Text Size

২০২১০৪২৩ - ৭২তম ব্যাসপূজা উপলক্ষে সন্ধ্যায় প্রদত্ত প্রবচন

23 Apr 2021|Duration: 00:36:03|Bengali|Vyāsā-pūjā Glorifications|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

জয়পতাকা স্বামী:- আজ কামদা একাদশী তাই এই অর্থে আজ এক শুভ দিন। এবং এই একাদশীর মাধ্যমে আপনি আপনার সকল বাসনা পূর্ণ করতে পারবেন। তাই আমি আশা করি যে আপনাদের আধ্যাত্মিক বাসনা আছে যে আপনারা আপনাদের সুপ্ত কৃষ্ণ প্রেমকে বিকশিত করতে চান। দীক্ষিত ভক্তরা তাদের দীক্ষার সময় প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করে যে তারা চারটি নিয়ম পালন করবে, তারা কমপক্ষে প্রতিদিন ষোলমালা জপ করবে এবং তারা আমাকে শ্রীল প্রভুপাদের নির্দেশাবলী পূর্ণ করতে সাহায্য করবে। তাই অবশ্যই আমরা আশা করি যে আপনারা কমপক্ষে এই প্রতিজ্ঞাগুলি পালন করবেন।

আমরা নির্দেশ দিয়েছি যে মহিলারা তাদের শিশু প্রসবের সময়, তারা ১৫ দিনের জপ সংখ্যা গণনা করে রাখতে পারে কারণ আমরা জানি যে সেটি খুবই কঠিন সময়। এর অর্থ যদি তারা একদিনে ৮ মালা জপ করে তাহলে তারা এক মাসের জন্য ৮ মালা জপ করতে পারে। যাই হোক, অবশ্য আমরা চাই প্রত্যেকে যারা প্রথম দীক্ষা গ্রহণ করেছে, তারা যাতে দ্বিতীয় দীক্ষা গ্রহণ করে। বর্তমানে তা করার জন্য তাদেরকে ভগবদগীতা অনেকবার অধ্যয়ন করতে হবে, তাদেরকে শ্রীমদ্ভাগবতামের তৃতীয় স্কন্দ পর্যন্ত অধ্যায়ন করতে হবে এবং তাদের ভক্তিশাস্ত্রী ডিগ্রি প্রাপ্ত হতে হবে। এটি হলো সাধারণ মানদণ্ড অবশ্য কিছু ব্যতিক্রমী বিরল ঘটনা থাকতে পারে কিন্তু আমরা সেই ব্যতিক্রম সম্পর্কে বলছি না। এবং তারপর যারা দ্বিতীয় দীক্ষা গ্রহণ করেছে, আমরা চাই তারা যাতে শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থাবলী অধ্যয়ন করা অব্যাহত রাখে, এমন নয় যে তারা দ্বিতীয় দীক্ষা পেলেন এবং সেখানেই থেমে গেলেন! আপনার পড়তে থাকা উচিত এবং শ্রীমদ্ভাগবতম অধ্যয়ন সম্পন্ন করা উচিত, চৈতন্য চরিতামৃত সম্পন্ন করা উচিত আসলে ভক্তিবৈভব ডিগ্রি, ভক্তিবেদান্ত ডিগ্রী এবং ভক্তিসার্বভৌম ডিগ্রী প্রাপ্ত হওয়া হলো আদর্শ।

শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে যদি আমরা অনেক ভক্ত তৈরি করি এবং তারা যদি তাদের আধ্যাত্মিক জীবনে আন্তরিক না হয় তাহলে তা দুধে জল মেশানোর মত। আপনি যত জল মেশাবেন, দুধ তত পাতলা হয়ে যাবে তারপর তাতে আর দুধ থাকবে না এটা সাদা জলে পরিণত হবে! তাই শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন, আমাদের দুধকে ফুটাতে হবে তাই ভক্তদের তাদের কৃষ্ণভাবনায় অগ্রগতির প্রচেষ্টা করা উচিত। এইভাবে তারা কৃষ্ণভাবনামৃতে ঊর্ধ্ব থেকে উর্ধ্বতর স্তর লাভ করতে পারবে। ভক্তিরসামৃত সিন্ধুর প্রথমে এটি বর্ণিত রয়েছে যে এখানে দুই ধরনের বিধি ভক্তি রয়েছে শুধু নিয়ম নীতি পালন করা, সেটা এক এক অংশ যদি আপনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে তা অনুশীলন করেন, তা পালন করার চেষ্টা করেন এবং উৎকর্ষতা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করেন ঠিক যেমন, যদি আপনি মেঝে পরিষ্কার করেন – আপনি এটা ডা ডা ডা এমন ভাবে ২ ঘন্টা ধরে মেঝে পরিষ্কার করতে পারেন, নয়তো আপনাকে বহিষ্কার করা হবে। আরেকটি হল তাড়াতাড়ি তা সম্পন্ন করে আমি অন্য কিছু করতে পারবো, ভালোভাবে পরিষ্কার করা এবং তা আধঘণ্টার মধ্যে শেষ করা। তারপর পরবর্তী সেবা কিন্তু শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন, আমাদের উচিত নিজেদের সেবাকে আরো ভালো করা এটি হলো রাগানুগা। তাই কেবল এটি কোন একভাবে করা সেটা হল স্বাভাবিক সেবা করা, তাতে উন্নতি করা, এবং তা আরো ভালো করার চেষ্টা করা এটি হল রাগানুগা। এবং অবশ্যই এটি অতি সাধারণ বিভাজন।

আমরা ভাবের সেই স্তর থেকে এসেছি, আপনি মহা আনন্দময়, যেখানে আপনি আসলেই ভাবে বিভোর হয়ে আপনার রোম হর্ষিত হয়, আপনার চোখ দিয়ে অশ্রু ধারা বয়। এটি হল চারটি স্তর এবং তারপর আসে প্রেমভক্তি, এটি হলো ভাবের ঊর্ধ্বে অবশ্য ভাবের ঊর্ধ্বের স্তরগুলিকে সাতটি ভাগে ভাগ করা যায় যেমন প্রথমে শ্রদ্ধা, সৎসঙ্গ– ভক্তদের সঙ্গ করা, ভজন ক্রিয়া সাধারণত এই ভজন ক্রিয়া স্তরে একজন দীক্ষা গ্রহণ করে তারপর অনর্থ্য নিবৃত্তি, সব অনর্থ, বদ অভ্যাস পরিত্যাগ করার চেষ্টা করে। তখন তারা ইতিমধ্যেই বিধি নিয়ম পালন করে কিন্তু ভক্তিমূলক সেবার এক অতি সূক্ষ্ম সম্পাদনা হয়ে থাকে, কখনো উত্সাহী এবং কখনো ধীর গতির। যখন তারা এই পর্যায়ে স্থির হয়ে যায় তখন তা হলো নিষ্ঠা যখন আপনি এর স্বাদ আস্বাদন করেন তা হল রুচি, যখন আপনি অনুরাগ বিকশিত করেন তখন তা হল আসক্তি।

একসময় মন্ট্রিলে, একজনের বাবা এবং মা আসে ও তাদের পুত্র সন্তানের সাথে কথা বলছিলেন তারা তাকে জোরে চেপে ধরার চেষ্টা করছিল এবং তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল তখন সে বলল, “না না আমি যাব না” এবং সে দরজার নবটি ধরে দাঁড়িয়ে থাকে তারা তার পা ধরে টানছিল এবং সে বলল, “না না আমি এটি ছেড়ে যেতে চাই না।” শ্রীলে প্রভুপাদ বলেছিলেন এর মানে সে তার আসক্তি বিকশিত করেছে যে কিভাবে একজন তার অভিভাবকের সঙ্গে লড়াই করছে। তাকে বাড়িতে নিয়ে যেতে চায় কিন্তু সে এখানে থাকতে চায়, সেই আসক্তি থেকে আমরা ভাব, সাত্ত্বিক বিকার বিকশিত করতে পারব।

তখন যখন আপনি হরিনাম জপ করবেন, আপনি হাসতে শুরু করবেন, আপনি এক বন্য মানুষের মতো নাচতে শুরু করবেন, হরি বোল! গৌরাঙ্গ! আপনি আপনার বাহু উর্ধ্বে করে হুংকার দিতে থাকবেন আমরা আশা করি যে আপনারা সকলে সেই ভাব এবং প্রেমের স্তরে পৌঁছাবেন তাই আমরা দেখি যে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তিনি অবশ্য উচ্চ স্তরের প্রেম বিকশিত করতেন কিন্তু তার পার্ষদরা তারা এইরকম অষ্টসাত্বিক বিকার প্রকাশিত করতেন। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে যখন আমরা ভাবতে শুরু করি যে আমি কিভাবে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রসার করতে পারব, যখন আপনি চিন্তা করবেন যে আমি কিভাবে আমার প্রতিবেশীদের কৃষ্ণভাবনাময় বানাবো, আমি কিভাবে আমার কাজের সহকারীদের কৃষ্ণভাবনাময় বানাবো, তখন আমরা যখন এমন চিন্তা করি, তখন আমরা এতে আরো স্বতঃস্ফূর্ত হই। অবশ্যই আমাকে শ্রীল প্রভুপাদ যা নির্দেশ দিয়েছিলেন তা সম্পন্ন করতে হবে, কিছু কিছু নির্দেশাবলী অন্তহীন। যেমন শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন, কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনকে অপরিসীমভাবে বিস্তারিত কর। এক অন্তহীন নির্দেশ।

তিনি বলতেন, “ঠিক আছে! গৌর মণ্ডল ভূমি বিস্তারিত কর” বিভিন্ন পবিত্র তীর্থস্থান উন্নতি করো, নবদ্বীপ ধামের উন্নতি করো। আমি বিভিন্ন শ্রদ্ধাঞ্জলি শুনছিলাম, বিভিন্ন বিস্তারিত বর্ণনা সঙ্কর্ষণ নিতাই দাস নবদ্বীপ ধাম সম্পর্কে বলছিলেন একটি বিষয় হল বাসস্থান গুলির উন্নতি করা, আরেকটি বিষয় হলো এখানে বিভিন্ন তীর্থস্থান আছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা সঠিক অবস্থান জানিনা যেমন সপ্তঋষি টিলা। অনেক বছর ধরে থাকা মোদদ্রুম দ্বীপের সেই গাছ, যেখানে সীতারাম এবং লক্ষণ ছিলেন কিন্তু আমরা সেই স্থানের অবস্থান সঠিক জানিনা এবং আমরা জানি না বৈকুণ্ঠপুর কোথায়, যেখানে শ্রীমন নিত্যানন্দ প্রভু ছিলেন কিন্তু এমন কিছু স্থান রয়েছে যেগুলি আমরা খুঁজে পাই, যেরকম মহৎপুর যেখানে পাণ্ডব এবং দ্রৌপদীরা ছিলেন, আমরা অনেক অনেক স্থান খুঁজে পাই কিন্তু সেখানে কিছুই নেই। আমাদের কিছু জমি দরকার। শ্রীমন নিত্যানন্দ প্রভু গোদদ্রুম দ্বীপে নামহট্ট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সেখানে এখন সুরভিকুঞ্জতে একটি গৌড়ীয় মঠ রয়েছে। অন্য কিছু স্থানেও গৌড়ীয় মঠ তৈরি হয়েছে, কিছু স্থান ভক্তি সিদ্ধান্ত স্বরসতী ঠাকুর সময় খুঁজে পাওয়া হয়েছিল এবং কিছু স্থান তারও আগে যেমন নরসিংহ পল্লীতে নরসিংহ মন্দির। শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর চম্পাহাটিতে গৌর গদাধর মন্দির খুঁজে পেয়েছিলেন এবং বিদ্যানগরেও। এটা অনন্তকাল ধরে রয়েছে। কিছু স্থানে মন্দির রয়েছে এবং কিছু কিছু স্থানে আমাদের মন্দির নির্মাণ করা দরকার, কোন মন্দির বা যাত্রা থেকে তারা মন্দিরের জন্য অনুদান দিতে পারে। তারপর আমরা একটি মার্বেল লিখিত হিসেবে রাখবো যে এই মন্দিরটি নিউজার্সি বা দক্ষিণ ইংল্যান্ড বা যে কেউ তারা অনুদান করেছে।

যাই হোক, আমাকে বিভিন্ন কাজে সাহায্য করা, গ্রন্থ বিতরণ, ভক্তিবৃক্ষের বিকাশ এবং আরো কত কিছু কিন্তু এছাড়াও যেমন রেবতী রমন দাশ এবং বিভিন্ন ভক্তরা বর্ণনা করেছেন আমি চাই প্রত্যেক ভক্তরা তাদের ভক্তির দুগ্ধ ফোঁটাক, এক পরিপক্ক ভক্ত হোক, একজন আচার্য হোক তারা যা প্রচার করে তা অনুশীলন করুক এবং ভবিষ্যতে একজন দীক্ষাগুরু হোক সেই কারণে আমি চাই মানুষেরা যাতে ভক্তিবেদান্ত ডিগ্রী প্রাপ্ত হতে পারে। কারণ শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে যদি কেউ কারোর ভক্তিবেদান্ত ডিগ্রী থাকে তাহলে তারা দীক্ষা প্রদান করতে পারবে। তিনি আরো বলেছেন যে সন্ন্যাস গ্রহণ করার জন্য একজনের ভক্তিবৈভব ডিগ্রি থাকা প্রয়োজন এবং দ্বিতীয় দীক্ষা প্রাপ্ত হওয়ার জন্য একজনের ভক্তিশাস্ত্রী থাকা প্রয়োজন মায়াপুর বা বৃন্দাবনে তারা তিন থেকে চার মাসের মধ্যে একটি ডিগ্রী প্রাপ্ত হতে পারে কিন্তু অনেক মানুষেরা তাদের কাজ থেকে তিন মাসের জন্য ছুটি পায় না তাই এই বোর্ড অফ এক্সামিনেশনের শিক্ষা মন্ত্রী তারা আমাকে বলেছে যে তারা আপনাদের পরীক্ষা নেবে কিন্তু আপনাকে এই কোর্সের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে না যদি আপনি শাস্ত্র জানেন, যদি আপনি শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থাবলী পড়েছেন, সুন্দরভাবে অধ্যয়ন করেছেন তাহলে আপনি সেই পরীক্ষাটি দিতে পারেন। একটি পরীক্ষার জন্য কেবল পাঁচ ডলার মূল্য লাগে যা ভারতীয় মূল্যে ৩৫০ টাকা। আর এখন বিভিন্ন অনলাইন ট্রেনিং প্রোগ্রাম হচ্ছে যাই হোক না কেন আমরা চাই মানুষেরা যাতে শাস্ত্র সম্পর্কে জানে, আমরা এটাও চাই যে তারা শ্রীল প্রভুপাদের সম্পর্কে জানুক এবং একজন আচার্য হোক, একজন দীক্ষা গুরু হোক আমি চৈতন্য চন্দ্রচরণ, আমার প্রশিষ্যদের প্রতি অত্যন্ত খুশি, তারা উৎসাহজনক বিবরণী পেশ করেছে, যে কত হাজার হাজার গ্রন্থ বিতরণ হয়েছে কত লক্ষ লক্ষ প্রসাদ বিতরণ হয়েছে। এইভাবে এটি অত্যন্ত ভালো যে যদি আমরা আমাদের প্রচারকে অনেক দীক্ষা গুরুর মাধ্যমে বিকশিত করতে পারি কিন্তু আমি চাই মানুষেরা যাতে তার জন্য যোগ্য হয়। আমি চাই তারা যাতে শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ অধ্যয়ন করে, আমি চাই যে তারা যাতে ভুল ব্যাখ্যা না করে তাদের তত্ত্বকথা সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করার যোগ্য হয়ে ওঠে। আমি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী তাই সকল শিষ্যরা যারা আমাকে প্রতিদিন সাহায্য করে, আমি তাদের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ আমি নিজে চলতে পারি না, আমার অনেক বাধা রয়েছে কিন্তু আমার প্রবল ইচ্ছা রয়েছে যে মানুষেরা যাতে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা আস্বাদন করতে পারে যদি আমরা এই বাণী প্রচার করতে পারি তাহলে মানুষেরা যে সমস্ত সমস্যার সম্মুখীন হয় সেগুলি সমাধান করতে পারব এবং মানুষেরা অত্যন্ত আনন্দিত ও সুখী হবে।

আমি কিছু বাণী পড়েছিলাম যেখানে শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে আমাদের হাজার হাজার গুরু তৈরি করা দরকার। মায়াপুরে একটি ক্লাসে তিনি বলেছিলেন আমাদের দশ হাজার আচার্য থাকা দরকার তারপর বললেন হাজার হাজার, তা থেকে ১ লক্ষ, তারপর ১০লক্ষ। তাই শ্রীল প্রভুপাদের এই দূরদর্শিতা ছিল এমন নয় যে প্রচার করার জন্য সন্ন্যাসী হতে হবে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু দক্ষিণ ভারত ভ্রমণ করেছিলেন, তিনি গৃহস্থদের বলেছিলেন, “যারে দেখো তারে কহ কৃষ্ণ উপদেশ, আমার আজ্ঞায় গুরু হইয়া তার এই দেশ” আমার আজ্ঞায় গুরু হও এবং তোমার এই দেশকে পরিত্রাণ কর তাই, এখন আমি দেখছি যে শ্রীল প্রভুপাদের এই দূরদর্শিতা ছিল আমি চেষ্টা করছি জিবিসি যাতে সেটিকে গ্রহণ করে, এটি আমার কথা নয়, এটা শ্রীল প্রভুপাদের কথা আপনি তা গ্রহণ করুন বা না করুন যাই হোক না কেন আমি যদি তা আমার শিষ্যদের অনুসরণ করাতে পারি তাহলে আমি অবশ্যই তাদেরকে এই বিষয়ে অনুমোদন করব। তখন তাদেরকে জিবিসি যে পন্থাটি নির্ধারণ করেছেন তার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে, আমি দেখতে চাই যে সকল ভক্তরা যাতে কৃষ্ণভাবনামৃতে তাদের স্বাদ বিকশিত করে এবং সেই ভাবে প্রতি নগর ও গ্রামে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা বিস্তার করতে পারে।

আমরা দেখি যে গৌরকিশোর দাস বাবাজি, তার দুজন শিষ্য ছিল একজন ভজনানন্দী বংশী দাস বাবাজি এবং একজন ছিলেন গোষ্ঠীয়ানন্দী শ্রীল ভক্তি সিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর একজন গোষ্ঠীয়ানন্দী ভক্ত তিনি সমগ্র জগতকে উদ্ধার করেছেন কারণ প্রভুপাদ তার শিষ্য ছিলেন এবং কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার করেছিলেন তাই তাদের হয়তো একজন বা পাঁচ জন শিষ্য থাকতে পারে তা কৃষ্ণের কৃপার ওপর নির্ভর করে, আমরা চাই মানুষেরা যাতে অত্যন্ত গুরু গম্বীর হয় এবং কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচারের ক্ষেত্রে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শক্তির দ্বারা আশীর্বাদ প্রাপ্ত হয়।

চৈতন্যচরিতামৃততে যখন শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু বৃন্দাবনে গিয়েছিলেন সেখানে কিছু ব্রাহ্মণেরা বলেছিলেন, শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু আপনাকে দর্শন করার মাধ্যমে স্ত্রী, বৃদ্ধ, শিশু, চণ্ডাল প্রত্যেকে সমগ্র বিশ্ব উদ্ধার পায় তাই আধ্যাত্মিক গুরু হওয়ার মাধ্যমে আমরা দেখি যে শ্রীল প্রভুপাদ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শক্তিতে আশীর্বাদ প্রাপ্ত ছিলেন, তিনি সেই একই জিনিস করেছেন আমরা আশা করি যে, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপায় আমাদের শিষ্যরাও কৃষ্ণভাবনামৃতে অত্যন্ত উন্নতি অর্জন করতে পারবে। এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ দীক্ষাগুরুও হতে পারে। হরে কৃষ্ণ!

যাই হোক, আমরা আশা করি যে আপনারা সকলে আপনাদের বিধিনিয়ম পালন করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক হবেন, ভক্তিমূলক সেবা করবেন এবং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, শ্রীল প্রভুপাদকে এই আন্দোলনের প্রসারে সাহায্য করবেন এবং এই সুযোগে আমি আপনাদের সকলকে পঙ্কজানঘ্রী প্রভুর জন্য প্রার্থনা করতে বলছি এবং সেই সকল ভক্তরা যারা কোভিডে আক্রান্ত হয়েছে, আমি মনে করি আমরা তাদের সুস্থতার জন্য একবার মন্ত্র উচ্চারণ করতে পারি,

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।

আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই, সেবা কমিটি নাড়ুগোপাল দাস, জগন্নাথ কীর্তনানন্দ দাস এবং অন্য যারা এমসিডির এই অনুষ্ঠানটি করেছেন আমি মাঝরাত পর্যন্ত ইউটিউব দেখছিলাম, ভক্তরা তাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছে, ইউটিউবে আমি দেখেছি জয়পতাকা স্বামী ব্যাস পূজা ২০২১ খ্রিস্টাব্দ এবং তাতে ভারতীয় শ্রদ্ধাঞ্জলি, মালেশিয়ান শ্রদ্ধাঞ্জলি, অস্ট্রেলিয়ান শ্রদ্ধাঞ্জলি, মধ্যপ্রাচ্যের শ্রদ্ধাঞ্জলি, আমেরিকার শ্রদ্ধাঞ্জলি, কানাডার শ্রদ্ধাঞ্জলি আছে। আমার সাইকোথেরাপির জন্য আমি সমস্ত শ্রদ্ধাঞ্জলিগুলি সকালে দেখতে পারিনি কিন্তু এটা ইউটিউবে আছে আমি কিছুদিন ধরে তা দেখব আমি আশা করি যে আপনারা সকলে এই সুন্দর উপলব্ধির সুযোগ গ্রহণ করবেন। আজকে বিকেলে জেপিএস অফিস, জেপিএস কেয়ার এবং বিভিন্ন জেএসএসএস প্রোগ্রাম, আর বিভিন্ন উদ্যোক্তারা উপস্থাপনা করবেন। আমরা আশা করি যে, এইভাবে আমরা ভক্তদের সেবা করতে পারব যাতে তারা কৃষ্ণভাবনামৃত বিকশিত করতে পারে এবং ভক্তিতে উর্ধ্বস্তর লাভ করতে পারে, ভক্তিমূলক সেবার মহা আনন্দ অনুভব করতে পারে। আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ! হরে কৃষ্ণ!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions