Text Size

২০২১০৪২৩ - ৭২তম ব্যাসপূজা উপলক্ষে সন্ধ্যায় প্রদত্ত প্রবচন

23 Apr 2021|Duration: 00:20:53|Bengali|Vyāsā-pūjā Glorifications|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

জয়পতাকা স্বামী:- কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ আমাকে এই নবদ্বীপ ধামের পবিত্র ধামে থাকার বিশেষ অহৈতুকি কৃপা প্রদান করেছেন মায়াপুর যা হল শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর লীলাভূমি, জন্মভূমি তখন তিনি আমাকে বলেছিলেন ভারতীয় নাগরিক হতে এবং এখানে থাকতে এবং ধামের উন্নতি করতে ও আরো অনেক অন্যান্য জিনিস করতে তাই আমাকে এত সেবা প্রদান করার জন্য আমি ওঁনার কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।

এইজন্য যে তিনি অনেক ভক্তদের আমাকে সাহায্য করার জন্য পাঠিয়েছেন তাই যেমন আপনারা শুনেছেন, তিনি আমাকে প্রতিমাসে ১০০০০ বড় গ্রন্থ এবং ১০০০০০ ছোট গ্রন্থ বিতরণের নির্দেশ দিয়েছিলেন তাই তারা গণনা করেছে যে আমরা ৬৫ হাজার গ্রন্থ বিতরণ করেছি এবং আমাদের এখনো ৬০ হাজার বড় গ্রন্থ বিতরণ বাকি রয়েছে। এবং ১মিলিয়ন ২০০ হাজার ছোট গ্রন্থ। এটা এমন নয় যে আমাকে এটা ব্যক্তিগতভাবে বিতরণ করতে হবে। কিন্তু কোন না কোনভাবে তাদেরকে এগুলি বিতরণ করতে হবে। আমার এলাকায় বা আমার শিষ্যদের দ্বারা তাই, ঠিক যেমন আমাদের একজন শিষ্য আছেন ডেনভর, যিনি এক হাজার গ্রন্থ বিতরণ করেছেন। তারা ডেনভরের হয়ে সেখানে থেকেছিলেন, সেটা ঠিক আছে তবে তারপর তারা আমাকে তা জানান, এতগুলি গ্রন্থ বিতরণ হয়েছে। তো এইভাবে আমরা দেখতে পারি যে কত গ্রন্থ বিতরণে আমরা বিতরণ করতে পেরেছি।

একইভাবে, আমার এলাকায় অনেক মন্দির তাদের গ্রন্থ বিতরণের বিবরণে পাঠায় না তাই এমনকি যদি তারা দশটি গ্রন্থ বা একটি গ্রন্থও বিতরণ করে, তাদের সেই সংখ্যা আমাকে পাঠানো উচিত। তাহলে, এইভাবে আমরা দেখতে পারবো যে আমি কত গ্রন্থ বিতরণ করতে পেরেছি। ১০০,০০০ ছোট গ্রন্থ হল প্রায় ৫০,০০০ বই পয়েন্ট এবং ১০,০০০ বড় গ্রন্থ হল ২০,০০০ বইয়ের পয়েন্ট এর মানে আমাকে কোন না কোনভাবে ৭০,০০০ বই পয়েন্ট বিতরণ করতে হবে। কিছু মানুষেরা আমাকে গ্রন্থের অনুদান দেয়। আমার এলাকার কিছু কিছু মন্দিররা তাদের গ্রন্থ বিতরণের সংখ্যা পাঠিয়েছে এইভাবে আমি দেখতে চাই যে আমি কত গ্রন্থ বিতরণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছি। কিন্তু এটা জরুরী নয় যে আমি গ্রন্থের পয়েন্টগুলি পাব, আমি শুধু শ্রীল প্রভুপাদের কৃতিত্ব চাই। প্রভুপাদ আমাকে আদেশ দিয়েছিলেন ৫০০০০ শিষ্য বানানোর জন্য তাই, কোন না কোন ভাবে আমি তা সম্পন্ন করেছি আমরা সেটা অর্জন করেছি বলে ভাবিনা, তবে আসলে দীক্ষা প্রদান করা হল এটির একটি অংশ এবং ভক্তদের প্রযত্ন গ্রহণ আরো এক বড় ব্যাপার। যেমন শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে, “একজন ভক্তকে তৈরি করতে আমাদের বালতি বালতি রক্ত দরকার হয়” তাই আমার সকল শিষ্যদের প্রযত্ন গ্রহণের ক্ষেত্রে সাহায্য দরকার। এবং এছাড়াও শিক্ষা শিষ্য, আকাঙ্ক্ষী শিষ্য এবং অন্যান্য ভক্তরা যারা আমার সাহায্য চান। এইভাবে, আমি চাই মানুষেরা যাতে আমাকে অন্যদের সাহায্য করতে সাহায্য করেন।

শ্রীল প্রভুপাদ আমাকে ৩০টি জিনিস করতে আদেশ দিয়েছিলেন এবং এ ছাড়াও সেইসব আদেশ আছে যা তিনি সকল ভক্তদের করতে বলেছিলেন তিনি বলেছিলেন যে, আমাদের গৌর মণ্ডল ভূমি বিকশিত করা উচিত এবং শ্রীপাটের উন্নতি করা উচিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সকল পার্ষদরা নিত্য সিদ্ধ তাই, তাদের স্থানগুলি সুরক্ষিত, সংরক্ষিত এবং বিকশিত হওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ সেবা এখন শ্রীল প্রভুপাদ আমাকে বলেছিলেন ভক্তি বিনোদ ঠাকুরের আবির্ভাব স্থানের উন্নতি করতে এবং তিনি আরো অনেক কিছু বলেছিলেন, একসময় তিনি আমাকে বৈদিক তারামণ্ডলী(TOVP) নির্মাণের কথা বলেছিলেন এটা এমন নয় যে আমি তা একা করব এটা বিশ্বের গোষ্ঠীমণ্ডলের প্রচেষ্টা। এছাড়াও শ্রীল প্রভুপাদ আমাকে প্রদর্শনীর বিষয়টি দেখতে বলেছিলেন। আগে আমাদের এখানে ভক্তরা ছিলেন যেমন ভক্তি স্বরূপ দামোদর স্বামী এবং সদপূত তারা এখন চলে গেছেন, আমি তাদের মত যোগ্য নই। কিন্তু আমাকে কিছু না কিছু করতে হবে, তা করার জন্য অনেক কিছু আছে।

শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন আমরা যাতে সারস্বত পরিবারকে একত্র করি তিনি আমাকে এটাও বলেছিলেন যে জগন্নাথ পুরীতে প্রবেশের জন্য যাতে ভক্তরা অনুমতি পায় সাম্প্রতিক আমি গজপতি মহারাজের কাছে একটি চিঠি লিখেছিলাম, তিনি আমাকে প্রতিউত্তরে লিখেছেন, “ঠিক আছে, আপনার পুরীর শংকরাচার্যর সাথে কথা বলা উচিত।” তিনি হলেন পণ্ডিতদের মুখ্য এবং পুরীর আগের শঙ্করাচার্যের সাথে আমার কিছু কথোপকথন হয়েছিল যাইহোক, আমরা চেষ্টা করব কিন্তু এমন কিছু বিষয় আছে যেগুলি বন্দুক দিয়ে শিকারের মত, অসম্ভব! কিন্তু শ্রীল প্রভুপাদ তা করতে বলেছেন তাই আমি চেষ্টা করব এবং আমি সকল ভক্তদের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যে তারা আমাকে সাহায্য করছে।

আমার জয়পতাকা স্বামী অ্যাপে, আমি শ্রী প্রভুপাদের দেওয়া কিছু নির্দেশাবলী রেখেছি এবং ভক্তদের জিজ্ঞেস করেছি, কারা তাতে সেবা করতে চায় কিন্তু শ্রীল প্রভুপাদ আমাকে যে ৩০ টি জিনিস করতে বলেছিলেন, আমাকে তার থেকেও বেশি কিছু করতে হবে এবং আমি দেখেছি সেখানে অ্যাপের মধ্যে ১৬ বা ১৭ টি উল্লেখ করা হয়েছে যাই হোক, আমরা চাই ভক্তরা — চৈতন্য চন্দ্রচরণ দাসের প্রতি খুব খুশি হয়েছি,  তার গ্রন্থ বিতরণ এবং এক খুব সুন্দর বিস্তারিত বিবরণী যে কিভাবে প্রচারকেন্দ্র, নামহট্ট হয়েছে, কত বাড়িতে হয়েছে, কত গ্রন্থ বিতরণ হয়েছে আরও কত কিছু। এইভাবে আমরা দেখছি যে কিভাবে এই আন্দোলন আমার প্রশিষ্যদের দ্বারা বিস্তারিত হচ্ছে আমি আশা করি যে জিবিসি আরো অনেক নতুন শিষ্যদের আমার এই দায়িত্ব গ্রহণের অনুমতি প্রদান করবে।

আমি উপজাতির যত্ন গ্রহণের উদ্যোগের জন্য অত্যন্ত খুশি হয়েছি এবং অন্যান্য বিভিন্ন প্রোগ্রামের জন্য যে কিভাবে নামহট্ট পূর্ব ভারতে বিস্তার লাভ করেছে প্রায় ৪০০০ নামহট্ট হয়েছে, কিভাবে মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার ভক্তরা রয়েছে, আমরা চাই প্রত্যেক ভক্ষরা অত্যন্ত আন্তরিক হোক এবং অত্যন্ত পরিপক্ক হোক এবং কৃষ্ণভাবনামৃতে পরিপূর্ণ স্তর প্রাপ্ত হোক, যাতে তারা সরাসরিভাবে আধ্যাত্মিক জগতে ফিরে যেতে পারে।

আমি শ্রীল প্রভুপাদকে বলেছিলাম, “আমি আপনাকে জন্ম জন্মান্তর ধরে সেবা করতে চাই” তিনি বলেছিলেন, “তুমি কেন চাও আমি আবার ফিরে আসি?” “ঠিক আছে আমি আপনাকে এমনকি জন্ম জন্মান্তর ধরেও সেবা করতে চাই!” যদি আমি যোগ্য না হই তাহলে আমি পরবর্তী জন্মেও আপনাকে সেবা করবো। এইভাবে আমরা চাই প্রত্যেক ভক্তরা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, শ্রী নিত্যানন্দ প্রভুর সেবার প্রতি নিবেদিত হোক। কৃষ্ণভাবনামৃতের স্বাদ আস্বাদন করতে পারুক তাদের অত্যন্ত আনন্দ সহকারে হরে কৃষ্ণ জপ করা উচিত সকল পুরুষ এবং নারীরা, সকল ছেলেমেয়েরা তারা কৃষ্ণভাবনামৃতে পরিপূর্ণতা অর্জন করুক এবং এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মানুষেরা আমাকে জিজ্ঞেস করে যে আমি কিভাবে খুশি হব? তারা শ্রীল প্রভুপাদকেও তা জিজ্ঞেস করেছিলেন, আমি বলেছি, আমি অত্যন্ত আনন্দিত হব যখন আমার শিষ্যরা কৃষ্ণের প্রতি তাদের প্রেম বিকশিত করবে শ্রীল ভক্তি সিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর বলেছিলেন যে যদি আমি একজনকেও মধ্যম অধিকারী করতে পারি, তাহলে তিনি তার এই পুরো আন্দোলন সফল বলে মনে করবেন। আমরা জানি যে প্রহ্লাদ মহারাজ ছিলেন গোষ্ঠীয়ানন্দী। তাই যদি একজন ভক্ত গোষ্ঠীয়ানন্দী হয়, তাহলে তাদের ভাবা উচিত যে তারা অন্যদেরকে কৃষ্ণভাবনাময় করার মাধ্যমে কিভাবে সাহায্য করবে এবং এই হল আসল সফলতা তারা কৃষ্ণের প্রীতিবিধান করতে চায় সমগ্র জগত চাইছে ইন্দ্রিয় তৃপ্তি করতে কিন্তু ইন্দ্রিয় গুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সুখ বা দুঃখ অনুভব করে, ঠিক যেমন আমরা দুঃখ পেতে চাই না কিন্তু তা এমনি আসে সেই রকমই এমনকি যদি আমরা সুখের জন্য আশা না করি, তাহলেও তা এমনি আসবে কিন্তু আমাদের উচিত কৃষ্ণের সেবা করা, এটিই হলো বেঁচে থাকার একমাত্র উদ্দেশ্য আমাদের শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর লীলা কথা শ্রবন করতে হবে, যখন আপনি কৃষ্ণের লীলা কথা শ্রবণ করবেন তখন স্বাভাবিকভাবেই আপনি আসক্ত হবেন আর আমরা ভগবানের সেবা করতে চাই আমি আশা করি যে সকল ভক্তরা ভগবানের সেবার প্রতি তাদের স্বাদ বিকশিত করবে। হরে কৃষ্ণ!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions