Text Size

২০২১০৫০১ শ্রীমদ্ভাগবতম ১.৮.২২

1 May 2021|Duration: 00:42:58|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

নিন্মোক্ত প্রবচনটি শ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ ১ মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারতে প্রদান করেছেন। এই প্রবচন শ্রীমদ্ভাগবতের ১.৮.২২ শ্লোক পাঠের মাধ্যমে শুরু হয়েছে।

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায় 

শ্রীমদ্ভাগবতম ১.৮.২২
নমঃ পঙ্কজাভায় নমঃ পঙ্কজমালিনে।
নমঃ পঙ্কজ নেত্রায় নমঃ পঙ্কজ জাংঙ্ঘয়ে।। 
 

অনুবাদ:- হে পরমেশ্বর, তোমার উদর কেন্দ্রের নাভিদেশ পদ্মসদৃশ আবর্তে চিহ্নিত, গলদেশে পদ্মের মালা নিয়ত শোভিত, তোমার দৃষ্টিপাত পদ্মের মতো স্নিগ্ধ এবং পাদদ্বয় পদ্ম চিহ্নাঙ্কিত, তোমাকে আমরা সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি।          

তাৎপর্য:- পরমেশ্বর ভগবানের চিন্ময় শরীরে যে বিশেষ লক্ষণগুলি অন্য সকলের শরীর থেকে তার শরীরের পার্থক্য নির্নয় করে তার কয়েকটি লক্ষণ এর উল্লেখ এখানে করা হয়েছে। সেগুলো ভগবানের শরীরের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। ভগবান আমাদের মতো প্রতিত হতে পারেন। কিন্তু তিনি সর্বদাই তার শরীরের বিশেষ চিহ্নগুলো দ্বারা সতন্ত্র থাকেন। শ্রীমতী কুন্তী দেবী বলেছেন যে, তিনি একজন নারী হওয়ার ফলে ভগবানের দর্শনের অযোগ্য। তিনি একথা বলেছেন কেননা স্ত্রী,শুদ্র (শ্রমিক শ্রেণী) এবং দিজবন্ধু বা উচ্চবর্ণের অযোগ্য বংশধর, এরা বুদ্ধির দ্বারা ভগবানের চিন্ময় নাম, রূপ, যশ, লক্ষণ ইত্যাদি বিষয়ে অবগত হওয়ার অযোগ্য। এই প্রকার ব্যক্তিরা ভগবানের চিন্ময় লীলাবিলাস অবগত হতে অক্ষম হলেও তাঁর অর্চা-বিগ্রহ রূপে তাঁকে দর্শন করতে পারেন, যেইরূপ তিনি অধঃপতিত জীবদের এমনকি উপরেলিখিত স্ত্রী, শুদ্র এবং দিজবন্ধুদেরও কৃপা করার জন্য এই জড় জগতে অবতরণ করেন। যেহেতু এই প্রকার অধঃপতিত জীবেরা জড়ের অতীত কোনো কিছুই দর্শন করতে পারে না, তাই ভগবান গর্ভোদকশায়ী বিষ্ণু রূপে অসংখ্য ব্রহ্মাণ্ডের প্রত্যেকটি তে প্রবেশ করেন এবং সেখানে তার অপ্রাকৃত নাভি থেকে উত্থিত একটি কমলে ব্রহ্মাণ্ডের প্রথম জীব ব্রহ্মার জন্ম হয়। তাই ভগবান পঙ্কজনাভি নামে পরিচিত। ভগবান পঙ্কজনাভি প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান যথা মন, কাঠ, মাটি, ধাতু, রত্ন রং, বালুকাপৃষ্ঠে অঙ্কিত চিত্র ইত্যাদির দ্বারা প্রকাশিত অর্চা বিগ্রহের (অপ্রাকৃত) রূপ পরিগ্রহ করেন। ভগবানের এই সমস্ত রূপ সর্বদা পদ্মফুলের মালায় ভূষিত থাকেন, এবং জড় কার্যকলাপে সর্বদা যুক্ত অভক্তদের আকর্ষণ করার জন্য তাঁর মন্দিরের পরিবেশ অত্যন্ত শান্ত ও স্নিগ্ধ হওয়া উচিৎ। ধ্যানিরা তাদের মনের মধ্যে ভগবানের রপের আরাধনা করেন। এইভাবে যারা মন্দিরে যান তাঁরা সাধারণ পৌত্তলিক নন, যা অল্পবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষরা অনেক সময় মনে করে থাকে। সমস্ত মহান আচার্যরা সর্বত্র অল্পবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের কৃপা করার জন্য এই প্রকার মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছেন। যারা শুদ্র এবং স্ত্রী বা তার থেকেও নিম্নস্তরে রয়েছে, তাদের এমন ভান করা উচিত নয় যে তারা মন্দিরে ভাগাবনের পূজা করার স্তর অতিক্রম করেছে। ভাগবনের শ্রী বিগ্রহের দর্শন শুরু করতে হয় তাঁর শ্রী পাদপদ্ম থেকে, তারপরে ধীরে ধীরে তার জানুদেশ, কটিদেশ, বক্ষদেশ এবং মুখমন্ডল দর্শন করতে হয়। ভগবানের শ্রী পাদপদ্ম দর্শন না করে তাঁর মুখমন্ডল দর্শন করা উচিত নয়। শ্রীমতী কুন্তীদেবী ভগবানের পিতৃষ্বসা হওয়ার ফলে তাঁর শ্রীপাদপদ্ম থেকে দর্শন করতে শুরু করেননি, কেননা তাহলে ভগবান হয়তো লজ্জা অনুভব করতেন। এইভাবে ভগবানকে অপ্রস্তুত না করার জন্য তিনি তাঁর শ্রী পাদপদ্মের উপর থেকে, অর্থাৎ তাঁর কোমর থেকে তাঁকে দর্শন করতে শুরু করেছিলেন। এবং ধীরে ধীরে তাঁর ঊর্ধ্বভাগে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তাঁর মুখমন্ডল এবং পরে তাঁর শ্রী পাদপদ্ম দর্শন করেছিলেন। গোলকে সবকিছুই শৃঙ্খলাবদ্ধ ভাবে অবস্থিত।

*** 

জয়পতাকা স্বামী:- আজকের শ্লোক অত্যন্ত সুন্দর। আমরা বুঝি যে যদিও কৃষ্ণ আমাদের মধ্যে আসেন, তবে তিনি হচ্ছেন বিশেষ। তিনি হচ্ছেন ব্যক্তি, তিনি আমাদের মত নয়, ওঁনার বিভিন্ন পদ্মের মত উদাহরণ হয়েছে। কুন্তী দেবী তাঁর মহিমা বর্ণনা করে বলেছেন যে ওঁনার নাভি পদ্মের মতো এবং সব সময় তিনি পদ্ম মালা দ্বারা সুসজ্জিত। তাঁর দৃষ্টি পদ্মের মতো এবং তাঁর শ্রীচরণ পদ্ম চিহ্ন দ্বারা চিহ্নিত। তাই, কুন্তি দেবী তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করছিলেন যে একজন নারী হওয়ায় তিনি ভগবানের এই দিব্য গুণাবলী প্রকৃতপক্ষে বুঝতে সক্ষম নয়, তিনি এক অত্যন্ত বিনয়ীভাব প্রকাশ করছেন। তিনি হচ্ছেন সমগ্র বিশ্বের শাসকের রাণী মা, তিনি হচ্ছেন ভগবানের ব্যক্তিগত পার্ষদ এবং বাহ্যিক সম্পর্কের দিক থেকে তিনি হচ্ছেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পিসি। বৈদিক সংস্কৃতি অনুসারে নারী, শূদ্র, দ্বিজবন্ধু, তারা উচ্চ তত্ত্বগত বিষয়বস্তু বুঝতে অক্ষম। যদিও তিনি ছিলেন একজন রানী কিন্তু তিনি ছিলেন অত্যন্ত উন্নত। তবে তিনি অবনমিত পদ গ্রহণ করেছিলেন। এখন আমাদের যে কি অবস্থা, কলি যুগে সবাই তো শূদ্র থেকে নিচে। বেদে বলা হয়েছে — কলৌ শূদ্র সম্ভব। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এক বিশেষ লীলার জন্য এসেছেন। প্রত্যেক অবতারের বিশেষ লীলা থাকে।  কৃষ্ণ পরমেশ্বর ভগবান রুপে এসেছিলেন এবং তিনি তাঁর মধুর লীলা করেছিলেন, কিন্তু চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচারের জন্য অবতীর্ণ হয়েছিলেন। চৈতন্য মহাপ্রভু হচ্ছেন কৃষ্ণ, কিন্তু এসেছেন ভক্তরূপে এবং তাঁর লীলায় আমরা দেখি যে সমগ্র জগত কৃষ্ণভাবনাময় এবং কৃষ্ণের লীলার সময় পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। চৈতন্য মহাপ্রভু এসেছিলেন যাতে প্রত্যেকেই কৃষ্ণের ভক্ত হয়, তাই কিভাবে এই কৃষ্ণভাবনামৃত সমগ্র বিশ্বে বিস্তারিত হবে? তা হয়ত কিছুটা তুলনাহীন। শ্রীল প্রভুপাদের প্রণাম মন্ত্রে আমরা বলি — “নমস্তে সারস্বতে দেবে” তিনি আমাদের পরিচয় বর্ণনা করছেন। আমরা হচ্ছি সারস্বত, ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের অনুগামী। নমস্তে সারস্বতে দেবে — শ্রীল প্রভুপাদ বর্ণনা করছিলেন যে তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুর এই বাণী প্রচার করছিলেন। শূন্যবাদী মায়াবাদি — আমরা শূন্যবাদী, মায়াবাদী মধ্যে আছি এবং তিনি সমগ্র বিশ্বে প্রচার করেছেন। এখন ভারতবর্ষে কতজন আসলে ঠিক মত ব্রাহ্মণ ধর্ম পালন করে, এটাও সন্দেহ আছে। কিন্তু পাশ্চাত্য জগতে তারা শূদ্রের থেকেও নিচ, তবে চৈতন্য মহাপ্রভু এই কৃষ্ণভাবনামৃত সমগ্র বিশ্বের প্রতি নগর ও গ্রামে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর প্রভুপাদ, তিনি অন্য জাতের ব্যক্তিদেরও ব্রাহ্মণ পৈতে দিয়েছিলেন, যদি তারা বৈষ্ণব নিয়ম নীতি অনুসরণ করতো তাহলে। শ্রীল প্রভুপাদও পাশ্চাত্য দেশে তাই করেছেন, যদিও তিনি মহিলাদের ব্রাহ্মণ পৈতে দেননি, কিন্তু তিনি তাদেরকে গায়ত্রী মন্ত্র দিয়েছিলেন। এইভাবে কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলন সমগ্র বিশ্বে প্রসারিত হচ্ছে।

এখানে এই তাৎপর্যে শ্রীল প্রভুপাদ মন্দির প্রতিষ্ঠার মহিমা বর্ণনা করছেন, কারণ আমাদের যেহেতু অধিকার নাই যে কৃষ্ণকে দর্শন করতে। এর মানে এই নয় যে ভগবান নেই। শ্রীল প্রভুপাদ বলছিলেন যে, ঠিক যেমন একজন ব্যক্তির চোখে ছানি হলে বা চোখে অন্য কোন রোগ হলে তিনি হয়ত কিছু দেখতে না পারেন, কিন্তু তার মনে এই নয় যে সেই বস্তুটি নেই। এখন কৃষ্ণকে দেখা যায়, দেখতে গেলে প্রেম মলম চোখে দিতে হয়। যেহেতু আমাদের তা নেই, তাই আমরা মন্দিরে শ্রীবিগ্রহকে দর্শন করি। সকল আচার্যগণ, ষর গোস্বামীগণ তারা এই শ্রীবিগ্রহগণকে প্রতিষ্ঠা করেছেন, একইভাবে আমরা সমগ্র জগতে বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেছি। তারা কোন মূর্তি নয়, তারা কোন মিথ্যা প্রতিচ্ছবি নয়, এবং বৈদিক নিয়ম অনুসারে সেইভাবে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয় ও সেইভাবে বিগ্রহ পূজা হয়, আসলে কৃষ্ণ তাঁর শ্রীবিগ্রহ রূপে উপস্থিত থাকেন। তিনি ভক্তদের থেকে তার শ্রীবিগ্রহের মাধ্যমে পূজা গ্রহণ করেন। যেহেতু আমরা বৈধি-ভক্তির স্তরে আছি, তাই আমরা শ্রীবিগ্রহকে লক্ষ্মীনারায়ণ রূপে ঐশ্বর্যের সাথে অর্চনা করি।

গৌরকিশোর দাস বাবাজির দুজন শিষ্য ছিলেন — একজন হচ্ছেন ভজনানন্দী এবং আরেকজন ছিলেন গোষ্ঠীয়ানন্দী। তিনি ছিলেন ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর গোস্বামী। ভজনানন্দী বংশী দাস বাবাজীর তাঁর শ্রীবিগ্রহের সাথে এক বিশেষ সম্পর্ক ছিল, তিনি তাঁর শ্রীবিগ্রহকে গঙ্গা স্নান করাতেন এবং আরো অনেক কিছু করতেন। আমরা তাঁকে অনুকরণ করতে পারি না, শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে আমাদের মন্দিরে শাস্ত্রের নিয়মনীতি অনুসরণ করে শ্রীবিগ্রহের সেবা-পূজা ঐশ্বর্যপূর্ণভাবে করা উচিত। আসলে বৃন্দাবনে কৃষ্ণকে শুদ্ধ প্রেম দ্বারা অর্চনা করা হয়। কিন্তু তিনিও বাহ্যিকভাবে কিছু নিয়ম অনুসরণ করেন। যাইহোক, শ্রীকৃষ্ণ পরমেশ্বর ভগবান হওয়ায়, কখনও কখনও তিনি এমন কিছু করেন, যেমন গোবর্ধন পর্বত তোলা। তাই, কোন সাধারণ মানুষের দ্বারা তা সম্ভব নয়। চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি প্রচ্ছন্নভাবে একজন সাধারন ভক্তের মতো এসেছিলেন, কিন্তু কখনও কখনও তিনি অলৌকিক কিছু করতেন। রথযাত্রার সময় তিনি একইসময়ে নিজেকে সাতটি রূপে বিস্তারিত করেছিলেন এবং তিনি প্রত্যেক সংকীর্তন দলে ছিলেন। সেই সময় রাজা প্রতাপরুদ্র তাঁকে দেখেছিলেন। এখন আমাদের কাছে কোন কিছু তুলে রাখার জন্য ভিডিও এবং অন্যান্য কিছু আছে, কিন্তু সেই সময় কেবল রাজা তা দেখতে পারছিলেন, কারণ তিনি সেই স্তরে উন্নীত হয়েছিলেন। এছাড়া তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুর বিশেষ কৃপাও পেয়েছিলেন এবং তারপর রথ থেমে গিয়েছিল। যারা সবাই রথ টানছিল, তারা আর তা টানতে পারছিল না। গৌর বাসীরা তা টানতে পারছিলেন না, যদিও তারাই রথ টানছিলেন। রাজা তিনি বড় পালোয়ানদের এনেছিলেন, সেই পালোয়ানদের তা টানার জন্য এনেছিলেন। তারাও রথকে সরাতে পারেনি। এবং তিনি হাতি এনেছিলেন। তার একটি নাম হচ্ছে গজপতি মহারাজ, যার মানে অনেক হাতিদের রাজা। তিনি সব হাতিদের রথকে টানার জন্য এনেছিলেন। অঙ্কুশ দিয়ে হাতির সাথে তা লাগানো হয়েছিল, কিন্তু তারা কাঁদছিল, চেঁচাচ্ছিল, “আহ!!! আহ!!!” তবুও রথ সরছে না। তখন চৈতন্য মহাপ্রভু প্রত্যেককে দড়ি ছেড়ে দিতে বললেন এবং সেই দড়ি তাঁর পার্ষদদের দিতে বললেন। তারপর তিনি রথের পিছনে তাঁর মাথা ঠেকিয়েছিলেন এবং রথ খুব তাড়াতাড়ি আগে এগোতে শুরু করে। রথের চাকা যাচ্ছিল গড! গড! গড! গড! করে। এই ছিল চৈতন্য মহাপ্রভুর অলৌকিক লীলা। আমাদের বোঝা উচিত যে চৈতন্য মহাপ্রভুর লীলাও অনন্য। কৃষ্ণ এই জগতে আসুরিক রাজা ও সৈন্যদের নিহত করতে এসেছিলেন, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ করলেন এবং এইভাবে সমস্ত সৈন্য মরে গেছে। কিন্তু কুন্তী দেবী তিনি কৃষ্ণকে অনুরোধ করেছিলেন, “দয়া করে আমার পুত্রদের রক্ষা কর!” তিনি এতই মহান যে কৃষ্ণ তা করেছিলেন, আমরা বুঝতে পারি যে তিনি ভগবানের এক অত্যন্ত বিশেষ ভক্ত ছিলেন। 

চৈতন্য মহাপ্রভু এসছেন, ওঁনার একটা উদ্দেশ্য “পৃথিবীতে আছে যত নগরাদি গ্রাম, সর্বত্র প্রচার হইবে মোর নাম” — বিশ্বের প্রতি নগর ও গ্রামে আমার নাম প্রচারিত হবে। তাই, আমাদের বাধাধরা চিন্তাহীনভাবে এইসব ভাবা উচিত নয়, আমাদের সবকিছুকে এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে, যেমনভাবে চৈতন্য মহাপ্রভু চেয়েছেন। চৈতন্য মহাপ্রভু চেয়েছেন যে মানুষেরা যাতে পরমেশ্বর ভগবানকে গ্রহণ করে। কেবল তাঁকে গ্রহণ করাই না, তাঁকে ভালোবাসা। এই ছিল যীশুখ্রিস্টেরও নির্দেশ। তিনি এই নির্দেশ দিয়েছিলেন যে প্রত্যেকের ভগবানকে ভালোবাসা উচিৎ। তাই, প্রভুপাদ উনি এমনভাবে প্রচার করলেন যে সমস্ত ধর্ম এটা মানতে পারে। চৈতন্য চন্দ্রচরণ দাস আমার শিষ্য, কিন্তু তিনি একজন দীক্ষা গুরু। এবং তার শিষ্যরা আমাকে একটি ভিডিও পাঠিয়েছিল যে কিভাবে তিনি এত প্রচার করছেন। আমরা চাই সকল ভক্তরা যারা প্রচার করার যোগ্য, তারা গুরুর নির্দেশ সহ এমনকি হয়তো গুরু উপস্থিত থাকাকালীনও দীক্ষা গুরু হতে পারে। চৈতন্য মহাপ্রভু বলেছিলেন যে “কিবা বিপ্র কিবা ন্যাসী শূদ্র কেনে নয়, যেই কৃষ্ণতত্ত্ব বেত্তা সেই গুরু হয়।” আপনি শূদ্র হন বা সন্ন্যাসী হন বা ব্রাহ্মণ হন, তা কোন ব্যাপার নয়! কেউ যদি কৃষ্ণভাবনামৃত তত্তবেত্তা হয়, তাহলে তিনি আধ্যাত্মিক গুরু হওয়ার যোগ্য। তাই, আমরা চাই মানুষেরা কৃষ্ণভাবনামৃতের বিজ্ঞান জানুক এবং তাদের এই বাণী প্রচার করা উচিত। যদি তারা সেই বিজ্ঞান জানে, তাহলে পুরুষ বা মহিলা, যেই হোক তারা যদি বিজ্ঞান জানে, তাহলে তারা গুরু হতে পারবে। এই ছিল চৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষা। আমরা দেখতে চাই যে কোন না কোনভাবে এই আন্দোলন যাতে সমগ্র বিশ্বে প্রচারিত হয়। এখন দ্বাপর যুগে যে পরিস্থিতি ছিল সেটা অন্যরকম, কলিযুগে চৈতন্য মহাপ্রভুর অনুগামী এখন আমরা এইভাবে প্রচার করতে পারি। শ্রীমদ্ভাগবতের দ্বিতীয় স্কন্ধে এটি বলা হয়েছে যে ভগবানের শুদ্ধ ভক্তের শরণ গ্রহণ করার মাধ্যমে এমনকি পাপী ব্যক্তিও উদ্ধার প্রাপ্ত হতে পারবে। ভগবদগীতায় কৃষ্ণ বলেছেন “স্ত্রিয়ো বৈশ্যাস্তথা শূদ্রা” — তারাও উদ্ধার পেতে পারবে যদি তারা সরাসরি ওঁনার শরণ গ্রহণ করে। এই কলিযুগে আমরা এক যুদ্ধে আছি, কারণ মানুষেরা কৃষ্ণকে ভুলে গেছে। তারা কোভিড ১৯-এর এই মহামারীতে কষ্টভোগ করতে বাধ্য হচ্ছে, এমনকি আমাদের ভক্তরাও কষ্ট পাচ্ছে। এর সমাধান হচ্ছে আমাদের প্রত্যেককে কৃষ্ণভাবনাময় করে তোলা উচিত।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 6/FEB/2024
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions