তবে আমরা যখন আমাদের শ্রীবিগ্রহের জন্য বস্ত্র ব্যবহার করি, তখন আমরা কখনও সেটি ধুই না। কারণ তাহলে সেগুলি নষ্ট হয়ে যাবে।  

জয়পতাকা স্বামী:- দেখো তারা জগন্নাথকে নতুন বস্ত্র পড়ায়, তোমার শ্রীবিগ্রহের জন্য তোমার হয়তো আরম্ভরপূর্ণ বস্ত্র থাকে। জগন্নাথ দেবকে তারা সাধারণ বস্ত্র পড়ায়, কিন্তু ওড়ন ষষ্ঠীর জন্য মার বস্ত্র থাকে এবং যেমন কিছু মন্দিরে তারা শ্রীবিগ্রহকে শাড়ি বা রঙ্গিন বস্ত্র পড়ায়, দক্ষিণ তামিলনাড়ুতে আদিকেশব মন্দিরে তারা এক বছর ধরে বস্ত্র পরিবর্তন করেনি। তাই আমরা তাদেরকে একটি নতুন বস্ত্র নিয়ে দিয়েছিলাম, আদি কেশব শ্রীবিগ্রহ অত্যন্ত বড় ২১ ফিট, তাই তিনি অনন্ত পদ্মনাভ স্বামীর মত একই উচ্চতার। কিন্তু তিনি গর্ভোদক্ষয়ী বিষ্ণু নয়, তাঁর নাভিতে ব্রহ্মা নেই। এইভাবে শ্রীবিগ্রহের অর্চনের বিভিন্ন পদ্ধতি আছে। তোমার গৃহমন্দিরের ক্ষেত্রে তোমার যদি অনেক ভালো বস্ত্র থাকে, তাহলে তুমি ড্রাই ক্লিনিং বা অন্য কিছু করতে পারো। কিন্তু মার যুক্ত বস্ত্র ব্যবহার করবে না। 

দেবী শ্রেষ্ঠা রাধিকা দেবী দাসী:- হরে কৃষ্ণ প্রিয় গুরু মহারাজ, প্রণাম! শ্রী পুণ্ডরিক বিদ্যানিধি অত্যন্ত পাণ্ডিত্যপূর্ণ ছিলেন এবং তিনি গদাধর পণ্ডিতের গুরু ছিলেন। এই লীলার মাধ্যমে তিনি আমাদেরকে কি শিক্ষা দিচ্ছেন? 

জয়পতাকা স্বামী:- এই শিক্ষা যে কিভাবে আমাদেরকে ভগবান এবং ওঁনার সেবকদের বিষয়ে কোন কিছু ভাবার প্রতি অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে, কারণ জগন্নাথদেবের অর্চনা পদ্ধতি অনন্য। আর তিনি সেটিকে সাধারণ ভেবেছিলেন। এছাড়াও আরো অনেক কিছু শিক্ষা যে কিভাবে পুণ্ডরিক বিদ্যানিধির ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল তা প্রকাশ হবে। 

কাকুলি রাণী:- হরেকৃষ্ণ গুরু মহারাজ! কেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এবং তাঁর পার্ষদগণ ভারত বা বাংলাকে তাদের লীলাস্থলী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন? 

জয়পতাকা স্বামী:- কেন নয়? ভারত হচ্ছে লীলার স্থান! নবদ্বীপ আধ্যাত্মিক জগতে অবস্থিত, বৃন্দাবন আধ্যাত্মিক জগতে অবস্থিত, মথুরা এবং দ্বারকা আধ্যাত্মিক জগতে অবস্থিত। তাই স্বাভাবিকভাবেই সেইসব লীলাও এখানেই হবে। 

রত্নবাহু দাস:- কেন জগন্নাথদেব মার বস্ত্র পড়েছেন? 

জয়পতাকা স্বামী:- কারণ তিনি স্বরাট এবং তিনি যা চান তাই পরিধান করেন। তিনি ওড়ন ষষ্ঠীতে মার বস্ত্র পড়তে চান এবং সেটি তাঁর স্বরাট স্বভাব। 

কৃষ্ণ বলদেব দাস:- হরেকৃষ্ণ প্রিয় আধ্যাত্মিক পিতা! প্রচার ক্ষেত্রে বাঁধাসমূহ কিভাবে অতিক্রম করব?  

জয়পতাকা স্বামী:- দৃঢ় হয়ে এবং কৃষ্ণের উপর নির্ভরশীল হয়ে। 

কেয়া রাণী:- হরে কৃষ্ণ গুরুদেব! প্রণাম! জয় শ্রীল প্রভুপাদ! আপনার জয় হোক! আমাদের সর্বদা কৃষ্ণের কৃপার উপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত, কিন্তু এটিও বলা হয়েছে যে আমাদের নিজেদেরকে সাহায্য করা উচিত এবং তারপর কৃষ্ণের কৃপার উপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত। তাই কোন ক্ষেত্রে আমাদের নিজেদেরকে সাহায্য করা উচিত এবং কোন ক্ষেত্রে আমাদের সম্পূর্ণরূপে ভগবানের কৃপার উপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত? দয়া করে আমাদেরকে বলুন। 

জয়পতাকা স্বামী:- তারা তোমার প্রশ্ন বাদ দিয়ে যাচ্ছিল, কারণ এটি বিশেষত এই শ্লোকের সাথে সম্পর্কিত নয়, যাই হোক আমাদের দুটোই করা উচিত। আমাদের নিজেদেরকে সাহায্য করা উচিত ও সেই সাথে কৃষ্ণের ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত। এইরকম নয় যে আমরা শুধু বসে থাকব এবং বলব যে কৃষ্ণ সবকিছু করবেন, আমরা যা করতে পারি তা সর্বত্তমভাবে করব এবং কৃষ্ণের উপর নির্ভরশীল থাকবো। এর একটি কাহিনী আছে যে একবার বন্যা হয়েছিল এবং তারা গৃহে গৃহে এসে বলছিল

উঠে আসুন! বন্যা হয়েছে।

উনি বললেন, “না! না! আমি কৃষ্ণের উপর নির্ভরশীল!” 

তারপর বন্যার জল ছাদ পর্যন্ত উঠে যায় এবং তিনি সেই ছাদে দাঁড়িয়ে ছিলেন, নৌকা এসে তাকে বলল, “উঠে আসুন।” তিনি বললেন, “না! না! আমি ভগবানের উপর নির্ভরশীল এবং তখন সেই নৌকার চলে গিয়েছিল, তারপর হেলিকপ্টার এসে বলে, “এই দড়িটি ধরুনএবং তিনি বললেন, “না! আমি ভগবানের উপর নির্ভরশীল।” এবং তিনি ডুবে গিয়েছিলেন, তারপর ভগবদ্ধামে গিয়ে তিনি ভগবানকে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি আমাকে বাঁচালেন না কেন?” তিনি বললেন, “আমি তোমাকে গাড়ি, নৌকো, হেলিকপ্টার পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু তুমি এইসব কোন কিছুই গ্রহণ করনি। তাহলে তুমি আর কি আশা করো?” 

তাই স্বাভাবিকভাবে আমাদের কৃষ্ণের কৃপা গ্রহণ করা উচিত, যা যেকোনভাবে আসতে পারে। 

শেষ প্রশ্ন। 

সুবাহু মদন-মোহন দাস:- পুণ্ডরিক বিদ্যানিধি ওড়ন ষষ্ঠী নিয়ে সন্দেহ করেছিলেন, কেন তিনি সন্দেহ করেছিলেন? হরে কৃষ্ণ! 

জয়পতাকা স্বামী:- কেন সন্দেহ করেছিলেনকেন নয়? তিনি হচ্ছেন বিদ্যানিধি, তার সকল জ্ঞান আছে, তিনি জানেন যে অন্যান্য জায়গায় মার বস্ত্র নিবেদন করা হয় না, কিন্তু জগন্নাথপুরীতে তারা মার বস্ত্র নিবেদন করে। এই কারণে তার সন্দেহ হয়েছিল। তাই স্বল্প জ্ঞান বাঁধা হতে পারে, যদি তোমার অনেক জ্ঞান থাকে, তাহলে তুমি বুঝবে যে জগন্নাথের অর্চন পদ্ধতি সবস্থানের মতো এক নয়। ঠিক আছে। 

প্রশ্ন:- কেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু পুণ্ডরীক বিদ্যানিধির কারণে বাহ্যিক চেতনায় এসেছিলেন? পুণ্ডরিক বিদ্যানিধি তো বাইরের কেউ নয়। এটি গতকালের পাঠের বিষয়। 

জয়পতাকা স্বামী:- দেখো বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ চেতনা। অভ্যন্তরীণ চেতনা মানে তিনি ভাবে বিভোর হয়ে আছেন এবং তিনি চারিপাশে কি ঘটছে তা কিছুই বুঝতে পারছেন না, তিনি সম্পূর্ণরূপে কৃষ্ণভক্তি, কৃষ্ণরসে নিমগ্ন। তাই কোনভাবে পুণ্ডরিক বিদ্যানিধি যখন সেখানে গিয়েছিলেন, তিনি পুণ্ডরিক বিদ্যানিধি যে এসেছেন তা বুঝতে পেরেছিলেন ও এইভাবে তিনি তাঁর চারপাশে কি হচ্ছে তা বুঝেছিলেন। সেটা চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্য তাঁর বাহ্যিক চেতনা। তাঁর বাহ্যিক চেতনাও আধ্যাত্মিক কারণ পুণ্ডরিক বিদ্যানিধিকে দেখে তখন তিনি তাকে ডেকেছিলেন, “বাপ!! বাপ!!” তিনি এত আনন্দে বিভোর ছিলেন, কিন্তু তবুও পুণ্ডরিক বিদ্যানিধি যে এসেছেন তা তিনি বুঝেছিলেন। হরে কৃষ্ণ!   

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 24/7/2023
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions