Text Size

২০২১০৫৩১ প্রশ্ন-উত্তর পর্ব

31 May 2021|Duration: 01:35:04|Bengali|Question and Answer Session|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ 

যদি কারোর চৈতন্য মহাপ্রভুর এই লীলার উপর প্রশ্ন থাকেতাহলে আমি দশ মিনিটের জন্য সেই সবের উত্তর দিতে পারি। 

প্রশ্ন:- গুরুমহারাজ গতকাল আপনি বলেছিলেন যে গদাধর পণ্ডিত যখন এই মন্ত্র অন্য কাউকে দিয়েছিলেন, তখন তিনি এর স্বাদ হারিয়ে ফেলেছিলেন — এটি কিভাবে বুঝবো

জয়পতাকা স্বামী:- তিনি বলেছিলেন যে তিনি একজন অবিশ্বাসী মানুষকে দীক্ষা প্রদান করেছিলেন। ও সেই কারণে তিনি তার স্বাদ হারিয়ে ফেলেছিলেন। অবশ্যই এই লীলার দ্বারা তিনি আমাদেরকে কিছু নির্দেশ দিচ্ছিলেন যে আমাদের দীক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত। আমার মনে পড়ে, একজন পুলিশ কর্মকর্তা শ্রীল প্রভুপাদকে দীক্ষা দিতে বলেছিলেন এবং শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন, “তোমাকে ১৬মালা জপ করতে হবে।” তাই তিনি এই নিয়মের প্রতি অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। এইভাবে আমাদেরও সতর্ক হতে হবে। 

জয়পতাকা স্বামী:- (এক প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় বলছেন) তিনি মন্ত্র হারিয়ে ফেলেননি, তিনি এর প্রতি তাঁর স্বাদ হারিয়ে ফেলেছিলেন। 

প্রশ্ন:- আপনি বলেছেন যে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু জানতেন না যে তিনি কুয়োর মধ্যে পড়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু একই সময় তিনি জানতেন যে পুণ্ডরিক বিদ্যানিধি দশ দিনের মধ্যে আসবেন। এই দুটি পরস্পরবিরোধী ঘটনা কিভাবে বুঝব?

জয়পতাকা স্বামী:- এই জন্য লেখক সেখানে বলেছেন যে তিনি কপট করে তাঁর সর্বজ্ঞতা প্রচ্ছন্ন রেখেছিলেন, এবং তা জানতে দেন নি।  

প্রশ্ন:- স্প্যানিশ প্রশ্ন। যখন আধ্যাত্মিক গুরু দূরে থাকেন এবং শিষ্যের জন্য তার সঙ্গ করা কঠিন, তখন আমি কিভাবে তার কাছে যেতে পারি? এবং সেই পরিস্থিতিতে আমি গুরুদেবের সেবার জন্য কি করতে পারি?

জয়পতাকা স্বামী:- দেখো ৫০০ বছর আগে বাংলায় থাকা শিষ্যদের পায়ে হেঁটে যেতে হতো এবং সেটি ছিল এক বড় সমস্যা কিন্তু আজকের দিনে তা নয়, ঠিক যেমন আমি পাঠ দিচ্ছি, আর তুমি শুনছো এবং এই পাঠ ইন্টারনেটের মাধ্যমে সম্প্রচারিত হচ্ছে। আমি কয়েক সেকেন্ডের জন্য বিভিন্ন ভক্তদের দর্শন প্রদান করি, কিন্তু মনে হয় আমার তোমার অভিমত গ্রহণ করা উচিত যে একদিন আমরা হয়ত সকল লাতিন আমেরিকান ভক্তদের দর্শন দেব, তাহলে আমরা আরো সময় পাবো। অন্য দিন হয়ত উত্তর আমেরিকানদের, অন্য আরেকদিন ইউরোপ এবং ইংল্যান্ডের ভক্তদের, আরেক দিন রাশিয়ান ভক্তদের। একদিন উত্তর ভারতীয়দের জন্য, আরেক দিন দক্ষিণ ভারতীয়দের জন্য। একদিন মধ্যপ্রাচ্যের জন্য, আরেকদিন কাঁসাদেশের জন্য। অবশ্য পূর্বের দেশগুলির জন্য সকালবেলা হলে ভালো হবে। যাইহোক, তুমি আমার এই পরিকল্পনা সম্পর্কে কি ভাবো? যদি সময় থাকে, তাহলে আমি আরো কিছু সময়ের জন্য দর্শন দেব, কিন্তু যদি কোন সময় না থাকে, তাহলে শুধু সেই দল দর্শন পাবে। 

জয়পতাকা স্বামী:- (একটি প্রশ্নের উত্তর) পুণ্ডরিক বিদ্যানিধিকে প্রেম-নিধি বলেও ডাকা হতো। কারণ বিদ্যানিধির অর্থ হচ্ছে জ্ঞানের সাগর এবং প্রেম নিধির অর্থ হচ্ছে প্রেমের সাগর। আর তিনি ছিলেন দুটোই! তিনি ছিলেন জ্ঞানের সাগর এবং প্রেমের সাগর! গৌরাঙ্গ! হরিবোল!

প্রশ্ন:- গদাধর পণ্ডিত যখন পুণ্ডরিক বিদ্যানিধিকে প্রথমবার দর্শন করেছিলেনতখন তিনি তার বৈভব দেখে তিনি খুশি ছিলেন না। এর থেকে আমরা কি শিক্ষা পাই?  

জয়পতাকা স্বামী:- এই শিক্ষা পাই যে আমাদের কোন গুরুকে তাঁর বাহ্যিক উপস্থিতির ভিত্তিতে বিচার করা উচিত নয়। যখন মুকুন্দ দত্ত কৃষ্ণের মহিমা কীর্তন করা শুরু করেছিলেন, তখন পুণ্ডরিক বিদ্যানিধি তার প্রেমময় সাত্ত্বিক বিকার প্রকাশ করতে শুরু করেছিলেন। সেই সময় গদাধর পণ্ডিত অনুভব করেছিলেন যে তিনি এক মহা অপরাধ করেছেন, তিনি তার বাহ্যিক পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে তাকে বিচার করেছেন। 

প্রশ্ন:- আমরা দেখছি যে চৈতন্য মহাপ্রভু গদাধর পণ্ডিতকে উপদেশ দিয়েছিলেন দীক্ষাগুরুর থেকে মন্ত্র নিতে। কখনও কখনও আমরা দেখি যে কিছু শিষ্যরা তাদের দীক্ষাগুরুর প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে, তারা তাদের রুচি হারিয়ে ফেলে এবং তারা তাদের দীক্ষাগুরুর পরিবর্তে অন্য কোন গুরুর প্রতি আকর্ষিত। সেই পরিস্থিতিতে আমাদের কি করা উচিত?

জয়পতাকা স্বামী:- আমরা চৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশ থেকে বুঝতে পারি যে যদি আমাদেরকে আবার মন্ত্র পেতে হয়, তাহলে আমাদেরকে তা নিজেদের দীক্ষা গুরুর থেকে পাওয়া উচিত।

পূজা, আশ্রিত শিষ্যা, আমেদাবাদ, ভারত: আপনি যা বললেন, সেটি কি কৃপা করে বিস্তারিতভাবে বলবেন: কেবল তার দিব্য গুণাবলীর স্মরণ করার মাধ্যমে বদ্ধ জীব শুদ্ধ হয়। আমাদের প্রত্যেকদিনের সেবায় এটি কিভাবে কার্যকরীভাবে প্রয়োগ করতে পারব

জয়পতাকা স্বামী:- ঠিক যেমন চৈতন্যচরিতামৃতে একটি শ্লোক আছে : 

সাধু সঙ্গ’ ‘সাধু সঙ্গ’ — সর্ব শাস্ত্রে কয়
লব মাত্র সাধুসঙ্গ সর্বসিদ্ধি হয়।

তাই আমরা যদি পুণ্ডরিক প্রেমনিধি সম্পর্কে শ্রবণ করি, তাহলে তার কথা শ্রবণের মাধ্যমে আমরা শুদ্ধ হব। ঠিক যেমন যখন আমরা কৃষ্ণের সম্পর্কে শ্রবণ করি। শ্রী কৃষ্ণ এবং তাঁর লীলা, কৃষ্ণ ও তাঁর গুণ এবং শ্রী কৃষ্ণ ও তাঁর ভক্তের মধ্যে কোন ভেদ নেই। 

লক্ষ্মী রাধা দেবীদাসী এবং নন্দকিশোর দাস, কেরালা:- আমরা শুনেছি যে পুণ্ডরিক প্রেমনিধিকে জগন্নাথদেব তার সেবকদের বিষয়ে ভুল ভাবার জন্য তিরস্কৃত করেছিলেন। আজকের অধ্যায়ে পুণ্ডরিক বিদ্যানিধি মহিমান্বিত হয়েছেন যে তার সামান্যতম মিথ্যা অহংকার নেই। এটি কিভাবে বুঝব

জয়পতাকা স্বামী:- জগন্নাথদেবের থেকে তিরস্কৃত হওয়া কোন সামান্য বিষয় নয়। জগন্নাথদেব তার গালে চাপড় দিয়েছিলেন এবং তার মুখ ফুলে গিয়েছিল। এটি হয়েছিল তার স্বপ্নে। এটি নিশ্চিতরূপে অপূর্ব কিছু। আমরা দেখি যে পুণ্ডরিক বিদ্যানিধি শ্রীবিগ্রহ অর্চনের সাধারণ বিধি-নিয়ম জানেন। একইভাবে রামানুজ আচার্য তিনিও একই বিষয় ভাবছিলেন, কিন্তু জগন্নাথদেবের পূজার তার নিজ ধরন আছে, সেই জন্য সেটি শ্রীবিগ্রহ অর্চনের সাধারণ নিয়মের সাথে মিল খায় না। তাই তারা জগন্নাথ দেবকে মার যুক্ত কাপড় পড়ায়। সাধারণত আমরা কাপড় ধুই ও তারপর ভগবানকে পড়াই, এই কারণে তিনি সমালোচনা করছিলেন যে, “তোমরা কেন অধৌত কাপড় পড়াচ্ছ?” কিন্তু জগন্নাথপুরীতে একটি ভিন্ন রীত আছে তাই জগন্নাথদেব বলেছিলেন যে আমার ভক্তদের সমালোচনা কর না, তাদের অর্চনের নিজেদের রীতি আছে। এই কারণে তিনি স্বপ্নে ভগবানের চাপড় খেয়েছিলেন এবং যখন তিনি ঘুম থেকে উঠেছিলেন তখন তার গাল দুটি ফুলে গিয়েছিল। তাই অবশ্যই তার কৃষ্ণের সাথে এক অতি বিশেষ সম্পর্ক ছিল। 

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 24/7/2023
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions