নিন্মোক্ত প্রশ্ন-উত্তর পর্বটি শ্রীশ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ ২৫ মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারতে প্রদান করেছেন।
মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
হর্ষিতা শর্মা, নতুন দিল্লি, ভারত:- আজকের দিনে আমাদের ভগবান নরসিংহদেবের প্রতি মনোভাব ও প্রার্থনা কি হওয়া উচিত? এছাড়া তাৎপর্যে বলা হয়েছে যে ভগবান নারায়ণকে প্রসন্ন করা অত্যন্ত সহজ, কিন্তু আমি দেখি যে আমার পক্ষে এটি খুবই কঠিন কাজ এবং প্রতিদিনের সাধনা ও সেবা চালিয়ে যেতে আমাকে সংগ্রাম করতে হয়। তাই আমি কিভাবে বুঝব যে গুরু কৃষ্ণ আমার প্রতি প্রসন্ন হয়েছেন অথবা আমি কোন ভুল করছি কিনা?
জয়পতাকা স্বামী:- তুমি যে কৃষ্ণভাবনাময় হওয়ার প্রয়াস করছ, তা নিশ্চিতরূপে ভগবানকে খুশি করছে। যদি তুমি এইভাবে প্রয়াস করতে থাক, তাহলে ধীরে ধীরে তা ঠিক হবে। যেমন বলা হয়েছে অনুশীলন সাফল্যের চাবিকাঠি, তাই আমরা আশা করি যে ধীরে ধীরে তুমি সেই সাফল্য স্তর অর্জন করতে সক্ষম হবে, কিন্তু তুমি যে এই প্রয়াস করছ তাতেই নিশ্চিতভাবে তুমি সর্ববৃহত বিপদ থেকে রক্ষিত হবে।
নিতাইচন্দ্র নিমাই দাস:- কিছু কিছু কঠোর পরিস্থিতিতে প্রচারের ক্ষেত্রে আমাদেরকে কর্মী পোশাকে যেতে হয়, তখন সর্বদা কৃষ্ণকে স্মরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং তখন তা আমাদের জন্য একটু আহ্বানমূলক পরিস্থিতি হয়। আমরা কিভাবে সেই পরিস্থিতিতেও প্রহ্লাদ মহারাজকে অনুসরণ করতে পারব? যেমন তিনি ছিলেন স্পষ্টভাষী ও স্থির, তাই এমনকি প্রচারের সময় এরূপ পরিস্থিতিতেও আমরা কিভাবে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচারের জন্য স্পষ্টভাষী ও স্থির হতে পারব?
জয়পতাকা স্বামী:- দেখো, প্রহ্লাদ মহারাজকে অসুরদের বিদ্যালয়ে যেতে হতো। তিনি কত বুদ্ধিমান ছিলেন! তিনি তার অসুর শিক্ষকদের সামনে বলতেন না, যখন তারা শিশুদেরকে বিনোদনের জন্য সময় দিত, তখন তিনি শিশুদের কাছে প্রচার করতেন। তিনি সেই সুযোগ আসার জন্য অপেক্ষা করতেন যে যখন শিক্ষকরা বাইরে যাবে, তখন তিনি ছাত্রদের প্রচার করবেন। এইভাবে আমরাও প্রহ্লাদ মহারাজের এই সুন্দর দৃষ্টান্ত থেকে প্রচারের জন্য যা সম্ভব তা করতে পারি।
প্রশ্ন:- করোনা মহামারীতে সাধারণ মানুষ, ভক্তগণ এবং নতুন ব্যক্তিদের প্রচারের জন্য আমাদের প্রার্থনা কি হওয়া উচিত?
জয়পতাকা স্বামী:- যাই হোক না কেন আমাদের সর্বদা ভগবানের কাছে ভক্তিমূলক সেবা প্রার্থনা করা উচিত। শ্রীল প্রভুপাদ অনেক চিঠি লিখতেন, তিনি সেইসব চিঠির শেষে সবসময় লিখতেন যে “আশা করি তুমি সুস্বাস্থ্যে আছো” কারণ সুস্বাস্থ্য সর্বদা ভগবানের সেবা সম্পাদনে সাহায্য করে। কিন্তু জড়জাগতিক মানুষেরা সুস্বাস্থ্য চায় যাতে তারা জীবন উপভোগ করতে পারে। তারা ইন্দ্রিয়তৃপ্তির জন্য সুস্বাস্থ্য চায়। কিন্তু ভক্তরা ভগবানের সেবা করার জন্য সুস্বাস্থ্য চায়। তাই, আমাদের এইভাবে প্রার্থনা করা উচিত। তবে আমাদের সর্বদা নিজেদেরকে কৃষ্ণের সেবায় নিযুক্ত রাখা উচিত।
প্রশ্ন:- কোনো বিপদের সময় আমরা নরসিংহদেবকে রক্ষা করার জন্য প্রার্থনা করি, তাই বিপদের সময় নরসিংহদেবকে প্রার্থনা করা কি সঠিক?
জয়পতাকা স্বামী:- ভগবান নরসিংহদেব তোমার ভক্তিমূলক বাসনা পূর্ণ করতে চান। আমরা ভক্তিমূলক আশীর্বাদ প্রার্থনা করি। আমরা প্রতি সময় যে প্রার্থনা করি সেটি কৃষ্ণের ভক্তিমূলক সেবার সাথে সম্পর্কিত হওয়া উচিত। যখন আমরা আমাদের আধ্যাত্মিক গুরুদেবের সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রার্থনা করি, তখন আমরা বলি — “যদি আপনি এতে সন্তুষ্ট হন, যদি আপনার এমন ইচ্ছা হয়, তাহলে হে ভগবান দয়া করে আমার আধ্যাত্মিক গুরুদেবকে ভালো করে দিন।”
মুরারী মাধব দাস, এসেনজিএম মন্দির, বেঙ্গালোর, ভারত:- আমি সরভা-এর লীলা শুনেছি, যা শিবের একটি রূপ। তিনি নরসিংহদেবের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন এবং এর অন্যান্য সংস্করণ বিভিন্ন তামসিক, রাজসিক পুরানে উল্লেখিত আছে। আমি এতে খুবই দুঃখিত হয়েছি ও এই বিষয়টি আমাকে খুবই বিরক্ত করেছে। আমি অনুভব করেছি যে আমার সেগুলি পড়া বা শোনা উচিত হয়নি। এই লীলার যথাযথ অর্থ কি হওয়া উচিত? কেন বিভিন্ন সংস্করণ আছে? ভগবান নরসিংহদেবের ভক্ত এই লীলাগুলি কিভাবে বুঝতে পারবে?
জয়পতাকা স্বামী:- বিভিন্ন কল্পে ভিন্ন ভিন্ন নরসিংহদেব অবতরণ করেছিলেন। কিন্তু আমাদের সর্বদা বৈষ্ণবদের ভাষ্য শোনা উচিত, কারণ আমরা জানি না অবৈষ্ণবগণ সঠিক বর্ণনা দিতে পারবে কি না। আসলে যদি সঠিকভাবে বর্ণনা করা হয়, তাহলে এর মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকা উচিত নয়। তুমি যেটা বলছো আমি সেই নির্দিষ্ট পুরান বা লীলা সম্পর্কে জানি না। আমি জানি ভাগবত পুরাণে বলা হয়েছে যে বানসুর নামে এক অসুর ছিল, যে দেবাদিদেব শিবের আশীর্বাদ পেয়েছিল এবং দেবাদিদেব শিবের অস্ত্রের সাথে ভগবান নারায়ণের অস্ত্রের যুদ্ধ হয়েছিল। আর তাতে শিবের যে অস্ত্র ছিল তা পরাস্ত হয়েছিল। সুদর্শন চক্র বনসুরের হাজার হাজার দেহ থেকে মস্তক ছিন্ন করেছিল।
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ