Text Size

২০২১০৫১৮ প্রশ্ন-উত্তর পর্ব

18 May 2021|Duration: 00:09:31|Bengali|Question and Answer Session|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

নিন্মোক্ত প্রশ্ন-উত্তর পর্বটি শ্রী শ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ ১৮ মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারতে প্রদান করেছেন।

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ 

অখিল বর্মা:- আমরা কিভাবে মুরারি গুপ্তের মতো পবিত্র নামের প্রতি আমাদের আসক্তি বিকশিত করতে পারব? এটি কি এই এক জীবনে অর্জন করা সম্ভব? নাকি এটি বহু বছর ধরে সম্পাদিত ভক্তিমূলক সেবার ফল

জয়পতাকা স্বামী:- হ্যাঁপরবর্তী প্রশ্ন! তুমি এটা এমনকি এই জীবনেই অর্জন করতে পারো শুদ্ধ ভক্তদের কৃপার মাধ্যমে অথবা তুমি এই স্থিতি লাভ করতে বহু জন্ম নিতে পার। এটি নির্ভর করে তুমি কি চাও তার উপর। 

দামোদর ধনঞ্জয় দাস:- অনলাইন ভগবদ্‌গীতা ক্লাসে একটি প্রশ্ন উঠেছিল যে শ্রীপরমাত্মা শরীরের ভিতর প্রবেশ করে এবং শরীর ছেড়ে চলে যায়। কেন তিনি জীবাত্মার হৃদয়ে প্রবেশ করেন এবং কখন তিনি তা ছেড়ে চলে যান? এই প্রসঙ্গে কোন পারমার্থিক উক্তি আছে কি

জয়পতাকা স্বামী:- দেখো, ভগবান প্রতি জন্মে আমাদের সাথে থাকেন এবং সেই জন্য যখন আমরা কোন শরীরে প্রবেশ করি, তখন তিনিও প্রবেশ করেন। যখন আমরা শরীর ছেড়ে দেই, তখন তিনিও ছেড়ে দেন। এটি ভগবদ্‌গীতায় বলা আছে। 

হরিহর কৃষ্ণ চৈতন্য দাস:- আমি উত্তেজক বা বিপরীত পরিস্থিতিতে খুব বিচলিত হয়ে পড়ি। এই সবকিছু সত্ত্বেও, কিভাবে অবিচলিত ও কৃষ্ণভাবনামৃতে দৃঢ় থাকা যাবে? দয়া করে সাহায্য করুন। 

জয়পতাকা স্বামী:- জড় জগতে সব সময় উত্তেজক পরিস্থিতি থাকবে। সেই জন্য বলা হয়েছে যে আমাদের ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীপাদপদ্মের শরণ গ্রহণ করা উচিত বা আধ্যাত্মিক গুরুদেবের শরণ গ্রহণ করা উচিত, যিনি হচ্ছেন কৃষ্ণের প্রতিনিধি। যদি আমরা এটি অনুশীলন করি, তাহলে স্বাভাবিকভাবে আমরা দৃঢ় থাকতে পারবো।  

হরে কৃষ্ণ! 

প্রশ্ন:- বাসুদেব দত্তের ইচ্ছায় এই ব্রহ্মাণ্ডের সকলে মুক্তি পেয়েছিল, আমরাও এই একই ব্রহ্মাণ্ডে আছি। তাই এর পরবর্তীতে এটি কি আবার অন্যান্য জীব দ্বারা পূর্ণ করা হয়েছিল

জয়পতাকা স্বামী:- কৃষ্ণ সেটি করতে পারেন, তাঁর কাছে কোন কিছুই অসম্ভব নয়। কিন্তু যদি আমরা বাসুদেব দত্তের কৃপা গ্রহণ করি, তাহলে আমরা এই জন্মেই কৃষ্ণভাবনামৃতে মুক্তি পেতে পারবো। 

ভাগ্যশ্রী সাহা:- যদি আমরা বিধি-নিষেধ পালন করার চেষ্টা করি এবং ভক্তি অনুশীলন করি, তাহলে এর মানে কি এই যে আমাদের পাপকর্মের ফল ইতিমধ্যেই কৃষ্ণের কৃপায় মুছে গেছে? নাকি যেহেতু আমি কৃষ্ণভাবনামৃতে নিখুঁত নই, তাই আমাকে আমার পূর্বের পাপকর্মের ফল ভোগ করতে হবে? যদি আমাকে পূর্বের কর্মফল ভোগ করতে হয়, তাহলে তা কি আমার ভক্তিমূলক সেবাকে প্রভাবিত করবে

জয়পতাকা স্বামী:- যদি তুমি তা হতে না দাও, তাহলে কোন কিছুই তোমার কৃষ্ণভাবনাকে বিচলিত করতে পারবে না। আমরা হয়ত আমাদের পাপকর্ম থেকে মুক্ত হতে পারব, কিন্তু আমরা যদি আবার পাপ করি, তাহলে তাতে এক নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। তাই আমাদের শুধু পূর্ববর্তী কর্মের ফল থেকেই মুক্ত হতে হবে না, আমাদের নতুন করে পাপ কর্ম করা এড়িয়ে চলতে হবে। 

সুচিত্রা রেবতী দেবী দাসী:- দন্তে তৃণ ধরার তাৎপর্য কি?

জয় পতাকা স্বামী:- মানে গভীর বিনয়ের সাথে সমীপবর্তী হওয়া। তুমি দন্তে তৃণ ধরছো মানে তুমি এক অতি বিনীত পদ গ্রহণ করছ। 

গোপ গোপিকা দেবী দাসী:- আমাদের কিভাবে বাসুদেব দত্তের মতো মনোভাব থাকবে?

জয়পতাকা স্বামী:- যদি আমরা বাসুদেব দত্তের দৃষ্টান্ত থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করি এবং সেই মতো কার্য করার চেষ্টা করি, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই ধীরে ধীরে আমরা সেইরকম চেতনা লাভ করতে সক্ষম হব।  

গোলকপ্রিয়া গৌরাঙ্গি দেবী দাসী:- যে তার আধ্যাত্মিক গুরুদেবের কথা স্মরণ করে দেহত্যাগ করেতার কি গতি হয়?

জয়পতাকা স্বামী:- যেহেতু গুরুদেব হচ্ছেন শুদ্ধ ভক্ত, তাই সর্বদা গুরু এবং কৃষ্ণের কথা স্মরণ করলে, গুরুদেবকে স্মরণ করলেও কেউ কৃষ্ণকে লাভ করতে পারবে।  

প্রশ্ন:-  শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে তাঁর প্রদত্ত তাৎপর্যগুলি হচ্ছে তাঁর মনের ভাব, কিভাবে জয়পতাকা স্বামীর ভাব খুঁজে পাওয়া যাবে?

জয়পতাকা স্বামী:- আমাদের শ্রীল প্রভুপাদের সকল অনুবাদ ও তাৎপর্য পড়া উচিত। সেগুলি আমাকে অনুপ্রেরিত করে। এবং আমি যা কিছু জানি, তা কেবল শ্রীল প্রভুপাদের কৃপার কারণে। 

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 28/7/2023
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions