নিন্মোক্ত প্রবচনটি শ্রী শ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ, ২৪ এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারতে দিয়েছেন। এই প্রবচন শ্রীমদ্ভাগবতের ৩.২৯.১৭ পাঠের মাধ্যমে শুরু হয়েছে।
মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
শ্রীমদ্ভাগবতম ৩.২৯.১৭
মহতাং বহুমানেন দীনানামনুকম্পয়া
মৈত্র্যা চৈবাত্মতুল্যেষু যমেন নিয়মেন চ॥
অনুবাদ:- শুদ্ধ ভক্তের উচিত গুরুদেব এবং আচার্যদের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান করে ভগবতভক্তি সম্পাদন করা। দীনজনদের প্রতি তার কৃপা প্রদর্শন করা উচিত এবং সমতুল্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মিত্রতা স্থাপন করা উচিত, কিন্তু তার সমস্ত কার্যকলাপ ইন্দ্রিয় সংযম এবং বিধি-নিষেধ অনুসরণ করার দ্বারা সম্পাদন করা উচিত।
তাৎপর্য:- ভগবদগীতার ত্রয়োদশ অধ্যায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মানুষের কর্তব্য ভগবদভক্তি সম্পাদন করা এবং আচার্যের আনুগত্য স্বীকার করে পারমার্থিক জ্ঞানের পথে অগ্রসর হওয়া। আচার্যোপাসনম্ — আচার্য বা তত্ববেত্তা সদ্গুরুর উপাসনা করা উচিত। গুরুদেবকে অবশাই কৃষ্ণের থেকে আগত যে গুরু পরম্পরা, তার অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত। গুরুদেবের পূর্বতন পরম্পরায় রয়েছেন তাঁর গুরুদেব, তাঁর গুরুদেবের গুরুদেব, তাঁর গুরুদেব ইত্যাদি, এইভাবে আচার্য পরম্পরা সৃষ্টি হয়। এখানে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, আচার্যদের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান করা উচিত। শাস্ত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গুরুষু নরমতিঃ। গুরুষু মানে 'আচার্যদের' এবং নরমতিঃ মানে 'একজন সাধারণ মানুষ বলে মনে করা'। বৈষ্ণবদের বা ভগবত ভক্তদের কোন বিশেষ জাতি বা সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করা, আচার্যদের একজন সাধারণ মানুষ বলে মনে করা অথবা মন্দিরের শ্রীবিগ্রহকে পাথর, কাঠ অথবা ধাতু দিয়ে তৈরি বলে মনে করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। নিয়মেন - শাস্ত্রের বিধি অনুসারে আচার্যদের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। ভক্তদের দীনজনের প্রতি কৃপাপরায়ণ হওয়া উচিত। এখানে দীন বলতে জড় বিচারে দারিদ্রগ্রস্থ বাক্তিদের বোঝানো হয়নি। ভক্তির দৃষ্টিতে যে ব্যক্তি কৃষ্ণভক্ত নয়, সে-ই দীন জড়-জাগতিক বিচারে কেউ অত্যন্ত ধনী হতে পারে, কিন্তু সে যদি কৃষ্ণভাবনায় ভাবিত না হয়, তা হলে তাকে দরিদ্র বলে বিবেচনা করা হয়। পক্ষান্তরে, বহু আচার্য, যেমন রূপ গোস্বামী এবং সনাতন গোস্বামী প্রতি রাত্রে গাছের নীচে বাস করতেন আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় যে, তারা অত্যন্ত দরিদ্র ছিলেন, কিন্তু তাদের লেখা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, আধ্যাত্মিক জীবনে তারা ছিলেন সব চাইতে ধনী ব্যক্তি। পারমার্থিক জ্ঞানে অভাবগ্রস্ত সেই দীনজনদের কৃষ্ণভাবনার স্তরে উন্নীত করার জন্য, ভক্ত দিব্য জ্ঞান প্রদান করে তাদের প্রতি কৃপা প্রদর্শন করেন। এইটি ভগবত ভক্তদের একটি কর্তব্য। যাঁরা তাঁর সমতুল্য অথবা যাদের উপলব্ধি তার মতো, তাদের সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করা উচিত। ভক্তদের সাধারণ মানুষদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার কোন প্রয়োজন নেই। তাঁদের উচিত অন্য ভক্তদের সঙ্গে মিত্রতা স্থাপন করা, যার ফলে তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করার মাধ্যমে, পরস্পরকে পারমার্থিক উপলব্ধির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করতে পারে। একে বলা হয় ইষ্টগোষ্ঠী। ভগবত গীতায় উল্লেখ করা হয়েছে, বোধয়ন্তঃ পরস্পরম্-"নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে”। সাধারণত শুদ্ধ ভক্তেরা তাদের মূল্যবান সময়ের সদ্ ব্যাবহার করেন, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অথবা ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বিভিন্ন কার্যকলাপের কথা কীর্তন করে এবং নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে। পুরাণ, মহাভারত, শ্রীমদ ভাগবত, ভগবদ গীতা, উপনিষদ আদি অসংখ্য গ্রন্থ রয়েছে, যাতে দুই বা অধিক ভক্তের মধ্যে আলোচনার অসংখ্য বিষয় রয়েছে। মৈত্রী সুদৃঢ় হয় সম রুচি এবং সম উপলব্ধি-সম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে। এই প্রকার ব্যক্তিদের বলা হয় স্বজাতি। যাদের চরিত্র উপলব্ধির মানদণ্ডে স্থির নয়, তাদের সঙ্গ করা ভক্তদের উচিত নয়। তারা বৈষ্ণব অথবা কৃষ্ণ ভক্ত হলেও, তাদের চরিত্র যদি ঠিক না হয়, তা হলে তাদের থেকে দূরে থাকা উচিত। ভক্তদের কর্তব্য হচ্ছে নিষ্ঠা সহকারে মন এবং ইন্দ্রিয় সংযত করা, দৃঢ়তাপূর্বক বিধি-বিধান পালন করা, এবং সম স্তরের ব্যক্তিদের সঙ্গে মিত্রতা স্থাপন করা।
**
জয়পতাকা স্বামী:- এটা এক ভালো উপদেশ আমাদের জন্য যে আমরা কাকে আমাদের বন্ধু রাখি এবং আমাদের কি করা উচিত। আমরা দরিদ্রদের দয়া ও করুণা করি। অর্থনৈতিক দিক তথীকে গরীব, সেই হিসেব নয়। যারা জাগতিকভাবে দরিদ্র, তাদের কথা বলা হয় নি। যাদের কৃষ্ণচেতনা কম, তাদেরকে দরিদ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কেউ হয়ত জাগতিকভাবে ধনী হতে পারে, কিন্তু আধ্যাত্মিকভাবে ফতুর। কলকাতা থেকে একটা মেয়ে ব্যাস পূজার দিনে বলছিল যে সে সেই দিন আত্মহত্যা করার কথা ভাবছিল, তার বোন ছিল ভক্ত আর সে ভক্ত ছিল না, সে তার বোনকে বলছিল যে, “চল গুরুদেব বিমানবন্দরে আসছেন।” সে বলছে, “ঠিক আছে আমি বিমানবন্দরে যাব, তারপর আত্মহত্যা করব।” তারপর সম্ভবত সে বলছিল যে বিমানবন্দরে আমি তাকে আশীর্বাদ দিয়েছিলাম, সে আশীর্বাদ পাওয়ার পর তার জীবন পরিবর্তন হইল, আত্মহত্যা আর করেনি। সে এখন দীক্ষা ভক্ত হয়ে ভক্তি সেবা করছে। তাই, আমরা দরিদ্রদের আমাদের কৃপা প্রদান করতে চাই। দরিদ্র মানে যাদের কৃষ্ণচেতনা কম। যদি কারোর সাথে বন্ধুত্ব করা উচিত, তাহলে প্রভুপাদ বলেছেন সাধারণ লোকের সাথে বন্ধুত্ব করার কোন দরকার নেই। যেমন, আমাদের তাদের সাথে এক ভদ্র ব্যক্তির মত আচরণ করতে হবে, কিন্তু বন্ধুত্ব মানে হচ্ছে আলোচনা করা, বন্ধুত্বপূর্ণ কথা বলা, যেমন — ক্রিকেট এই ওই খবর, সিনেমার খবর বলবে ওহ! এক সুন্দরী অফিসে কাজ করছে এবং এই রকম কত প্রজল্প করবে। কিন্তু আমরা কারো সাথে কৃষ্ণভাবনামৃত নিয়ে আলোচনা করতে চাই যে, চৈতন্য মহাপ্রভু লীলা করেছিলেন, কৃষ্ণ এই লীলা করেছিলেন, গুরুদেবের কথা বা প্রভুপাদের কথা। এটাকেই বলা হচ্ছে সজাতি, একই ধরনের মনোভাব। আমরা কৃষ্ণভাবনামৃত নিয়ে আলোচনা করতে চাই, আমরা প্রজল্প করতে চাই না। আমরা অল্পমাত্রায় কিছু বন্ধুত্বপূর্ণ কথা বলি যে ওহ! আজকে খুব ভালো আবহাওয়া, কিন্তু আমরা এই সমস্ত বিস্তারিত প্রজল্পের মধ্যে যাই না। তাই, তুমি যাই করো, সাধু-শাস্ত্র-গুরু দ্বারা নির্দেশিত হয়ে করো। ঠিক যেমন আমি আমাদের জননিবাস প্রভুকে দেখি, যদি তুমি কৃষ্ণভাবনামৃত নিয়ে কথা বলো, তাহলে তিনি সবসময় থাকবেন। যখনই তুমি অন্য কিছু নিয়ে কথা বলবে, যা তার সাথে সম্বন্ধযুক্ত নয়, তখন তুমি দেখবে তিনি আর সেখানে নেই। এইভাবে আমরা কৃষ্ণের বিষয়ে আলোচনা করব, অন্য বিষয়ে দরকার নাই। যদি আমরা পরিচালনার দায়িত্বে থাকি, তাহলে হয়ত আমাদের কিছু আলোচনা করতে হবে, কিন্তু যারা পরিচালনায় নেই তাদের আগ্রহ থাকা ঠিক নয়।
আমরা দেখি চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি গয়াতে গিয়েছিলেন, তিনি তার পিতার উদ্দেশ্যে পিন্ডদান করতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি মাধবেন্দ্রপুরীর শিষ্য ঈশ্বরপুরী মহারাজকে দেখেন এবং তারপর তিনি তাঁর থেকে দীক্ষা চান, কিন্তু ঈশ্বরপুরী বলেছিলেন, “তুমি অত্যন্ত শিক্ষিত, তুমি বড় পণ্ডিত, আমি কিভাবে তোমাকে দীক্ষা দিতে পারি?” কিন্তু চৈতন্য মহাপ্রভু বললেন যে, “যদি আপনি আমাকে দীক্ষা না দেন, তাহলে আমি আত্মহত্যা করব।” ঈশ্বরপুরী মহারাজ ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন ও তারপর তিনি তাঁকে দীক্ষা প্রদান করেন। চৈতন্য মহাপ্রভু তারপর তাঁর ভগবত প্রেম প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বিহারে প্রথম তাঁর কৃষ্ণপ্রেম প্রকাশ করেছিলেন। যখন তিনি নবদ্বীপে ফিরছিলেন, তখন তিনি ঝাড়খণ্ডের কানাই নাটশালাতে কৃষ্ণকে দর্শন করেছিলেন। যখন তিনি নবদ্বীপে ফিরলেন, তখন তিনি সম্পূর্ণ পরিবর্তিত ব্যক্তি হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি ভক্তদের ডাকেন এবং তাদেরকে বলেন যে তিনি কৃষ্ণকে লাভ করেছিলেন এবং তারপর তাঁকে হারিয়ে ফেললেন! “আপনারা জানেন না কৃষ্ণকে পাওয়া এবং হারিয়ে যাওয়া কি হয়।” শুক্লাম্বর ব্রহ্মচারীর গৃহে চৈতন্য মহাপ্রভু কীর্তন করছিলেন ও ক্রন্দন করছিলেন, শুক্লাম্বর ব্রহ্মচারীর আঙ্গনে, গদাধর প্রভু সেই গৃহে লুকিয়ে ছিলেন। চৈতন্য মহাপ্রভু তাঁকে ডাকলেন, বলছিলেন, “গদাধর তুমি খুব ভাগ্যবান! জন্ম থেকে তুমি কৃষ্ণ ভক্ত। আমার এত দিন বেকার হইল, আমি পণ্ডিত্য করে, ঝগড়া করে, তর্ক করে ছিলাম।” তারপর তিনি কীর্তন করছিলেন, নৃত্য করছিলেন ও ভক্তদের আলিঙ্গন করছিলেন। “কৃষ্ণ কে পাওয়া এবং তারপর তাঁকে হারিয়ে ফেলা, তোমরা জানো না যে এর অনুভূতি কি!” এইভাবে তিনি কত ক্রন্দন করছিলেন ও মনে হচ্ছিল যেন গঙ্গা প্রবাহিত হচ্ছে। তারপর কিছু মানুষেরা শচীমাতার কাছে যায় এবং বলে, “আপনার ছেলে অসুস্থ আছে, মনে হচ্ছে তার বায়ু রোগ হয়েছে।” একজন বলল, “তাঁকে ডাব দিন, তা তাঁর মস্তিষ্ক শান্ত করবে।” আরেকজন বলল, “না! না! এটা হবে না! তাঁকে দশমূল তৈল মালিশ করতে হবে মাথায়।” তৃতীয় জন বলল, “না! না! সেটাও কাজ করবে না! আপনাকে তাঁকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতে হবে।” শচীমাতা বললেন, “না! না! আমার ছেলে কিছুই হয়নি!” তখন চৈতন্য মহাপ্রভু, গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু, তিনি শ্রীবাসের গৃহে যান এবং তিনি বললেন, “আমি কি আপনাকে একটা প্রশ্ন করতে পারি?” তিনি বললেন, “কেন নয়?” “মানুষেরা বলে আমি অসুস্থ। আমি কি সত্যিই অসুস্থ?” তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “আপনার কি কি লক্ষণ আছে?” তিনি বললেন, “যখনই আমি হরেকৃষ্ণ কীর্তন করি, আমার চোখ দিয়ে জল পরে, আমার গায়ে কাটা দেয়, আমার গলা রুদ্ধ হয়ে আসে, আমি কখনও কখনও ঘর্মাক্ত হই। আমি অনিয়ন্ত্রিতভাবে হাসি। তো এই আমার সব হয়ে যাচ্ছে, তাই আমি জানতে চাই আমি কি অসুস্থ?” শ্রীবাস বললেন, “হ্যাঁ! আপনি অসুস্থ এবং আমিও এই অসুস্থতা চাই!” হরিবোল! এটি হচ্ছে ভগবত প্রেমের অসুস্থতা। শ্রীবাস বললেন যে, “সাধারণ মানুষ এটা বুঝতে পারবে না, তাই আপনি আমার গৃহে আসুন এবং আমি সেইসব ভক্তদের নিমন্ত্রণ করব, যারা এইসব লক্ষণ গুলি বুঝতে পারবেন। এইভাবে শ্রীবাস আঙ্গনে রাত্রিকালীন কীর্তন প্রারম্ভ হয়।”
তাই ভক্তরা এগুলি বুঝতে পারবেন। ভক্তরা বুঝতে পারবে যে কারো প্রকৃত ভাব আছে কিনা। আমরা কলকাতায় এক গৃহে অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম এবং সেই অনুদানকারী অনুষ্ঠানের মাঝে এমন ভান করতে শুরু করে যেন তিনি কৃষ্ণকে দেখছিলেন “ওহ কৃষ্ণ! ওহ কৃষ্ণ!” সব ভক্তরা বুঝতে পারে যে সে কপটতা করছে, কিন্তু সে প্রশংসিত হতে চাইছিল। একইভাবে, হরিদাস ঠাকুরের সাথেও এটি হয়। এক সাপুড়ে কৃষ্ণলীলা বলছিল এবং তাতে কালিয়ার প্রসঙ্গ আসে। আমাদের মায়াপুরে একটা মুসলমান জানতেন কি মন্ত্র দিয়া সাপের বিষ বার করত। তিনি মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে কোন ব্যক্তিকে সাপের ছোবল থেকেও নিরাময় করতে পারতেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কিরকম মন্ত্র জপ করছেন? তিনি বললেন, “আমি তোমাকে বলব, আমাদের মুসলমান ভাইকে বলবে না।” আমি কালিয়া কৃষ্ণ মন্ত্র বলি। তাই, আমরা জানি যে কোনভাবে এই লীলা, এই কালিয়া দমন মন্ত্র সাপেদের দূরে রাখে। যাইহোক, এই সাপুড়ে সে কালিয়া কৃষ্ণ মন্ত্র উচ্চারণ করছিল। যখন হরিদাস ঠাকুর তা শুনলেন, তিনি ভাবেবিভোর হয়ে মূর্ছিত হয়ে পড়েছিলেন। সকল গ্রামের মানুষেরা হরিদাস ঠাকুরকে প্রণাম জানায়। একটা ব্রাহ্মণ জ্যোতিষী ছিল, যে একটা পাখি, বিভিন্ন কার্ড ইত্যাদি। সে হরিদাস ঠাকুর যে এত সম্মান পাচ্ছে, এখন নিজের একটা হিংসে হল যে আমি ব্রাহ্মণ, আমি কেন পাবনা? তখন সে উঠে দাঁড়ায় ও হরিদাস ঠাকুরের নকল করার চেষ্টা করে তারপর মাটিতে পড়ে যায় যাতে মানুষেরা তাকে প্রণাম করে ও সম্মান জানায়। কিন্তু সেই সাপুড়ে বলতে পেরেছিল যে সে নকল করছে। তখন সে বলল, “এই ব্যক্তি আপনাদের সকলকে প্রতারিত করার চেষ্টা করছে, সে হরিদাস ঠাকুরের প্রতি এক মহা অপরাধ করছে। তাই সে যদি ভাব অনুভব করে, তাহলে এমনকি আমি যদি তাকে পদাঘাতও করি, তাহলেও কোন প্রতিক্রিয়া করবে না। যদি আমি লাঠি মারলে তিনি যদি ব্যাথা পায়, তার মানে তিনি আমাদের প্রতারণা করতে আছে।” তখন সেই সাপুড়ে উঠে দাঁড়ায় ও তার পশ্চাতে এক লাথি মারল! “আআআআ!” সেই ব্রাহ্মণ বলে, “তুমি আমাকে লাথি মারলে?” তারপর তার সত্য প্রকাশ পায়! সে সব ব্যক্তিদের প্রতারণা করছিল, সেই সব গ্রাম্য মানুষেরা তার পিছনে ধাওয়া করেছিল ও তাকে মারতে চাইছিল। তাই, প্রকৃত ভক্ত জানে যে কেউ নকল করছে নাকি না।
এক দিক বিজয়, সে মুসলিম নবাবের গিয়েছিল, “আমি আপনার যে কোন পণ্ডিতকে হারাবো।” নবাব রাজা কৃষ্ণচন্দ্রকে বার্তা পাঠায় যে তুমি হচ্ছ নবদ্বীপের রাজা, দয়া করে একটা পণ্ডিত পাঠাও, কিন্তু নবদ্বীপ থেকে কেউই যেতে চাইছিল না। গোপাল ভার তিনি বললেন যে, “আমি যাব।” তিনি মাথা মুণ্ডন করে, হরিনাম চাদর পরে, তিনি বৈষ্ণব সাজিয়েছে এবং তিনি একটা ভাঙ্গা খাট থেকে পায়া ভেঙে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি মালদাতে রামকেলি থেকে নবাবের রাজধানীতে গিয়েছিলেন, যখন তিনি সেখানে যান, তিনি বলেন, “আমি ক্লান্ত এবং ক্ষুধার্ত।” তারা তাকে ভালো প্রসাদ দেয়, তারপর সে বিশ্রাম নেয় ও ভালোভাবে খাবার খায়। নবাব উদগ্রীব ছিলেন যে কখন তিনি আসবেন, আর এই পণ্ডিতের সাথে সাক্ষাৎ করবেন। “আমি এখনও একটু ক্লান্ত, আমি ১-২ দিনের মধ্যে যাবো।” তাই তিনি বিশ্রাম করছিলেন ও ভালোভাবে আহার করছিলেন। যখন তিনি বের হয়ে আসেন, তখন তার কাছে ভাঙ্গা বিছানার পায়া কাপড় দিয়ে মোরা ছিল। সেই পণ্ডিত দিক বিজয় জিজ্ঞেস করল, “এটা কি?” তিনি বললেন, “এটি হচ্ছে আমার খাটভাঙ্গা পুরান, খাট ভাঙ্গা পুরান সব জানে।” তিনি বললেন, “এটা কথা বলছে! আমি একটা বার্তা পাচ্ছ। এই খাট ভাঙ্গা পুরান বলছে যে, যদি কেউ ১৫ মিনিটের মধ্যে এই দিকবিজয় পণ্ডিতের একটা চুল পায়, তাহলে সে সব সৌভাগ্য লাভ করবে!” তখন সেই নবাবের বিচারালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রীরা ও সভাসদেরা সেই পণ্ডিতের মাথা থেকে একটা চুল নিতে যায়, আর তখন সেই দিক বিজয় “ওহ না! বাঁচাও!” বলে দৌড়ে পালায়। এইভাবে গোপাল ভার বিজয়ী হয়েছিলেন। তখন তিনি সরকার থেকে একটা পুরস্কার পান, তিনি কৃষ্ণনগরের ফিরে আসেন ও রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাকে জিজ্ঞেস করেন, “খাট ভাঙ্গা পুরান কি? পুরান মানে পুরনো এবং খাট ভাঙ্গা মানে খাটের ভাঙ্গা অংশ। তারপর তিনি তার খাট ভাঙ্গায় মোড়ানো কাপড় খোলেন ও সেই খাটের ভাঙ্গা পায়া দেখান। তারপর রাজা বলে, “গোপাল, তুমি এটা কিভাবে করলে?”
“কোনো পণ্ডিত মুসলিম শাসকের কাছে, নবাবের কাছে গেছে বেদ নিয়ে আলোচনা করতে। তো নবাব বেদের কি জানে? তাই, আমি জানতাম না যে যদি কেউ নবাবের কাছে গেছে, তাহলে সে মূর্খ! এই কারনে আমি আমার খাট ভাঙ্গা পুরান নিয়ে গিয়েছিলাম।”
“গোপাল, তুমি দারুন!”
এই কারণে আমাদের স্বজাতিকে বন্ধু হিসেবে দরকার।
যাইহোক, এখন নটা বেজে গেছে। আমাদের গুরুদেবের আশ্রয় গ্রহণ করা উচিত। আমাদের ভক্ত বন্ধু থাকা উচিত এবং আমাদের সেই সব মানুষদের প্রতি করুণা থাকা উচিত, যারা কৃষ্ণভাবনাময় নয়। আমাদের সবসময় কৃষ্ণ ও তাঁর প্রতিনিধির আশ্রয়ে থাকা উচিত।
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ