Text Size

২০২১০৫১৫ ‘ভারতের জন্য ভারত’ এই উদ্দেশ্যে বক্তব্য

15 May 2021|Bengali|Others|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মুকম করোতি বাচালম পংগুম লংঘায়তে গিরিম
য়ত্-কৃপা তম অহম বন্দে শ্রী-গুরুম দিন-তারণম্
পরমানন্দম মাধবম শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম
হরিঃ ওঁ তত সত!

অমোঘ লীলা দাস, ইসকন দ্বারকা, দিল্লি:- মহারাজ আপনার শারীরিক সমস্যা আছে, কিন্তু আপনি সব সেবা করছেন। আমরা এটাই জানতে চাই যে আপনার চেতনার অবস্থা কি? আপনি কিভাবে ভয়কে জয় করেছেন? আপনার এই রহস্য কি?

জয়পতাকা স্বামী:- আমি যখন বলব, এটা কি হিন্দিতে অনুবাদ করা হবে? আমি অনর্গল বাংলা বলতে পারি, কিন্তু হিন্দি কিছুটা বলতে পারি। আমি সকল মুখ্য অতিথিদের এবং উপস্থিত সকলকে আমার শ্রদ্ধা নিবেদন করতে চাই। ভগবদগীতা আমাদেরকে বলে যে কিভাবে জীবনে সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। এই জগত হচ্ছে দুঃখালয়ম এবং কৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছিলেন ওঁনার উপর নির্ভরশীল হতে, এবং তিনি ভেবেছিলেন যে আমরা এই দেহ নই, কিন্তু আমাদের এই দেহের যত্ন নিতে হবে। এই দেহ হচ্ছে এক যন্ত্রের মত, তাই আমরা যখন অন্যদের কষ্ট ভোগ করতে দেখি, তখন আমরা দুঃখ অনুভব করি। স্বাভাবিকভাবেই আমরা তাদের সাহায্য করতে চাই যারা দুঃখ ভোগ করছে এবং আমার ব্যক্তিগত কষ্ট খুব একটা ভাবার বিষয় নয়। এবং আমি আশা করি যে আমার এই লক্ষ্য পূরণ করার জন্য পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য থাকবে। আমার লক্ষ্য হচ্ছে আমার আধ্যাত্মিক গুরুদেব শ্রীল প্রভুপাদের আদেশ পালন করা।

তিনি বলেছিলেন যে ১০ মাইল ব্যাসার্ধের মধ্যে কেউ যাতে ক্ষুধার্ত না থাকে,, কেন তিনি বলেছিলেন যে এটা হচ্ছে কৃষ্ণ মন্দির। কৃষ্ণ সকলের পিতা, তাই পিতার উপস্থিতিতে সন্তান সাধারণত খাবার পেয়ে থাকে। তাই আমরা এটা দেখতে চাই যে বাসুদেব-কুটুম্বকম।\ ১০ মাইল ব্যাসার্ধর মধ্যে আমাদের হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টানরা আছে, আমরা কোন পার্থক্য করি না, আমরা প্রত্যেককে সাহায্য করি। তাই আমি সব সময় কৃষ্ণের উপর নির্ভরশীল। যদিও ডাক্তারেরা বলেছিল  যে আমার বাঁচার কোন আশা নেই, কিন্তু কৃষ্ণের কৃপায়, ভক্তদের প্রার্থনায়, কৃষ্ণ তিনি আমাকে এখনও একটি সুযোগ দিয়েছেন। যদি আমরা এই দেহ ত্যাগ করি, তাহলে আমরা আধ্যাত্মিক জগতে ফিরে যাই। আমরা মানুষদের সুখী হতে সাহায্য করতে চাই এবং যদি তারা সেইভাবে বেঁচে থাকে তাহলে তা ভালো। আমরা তাদেরকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করি কিন্তু তাদেরকেও দেহ ত্যাগ করতে হবে, তাই তাদের সর্বোচ্চ লক্ষ্যে পৌঁছানো উচিত। এটাই আমি করার চেষ্টা করছি এবং আমি সকল ব্যক্তিদের আমাকে সাহায্য করার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই। আর কোন প্রশ্ন আছে?

 

প্রশ্ন:- মহারাজ এইরকম আঘাতদায়ক সময়ে পারিবারের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা আছে, তাই কিভাবে তারা সাহস জোগাতে পারবে এবং কাছের ও প্রিয় মানুষদের হারানোর পরও আভ্যন্তরীণভাবে সাহস পেতে পারবে?

জয়পতাকা স্বামী:- তোমাকে ধন্যবাদ! প্রথমে আমি অন্যান্য বক্তাদেরও ধন্যবাদ জানাতে চাই! আকর্ষণীয়! ডাক্তারেরা পরামর্শ দিচ্ছে যে আমাদের নিজেদের অনাক্রম্যতা বাড়ানোর জন্য কি গ্রহণ করা উচিত । আমি হলুদ এবং আদা দিয়ে গার্গেল করছি, আর আমি দু-তিনবার ফল খাচ্ছি। কিন্তু আমরা যাই করি, আমরা সেই খাবার কৃষ্ণকে নিবেদন করি। অন্যান্য বক্তা যেমন অরুণ গভিল, তিনি বললেন যে কিভাবে আমাদের নিজেদের মন, কায় এবং বাক্য নিবেদন করা উচিত ও এটাই হচ্ছে গৃহস্থের কর্তব্য যে পরিবারের সদস্যদের সাহায্য করা, গোষ্ঠীকে সাহায্য করা, বিশ্বকে সাহায্য কর। সন্ন্যাসী হিসেবে তারা আমাকে বলে ত্রিদন্ডী ভিক্ষু। আমার ভিক্ষুক হওয়ার অনুমতি আছে। গৃহস্থ হিসেবে তারা হচ্ছে আমার অভিভাবক এবং আমি তাদের সন্তান, তাই আমি সবাইকে তাদের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানাই। এটাই হচ্ছে লোকেদের উপলব্ধি। অবশ্য আমি উল্লেখ করেছি যে আমি এর আগে অনেকবার ভর্তি হয়েছিলাম, আমার বিভিন্ন সমস্যা ছিল। আসলে আমি হুইল চেয়ারে চলাফেরা করি এবং প্রায় দু-তিন মাস আগে আমার কোভিড-১৯ হয়েছিল, তাই আমি এলোপ্যাথিক এবং আয়ুর্বেদিক ওষুধ মিশ্রণ করে খাচ্ছিলাম, কিন্তু আমরা আমাদের কিছু প্রিয়জনকেও হারিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি যে যখন দেহ মারা যায়, আত্মা জীবিত থাকে। আর আমরা লোকেদের উচ্চ গন্তব্য পৌছাতে সাহায্য করতে পারি। তাদের জীবনের জন্য আমরা তাদেরকে ওষুধ, অক্সিজেন, যা কিছু প্রয়োজন তা দেওয়ার চেষ্টা করি, কিন্তু কিছু ব্যক্তিদের আমাদের থেকে নিয়ে নেওয়া হয়েছে। তারা যাতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, তাই আমরা তাদের মাথায় কিছু গঙ্গা জল দিয়ে, তাদের মুখে কিছু চরনামৃত দিয়ে, তাদেরকে তুলসীকাষ্ঠের সাথে দাহ করে এবং তাদের ভস্ম নিয়ে সেটা পবিত্র নদীতে ফেলার মাধ্যমে তাদেরকে সাহায্য করি। ভগবদগীতা আমাদেরকে বলে যে কিভাবে প্রস্থান করা জীবাত্মাকে সর্বোচ্চ লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করা যেতে পারে। আমরা চাই প্রত্যেকে যাতে বেঁচে থাকে এবং তাদের সাহায্য করার জন্য যা প্রয়োজন আমরা তাই করি, কিন্তু এই জগতের নিয়ম অনুযায়ী আগে হোক বা পরে তাদেরকে শরীর ত্যাগ করতেই হবে। তবে আত্মা কখন মৃত হয় না, আত্মা কখনো মারা যায় না, কেবল শরীর মৃত হয়। এইভাবে আমরা বুঝি যে ব্যক্তিকে আমরা ভালোবাসি, তিনি এখনও আছেন। সেই বোধগম্যতার জন্য আমরা কোনভাবে স্বস্তি অনুভব করি এবং আমরা মৃত জীবাত্মাকে কিছু খাবার, কিছু প্রসাদ নিবেদন করি। আমরা সেই মৃতের নামে কিছু সেবা করি যাতে তারা সেই ফল পায়। 

আমাদের কিছু ভিন্ন উপলব্ধি হয়েছিল। একটা পরিবারে স্ত্রী সন্তানেরা আমার শিষ্য, কিন্তু বাবা ভক্তিমূলক সেবার প্রতি অনুকূল ছিল না। বাবার ক্যান্সার ধরা পরে। তার চতুর্থ অবস্থা ছিল, সে তার শোয়ার ঘরে বিছানার উপর ছিল এবং তারপর দেখে যে কিছু পুরুষেরা চামড়ার দড়ি নিয়ে আছে এবং তাদের বড় বড় দাঁত আছে, তারা দেওয়াল থেকে হেঁটে বেরিয়ে আসছে, যাদেরকে যমদূতের মত দেখাচ্ছে। সে বলল, “না! না! আমি না! আমি না! না! না!” তারপর তারা দেওয়ালের মধ্যে দিয়ে চলে গেল। সে তার স্ত্রীকে ডাকে, “আমার ভগবদগীতা চাই, আমার তুলসী মালা চাই, আমার জপমালা চাই।” সে অবাক হয়ে গিয়েছিল যে হঠাৎ করে কেন সব পরিবর্তন হয়ে গেল? আমরা এত বছর ধরে যে প্রচার করে চেষ্টা করছিলাম, যমদূতরা তা এক মিনিটে করে দিয়েছে এবং এরপর সে অত্যন্ত সমর্পিত একজন ভক্ত হয়েছিল। এই জীবন হচ্ছে অনিত্য, তাই আমাদের সর্বোচ্চ গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত হওয়া উচিত। সেখানে আমাদের মৃত্যু ভয়ে ভীত হওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা মানুষেরা যখন এই শরীরে জীবিত থাকে, তখন তাদেরকে সাহায্য করতে চাই, কিন্তু যদি তারা তাদের দেহত্যাগ করে, তাহলে আমরা তাদেরকে সর্বোচ্চ লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করতে চাই। হরিবোল!

এটা কি তোমার প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে?

অমোঘ লীলা দাস:- হ্যাঁ মহারাজ! আপনি জড়জাগতিক এবং আধ্যাত্মিক উভয়দিক থেকেই বলেছেন এবং এর উত্তর দিয়েছেন। আপনাকে ধন্যবাদ! 

 

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by Bhaktipriya Rai Devi Dasi 19/3/2024
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions