নিন্মোক্ত প্রবচনটি শ্রী শ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ ১৫ মে ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারতের প্রদান করেছেন। এই প্রবচন শুরু হয়েছে শ্রীমদ্ভাগবতমের ১.৮.৩৪ পাঠের মাধ্যমে।
মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
শ্রীমদ্ভাগবতম ১.৮.৩৪
ভারাবতারণায়ান্যে ডুবো নাব ইবোদধৌ।
সীদস্ত্যা ভূরিভারেণ জাতো হ্যাত্মভুবাৰ্থিতঃ॥
অনুবাদ:- অন্যেরা বলেন যে সমুদ্রের মধ্যে নৌকার মতো পৃথিবী অতি ভারে ভারাক্রান্ত হয়ে দারুণভাবে পীড়িত হলে তোমার পুত্র ব্রহ্মা তোমার কাছে প্রার্থনা জানায়, আর তাই তুমি সেই ভার হরণ করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছ।
তাৎপর্য:- সৃষ্টির ঠিক পরেই প্রথম সৃষ্ট জীব ব্রহ্মা হচ্ছেন নারায়ণের সাক্ষাৎ পুত্র। গর্ভোদকশায়ী বিষ্ণুরূপে নারায়ণ প্রথমে ব্রহ্মাণ্ডে প্রবিষ্ট হয়েছিলেন। চিন্ময় সংযোগ ব্যতীত জড় পদার্থ কখনো কিছু সৃষ্টি করতে পারে না। সৃষ্টির আদিতেই এই নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল। পরম আত্মা ব্রহ্মাণ্ডে প্রবেশ করেছিলেন, এবং প্রথম জীব ব্রহ্মা তার চিন্ময় নাভি থেকে উদ্ভূত একটি পদ্মফুলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাই বিষ্ণুকে বলা হয় পদ্মনাভ। ব্রহ্মাকে বলা হয় আত্মভূ, কেননা তিনি সরাসরিভাবে তাঁর পিতার থেকে মাতা লক্ষ্মীদেবীর সংস্পর্শ ব্যতীতই জন্মগ্রহণ করেছিলেন। লক্ষ্মীদেবী নারায়ণের সন্নিকটে তাঁর সেবায় যুক্ত ছিলেন, তথাপি লক্ষ্মীদেবীর সংস্পর্শ ব্যতীতই নারায়ণ ব্রহ্মাকে সৃষ্টি করেছিলেন। সেটিই ভগবানের সর্বশক্তিমত্তা। যারা মূর্খতাবশত নারায়ণকে অন্য জীবেদের সমতুল্য বলে মনে করে, এই দৃষ্টান্তটি থেকে তাদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। নারায়ণ কোন সাধারণ জীব নন। তিনি পরমেশ্বর ভগবান এবং তাঁর চিন্ময় অঙ্গের প্রতিটি প্রত্যঙ্গ অন্যান্য প্রত্যঙ্গ বা ইন্দ্রিয়ের কার্য করতে সক্ষম। একজন সাধারণ জীব মৈথুনের মাধ্যমে সন্তান উৎপন্ন করে, এছাড়া তার সন্তান লাভের আর কোন উপায় নেই। কিন্তু নারায়ণ সর্বশক্তিমান হওয়ার ফলে কোন প্রকার শক্তির বন্ধনে আবদ্ধ নন। তিনি পূর্ণ এবং তাঁর বিভিন্ন শক্তির দ্বারা তিনি যা ইচ্ছা তাই অনায়াসে এবং পূর্ণরূপে সম্পাদন করতে সক্ষম। তাই ব্রহ্মা মাতৃগর্ভে অবস্থান না করেই সরাসরিভাবে তাঁর পিতা থেকে উৎপন্ন হয়েছিলেন। তাই তাকে বলা হয় আত্মভূ। এই ব্রহ্মা ব্রহ্মাণ্ডের পরবর্তী সমস্ত সৃষ্টির কর্তা, এবং তিনি হচ্ছেন সর্বশক্তিমানের শক্তির দ্বারা আবিষ্ট। ব্রহ্মাণ্ডের জ্যোতির্মগুলের মধ্যে শ্বেতদ্বীপ নামে একটি চিন্ময় লোক রয়েছে, যা পরমেশ্বর ভগবানের পরমাত্মা রূপ ক্ষীরোদকশায়ী বিষ্ণুর ধাম। ব্রহ্মাণ্ডে যখনই কোন সঙ্কট দেখা দেয় তখনই তা সমাধান করার জন্য বিভিন্ন বিভাগের অধিকর্তা দেবতারা ব্রহ্মার শরণাপন্ন হন, এবং ব্রহ্মা যদি তা সমাধান করতে না পারেন তাহলে তিনি ক্ষীরোদকশায়ী বিষ্ণুর কাছে সেই সমস্যা সমাধানের জন্য এবং তাঁর অবতরণের জন্য প্রার্থনা করেন। এই রকম একটি সঙ্কট দেখা দিয়েছিল যখন কংস এবং অন্যান্য আসুরিক রাজাদের দুষ্কর্মের ফলে পৃথিবী ভারাক্রান্ত হয়েছিল। ব্রহ্মা তখন অন্যান্য দেবতাদের সঙ্গে ক্ষীর-সমুদ্রের তীরে উপস্থিত হয়ে ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন, এবং ভগবান তখন তাদের জানিয়েছিলেন যে বসুদেব এবং দেবকীর পুত্ররূপে তিনি তাঁর কৃষ্ণ স্বরূপে অবতরণ করবেন। তাই কেউ কেউ বলেন যে ভগবান ব্রহ্মার প্রার্থনার জন্য অবতরণ করেছিলেন।
***
জয়পতাকা স্বামী:- ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন যে তিনি ভক্তদের উদ্ধার করতে ও দুষ্কৃতদের বিনাশ করতে অবতীর্ণ হন। “পরিত্রাণায় সাধূনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্” — দেবতাগণ ও ধরিত্রী মাতা ব্রহ্মার কাছে গিয়েছিলেন এবং তিনি অসুরদের দ্বারা ভারাক্রান্ত ছিলেন। ব্রহ্মা ক্ষীরদ সমুদ্রের উপকূলে গিয়েছিলেন ও প্রার্থনা করছিলেন, সেইসময় একটি বার্তা আসে যে কৃষ্ণ আবির্ভূত হবেন। কৃষ্ণ প্রতি ব্রহ্মার দিনের মধ্যে একবার আসেন। আমরা ভাগ্যবান যে তাঁরা এর আগের দ্বাপর যুগে এসেছিলেন, এই যুগের আগে এবং এই যুগে সবথেকে কৃপালু চৈতন্য মহাপ্রভু এসেছিলেন। একটা তাৎপর্য মধ্যে প্রভুপাদ বলেছেন কিভাবে গর্ভদক্ষয়ী বিষ্ণু রূপে নারায়ণ এসেছেন, এবং তাঁর নাভি থেকে একটি পদ্ম উত্পন্ন হয়েছে এবং সেই পদ্মের উপরে ব্রহ্মার জন্ম হয়েছে। যদিও লক্ষ্মী সেখানে থাকেন, কিন্তু ব্রহ্মাকে জন্ম দেওয়ার জন্য তাঁর লক্ষীকে প্রয়োজন নেই। নারায়ন বা কৃষ্ণ হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবান। তাঁরা সর্বশক্তিমান। তাঁদের শরীরের প্রত্যেক অংশের, অপর অংশের শক্তিও আছে। আমাদের বোঝা উচিত যে ভগবান আমাদের মতো না। মনুষ্য হিসেবে আমরা কোন নারী ছাড়া সন্তান জন্ম দিতে পারব না, এর জন্য পুরুষ এবং নারী দরকার, কিন্তু কৃষ্ণের ক্ষেত্রে এমন নয়।
গর্ভদক্ষয়ী বিষ্ণুর মহিমা শোনার পর, আমার তিরুবন্তপুরমের অনন্তপদ্মনাভকে দেখার ইচ্ছা হয়েছিল। অনন্তপদ্মনাভ ঠাকুর যিনি আছেন, তাঁর নাভি থেকে ব্রহ্মাদেব উত্পন্ন হইল, সেই শ্রীবিগ্রহ এখনো দৃশ্যমান আছেন। আমরা সাফারিতে সেখানে অনেকবার গিয়েছি। আমি বিদেশীদের সেখানে ভিতরে গিয়ে শ্রীবিগ্রহ দর্শন করার বিশেষ অনুমতি পেয়েছিলাম। সেই শ্রীবিগ্রহ এখনও আছে। আমরা গর্ভদক্ষয়ী বিষ্ণু, ব্রহ্মার মহিমা বুঝতে পারি। এই বিশ্ব মধ্যে শ্বেত দীপ রয়েছে, সেটি হচ্ছে ক্ষীরোদক্ষয়ী বিষ্ণুর বাসস্থান। সাধারণত উনি অবতারে আসেন। কিন্তু তিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বিস্তার এবং শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবান। “কৃষ্ণস্তু ভগবান স্বয়ং” — এই হচ্ছে শ্রীমদ্ভাগবতের প্রথম স্কন্ধ। তারা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অনেক অবতারের কথা উল্লেখ করেছে, কিন্তু তাঁদের মধ্যে কৃষ্ণ হচ্ছেন স্বয়ং ভগবান।
ব্রহ্মা সংহিতাতে একটি শ্লোক আছে, যা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মহিমা বর্ণনা করে: —
ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণ, সচ্চিদানন্দ বিগ্রহ।
অনাদিরঃ আদি গোবিন্দ, সর্বকারনঃকারনাম্।
ব্রহ্মসংহিতা (৫.১)
কৃষ্ণ হচ্ছেন পরম নিয়ন্তা। “ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণ, সচ্চিদানন্দ” — তার শরীর হচ্ছে সচ্চিদানন্দ, নিত্য আনন্দময় ও পূর্ণ জ্ঞানময়। আমরা আমাদের শরীরের থেকে আলাদা, আমরা পুরুষ বা মহিলা বা মানুষ রুপে এক বিশেষ গোষ্ঠীতে জন্মগ্রহণ করেছি, কিন্তু এই শরীর পরিবর্তিত হবে, এই জন্ম পরে মনুষ্য হব বা অন্য কিছু হব, কোন প্রাণী হব, এটা কর্ম উপরে নির্ভর করে। যদি আমরা কোন ভক্তিমূলক সেবা করি, তাহলে অন্ততপক্ষে আমরা যে মনুষ্য জন্ম পাবো, তা নিশ্চিত। এখন এমন মানুষেরা আছে যে খুব নেশা করে এবং সে একটা তামসিক ভাবে আবদ্ধ হয়। হয়ত ওরা গাছ হতে পারে ভবিষ্যতে, তখন জ্ঞান খুব কম হবে।
গতকাল আমরা পড়ছিলাম যে কিভাবে চৈতন্য মহাপ্রভু বাংলার ভক্তদের বিষয়ে জিজ্ঞেস করছিলেন। তিনি প্রত্যেক ভক্তের মহিমা বর্ণনা করছিলেন এবং তাদেরকে আলিঙ্গন করছিলেন। তিনি তাদেরকে কিছু সেবা দিচ্ছিলেন, তিনি বললেন, “কুলীন গ্রাম থেকে প্রতিবছর আসে, তারা পাটের দরি জগন্নাথের জন্য দান করুক।” তিনি বলেছিলেন যে, কুলিন গ্রামের সকল গ্রামবাসীরা তাঁর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। এমনকি কুলীন গ্রামের কুকুরেরাও তাঁর কাছে প্রিয় এবং আমি জানিনা আমি নামটা ঠিক বলছি কিনা। গুণরাজ খান, তিনি প্রথম কবিতা লিখেছিলেন ‘কৃষ্ণবিজয়’ চৈতন্য মহাপ্রভু বলেছিলেন তুমি আমার হৃদয় জয় করেছ, একটা শ্লোক কবিতায় লিখেছ রাধাকৃষ্ণ আমার প্রাণধন। যেহেতু তুমি রাধাকৃষ্ণের প্রেম বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করেছ, তাই এতে তোমার ভাবপূর্ণ ভক্তি প্রকাশ পাচ্ছে। সেই তাৎপর্যে প্রভুপাদ বলছিলেন, একবার পড়লে এটা ভক্তির পক্ষে অনুকূল।
গদাধরের আবির্ভাব তিথিতে আমরা চম্পাহাটিতে গৌর গদাধরের এক শ্রীবিগ্রহ দর্শন করছিলাম। সেই ব্যক্তি প্রবচন দিয়েছিলেন যে যখন কৃষ্ণ রাধারানীর কাছে গিয়েছিলেন, তিনি বললেন, “আমি চাই তোমার হৃদয় এবং অঙ্গ কান্তি।” তখন বলা হয়েছে যে রাধারানী এটি বলেছেন, “ঠিক আছে! আমি তোমাকে আমার হৃদয় দেব, কিন্তু তোমাকে খুবই সতর্ক থাকতে হবে। সুরক্ষিত থাকতে হবে।” তাই, আমি এটা খোঁজার চেষ্টা করছি যে কোন গ্রন্থে এটা লেখা আছে, কিন্তু এটা এক দারুন নির্দেশ। রাধারানীর এই বিষয়ে আমি কি বলতে পারি? এটি হচ্ছে রাধারানীর হৃদয় এবং কৃষ্ণ রাধরাণীর হৃদয় পেলে সেটা কি না হতে পারে?! ঠিক আছে, চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি অসাধারণ লীলা করতেন। তিনি জগন্নাথ মন্দিরের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতেন, কৃষ্ণের জন্য ক্রন্দন করতেন, তিনি সাগরকে দেখে যমুনার কথা ভাবতেন ও তাতে ঝাঁপ দিতেন। তিনি এত ভাবাপন্ন হয়ে তিনি ওঁনার মুখ ঘষত দেওয়ালে মধ্যে। কৃষ্ণের কাছে রাধারানীর হৃদয় থাকা খুবই বিপদজনক, কারণ রাধারানী এমন ভাবে মগ্ন থাকতেন যে চৈতন্য মহাপ্রভুরও সম্পূর্ণ পরিস্থিতি এমন হতো।
আমরা এইভাবে গর্বদক্ষয়ী বিষ্ণু, তাঁর কত শক্তি আছে এবং কত (২৬:৪০) কিন্তু এর থেকে আমরা বুঝতে পারি যে চৈতন্য দেব উনি কৃষ্ণ রাধারানীর হৃদয় ও অঙ্গকান্তি নিয়ে অবতীর্ণ হইলেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যেকোন কিছু করতে পারেন, যখন আমরা বিভিন্ন বিষ্ণু অবতারের কথা পড়ি, তখন আমরা এই ধারণা পাই যে কিভাবে কৃষ্ণ হচ্ছেন সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ভগবান। কৃষ্ণের লীলা এত অসাধারণ, চৈতন্যদেবের মহিমার কেউ এক বিন্দু উপলব্ধি করতে পারে। এটা যেকোন জীবের পক্ষেই সম্ভব নয়, কিন্তু কৃষ্ণের ক্ষেত্রে সম্ভব। দেখো মায়াবাদীরা মনে করে যে কৃষ্ণ হচ্ছেন জাগতিক, সহজিয়ারা মনে করে যে চৈতন্য দেব একটা ভোগী, কিন্তু তারা বোঝে না চৈতন্য দেব ভক্তির সীমা প্রকাশ করছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে কিভাবে বিরহে কৃষ্ণের সেবা করা হচ্ছে সর্বোচ্চ ধ্যান। এবং আমরা যদি চাই তাহলে আমরাও সে বিরহ অনুভব করতে পারি, কারণ আমরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সঙ্গ থেকে বঞ্চিত। আমরা যদি সেই বিপ্রলম্ব মধ্যে থাকি; তাহলে অসীম প্রেম ভক্তি আস্বাদন করতে পারি। প্রেম ভক্তি — আমরা কৃষ্ণের প্রতি সেই ভাবপূর্ণ প্রেম উপলব্ধি করতে পারব, এটা হচ্ছে এক বিরল বিষয়, কিন্তু চৈতন্য মহাপ্রভু আমাদেরকে সেই সুযোগ দিচ্ছেন।
এখন আমরা প্রায় এক বছরের অধিক সময় ধরে এই মহামারীর কষ্ট ভোগ করছি, আমাদের মানুষদের দিয়ে সঠিক কারণের জন্য কৃষ্ণের নাম জপ করানো উচিত। দেখো শ্রীল প্রভুপাদ বারবার বলেছেন যে কিছু বাবাজীরা কলকাতাতে মানুষদের দিয়ে জপ-কীর্তন করিয়েছিলেন এবং প্লেগ চলে গিয়েছিল, কিন্তু উনি বললেন এটা নাম অপরাধ। আমরা শ্রীকৃষ্ণের কাছে কোন জড়জাগতিক সুবিধা প্রার্থনা করা উচিত নয়, কিন্তু আমরা মানুষদের বলতে পারি যে এই জগত হচ্ছে দুঃখের আলয়। আমরা কৃষ্ণের সেবা করতে চাই এবং সেই জন্য আমরা প্রত্যেকে পবিত্র নাম জপ করতে বলতে পারি।
আজকে হচ্ছে অক্ষয় তৃতীয়ার অনুষ্ঠান। এখন যেটা ধর্ম কর্ম করা হবে আজকে, সেটার ফল অক্ষয় হবে, কিন্তু স্বর্ণ বিক্রেতারা মানুষদের সোনা কিনতে ও তাদের স্ত্রীদেরকে তা দিতে উৎসাহিত করে। এটা প্রকৃত উদ্দেশ্য নয়, এই দিনে ভগবানকে দান করা, ভগবানের সেবা করার দিন। কাশ্যপ মুনি তার স্ত্রীকে বলেছিলেন যে, “আমি তোমার ঋণ শোধ করতে পারব না।” কারণ যদি কারো স্ত্রী থাকে, তাহলে স্ত্রীর উপস্থিতিতে তার ইন্দ্রিয় ভোগ বাসনা সেইভাবে সংযোগ করা যাবে। কেউ যদি ব্রহ্মচারী বা সন্ন্যাসী হয়, তাহলে এমনকি যদি তারা যৌন জীবন সম্পর্কে ভাবে, তাহলে তা অমঙ্গলজনক এবং যদি তারা কোন ধরনের যৌন কার্যকলাপে যুক্ত হয়, তাহলে তারা নরকের পথে আছে। কিন্তু যারা বিবাহিত, স্বামী স্ত্রী সাথে থাকলে কোন পাপ হয় না, কিন্তু একই সাথে তা ভক্তিমূলক সেবা নয়। স্বামী যদি আরতি করে ও স্ত্রী যদি তাতে সাহায্য করে তাহলে তা হবে। তারা একে অপরকে সাহায্য করার প্রতিজ্ঞা করে, কিন্তু তারা কৃষ্ণ সেবা করে, এটাই হচ্ছে চৈতন্য মহাপ্রভুর ভক্তিযোগের বিশেষ সুযোগ।
চৈতন্য মহাপ্রভুর অনুসারী আচার্যগণ, চৈতন্য মহাপ্রভুর সময়কার আচার্যগণ, তারা নির্দেশ দিয়েছেন— “গৃহে থাকো বনে থাকো সদা হরি বলে ডাকো” তুমি গৃহে থাকো বা বনে থাকো, সর্বদা ভগবানের পবিত্র নাম জপ কর। যদি কেউ ব্রহ্মচর্য বজায় রাখতে পারে, তাহলে তা অত্যন্ত শুভ। এটাকে বলা হয় বৃহৎ ব্রত। কাউকে দেখতে হবে যে তারা কি করতে পারে, এখন সুযোগ আছে আমরা ব্রহ্মচারী জীবনের মধ্যে সবসময় কৃষ্ণ সেবা করতে থাকতে পারি। আমাদের সেটাই করা উচিত!
কালকে পড়ছিলাম চৈতন্য দেব বলছেন যে বাসুদেব দত্ত তিনি এত দয়ালু, তিনি যা টাকা পেত, সবাইকে দান করে। এইভাবে গৃহস্থ হয়ে সে তার পরিবারকে ভরণ পোষণ করতে পারবে না, কারণ গৃহস্থকে কিছু অর্থ জমায়েত রাখতে হবে। তাই তিনি শিবানন্দ সেনকে বলেছিলেন যে, “তুমি তার অর্থনৈতিক দিকটি পরিচালনা করো।” কিভাবে চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি এটা জানেন, এমনকি গৃহস্থের বিষয়গুলিও তিনি জানেন এবং কিভাবে তিনি তাঁর ভক্তদের পরিচালনা করেন। আমরা কত ভাগ্যবান যে চৈতন্যদেবের আন্দোলনের মধ্যে থাকতে পারি। শ্রীমদ্ভাগবতের এই শ্লোক বর্ণনা করছে যে কিভাবে ভগবান অবতীর্ণ হন ও কিভাবে তিনি জগতকে উদ্ধার করেন। চৈতন্য মহাপ্রভুর পরিচায়ক নাম হচ্ছে বিশ্বম্ভর, যিনি ভার গ্রহণ করেন, সমগ্র বিশ্বের ভার গ্রহণ করেন বিশ্বম্ভর।
আজকে অক্ষয় তৃতীয়া হচ্ছে চন্দন যাত্রার প্রথম দিন, আমাদের ৮টার সময় শ্রীবিগ্রহ দর্শন করা উচিত। তাই, আমি এখানে সমাপ্ত করব।
Lecture Suggetions
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ