মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
জয়পতাকা স্বামী: দক্ষিণ ভারতে সাফারি হচ্ছে, এটা অনেক সুন্দর সব স্মৃতি মনে করাচ্ছে। অবশ্য ভার্চুয়াল সাফারিতে আমরা অনেক শ্রীবিগ্রহ দর্শন করতে সক্ষম হই তবে কিছু কিছু মন্দির ভিতরে ক্যামেরা নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয় না। আজ সকালে আমি কোন কারণে অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম এবং আমি ইউটিউবে তিরুমালা মন্দিরের শ্রীনিবাস বালাজী ও গোবিন্দের অভিষেকের কিছু ভিডিও দেখছিলাম। আমি অনন্ত পদ্মনাভ শ্রী বিগ্রহের দর্শন করেছি, আমি জানিনা আমাদের শ্রীবিগ্রহ ইউটিউবে আছে নাকি, কিন্তু আপনি দেখে আশ্চর্যান্বিত হবেন যে সেখানে কত শ্রীবিগ্রহগণ আছেন।
ও তিরূপতিতে আমরা একজন মহিলার থেকে শুনেছিলাম যে সেখানে একটি জাহাজ ছিল যা ভয়ানক ঝড়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং কোনভাবে মাধ্বাচার্য তিনি আরতি বা কিছু করছিলেন আর তাই তারা আলো দেখতে পেরেছিল, তখন তারা বুঝতে পেরেছিল যে সেখানে একটি স্থলভাগ রয়েছে, তাই তারা সেই ঝড় থেকে বেঁচে সেই জায়গায় আসে। সে কারণে তারা মাধ্বাচার্যকে কিছু দিতে চাইছিল, তিনি বললেন, “কেবল আমাকে কিছুটা তিলক দাও” যা তারা দ্বারকা থেকে পেয়েছিলেন জাহাজের ভার হ্রাসের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য। তখন তিনি দুই টুকরো তিলক নেন, সেখানে ভিতরে কৃষ্ণ এবং বলরাম আছেন। বলরাম সমুদ্র পারে স্থাপিত আছেন এবং কৃষ্ণ উরুপীতে স্থাপিত।
আমি এতে অবাক হইনি যে, আমাদের ভক্তরা সাফারিতে সমুদ্রে শ্বাস নেওয়ার মতো চূড়ান্ত তপস্যার মধ্যে দিয়ে গেছেন, কোনভাবে তারা এই তপস্যা সহ্য করেছিল এবং সমুদ্রের জলে গিয়েছিল। সেখানে আমরা বলরামের শ্রী বিগ্রহ দর্শন করেছিলাম এবং তারপর আমরা উরুপীতে গিয়েছিলাম ও কৃষ্ণের শ্রী বিগ্রহ দর্শন করে ছিলাম। সেই শ্রী বিগ্রহ, সেই মন্দিরের সামনের দ্বার সম্পূর্ণ বন্ধ তাই আপনাকে সেই শ্রী বিগ্রহ পিছনের জানলা দিয়ে দেখতে হবে কারণ একজন ভক্ত উরুপী কৃষ্ণের জন্য মন্দিরের পিছনে প্রার্থনা করছিলেন। যেহেতু তাকে নিচু জাতের বলে বিবেচনা করা হয়েছিল তাই তার মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি ছিল না। তাই সেই শ্রীবিগ্রহ পিছনে ঘুরে যান এবং দেওয়ালে ফাটল ধরিয়ে দেন। এইভাবে তিনি সেই ভক্তকে প্রার্থনা করতে দেখতে পেলেন এবং সেই ভক্ত তাঁকে দর্শন করতে পারলো, তারপর থেকে শ্রী বিগ্রহ মন্দিরের পিছনে মুখ করা। তাই তাঁর দর্শন করতে হলে আপনাকে সেই পিছনের জানলা দিয়ে দেখতে হবে। সেখানে কৃষ্ণ একটি মাখন মন্থন দণ্ড ধরে আছেন। অত্যন্ত আনন্দময় বিগ্রহ। কৃষ্ণের নব্যস্বরূপ।
সেখানে আটটি মঠ আছে, মূল মন্দিরের চারিদিকে আটটি মন্দির। মাধ্বাচার্যের সময়ে তিনি প্রত্যেকটি মন্দির স্থাপন করেছিলেন, তারা ২ মাস করে কৃষ্ণের শ্রী বিগ্রহের পূজা করত। কয়েক শতাব্দি পর মাধ্বাচার্য স্থাপনা করেন যে প্রত্যেক মন্দির দুই বছর সেবা করবে। এর মানে ১৪ বছর পর একজন আচার্য আবার সেই মন্দিরে শ্রী বিগ্রহের পূজা করবে। তাই ১৪ বছর তিনি ভগবানের পূজার জন্য সবকিছু সংগ্রহ করবে এবং পরিয়ায় এর সময় তারা মন্দিরের সেবা ভার পরিবর্তন করে, তখন সেই দুই বছর যখন কেউ শ্রীবিগ্রহের পূজা করে তখন তারা যতটা সম্ভব উন্নয়নের চেষ্টা করে। এটিকে বলা হয় পরিয়ায় সেবা।
তাই যখন পেজাবর বিশেষ তীর্থ তিনি শ্রীগ্রহের সেবা পঞ্চম বার করছিলেন তখন আমি তার সাথে দেখা করতে যাই এবং তিনি আনন্দিত ছিলেন যে আমি এসেছি। তাই তিনি আমাকে একটি চাদর দিয়েছিলেন, আমরা কৃষ্ণভাবনামৃত সম্পর্কে কথা বলেছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত, কিছুদিন আগেই তিনি এই জগত পরিত্যাগ করেন। তবে আমাদের খুব সুন্দর কথোপকথন হয়েছিল তিনি মাধ্ব সম্প্রদায়ের সব থেকে দূরদর্শী আচার্য ছিলেন।
আমরা দেখি যে, আমাদের ব্রহ্ম-মাধ্ব গৌড়ীয় ইস্কন সম্প্রদায়, আমাদের জন্য মূল শিক্ষা ভগবান ব্রহ্মা থেকে আসছে। ব্যাস দেব বদরিকাশ্রমে মাধ্বাচার্যকে সেই জ্ঞান প্রদান করেছিলেন এবং তা থেকে তা মাধবেন্দ্রপুরী এবং ঈশ্বর পুরী ও তার শীষ্য চৈতন্য মহাপ্রভুর কাছে যায়। চৈতন্য মহাপ্রভুর থেকে এই গৌড়ীয় ধারা আসে। অবশ্য তারপর শ্রীল প্রভুপাদ গৌড়ীয় ধারার এক শাখা, তাই এইভাবে আমরা আছি ইস্কনে।
তাই আমাদের মূল হল উরুপী এবং সেখানে আটটি মঠ রয়েছে আর প্রত্যেকটি প্রতি দু-বছরের জন্য মূল শ্রীবিগ্রহের সেবার দায়িত্বভার গ্রহণ করে। এটি একজন থেকে পরবর্তী জনের কাছে পরিবর্তিত হতে থাকে। তাই প্রতি মন্দির ১৪ বছরে একবার সেবার সুযোগ পায়। অবশ্য, পুরাতন সময়ে সেখানে ট্রেন বা উড়োজাহাজ বা রাস্তা ছিল না তাই তারা ভেবেছিলেন যে তাদের হাঁটা এবং অনুদান সংগ্রহ করতে ও শ্রী বিগ্রহের জন্য সবকিছু প্রস্তুত করতে আরও সময়ের প্রয়োজন। তাই, এই কারণে তারা সময় সীমা দু মাস থেকে দু বছর করে দেন। তবে এখন প্রশ্ন হল মাধ্বাচার্যের পন্থা দুমাস কি দু বছরের থেকে বেশি ভালো? যাইহোক, তা আমাদের সমস্যা নয়।
এখানে, যদিও এটি হল এক পুরাতন মন্দির, তবু তারা ভক্তদেরকে ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়। তাই আমরা শ্রীবিগ্রহের দর্শন পেতে সক্ষম হয়েছিলাম। সেখানে গরুর এবং শ্রী হনুমানের বিগ্রহ আছে এবং প্রসাদ বিতরণ দর্শন করার পর, আমরা প্রসাদ গ্রহণ করতে পেরেছিলাম। তারা যে বড় লাড্ডু দেয় তা অত্যন্ত হালকা ও মিশ্রিত চাল, গুড় অর্থাৎ ঝোলাগুড় দিয়ে তৈরি। সেখানে কিছু ব্রাহ্মণ ছিল যারা রঙ্গিন সিল্ক বস্ত্রে সজ্জিত ছিল এবং তারা তীর্থযাত্রীদের সাহায্য করে। তারা বিভিন্ন দিকে যায় এবং জিজ্ঞেস করে, “আপনি কোনটি পছন্দ করেছেন?” তারা জিজ্ঞেস করবে, “আপনি কি পছন্দ করেছেন?” এবং যদি আপনি মহাপ্রসাদ চান তারা আপনাকে তা দেবে। আমার মনে হয় মন্দিরে এইরকম সহায়ককারী মানুষেদের থাকা অত্যন্ত দরকার।
যাইহোক, চৈতন্য মহাপ্রভু যখন উরুপীতে এসেছিলেন তখন মাধ্ব ধারার মধ্যে মাধবেন্দ্রপুরী ছিলেন এবং তারা বিশ্বাস করেন যে কৃষ্ণ হলেন সর্বোচ্চ। চৈতন্য মহাপ্রভুর সিদ্ধান্তের প্রতি কিছুটা অমত ছিলেন। তিনিও উরুপী মন্দিরে এসেছিলেন এবং তিনি অবশ্য মাধ্ব ধারায় দীক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। যেহেতু পদ্ম পুরানে বলা হয়েছে যে, একজনকে ভগবান ব্রহ্মার থেকে, লক্ষীর থেকে, চার কুমার থেকে, ভগবান শিবের থেকে আসা, যেকোনো একটি সম্প্রদায় থেকে মন্ত্র গ্রহণ করতে হবে। আজকে আমরা রামানুজাচার্যের স্থান গুলি দর্শন করেছি, তিনি শ্রী বা লক্ষ্মী সম্প্রদায়ের। উরুপী হল ব্রহ্মা সম্প্রদায়ের, এবং চার কুমার আছেন যারা নিম্বার্ক সম্প্রদায়ের এবং ভগবান শিব আছেন রুদ্র সম্প্রদায়ের যা হলো বল্লভাচার্য সম্প্রদায় যা প্রধানত ভারতের গুজরাটে আছে। তারা পুষ্টি মার্গ নামে পরিচিত। তারা কৃষ্ণকে বাৎসল্যভাবে সেবা করে। চৈতন্য মহাপ্রভু অবশ্য কৃষ্ণকে রাধা কৃষ্ণের ভাবে সেবার পন্থা প্রীতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রভুপাদ বলেছেন যে, “কৃষ্ণ হলেন গোপীকা কান্ত, রাধা কান্ত। এটাই হলো কৃষ্ণের তত্ত্ব।”
আমরা শ্রীরঙ্গমে শ্রী সম্প্রদায়ের পণ্ডিত ও চৈতন্য মহাপ্রভুর মধ্যে আলোচনা সম্পর্কে শুনেছি। এছাড়াও, চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি সকল মন্দির, বিষ্ণু মন্দির, দুর্গা মন্দিরে গিয়েছিলেন এবং তিনি প্রত্যেক মন্দিরে হরে কৃষ্ণ জপ করতেন। আমাদের দক্ষিণ ভারত ভ্রমনে, বৈদেশিক ব্যাংকের পাশে আমরা কেবল উরুপীকেই দেখি না, সেখানে আরো অনেক পবিত্র স্থান রয়েছে। অবশ্য উরুপীর পাশে আমাদের বিশেষ বিশ্ববিদ্যালয় নগর যেখানে আমাদের অনেক ভক্তরা রয়েছে, মনিপালে। আর একটু উত্তরে আমাদের ভগবান শিবের গোকর্ণ মন্দির রয়েছে। যেখানে থেকে রাবণ শিবলিঙ্গ তুলে আনার চেষ্টা করেছিল কিন্তু তিনি তা সরাতে পারেননি। তারপর তিনি শিবলিঙ্গকে বাঁকিয়ে দেন এবং তা এক গাভীর কানের মত হয়ে যায়। এই কারণে সেই স্থানের নাম গোকর্ণ- গাভীর কর্ণ। সেখানে অনেক মন্দির রয়েছে যে স্থানগুলিতে চৈতন্য মহাপ্রভু ভ্রমণ করেছিলেন। বিজয় নগর রাজ্যের রাজধানী। সেই স্থানটি একটি বাজারে পরিণত হয়েছে। যেখানে তারা হীরে রত্ন বিক্রি করে। ওখানে মানুষেরা হীরের বস্তা নিয়ে বসে রয়েছে! তারা কত ধনী! যেমন মানুষেরা শসা এবং আম বিক্রি করে তেমন তারা হীরে বিক্রি করে!
তাই স্বাভাবিকভাবে, আমরা সেই সব স্থানে যেতে পারব না কিন্তু যখন আমরা সাফারি করি আমরা কিছু স্থানে যাই যা পার্শ্ববর্তী মন্দিরগুলি ঘিরে আছে। উরুপীর কাছে মাধ্বাচার্যের আবির্ভাব স্থান, পজক ক্ষেত্র। আমরা এইরকম বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করেছি। আটটি মন্দিরের প্রত্যেকটি আছে এবং বাইরে তাদের শাখা আছে যেগুলি দেশের প্রান্তভাগে অবস্থিত। সেই সমস্ত স্থানেও আমরা ভ্রমণ করেছি। সেখানে স্থানীয়দের শ্রীবিগ্রহ রয়েছে। এটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় স্থান এবং আপনারা বুঝতে পারবেন যে আমরা এই স্থানে অনেকটা সময় কাটিয়েছি আর আমাদের কত কিছু করার আছে ও দেখার আছে। তাই আমরা আপনাদেরকে একটু এলাকার বিবৃতি দিলাম।
আমরা একনাথ গৌর দাসের সাথে দেখা করেছি, তার পিছনে হল তিরুপতি পাহাড়। সেটি এক সুন্দর পাহাড় যা সপ্ত গিরি বা সাত পর্বতের ধারণা দেয়। প্রত্যেকটি পাহাড় অনন্ত শেষের শ্রীমস্তকের মত দেখতে। সেখানে কেউ একজন ছিলেন যিনি পর্বতের উপর গোবিন্দ লিখে দিয়েছিলেন, তারপর টিটিডি প্রধানরা আমাদের কাছে আসেন এবং জিজ্ঞেস করেন কে সেই পাহাড়ের উপর গোবিন্দ লেখাটি লিখেছে। আপনি কেমন অনুভব করবেন যদি একটি পাহাড়ের উপর গোবিন্দ লেখা থাকে, আমাদের শ্রীবিগ্রহ গোবিন্দ। কিন্তু আমরা তাদের সেটি বলতে পারব না তবে আমরা অনেক আনন্দিত ছিলাম।
আমাদের সাফারিতে আমরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করি, তিরুপতিতে। সেখানে আমাদের একটি মঞ্চ ছিল এবং বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছিল। তাই বসনিয়া থেকে এক সময় একজন এসেছিলেন। ভক্ত মহম্মদ তারপর আমরা ঘোষণা করি যে বসনিয়া থেকে, আমাদেরকে বলতেই হত তার নাম যে ভক্ত মহম্মদ, ওহ! পুরো জনসমাবেশে নিরবতা। কে সেই ভক্ত মহম্মদ? চমৎকার! তো পরে তিনি দীক্ষিত হন। এখন তার নাম মহা চৈতন্য দাস কিন্তু আগে তিনি ছিলেন ভক্ত মহম্মদ। যাই হোক, ৩৬ থেকে ৪০জন ভক্ত যারা অন্যান্য দেশ থেকে আসছে তা স্থানীয় মানুষদের উপর অনেক বড় প্রভাব ফেলে। আমরা দেখেছি যে শ্রীল প্রভুপাদ মায়াপুর এবং বৃন্দাবনের মধ্যে বিভিন্ন ভক্তদের নিয়ে যেতেন এবং তিনি অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করতেন। তাই তিনি হলেন আমাদের সাফারির মূল প্রতিষ্ঠাতা আচার্য। আমরা শুধু তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করার চেষ্টা করছি। তাই এইভাবে গৌর পূর্ণিমার পরে মন্দিরের অনুষ্ঠানে আমরা আমাদের সাফারি বিভিন্ন মন্দির, বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাই।
আগে সেবায়েত এবং বৈষ্ণবদের মধ্যে এক প্রকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হত এবং তাই সেবায়েতরা রামানুজাচার্যকে গ্রেফতার করতে চেয়েছিলেন কিন্তু তার গৃহস্থ সচিব রামানুজের মত ভঙ্গি করে ও তিনি একটি সন্ন্যাসী বস্ত্র পড়ে নেয়, সেই সময় রামানুজাচার্য মেলকোটে গিয়েছিলেন, যেখানে গতকাল আমরা যোগ নরসিংহদেব দর্শন করলাম । তারা রমানুজাচার্যের সচিবকে বলে, যাকে তারা রামানুজা ভেবেছিল, যে তার উচিত শিবকে সর্বোচ্চ হিসেবে গ্রহণ করা। তিনি বললেন, “না বিষ্ণু হলেন সর্বোচ্চ” এবং তারপর তারা বলে তুমি সত্যটা দেখতে পারোন না তাই আমরা তোমাকে অন্ধ করে দেব। তখন তারা তার চোখ দুটি তুলে নেয়। তারপর তিনি শ্রীবিগ্রহের সামনে ভজন করছিলেন এবং সেই শ্রীবিগ্রহ দুইবার তাকে যা ইচ্ছা বর নেওয়ার জন্য বলেন তবে তিনি তার জন্য কিছুই চাননি। এরপর রামানুজাচার্য তাকে বলেন, “শ্রী বিগ্রহ যদি তোমাকে আবার জিজ্ঞেস করেন তাহলে তাঁকে বল যে, তোমার আধ্যাত্মিক গুরুদেবের এক সম্পত্তি আছে যা অসম্পূর্ণ এবং তিনি তা সম্পূর্ণ দেখতে চান।” তাই তারপর তৃতীয় বার তিনি শ্রীবিগ্রহের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন এবং শ্রী বিগ্রহ বললেন, “তুমি যা চাইবে আমি তোমাকে তাই দেব।” তিনি প্রার্থনা করলেন যে, “আমার আধ্যাত্মিক গুরুদেবের একটি সম্পত্তি আছে যা অসম্পূর্ণ। দয়া করে এটিকে সম্পূর্ণ করে দিন।” “অবশ্যই! তার সচিব তিনি অসম্পূর্ণ কারণ তার চোখ নেই।” তারপর ভগবান কুরেশকে তার চোখ ফিরিয়ে দেন যাতে তিনি রামানজাচার্যের সেবা করতে পারেন।
আমরা জানি যে কিভাবে পুরো শ্রী বিগ্রহ এসেছেন নৌকা থেকে, এখানে তারা সেই স্থান থেকে তিলক নেন, যেখানে দ্বারকার রানীরা, কৃষ্ণের এই জগৎ পরিত্যাগ করার পর, সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়েছিলেন এবং তাই কোনভাবে কৃষ্ণ এবং বলরামের শ্রীবিগ্রহ তাও সেই সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছিল এবং তা সেই তিলকে পরিণত হয় এবং পরে তা এক নৌকায় পরিণত হয়। আর সেটি মাধ্বাচার্য এনেছিলেন এবং তিনি কৃষ্ণ বলরামের মন্দির স্থাপন করেছিলেন। হরি বোল!
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন